3 Responses

  1. Abu Sulaiman
    Abu Sulaiman at |

    গোলাম মাওলা রনি আপনাকে খোলা চিঠি লিখছি।
    এ চিঠি পাবেন কিনা জানি না।আপনাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না।একটাই যোগ সূ্ত্র আছে আমাদের মাঝে সেটা হল নিউ ইয়র্ক বাংলা পত্রিকায় আপনার লিখা ছাপা হত আমার ও লিখা ছাপা হত।এক ভদ্রমহিলা একটা কলাম লিখেছিলেন ঠিকানার লেখক দের নিয়ে ”সাহস করে যারা সত্যি কথা বলে” ৫ জন লেখক তার মতে সাহসী শেফিক রহমান,কাদের সিদ্দিকী,আবুল মকসুদ,গোলাম মাওলা রনি ও কাজি ফৌজিয়া। যদিও আমার মতে ফরহাদ মজহার সবচে সাহসী তবু তার কাছে আমারা ৫ জন ছিলাম উত্তম তিনি আমাদের কোন লিখার কারণে এমনটি ভাবছেন কোটেশন তুলে দিয়েছিলেন।

    সেই থেকে ভেবেছি আপনার সাথে পরিচিত হব, কিন্তু লোকদের খুঁজে বের করে বিনয় প্রকাশ করে হাই হেলো করার মত বিনয়, ধৈর্য কোনটাই আল্লাহ আমাকে দেয়নি বলে মনে হয়। আর পরে শুনলাম দুষ্ট প্রকৃতির কোন সাংবাদিক কে মাইর দিয়ে না অন্য কোন কারণে আপনি প্রিজনে। তখন তো সাংবাদিক দের এমন অবস্হা যে পারলে আপনাকে ইহকালেও জেল থেকে বের হতে দেবে না।আগে শুনতাম বাঘে ছুলে আঠার ঘা পুলিশে ছুলে ছত্রিশ ঘা এখন তো দেখি সাংবাদিক ছুলে আরও দুইগুণ বেশি ঘা। দেখলেন তো ফরহাদ মজহার পিছনে বেহুদাই কেমনে লাগল।

    যাই হোক আসল কথায় আসি আমি নিউ ইয়র্ক এর সাউথ এশিয়ানদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একাটা অর্গানাইজেশনে কমিউনিটি অর্কাগানাজার পদে কাজ করি। একটু লিখালিখি করি, কিন্তু অফিস থেকে নিষেধ আছে বাংলাদেশ এর পলিটিক্স নিয়া লিখা যাবে না, তাতে করে আমাদের মেম্বারদের মাঝে ইন্ডিয়া-পাকিস্তান-বাংলাদেশ-আওয়ামি-বিএনপি নানা ভাবে ভিবক্তি বাড়বে। আমারা এখানে শুধু ব্রাউন ও সাউথ এশিয়ান হিসাবেই আত্মপরিচয় দেই। কামলা খেটে খাওয়ার জন্য এসেছি সবাই তাই এত ভিবক্তি আমাদের কাম্য নয় ।
    রোজ জ্যাকশন হাইটস দারিয়ে আমাদের দেশী ভাইদের মত আওয়ামী-বিএনপি কোন্দল করার চেয়ে এই দেশে নিপীড়িতের অধিকার আদায় এর সংগ্রাম করি সেই ভাল, তাই লিখা-লেখিতে সেন্সর মেনে নেই। আপনার লিখা কাদের মোল্লার চিরকুট পড়ে আপনাকে লিখতে ইচ্ছে হল।
    রনি প্রিজন কোন ভাল যায়গা নয় যে মানুষ কোন সুখের স্মৃতিচারণ করবে তবু যুগে যুগে কারাগার এর ডাইরি বা স্মৃতিচারণ ই শ্রেষ্ঠ লিখা। তবে বড় দেরি করে তা প্রকাশ পায় আর ইতিহাস পড়ার মত আমরা পড়ি সেই লিখাগুলি। আপনার এই লিখাটি ভিন্ন চিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে। আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে আমরা ভুল করছি, শুধু নামের জটিলতায় একজন শিক্ষক কে ফাঁসীর মত জঘন্য সাজা দিচ্ছি।রনি আপনার লিখা হতে পারে আপনার দলের সরকার এর এই সব নির্দোষ পলিটিকাল প্রিজনারদেন অকারন কষ্ট দেওয়ার প্রায়ঃচিত্ব।মাহমুদুর রহমান ও কাদের মোল্লার মত নির্দোষ পলিটিকাল প্রিজনারদের সাথে সুবিচার পাওয়ার সুযোগ।আপনি ভিতরে যা দেখেছেন যেভাবে তাদের মুল্যায়ন করেন তা লিখবেন প্লিজ ।

    এমন কি ক্রিমিনাল জাস্টিস এর জন্য যারা অপেক্ষা করছে তাদের নিয়েও লিখবেন প্লিজ ।একটা মানুষ হয়ত দুর্নীতি-গ্রস্ত তার পর ও হয়ত সে ভাল বন্ধু,ভাল ভাই,বা ভাল বাবা আমরা শুনতে চাই দোষী মানুষ গুলির চরিত্রের অন্য গুন । এই সব শুনে তাদের ভালবাসতে চাই তাদের জন্য্য ইনসাফ চাই।যে কোনভাবেই মানুষ কে ঘৃণা করার দায় থেকে মুক্তি চাই । মানুষ হল সৃষ্ঠির সেরা জীব তাই আপনার অভিজ্ঞতা আপনার লিখা কিছু সৎ মানুষের মুক্তির আন্দোলন কে বেগবান করবে তাই আপনার লিখার অপেক্ষায় রইলাম।

    ইতি কাজি ফৌজিয়া

    আমার এই লিখায় শুধু করাপ্টেড সাংবাদিকদের কটাক্ষ করা হয়েছে। যারা এই পেশায় সৎ তারা দয়া করে নিজের উপর টানবেন না।

    Reply
  2. Swapna
    Swapna at |

    From ELora Zaman (https://www.facebook.com/elora82/posts/10202647235045758)

    একালের একলব্য আর আমাদের ইতর পাণ্ডবেরা !
    —————————————————–
    নিষাদরাজ হিরণ্যধনুর পুত্র। ইনি দ্রোণের কাছে অস্ত্রশিক্ষা করতে এসেছিলেন, কিন্তু একলব্য ম্লেচ্ছজাতিতে জন্মেছেন বলে অস্ত্রশিক্ষা দিতে সন্মত হননি দ্রোণ ! একলব্য তখন দ্রোণের মৃন্ময় মূর্তি তৈরী করে সেই মূর্তিকেই আচার্য-রূপ জ্ঞান করে অস্ত্রাভ্যাস শুরু করলেন। কিছুদিনের মধ্যেই অস্ত্রচালনায় তিনি অতিশয় পারদর্শী হলেন। একদিন পাণ্ডবরা একটি কুকুর নিয়ে বনে মৃগয়া করতে এসেছিলেন। সেই কুকুর ঘুরতে ঘুরতে একলব্যকে দেখে চিৎকার করছিল বলে একলব্য সাতটি শর নিক্ষেপ করে কুকুরটির মুখ বন্ধ করে দিলেন। পাণ্ডবরা তাই দেখে বিস্মিত হয়ে একলব্যের পরিচয় জানতে চাওয়ায়,একলব্য নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন যে, তিনি দ্রোণাচার্যের শিষ্য। অর্জুন ফিরে গিয়ে দ্রোণের কাছে অনুযোগ করলেন যে, তিনি যদি দ্রোণের প্রিয় শিষ্য হন, তাহলে ওঁর অন্য শিষ্য একলব্য কি করে অর্জুনকে অতিক্রম করতে পারেন! দ্রোণ সেই শুনে অর্জুনকে নিয়ে একলব্যের কাছে এলেন। একলব্যকে দ্রোণ বললেন যে, তিনি যদি ওঁর শিষ্য হন,তাহলে ওঁকে গুরুদক্ষিণা দিতে হবে। একলব্য তাতে সানন্দে সন্মত হলেন। তখন দ্রোণ গুরুদক্ষিণা-স্বরূপ একলব্যের দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠটি চাইতেই একলব্য সঙ্গে সঙ্গে নিজের দক্ষিণ অঙ্গুষ্ঠ ছেদন করে দ্রোণের হাতে তুলে দিলেন। ফলে একলব্যের সেই শরক্ষেপণ নৈপুন্যতা আর রইলো না। অর্জুন প্রীত হলেন, কিন্তু দ্রোণ ও অর্জুনের চরিত্রে এটি একটি কলঙ্ক হয়ে রইলো।

    MD Golam Maula Rony
    মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া এক ম্লেচ্ছ শ্রেনীর রাজনীতিবিদ ; শব্দের তীর ছুড়তে পারায় ছিলেন একলব্যের মতই পারদর্শী ; দ্রনের আশে পাশে পাণ্ডবেরা সর্বদাই ঘুরঘুর করলেও লোকে চেনে রনিকে ! একলব্য নিষ্ঠার মুল্য দিয়েছে বাকিটা জীবন আর তীর ছুড়তে না পেরে , নিজের বৃদ্ধাঙ্গুলির বিনিময়ে চুকিয়েছে সততার দায় ! একজন গোলাম মাওলা রনি বিবেকের দায় থেকে মুক্ত হতে গিয়ে কি হারিয়েছেন তা আর বাকি বাঙালির অজানা নয় ! মনা ডাকাতের কথা মনে আছে ? ঐযে জাফর ইকবাল সাহেবের ভাই হুমায়ুন আহমেদের নিমফুল নাটকের কুখ্যাত মনা ডাকাত আর চেয়ারম্যানের কন্যা মদিনা ? গ্রামের সবাই মনা ডাকাতের ধরা পরাতে ভীষণ খুশি ! আনন্দের মজমা বসেছে চ্যায়ারমান সাহেবের বাড়িতে ! গ্রামশুদ্ধ লোক যেন মনা ডাকাতের গায়ে তার শিশুপুত্রের সামনে চড় লাথির উত্সবে মাতোয়ারা ! মানুষ মারাতে ভীষণ আনন্দ , পৈশাচিক আনন্দ ! অনেকে নাকি বিশেষ মুহূর্তের আনন্দ ও অনুভব করে ! গণপিটুনিতে ও বিভিন্ন খুনে অংশ গ্রহণ করা মানুষদের মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা করে এইরকম তথ্য পাওয়া গিয়েছে ! আর মনাকে মারবেই বা না কেন ? বিরাট ডাকাত সে ! ডাকাত ধরবার চেতনায় উজ্জীবিত চেতনাধারীরা এক্সাইটমেন্টের তোরে ” গেসিলাম কেস্সিন কিনতে ” গল্পই শেষ করতে পারেনি ! মনে আছে ? একপর্যায়ে নিয়ে আসা হলো খেঁজুর কাঁটা দিয়ে খুঁচিয়ে চোখ তুলতে এক্সপার্ট জয়নালকে ! মনা ডাকাতের চৌখ তোলা হবে , এই দৃশ্য মিস করে ক্যামনে !

    হঠাত করেই আগমন ঘটে এক মায়াবতীর , মমতাময়ী এক কিশোরী বালিকার , চেয়ারম্যান এর কন্যা মদিনা ! কন্যার চোখের পানিতে মন গলে চেয়ারম্যান এর, আর মুক্তি পায় মনা ডাকাত ; পুত্র সন্তানকে কাঁধে নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ালো মনা ডাকাত ; বাতাসে ভেসে আসলো নিমফুলের মাতাল করা সুবাস ! বেঁচে থাকবার এক অভূতপূর্ব আনন্দ !

    জীবন বারবার নাটকে গিয়ে মেশে , মাঝে মাঝে ছাপিয়ে যায় নাটককেও ! কাদের মোল্লার ফাঁসি নিয়ে অবতারিত নাটকের চেতনায় ভাসছে সারাদেশ ! উথাল পাথাল চেতনার তোরে মানবধর্ম এখন আস্তাকুঁড়ে !

    আব্দুল কাদের মোল্লার জন্য জেলকোড প্রযোজ্য নয়, সংবিধানে উল্লেখিত মানবাধিকার প্রযোজ্য নয়, দেশের সাধারন আইন প্রযোজ্য নয়, স্বাভাবিক বিচারিক প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়!!

    বিবেকের তাড়নায় আমাদের মত ম্লেচ্ছ সম্প্রদায়ের রনি দুকলম লিখেছিলেন ; আর যায় কই ? চেতনাধারী দ্রন কিংবা চেয়ারম্যান এর চ্যালা চামুন্ডারা তাঁর পোস্টে এতটাই চেতনা ঝেড়েছেন যে তাকে ” জারজ ” শব্দের ডিটারজেন্ট নিয়ে হাজির হতে হয় পরবর্তী পোস্টে ! বৃহন্নলা প্রজাতির ঐসব আই ডি রা ঠিক যেন ওই “মোগল হেরেমের খোঁজা প্রহরী ” যারা পুরুষত্ব হারাবার বিনিময়ে হেরেমের প্রহরী হবার সুযোগ পেয়েছে !

    রনি
    বিগত কিছুদিনে আপনার সাহস আর বিবেকবোধ অনেকের মস্তিষ্কই অবনত করেছে ; মাওলা নিশ্চই তাঁর একনিষ্ঠ গোলাম রনিকে পুরুস্কৃত করবেন , এই ভুবনে অথবা অন্য ভুবনে ! যাদের হাতিয়ার কেবলি অশ্লীল বাক্য তাদের জন্য একটি লাইন ,” ইতর প্রানীর জন্ম হার বেশি কিন্তু কদাচিত জন্মানো একজন একলব্যের একটি তীর ই যথেষ্ট তোমাদের ধরাশায়ী করতে ”

    যখন এই পোস্ট লিখছিলাম ততক্ষণে ইন্নানিল্লাহ পড়বার সময় এসে গেল আর এখন কেবলি অপেক্ষা একটি নতুন সূর্যোদয়ের আর নতুন করে যুদ্ধ ঘোষণা করবার এই জালিম শাসকের বিরুদ্ধে ! আপনি তৈরী তো ?

    Reply
  3. swapna
    swapna at |

    Source: https://www.facebook.com/aman.abduhu/posts/189989747861550

    ইতিহাসের কসাই কাদের, মিডিয়া কতৃক একটি মৃত্যুদণ্ড এবং প্রগতিশীলতার উল্লাস
    ঝিনুক,কলকাতাঃ

    কাদের মোল্লা আসলেই যুদ্ধ অপরাধী ছিল কিনা? কসাই কাদের আর কাদের মোল্লা আসলেই এক ব্যাক্তি কিনা? যুদ্ধ অপরাধীর বিচার রাষ্ট্র করছে? নাকি কোন রাজনৈতিক সংগঠন করছে? আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল নাকি আওয়ামীলীগ ট্রাইব্যুনাল? আব্দুল কাদের মোল্লা র একমাত্র সাক্ষী মোমেনা বেগম কে? মোমেনা বেগম কি সাক্ষী দিতে গিয়েছিল না যায় নি?

    এই প্রশ্নগুলো যখন উঠেছে তখন এই প্রশ্নগুলোর নিস্পত্তি না করে একজন মানুষ কিংবা অমানুষের মৃত্যুদণ্ডে শাহবাগে আমাদের উল্লাস আর যাই হক কোনদিন প্রগতিশীলতা অথবা মানবতা কোনটাই বহন করে না। আব্দুল কাদের মোল্লা যদি কুকুর ও হয়ে থাকে তাহলেও বলব কুকুরের মৃত্যুতে উল্লাস করে আর এক কুকুরের দল।

    আমার দীর্ঘ বাম রাজনৈতিক জীবনে যে দীক্ষাগুলো পেয়েছিলাম- প্রগতিশীলতা, মানবতা, মানব মুক্তি, শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের মুক্তি। আদর্শের ব্যক্তি হিসেবে লেনিন, কমরেড মাও, ফিদেল ক্যাস্রো, নেলসম ম্যান্ডেলা সহ আরও অনেকেই ছিলেন। এই দিক্ষা নেয়ার সময় আজকের শাহবাগের লাকি সকল সংগঠকরাও ছিলেন। তারা নিজেদের প্রগতিশীল বলতেই সবচেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

    কিন্তু কোথায় সেই প্রগতিশীলতা, কোথায় সেই মানবতা। প্রবীর ঘোষের একটি বই সব সময় পরতাম- “অলৌকিক নয়, লৌকিক” যে বইটাতে সকল যুক্তি এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে দেখানো হয়েছিলো পৃথিবীতে অলৌকিক বলতে কিছু নাই, পরকাল জাহান্নাম এর কোন ভিত্তি নাই কারন এর পেছনে কোন সুস্পষ্ট যুক্তি কিংবা প্রমান নাই, এই বইগুলো পরেই তোমরা সকলে ধরে নিতে- there is no, god there is no leader (prophet), the most funniest thing in the world is religion. কয়েকজন উগ্রপন্থি কিংবা সমাজপন্থী লেখকের বই পরে ঈশ্বরকে বিস্বাশ করার মত কোন যুক্তি, প্রমান পাওনি। তাই তোমরা আজকে প্রগতিশীলতা আর নাস্তিকতা দুটোকে এক সুত্রে বেধে ফেলেছ।

    তাহলে কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে কি প্রমান পেয়েছ তোমরা? কন প্রমানের তাগিদে আজ তোমরা বলছ কাদের মোল্লা যুদ্ধঅপরাধী? আজ শাহবাগে আমরা যারা উল্লাস করছি তাদের ৯০ ভাগের জন্ম একাত্তরের অনেক পরে। তার মানে আমরা চোখে দেখিনি। “যে জিনিস চোখে না দেখে বিশ্বাস করবো সেটা হবে বড় মূর্খতা”- প্রবীর ঘোষ (যার বই পরে আজ আমরা ধর্মকে মিথ্যা বানিয়েছি) তাহলে আজ কেন বিশ্বাস করলে কাদের মোল্লা যুদ্ধ অপরাধী? এটা তো দেখিনি? “তথ্য, দলিল, ইতিহাস আর মিডিয়া।

    পৃথিবীতে অন্য কোন রাষ্ট্র এমনকি সোমালিয়ায়ও এর দাম থাকতে পারে বাট বাংলাদেশে এই চারটি জিনিসের উপরে প্রস্রাব করতে কুকুরেরও ভক্তি হয় না।” এই কথাটি বলেছিলেন সমাজতন্ত্রকে পুজি করে সাম্রাজ্যবাদের দালালি করে বর্তমানে মন্ত্রী হয়েছেন এমন একজন ব্যাক্তি। আমি নাম বললাম না তবে যে বর্ণনা দিয়েছি তাতে নিশ্চয়ই চিনতে পারার কথা। এই দেশের প্রধান মন্ত্রীরাও বলেন যে সংবিধান ডাস্ট বিনে ফেলে দেয়ার উপযুক্ত।

    তথ্য, দলিল, আর ইতিহাস এই তিনটা জিনিসকে পুজি করেই বর্তমান শাসক গোষ্ঠী আজকে সহিংসতার নারকীয় দৃশ্যে পাল্টাপাল্টি অভিনয় করছে। অপরদিকে যুদ্ধ অপরাধী বিষয়টি তৎকালীন স্বাধিন বাংলার রাষ্ট্রপতি থেকে মীমাংসিত একটি বিষয়। আর মীমাংসিত বলেই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলটি একসাথে যুদ্ধ অপরাধী দলটির সাথে সম্মিলিত হয়ে রাজনীতি করেছে। ইতিহাস বদলে যায়, মানুষের হাতে বদলে যায়। সেই বদলানোর পালা বদলেই হয়তোবা আজকের এই কসাই কাদের এর সৃষ্টি।

    এই যুদ্ধ অপরাধী ইস্যুটা সম্পূর্ণ বাংলাদেশে মিডিয়ার সৃষ্টি। উপরের ছবিটিতে লাল দাগাঙ্কিত জায়গাটা দেখিয়ে মিডিয়া বার বার বলছে যে এই হল কাদের মোল্লা, পাক বাহিনীদের সাথে একসাথে মিশে সে নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। উপরের ছবিতে যে লোকটিকে দেখা যাচ্ছে তার বয়স কত হতে পারে আনুমানিক আর তখন বর্তমান কাদের মোল্লা বয়স কত ছিল অন্তত এইটুকু খোজ নিলেও আমরা জানতে পারতাম কে আসলে কসাই কাদের আর কে কাদের মোল্লা। আর এই লোকটাই যে আজকের কাদের মোল্লা তার কোন উপযুক্ত প্রমান আমাদের হাতে আছে কি?

    যে মিডিয়াগুলো খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে না, যেই মিডিয়া গুলো রাষ্ট্র আর বিদেশি বেনিয়াদের দালালি করে, যেই মিডিয়া মানুষ হত্যা করে সেই মানুষের মৃত্যু নিয়ে ব্রেকিং নিউজ দেয় সেই মিডিয়ার উপরে আস্থা রেখেই আজকে আমরা কাদের মোল্লাকে কসাই কাদের বানিয়েছি। রায়ের পর যখন ভি (V) সাইন দেখিয়েছিল কাদের মোল্লা সেটিকে আমাদের মিডিয়া এমন ভাবে প্রকাশ করেছে যে আমাদের তরুনপ্রজন্মের গোপন ইন্দ্রিয়ে চেতনার আগুন জ্বলে পুরে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। আবার যখন জেলগেটে দেখা হবার পরে কাদের মোল্লার স্ত্রী ভি (V) সাইন দেখিয়েছিল তখন মিডিয়া এমনভাবে প্রকাশ করেছে আমাদের চেতনা তখন গোপন ইন্দ্রিয় থেকে জ্বলে পুরে কাপর চোপড় সব পুড়িয়ে বেরিয়ে আসছে।

    অথচ কাদের মোল্লার স্ত্রী যখন ভি () সাইন দেখিয়েছিল সেটা ছিল নিজের দিকে ফেরানো। আর এই ভি সাইন নিজের দিকে ফেরানো মানে হল প্রচলিত আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন। কাদের মোল্লার স্ত্রী নিজের দিকে ভি সাইন দেখাবেন তথা আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করবেন এটাই কি স্বাভাবিক নয়?

    অথচ আমাদের মিডিয়া বলেছে এটা নাকি বিজয় সূচক, আর আমরা সেটাই বিশ্বাস করে আরও খেপে উঠেছি। এখান থেকে পরিষ্কার হল সবার উপরে মিডিয়া। এটাও কে না যেন, মিডিয়া বস্তুত এই দেশের কতিপয় বেনিয়ার দখলে যারা সব সময় শাসকগোষ্ঠীর ছায়াতলে বসে রস আস্বাদন করে। মিডিয়াকে আজ আমরা প্রভু বানিয়ে দিয়েছি, তারা যদি এখন বলে শুয়োরের মাংস খাওয়া জায়েজ আছে আমরা তাও খাবো। তবুও প্রশ্ন যখন এসেছিল একবারও খবর নিয়ে দেখিনি কাদের মোল্লা কি আসলেই কসাই কাদের , যাচাই বাছাই না করেই আমরা আজ তার মৃত্যুতে উল্লাস করছি। জয় বাংলা শ্লোগান দিচ্ছি।

    কাদের মোল্লা কি বলতে চেয়েছিল? তাও জানতে চাই নি। আজ হোক কাল হোক আমরা কি পারবো এই দায় এড়াতে? মিডিয়ার মুখো মুখি না হয়ে, রাষ্ট্রীয় রাজনীতির তৈরি দলিলে নির্ভর না করে নিজেদের দায় থেকে একটু খোজ নিয়ে দেখতে পারতাম কসাই কাদের আসলেই কাদের মোল্লা কিনা। যদি আমরা সত্যিকারের মানুষ হতে পারতাম তাহলেই এই দায় টা থাকতো যেই দায় থেকে নিজেদের মুক্তির কথা ভাবতাম।

    একজন কাদের মোল্লাকে অথবা একজন কসাই কাদেরকে ফাসিতে ঝুলাতে গিয়ে রথি আর মহারথি নামক কত নাটক যে ঘটে গেলো তার কতখানি জানি আমরা, আজ কোন রাষ্ট্র কিংবা কোন আদালত কাদের মোল্লাকে ফাসি দেয় নি। ফাসি দিয়েছে একটি রাজনৈতিক দল এবং কতিপয় মিডিয়া। এটা কোন ধরনের প্রগতিশীলতা বহন করে আমার জানা নেই। তবে এটা যে নিছক একটি পশুত্ব সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।

    কাদের মোল্লা আসলেই যুদ্ধ অপরাধী কিনা আমরা এখনো জানতে পারি নি। কিন্তু মিডিয়া আমাদের মাথায় ঠিকই ঢুকিয়ে দিয়েছে এই সেই কাদের মোল্লা কসাই কাদের যে হত্যা, লুটপাট, ধর্ষণ সহ নানা অপকর্ম করেছে। টিভিতে রিপোরটিং এর সময় এই কথা গুলো চিৎকার করে বলতে শুনেছি এক নারী রিপোর্টারকে। যার সাথে একদিন এক ছায়াতলে বসে দুজন মিলে প্রগতিশীলতা শিখতাম আর গাঁজার আক্ষেপটা সিগারেট দিয়ে পূর্ণ করতাম।

    তাই কাদের মোল্লার ফাসি হওয়া এটাকে যুদ্ধ অপরাধীর বিচার বলা যাবে না। এটা একটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, একটি জুডিশিয়াল কিলিং। কাদের মোল্লা আর যাই হোক সে যদি যুদ্ধ অপরাধী না হয়ে থাকে তবে এই দেশটাকে তার আরও বেশ কিছু দেয়ার ছিল।

    ঝিনিয়া ঝিনুক, সাবেক ইউনিয়ন নেত্রী এবং এক্টিভিস্ট।

    Nayel ভাই আজকে মনে হয় মার্টিন নিইমোলার না কোন ছাতার মাথার কথা বলছিলেন? আপনে তো ফরচুন টেলার হয়ে গেলেন ভাই। কুডোস।

    Reply

Leave a Reply