১৯৭১ নিয়ে ৭দফা বিভ্রান্তি ও তার প্রতিশেধক

১৯৭১ বিষয়ে আমার মত লক্ষ লক্ষ তরুন বিভ্রান্ত।কেন এই বিভ্রান্তি সে প্রশ্নের উত্তর খোজার আগে কোথায় কোথায় বিভ্রান্তি সেগুলো খোলা মনে নিজেকে জিজ্ঞেস করে নিন।এই কাজটাই সবচেয়ে কঠিন,যদি এটা করতে পারেন তাহলেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।এই সহজ স্বীকারুক্তি আপনাকে জানার জন্য পিপাসী করে তুলবে,আর জানাই পারে একমাত্র বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি দিতে। তাহলে চলুন প্রথমেই কিছু বিষয়ে confess করে নেই;

১ আপনি ধারনা করেন বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৬ ই ডিসেম্বর ১৯৭১ এ এসে শেষ হয়।

২ আপনি ধারনা করেন স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ নামে দুটি বিপরীত শক্তি দেশে বিদ্যমান

৩ আপনি ৭১ সালের স্বাধীকার আন্দোলনের যুদ্ধে প্রকৃত শহীদ,খুন ও মৃতের সংখ্যা নিয়ে সন্দিহান 

৪ আপনি স্যাকুলার হলে মনে করেন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের যুদ্ধ হয়েছিল জামায়াতের সাথে।মানে বাংলাদেশ Vs জামায়াত ইসলামি

৫ আপনি জামায়াত ঘরানার ইসলামপন্থি হলে মনে করেন জামায়াততো আসলে ছোট্ট একটা দল ছিল,রাজনৈতিক বিরুধীতা কিছুটা করলেও কোন অপরাধ করেনি।আর আওয়ামীলিগতো কলকাতায় মৌজ-মাস্তি করছে যুদ্ধ করেছে আমজনতা

৬ আপনি ধারনা করেন যুদ্ধাপরাধ একমাত্র জামায়াত ই করেছে,যার ফলে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যেকোন উপায়ে ফাঁসি দিলেই দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়ে যাবে

৭ শেষ কিন্তু সর্বশেষ নয়,আপনি শিখেছেন/শুনেছেন ৭১ বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যাবে এবং ভুলে যাবে অখন্ড পাকিস্তানের জন্য জান কুরবান করা মানুষদের কৃতকর্ম।ফলে ৭১ নিয়ে তেমন একটা ঘাটা-ঘাটি আপনি এতদিন পছন্দ করেননি কিন্তু এখন আফসোস করতেছেন আর বাঙগালী না বাংলাদেশী নাকি মুসলমান এই জাতীয় হাইপোথ্যাটিকাল আত্নপরিচয়ের সংশয়ে ভুগছেন

উপরোক্ত ৭ দফা confession এর কোন এক দফা যদি আপনার সাথে মিলে যায় তাহলেই পরবর্তি লেখাটুকু পড়বেন অন্যথায় সময় নষ্ট করে এতটুকু পড়ার জন্য ধন্যবাদ,আপনি এখন ব্রাউজারে ক্লিক করে অন্য লিংকে চলে যান।

এক, বাংলাদেশের ইতিহাস ৭১ সালে শুরু হয়নি।এই দেশের মানুষেরা হাজার হাজার বছর ধরে গড়ে উঠা এই অঞ্চলের উত্তরাধিকার। নিন্মোক্ত কয়েকটি ভাগে এই এলাকার ইতিহাসকে ভাগ করা যায়; ১) মুসলিম শাসনের আগে ২)মুসলিম শাসন (১২০২/১২০৫-১৭৫৭) ৩)ইংরেজ শোষন ১৭৫৭-১৯৪৭ ৪)পাকিস্তানি আমল ১৯৪৭-১৯৭০ ৫)স্বাধীকার আন্দোলন ও বাঙগালির শাসন; ১৯৭১ জানুয়ারি-অগাষ্ট ১৯৭৫ ৬)আধুনিক বাংলাদেশ ১৯৭৫-২০১৩। ইতিহাসের এই ভাগগুলো নিয়ে অন্তত ১ টি করে বই যদি আমরা না পড়ি তাহলে ব্যক্তি হিসেবে মাথা উঁচু করে কোন দিনই দাঁড়াতে পারব না। রিচার্ড ইটনের লেখা The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760 বইটি একটি রেফারেন্স বই মুসলমানদের আগের মুসলিম শাসনের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ জানতে।যারা ইংরেজিতে দুর্বল তাদের জন্য মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এর লেখা; “বাংগলা বাংগালীঃমুক্তি সংগ্রামের মুল ধারা” বইটি যথেষ্ঠ।খুবই সহজ ভাষায় একাডেমিক ধারায় বহু রেফারেন্স সমৃদ্ধ এই বইটি এক কথায় প্রায় ৫০০ বছরের ইতিহাস আপনাকে জানিয়ে দেবে। এই সময়কার ইতিহাস এই জন্যই জানা থাকা দরকার যে, কিভাবে ব্রাক্ষণবাদ এই অঞ্চলের বৌদ্ধ শাসনকে তছনছ করে দিয়ে অত্যাচার,নিপীড়ন ও বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক শাসনের বীজ তৈরি করেছিল এই ভুখন্ডে।সেখান থেকে মুসলিমরা কিভাবে এই অঞ্চলের মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বাধীনভাবে বাঁচতে সুযোগ করে দিয়েছিল।আরো জানা যাবে কিভাবে মুসলিম শাসনের সময়ে সময়ে বর্ণবাদী সাম্প্রদায়িক ব্রাক্ষণবাদ এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে চেষ্টা চালিয়েছিল।

দুই, ১৭৫৭ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সময়ের মুসলমানদের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে বিশিষ্ট ঐতিহাসিক প্রফেসর মইন উদ্দিন খানের লেখা “Muslim Struggle for Freedom in Bengal (1757-1947)বইটি পেয়েছি কয়েকদিন আগে, বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার এর পরামর্শে,এখনো শেষ করতে পারিনি।সুচনা পড়ে মনে হয়েছে আপনাদেরও পড়া উচিত।এরই সাথে সাম্প্রতিক বৃটেন থেকে প্রকাশিত তরুন গবেষক মজুলম খানে লেখা “The Muslim Heritage of Bengal:The Lives, Thoughts and Achievements of Great Muslim Scholars, Writers and Reformers of Bangladesh and West Bengal বইটি আমাদের প্রায় ৮০০ বছরের মুসলিম ইতিহাস জানিয়ে দেয়।জানিয়ে দেয় কিভাবে ইংরেজ শোষনের বিরুদ্ধে ঈমানদার মুসলিম কবি, সাহিত্যিক, লেখক, গবেষক, সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ মুসলিম বাঙলার জন্য নিজেদেরকে উৎসর্গ করে গেছেন।এই সময়ের ইতিহাসটা এই জন্যই জানা দরকার যে,আজকে যারা প্রগতিশীল বলে দাবী করে এবং প্রগতিশীলতার সংঙ্গা হিসেবে টার্গেট ভিত্তিক ইসলাম ধর্মের বিরোধীতাকে একান্ত কর্তব্য মনে করে, যারা তথাকথিত স্যাকুলার মুসলিম তাদের ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই এই অঞ্চলে,নেই ঐতিহাসিকভাবে দেশ-জনগন-স্বাধীনতার জন্য ত্যাগের কোন উদাহরন।তারা বরং উড়ে এসে জুড়ে বসেছে ঈমানদার মুসলিমদের প্রচেষ্টায় অর্জিত স্বাধীনতা, সাহিত্যে ও রাজনীতির সুফল ভোগ করতে।

এই সময়ের ইতিহাসটা পড়ে ধর্ম-বিদ্বেষী স্যাকুলারদের জন্য আমার করুণা হয় কারন ইতিহাসে তারা নিজেদের কোন ঐতিহাসিক চরিত্র খুঁজে পায়না।যার ফলে তারা ধাবিদ হয়েছে ব্রাক্ষণবাদের ঘরে জন্ম নেয়া চরিত্রের দিকে,যাদেরকে তারা আদর্শ মনে করে নিজেদের আদর্শ দাঁড় করিয়েছে।এটা করতে যেয়ে তারা খুব বেশি দূরে নয় তাদের নিজেদের বাবা/দাদাদের ঐতিহ্য,ইতিহাস,সংগ্রাম ও অবদানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এই সময়ের ইতিহাসটা তরুন প্রজন্মের জানা থাকলে তারা বর্তমানের সুশীল বুদ্ধিজীবিদের জিজ্ঞেস করতে পারবে; আচ্ছা!আপনারা যেই বাংগলার গল্প বলেন, যেই দেশের স্বপ্ন দেখান,যেই প্রগতিশীলতার বানী আউরান সেটা কি আপনার বাবা/দাদাদের রেখে যাওয়া বাংগলা?প্রশ্ন করতে পারবে,আপনাদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ১৯৭১ সালেই কেন শুরু হয়? এর আগে কি এই দেশে যে জনপদ ছিল তার কোন ইতিহাস কি কোন ইতিহাস, অর্জন নেই?কি ছিল তাদের রাষ্ট্রদর্শন, কি ছিল সমাজব্যবস্থা, কি ছিল তাদের জীবনাচার? 

এই পর্বে প্রস্তাবিত বইগুলো যদি আপনার হাতের নাগালের বাহিরে থাকে তাহলে অন্তত বিশিষ্ট “স্যাকুলার” বুদ্ধিজীবি আবুল মনসুর আহমেদের “রাজনীতির ৫০ বছর” বইটি পড়ে দেখুন।ব্রাক্ষন সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কিভাবে তিনি ও তার সময়কার মানুষ আন্দোলন করেছে তার ছবি ওখানে পাবেন।বলে রাখা ভাল তিনি হালের আরেক স্যাকুলার বুদ্ধিজীবি ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বাবা,বিশিষ্ট কংগ্রেসি,মুসলিম লীগ নেতা,আওয়ামীলিগ তাত্ত্বিক,পাকিস্তান আমলের মন্ত্রি,রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও সাহিত্যিক ছিলেন একাধারে।

তিন,১৯৭১ উপরোক্ত আলোচনাগুলোর ধারাবাহিকতা।উপরোক্ত বিষয়গুলোতে ন্যুনতম পড়াশুনা না থাকলে শুরুতে বর্ণিত “৭ দফা বিভ্রান্তি” থেকে মুক্তি মিলবে বলে মনে হয়না।১৯৭১ যাওয়ার আগে ১৯৪৭-১৯৭০ সাল সম্পর্কেও আমাদের কিছু জানা থাকা জরুরী।এই সময়ের জন্যও কিছু বই পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে।

চার,১৯৭১ সালে কি হয়েছিল, কি ঘটেছিল এইসব নিয়ে আমি এখানে আলোচনা করবনা।বরং তরুন প্রজন্মের একজন হিসেবে ঐ সময়কার ইতিহাস জানার ম্যাথডলজিটা একটু সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করছি। ১৯৭১ বাংলাদেশের জন্য বিশাল বড় একটা বিষয়।অথচ এই বিশাল অর্জন নিয়ে সাইন্টেফিক গবেষণার পদ্ধতি অবলম্বনে গবেষণা খুব কমই হয়েছে। ৭১ চেতনার অন্যতম কেন্দ্র ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে আজ পর্যম্ত ৭১ নিয়ে কয়টা পিএইচডি হয়েছে? অথচ বাজারে ৭১ নিয়ে গল্পের বইয়ের অভাব নেই।যেই সমস্ত বই দেখে স্বাধীনতাযুদ্ধের সেনা নায়ক আতাউল গনি উসমানি মন্তব্য করেন;

“এই যে এতো এতো স্বাধীনতা যুদ্ধের বই বাজারে, আমি তার অনেকগুলিই দেখেছি। পাবলিক লাইব্রেরীতে গেছি, দেখেছি সব মুক্তিযুদ্ধের রূপকথা”

৭১ নিয়ে জোৎসনা ও জননীর গল্প,ওমক কিশোরের গল্প, তোমক বিরঙ্গনার গল্প ইত্যাদিতে বাজার সয়লাব অথচ ৪২ বছর পরে এসে তরুন প্রজন্ম কিভাবে একটা আনবায়াসড ইতিহাস খুঁজে পাবে তার জন্য কোন সিস্টেমেটিক গবেষণা নাই।গল্প লেখার একটা সীমাবদ্ধতা হচ্ছে যিনি লিখছেন তিনি হয়ত চাক্ষুস বিষয়টাই লিখেছেন কিন্তু ৭১ এর ঐ সময়ে তিনি যেই অঞ্চলে ছিলেন তার আশেপাশের বাহিরে কি হয়েছিল কি ঘটেছিল তার বর্ণনা উনি কিভাবে লিখবেন?তখনি দরকার হয় অন্যের দেখা/লেখা গল্পের উপর।এভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীর লেখা ১০টা বই যদি আমার সামনে দেয়া হয় তাহলে আমি কোন একটা তথ্য যেটা নিয়ে ভিন্ন মত আছে সেটা এক বইয়ের সাথে আরেক বইয়ের তুলনা করে দেখব…ক্রস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আসল বিষয়টা বের করে আনতে চেষ্টা করব।এটাকেই বলে গবেষণা।

৭১ এর এমনোও ঘটেছে কোন একটা ঘটনায় একজন সৈনিক যা দেখেছে,তার উপরস্থ অফিসার ভিন্নভাবে দেখেছে,তার উপরের কমান্ডার ঐ একই ঘটনার বর্ণনা লিখেছেন ভিন্নভাবে।এখন কোন সৈনিক যদি বলেন এই এলাকায় ১০জন মারা গেছেন, অফিসার হয়ত বলবেন ২০ জন, কমান্ডার হয়ত বলেছেন ৩০জন কারন সৈনিকের দৃষ্টি সীমিত শুধু তার অপারেশন এরিয়ায় কিন্তু কমান্ডার দেখেন উপর থেকে পুরো থানাটা/জেলাটা,তার কাছে তথ্য আসে ছোট ছোট অপারেশনের কেন্দ্র থেকে।এই যে পার্থক্যটা ইতিহাস লিখতে এর প্রভাব কি আমরা কি বুঝি?

একজন পিএইচডি ছাত্র/গবেষক এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নেন এবং লেখার আগে এই ম্যথডলজিটা ঠিক করে নেন।ফলে তিনি একটা ঘটনার যত পক্ষের বক্তব্য রয়েছে পুরোটা তুলে ধরেন,একটা বক্তব্যের বিপরীতে যে আরেকটা আছে সেটাকে তুলে ধরে আগেরটাকে বাদ দেন এবং এভাবে ক্রস পরীক্ষা করে অপেক্ষাকৃত শক্ত তথ্য ও যুক্তিটাকে তুলে ধরে মতামত ব্যক্ত করেন।এই ধরনের গবেষণা ৭১ নিয়ে কয়টাই হয়েছে আর আমরা কয়টাইবা পড়েছি?

বাংলাদেশের এখন যে ইতিহাস ডমিনেন্ট সেটা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখেনা একপেশে।এই ধরনের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পশ্চিম বাংলার গবেষক, ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর শর্মিলা বোস দেখতে পান;

বাংলাদেশিরা তাদের দেশের জন্ম নিয়ে সরব হলেও ঐতিহাসিক দলিল দস্তাবেজ রাখার ব্যাপারে তারা ততটা দক্ষতা দেখাতে পারেন নাই এবং ১৯৭১ নিয়ে তাদের রচনাবলির এক বিরাট অংশ বানোয়াট রটনা মাত্র। তার উপর কিছু প্র-লিবারেশনিস্ট লেখক এক অসুস্থ ভিকটিম কালচার চালু করতে সচেষ্ট রয়েছেন।

লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে আর বড় করছিনা।এই যে ভিকটিম কালচার তৈরি করেছে চেতনাধারীরা তার ফলাফলই আজকের বাংলাদেশ।শুরুতে বর্ণিত ৭দফা বিভ্রান্তির জন্য ঐ সমস্ত চেতনাধারী লেখকরাই দায়ী।যেখানে স্বাধীনতা একটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে সেখানে স্বাধীনতাই আমাদের বিভাজনের মুল?!কি আজিব এই দেশ!!

এই অবস্থা থেকে মুক্তি লাভের একটা পথ হচ্ছে এই যে, ৭১ নিয়ে গল্প না পড়ে দু-একটা গবেষণা পড়ার চেষ্টা করা।এখানে কয়েকদিন আগে ফেইসবুকে ফারজানা মাহবুবা আপার লেখা একটি নোটে (দেখুন;রাজাকার’ বিষয়ে আমার অবস্থা) সেরকমই কয়েকটি বইয়ের নাম বলা হয়েছে,যার অনেকগুলোই গবেষণা, রয়েছে পিএইচডি থিসিসও।

সবগুলো বই  একত্রে পেতে এই লিংকে 

যেহেতু বাজারে চেতনাপন্থিদের একপক্ষীয় ইতিহাসে ভরপুর,সেখানে যারা ৭১ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তারা কেন সেটা নিয়েছিলেন,তাদেরকি দেশ প্রেম কম ছিল? সেজন্য অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়া ঢাকা ইউনিভার্সিটির তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন এর লেখা “একাত্তরের স্মৃতি” বইও দেয়া আছে,দেয়া আছে মুসলিম লীগের নেতা ইবরাহীম হোসেনের লেখা “ফেলে আসা দিনগুলো”,যিনি ঐ সময়ের ইন্টারনাল পলিটিকসের বাস্তব স্বাক্ষী।এই দুই প্রো-পাকিস্তানী লেখকের লেখা এই জন্যই পড়া দরকার তারা কেন, কোন যুক্তিতে সেই সময়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিলেন।প্রায় বাকী সবগুলো বই ই গবেষণা,থিসিস আশাকরি এই বইগুলো পড়ে শুরুতে বর্ণিত ৭দফা বিভ্রান্তি’র অধিকাংশই কেটে যাবে,ইনশাআল্লাহ।

আমি এটা বলছিনা এই বইগুলো পড়লেই সব মুশকিলের আসান হয়ে যাবে।আমি এও বলছিনা এটাই একমাত্র ধারা বরং বলছি আমরা দুই-পক্ষের যুক্তি ও অবস্থান দেখে নিজেরাই নির্ধারন করতে পারব আসলে ৭১ কি এবং কেন সেটা আমাদেরকে ঐক্য করতে পারেনি,এখনো পারছেনা।

Leave a Reply