রাজপথের শ্রেষ্ঠ বীর হওয়া কি শিবিরের উদ্দেশ্য ছিল ?

রাজপথের শ্রেষ্ঠ বীর
ইসলামী ছাত্রশিবির !

এই শ্লোগানটা ছাত্রশিবিরের কর্মী সমর্থকদের একটা প্রিয় শ্লোগান।শুধু শ্লোগানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটা অনেকের বিশ্বাসও।ফেসবুকের কল্যাণে মাঝে মাঝে চোখে পড়ে- শিবিরের দায়িত্বশীল এবং অনেক কর্মীই মনে করেন,অনেকেই তৃপ্তির সাথে বলছেন-রাজনীতির বর্তমান অবস্থায় শিবিরের ভূমিকা শিবিরকে জনগনের সামনে বীরের মর্যাদা দিয়েছে । ছাত্রশিবিরকে জনগন বীর ভাবছে।

তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজি;
১। কতটুকু সত্য এই ধারণা ?

২। এই ধারণা, এই কথা কতটুকু সামঞ্জস্যপুর্ণ মূল কর্মপদ্ধতির সাথে ?

৩। মূল লক্ষ্য অর্জনে এই অবস্থা কতটুকু সহায়ক হচ্ছে বা হবে ?

এই ব্যাপারে আমি সাধারণ মানুষের ভেতর মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছি । সাধারণ মানুষ বলতে আমি এমন লোকদেরকে বোঝাচ্ছি যারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন । পত্রপত্রিকা , টিভি , টকশো , ফেসবুক , ব্লগ থেকে নিজের মতামত গঠন করেন । আমি যাদের কথা বলছি এরা সবাই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী, অন্তত গ্রাজুয়েট ।

শিবির বা জামায়াতের কথা বলার সময় আমি তাদের ভেতর এক ধরণের ভীতি দেখতে পাই।তাঁরা বলেন ‘শিবিরের ছেলেরা খুব সাহসী আর ডেঞ্জারাস।ওরা মরণকে পর্যন্ত ভয় পায়না!’শেষে হয়তো বলে-‘আওয়ামী লীগের জন্যে এরাই পারফেক্ট’।এখানে যে বিষয়টা লক্ষ্যণীয়- এরা আওয়ামী লীগের ওপর বিরক্ত।এরা চায় কেউ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে শক্তভাবে দাঁড়াক।কিন্তু সেই সাথে শিবিরের এই সাহসী ভুমিকাকে ‘ভয়ংকর’ বলে মনে করে । শিবির তাদের কাছে এক ভীতির নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে । এটা কি শিবিরের প্রতি সাধারণ জনগনের সমর্থনকে বাড়াচ্ছে ? আমার ধারণা- ‘না’ । সাময়িকভাবে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে থাকায় বাহবা দিচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে যে ধারণাটা বদ্ধমূল হচ্ছে তাহলো – ‘শিবির ভয়ংকর’ । এটা ভবিষ্যতে দাওয়াতের প্রসারের পথে বিশাল বাধা হিসেবে কাজ করবে ।

রাজপথের শ্রেষ্ঠ বীর হওয়া কি শিবিরের উদ্দেশ্য ছিল বা আছে ? শিবিরের তো কথা ছিল ক্যাম্পাসে, জ্ঞানে, দক্ষতায় , ছাত্রসমাজের ইস্যু নিয়ে আন্দোলনে শ্রেষ্ঠ হবার । রাজপথের সংগ্রামে , অন্যায় অত্যাচার নির্যাতন স্বৈরাচারিতার বিরুদ্ধে , জনগনের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ছাত্ররা অংশগ্রহণ করবে – কিন্তু সেটা ছাত্রসংগঠনের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না । সেটা বৃহৎ রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীতে ছাত্রদের ব্যক্তিগত অংশগ্রহণের মাধ্যমে হতে হবে । অথবা ইস্যুভিত্তিক সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে করা যেতে পারে । যেমন তৈরি হয়েছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার জন্য সংগ্রাম পরিষদ । এতে করে সুবিধা হলো- কোন নির্দিষ্ট সংগঠনের কতিপয় জনশক্তি নয়; যেকোন মানসিকতার, যেকোন দলের , যেকোন মানুষ এসে মিশে যেতে পারে সেই আন্দোলনে । স্বৈরাচারবিরোধী লড়াইয়ে , জনগনের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে এর কোন বিকল্প নেই । গত পাঁচ বছরে ছাত্রদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ছাত্রশিবির কতটুকু আন্দোলন করেছে ? সুযোগ পায়নি । কেন সুযোগ পায়নি ? অভ্যন্তরীণ কাঠামো রক্ষার বাইরে , শিক্ষা ও জ্ঞানের প্রসারে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে ? খুব বেশি সুযোগ পায়নি । কেন পায়নি ? সমগ্র জাতির দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়া কি একটি ছাত্রসংগঠনের কাজ ?

তৃতীয় প্রশ্নটি হচ্ছে- মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই বীরত্ব কতটুকু সহায়ক হবে ? মূল লক্ষ্য যদি ‘ছাত্রদের মাঝে ইসলামের প্রচার প্রসারের জন্য সংগঠনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো’ হয় – তাহলে সেক্ষেত্রে এই বীরত্ব সহায়ক না হয়ে ক্ষতিকর হবে । শুরুতেই যেটা বলেছি- জনগনের মাঝে বীরত্বের পাশাপাশি ‘ভয়ংকর’ হিসেবে যে ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে সেটা দাওয়াতের জন্য নেতিবাচক । বেশিরভাগ মানুষ তার সন্তানকে ‘রাজপথের শ্রেষ্ঠ বীর’ হিসেবে দেখতে চায় না । আরো কঠিন বাস্তবতা হলো, জামায়াতের নেতারাও অনেকেই চাননা । আশেপাশে তাকালেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ চোখে পড়বে ।

আরেকটি বিষয় নিয়েও কিছু পর্যবেক্ষণের সুযোগ আছে । সরকার বিরোধী আন্দোলনে এত নির্যাতন সহ্য করেও আন্দোলন করছে জামায়াত ও সহযোগে ছাত্রশিবির । এতে কি জনসমর্থন বাড়ছে ? অনেকেরই দাবি, এতে জনসমর্থন বেড়েছে ।আমি সন্দিহান- এতে কি দীর্ঘমেয়াদে ‘সমর্থন’ বেড়েছে নাকি সাময়িক ‘সহানুভূতি’ বাড়ছে ? সমর্থন আর সহানুভূতি যে এক কথা নয় সেটা নিশ্চয় সবাই স্বীকার করবেন ।

আদর্শবাদী দলের জন্য হাওয়াই সমর্থন কাজে আসে না । বিশ্বাসনির্ভর, জ্ঞাননির্ভর সমর্থন প্রয়োজন । আর সেজন্য প্রয়োজন জ্ঞানের প্রসার । প্রয়োজন দাওয়াতী কাজ । আবু জেহেলের বিরুদ্ধে সবাই একমত হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও বড় ব্যাপার হলো সবাই ঈমান আনলো কিনা, সবাই ইসলামী সমাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করলো কিনা ।

4 Responses

  1. আবু সুলাইমান
    আবু সুলাইমান at |

    সুন্দর হয়েছে। ধন্যবাদ।

    Reply
  2. omar mukhtar
    omar mukhtar at |

    .

    Reply
  3. mohammad abdur rauf
    mohammad abdur rauf at |

    ।।
    nice

    Reply

Leave a Reply