প্রসঙ্গ বাংলাদেশ: রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস এবং এর প্রতিকার

২০০১ সালের পর থেকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। গত প্রায় এক যুগ ধরে প্রতি ছয় ঘন্টায় অন্তত একটি করে বই প্রকাশিত হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে! এই সময়ের মধ্যে অন্য যে কোন ফিল্ডের চেয়ে এক্ষেত্রে ফান্ডের পরিমাণও বেড়েছে বহুগুনে। গবেষণার পরিমাণ বেড়েছে ২৩৪ শতাংশ!

সন্ত্রাসবাদ কি? এর সঠিক সংজ্ঞা আজো নির্ধারণ করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। তবে Igor Primoratz, Richard Jackson or A. Ryan রা সন্ত্রাসবাদকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে, শান্তির সময়ে মানবাধিকার লংঘন করাই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। এর অর্থ তারা কি যুদ্ধের সময়ে মানবাধিকার লংঘন করাটাকে বৈধ বলে ঘোষণা করছেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেননি তারা। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে মানবাধিকার বাঁচিয়ে রাখতে গেলে তো যুদ্ধই হবে না। সে যাই হোক, তাদের সংজ্ঞাটাকে আপাতত গ্রহন করা যায়।

শান্তির সময়ে যে কোন ব্যক্তি সংগঠন কিংবা রাষ্ট্রের মাধ্যমে মানবাধিকার লংঘন হওয়াকেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলতে হবে। অর্থাৎ নিরীহ মানুষের উপর ভায়োলেন্স করা।

রাষ্ট্র কিছু ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এটাকে বৈধ হিসেবেই দেখা হয়। যেমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রায়ই চোর-ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারীকে প্রহার করা হয়। তাছাড়া রাজপথের নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেও কখনো কখনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। লাঠি চার্জ, রাবার বুলেট নিক্ষেপের মতো ঘটনাগুলোকে বৈধ হিসেবেই দেখা হয়। এসব রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই প্রয়োজন। তাহলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলা হবে কোনটাকে?

Alan Ryan তার ‘State and Private; Red and White’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‌সন্ত্রাসী রাষ্ট্র আসলে সম্ভব নয়। এমন রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রই বলা যাবে না। তবে টেরোরিস্ট রেজিম সম্ভব। যেমন হিটলারের জার্মানি, স্ট্যালিনের সোভিয়েত ইউনিয়ন। বর্তমান সময়ে সিরিয়াকেও এই তালিকায় আনা যায়। সিরিয়াকে টেরোরিস্ট রেজিম বর্ণনা করার ক্ষেত্রে এলান রায়ান বলছেন, সিরিয়া যখন হাইজ্যাকার, বোমা হামলাকারীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে তখন তাকে টেরোরিস্ট রেজিম বলতে হবে। এখানেও অনেক সমস্যা রয়েছে। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করাও কি সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হবে? এজন্যই রাষ্ট্রীয় সন্ত্র্রাস বিষয়টা বর্ণনা করার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতে হবে।

রাষ্ট্র যন্ত্র তথা সরকার যদি শান্তির সময়ে কোন ব্যক্তি, দল কিংবা কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘন করে তবেই তাকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলা যাবে। এটাই হবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।
ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান কিংবা ইরাকে শান্তি বিরাজ করছে না। সেক্ষেত্রে সেখানে যদি ফিলিস্তিনি, আফগান কিংবা ইরাকিরা কারো মানবাধিকার লংঘন করে তবে তাকে বর্তমান পাঠ অনুযায়ী সন্ত্রাসী কাজ বলে আখ্যায়িত করা যাবে না।

মানবাধিকার কিভাবে লংঘিত হয়? রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত কিছু মৌলিক অধিকার রয়েছে প্রতিটি দেশের নাগরিকদেরই। এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবেও অনেকগুলো অধিকার দেয়া হয়েছে একজন মানুষকে। এই অধিকারগুলো নিয়ে বহুৎ আলাপ আলোচনা হয়েছে। এখানে আলোচনা করে প্রবন্ধের কলেবর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্র যদি কোন ব্যক্তি দল কিংবা কোন রাষ্ট্রের সে অধিকারগুলো হরণ করে তবে সেই রাষ্ট্রকে টেরোরিস্ট রেজিম বলা যাবে। কিংবা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা যাবে।

এবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ফেরা যাক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কথিত বন্দুক যুদ্ধে অপরাধীদের নিহত হওয়ার বিষয়টি বহু পুরনো। চিহ্নিত অপরাধীদের এনকাউন্টার মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে নিষিদ্ধ হলেও অনেক সময়ই এসব অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণ করে আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া যায় না বলে এনকাউন্টারই শাস্তি দেয়ার প্রধান উপায় হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সিস্টেম পরিবর্তন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনাই হবে সঠিক উপায়। কিন্তু সিস্টেম পরিবর্তন করা সহজ বিষয় নয়। সে যাই হোক, এনকাউন্টারের বিষয়টা সামনে আসছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিষয়টার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকার কারণেই।

গত কয়েক মাস কিংবা বলা যায় ২০১৩ সালের সূচনা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পুরোপুরিই বদলে গেছে। রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এক সময় বহু খুনের আসামীদের এনকাউন্টার করতো। এতে মানবাধিকার কর্মীরা বহু প্রতিবাদ করলেও সন্ত্রাসের শিকার সাধারণ মানুষেরা মনে মনে খুশিই হতো। বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত যৌথ বাহিনী অবস্থান নিয়েছে পুরো বিপরীত স্থানে। অপরাধীদের ছেড়ে তারা সরকারের নির্দেশে মেতেছে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের নিধন অভিযানে। সারা দেশেই চলছে যৌথ বাহিনীর এ অভিযান। বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও লক্ষীপুরের কথা বলা যায়। বিরোধী দলের নেতা কর্মী হওয়াই হচ্ছে এনকাউন্টারে নিহত হওয়ার জন্য উপযুক্ত কারণ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরও বিচার বহির্ভূত হত্যা দেশে কম হয়নি। সংখ্যাটা কারো কারো মতে, পাঁচ শতাধিক!

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধ করা ঘোষণা ছিল। এই ঘোষণারই নমুনা প্রদর্শন করে চলেছে তারা গত কয়েক বছর ধরে!

এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন তাদের ২০১৩ রিপোর্টে বাংলাদেশ সংক্রান্ত অংশে লিখেছে, বাংলাদেশে যে বিচারবহির্ভূত হচ্ছে, এই নিয়ে সিভিল সোসাইটির কোন মাথা ব্যথা নেই। লজ্জাজনকভাবে সবাই চুপ মেরে বসে আছে। মিডিয়াগুলো নিরবে সমর্থন দিয়ে চলেছে এই হত্যাযজ্ঞকে। কেবল হত্যাকান্ডই নয়, অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে নির্যাতন করা, সভা করতে না দেয়া, মিছিলের অধিকার হরণ ইত্যাদি কাজ করে চলেছে সরকার। যার সবগুলোই সন্ত্রাসের পর্যায়ে পড়ছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে।

যে কোন সন্ত্রাসই খারাপ। তবে ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সন্ত্রাসের চেয়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের পরিধি বিশাল। এ কারণেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অধিক নিন্দনীয়। Igor Primoratz তার State Terrorism and Counter-Terrorism প্রবন্ধে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে চারটি কারণে ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের চেয়ে নিন্দনীয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রথমত, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের জন্য দায়ী সুসংগঠিত বাহিনী। তাদের পক্ষে হাজার গুন বেশি সন্ত্রাসী কার্যক্রম করা সম্ভব। যেমন ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর নন-স্টেট সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে ১/১১ তে। সে হামলায় ধারণা করা হয় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের কথা যদি বিবেচনায় আনি তবে ১৯৪৩ সালের ২৭ জুলাই হামবুর্গের উপর এক রাতের মার্কিন হামলায় নিহত হয়েছিল চল্লিশ হাজার মানুষ!

দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গোপনীয়তার প্রয়োজন পড়ে না। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন পড়ে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী অতি গোপনীয়তার সঙ্গেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ কারণেই রাষ্ট্রের সন্ত্রাস প্রকাশ হয়ে পড়ার ভয় থাকে কম। অর্থাৎ রাষ্ট্র যে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তা গোপনই থেকে যায়। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের আন্তর্জাতিক বিরোধিতা করার সুযোগও কমে যায়।

তৃতীয়ত, প্রায় সকল দেশই মানবাধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে এই সকল চুক্তি ভঙ্গ করে সংশ্লিষ্ট দেশ। ব্যক্তিগত সন্ত্রাসের ফলে এমন কোন চুক্তির লংঘন হয় না।

চতুর্থত, ব্যক্তিগত কিংবা দলীয় সন্ত্রাস অনেক সময়ই স্বাধীনতার জন্য হয়ে থাকে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বেশির ভাগ সময়ই হয়ে থাকে আগ্রাসনের জন্য। অর্থাৎ একটি রক্ষণাত্বক সন্ত্রাস অপরটি আক্রমণাত্বক সন্ত্রাস!

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস থেকে মুক্তির উপায় কি? এই প্রশ্নটাই সবেচেয় গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যখন জনসাধারেণর উপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে সন্ত্রাস চালায় তখন জনগণ কি করবে? রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মোকাবেলার বেশ কিছু প্রচিলত পদ্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম হলো সরকারের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা। কিন্তু প্রায়ই সন্ত্রাসী সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে কি করা যাবে? দ্বিতীয় পন্থা হলো বিপ্লেবর পথ বেছে নেয়া। অর্থাৎ এটা হবে কাউন্টার টেরোরিজম।

এবার একটু নৈতিক দিক বিচার করা যাক। যে কোন সন্ত্রাসই নিন্দনীয়। সন্ত্রাস চালানোর ফলে ব্যক্তি কিংবা সরকার নৈতিকতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালানোর পর কেউ আর নৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে ভাবে না। ভাবলে তো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতেই পারতো না।

সন্ত্রাসের মোকাবেলা সন্ত্রাস দিয়ে করা কখনোই ঠিক হবে না। কারণ এতে নৈতিক বিষয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাহলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস মোকাবেলার উপায় কি?

এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সাধারণ যে নীতি মালা গুলো রয়েছে, সেগুলোকেই হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করতে হবে। বিক্ষোভ প্রদর্শনের সুযোগ না থাকলে সরকারের বিরোধিতা করতে হবে কৌশলে। দেশীয় জনগনের কাছে বলতে হবে সংবিধান লংঘন হচ্ছে। মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে। মিডিয়ার মাধ্যমে বলা সম্ভব না হলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে ব্যাপক হারে ব্যবহার করতে হবে। অনেকেই বলতে পারেন, এখনো তো হচ্ছে, কিন্ত কাজ হচ্ছে নাতো। তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে যেতে হবে। পৃথিবীর সবাই তো এক সঙ্গে খারাপ হয়ে যেতে পারে না। মজলুমের চিৎকার বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

জাতিসংঘ, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা, মোটামুটি নিরপেক্ষ মিডিয়াগুলোতে চিঠি কিংবা মোটামুটি কয়েক লাখ লোকের স্বাক্ষরিত স্মারকলিপি দিতে হবে। এক্ষেত্রে নির্যাতিত এলাকার ভিডিও চিত্র, ছবি, এবং নির্যাতিত লোকদের সাক্ষাতকার গ্রহন করে সেগুলোও পাঠাতে হবে।

এসব করেও হয়ত কাজ হবে না। তবে একেবারে কিছু না করার চেয়ে পদক্ষেপগুলো নিলে অন্তত আমরা দায় এড়াতে পারবো।

কিছুদিন আগে সাতক্ষীরা নিয়ে আমিরুল মোমেনিন মানিকের একটা ভিডিও চিত্র দেখেছি ফেসবুকে। এমন অসংখ্য ভিডিও চিত্র তুলে ধরতে হবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সেগুলো যাতে ছড়িয়ে পড়ে, তারও নিশ্চয়তা পেতে হবে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে। এটা সবাই জানে। কিন্তু কিভাবে সরকারী বাহিনীর নির্যাতনটাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলা যাবে/হবে, তার ব্যাখ্যা কিন্তু কেউই দিচ্ছে না। সংবিধানের কোন কোন ধারা লংঘন হচ্ছে, আন্তর্জাতিক কোন আইনের লংঘন হচ্ছে, এগুলো তুলে ধরতে হবে।

শেখ হাসিনা সরকারের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পক্ষে অনেক সমর্থন রয়েছে। মিডিয়া, আওয়ামী লীগ, সরকারী বাহিনী। যদি শেষ পর্যন্ত দুইটা পক্ষ হয়ে যায় জনগণের মধ্যে, তবে শেষ পরিণতি হবে গৃহযুদ্ধ।

শেষ দিকে একটা মন্তব্য করা যায়। কোন জাতির সম্মিলিত অপরাধকে আল্লাহ সহজে ক্ষমা করেন না। আমরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ সঠিক উপায়ে করতে ব্যর্থ হই তবে সেই অপরাধে কিন্তু শামিল হবো আমরাও।

Leave a Reply