`ঘুড়ি যতটাই হোক নাটাই হতে হবে একটাヅ

সৃটাইদুপুরেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আজ শুধু পড়বো ,আপনাদের লেখা গুলো । গত কয়েক ঘন্টা ধরে বেশ ধৈর্য ধরে আমার স্যার Mohammad Mozammel Hoque স্যার এর কয়েকটি নোট পড়লাম । এক কথায় অসাধারন । [ ইতোমধ্যে  imbd ব্লগে  “এ দেশে ইসলামী রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রসঙ্গ” শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে ।  আমরা নাদানরা যারা সাংঘটনিক ভাবে নিচের দিকে তারা বিভিন্ন অযুহাতে অনেক বিষয় জানতে পাড়িনা । যা স্যার আজানালেন। খুব ভালো লেগেছে । অনেক অজানা বিষয় জানা গেল । স্যারের ‘ক্লাস্টার অব অর্গানাইজেশনস’ প্রস্তাবটা এক্সিল্যান্ট। আমি নিজেও বেশ কিছুদিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছিলাম। স্যারের প্রায় কথা মেনে নিলেও কিছু প্রশ্ন রয়েই গেছে আপনাদের অনেকেই এই ব্লগ গুলো পরেছেন তাই প্রশ্ন আর মতামত গুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করলাম । কারো জানা থাকলে বা প্রশ্ন থাকলে জানাবেন ।

তবে কিছু প্রশ্ন :

বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদের প্রতীক হচ্ছে জামায়াত এই কথাটা 100% ঠিক । তবে —-

1. আসলেই কি অন্য ইসলামী দলগুলোও চাইতে তো পাকিস্তান অখন্ড রাখার চেষ্টায় জামায়াত এগিয়ে ছিল ? মন্ত্রীসভার সদস্য সহ আলবদর বাহিনী, রাজাকার বাহিনী, শামস বাহিনী সবই কি জামায়াতের ? মুসলিম লীগ সহ অন্য ইসলামী দলগুলোর ভুমিকা কেমন ছিল?

2.শুধু একটি নয় প্রায় বিষয়ে জামায়াত -শিবির তার নেতা-কর্মীদের ক্লিয়ার করে না । এবং এক ধরনের দুরত্ব বজায় রাখে । এটা কেন ?

3.আরবদেশ প্রসংগে বলা হচ্ছে বাস্তবতা তাদেরকে বলছে, আরব ভূমিতে আর আগের খেলাফত হবে না। বাস্তবতা তাদেরকে বলছে, আধুনিক যুগে সে ধরনের ইসলামী রাষ্ট্র এখন আর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।শুধু এই বাস্তবতার দোহাই দিয়ে কি এমন একটি মৌলিক বিধানকে এড়িয়ে যাওয়া যায় বা তা কি যুক্তি যুক্ত ? এখানে কি রাজতান্ত্রিক লালসাই বড় সমস্যা নয় ?

4.ক্যাডার ভিত্তিক আন্দোলনের কারনে জামায়াত গনমানুষের দল হচ্ছে না সত্য, তবে এর বিকল্প কি ? আর নেতার আনুগত্য নিয়ে আমরা যতই কথা বলি তবে তারও কি বিকল্প আছে ? আমরা কমিউনিস্ট আন্দোলনের বর্তমান অবস্থা দেখেইতো বুঝতে পারি নেতার প্রতি আনুগত্য না থাকার ফলে কেমনে 1 দল 10 দল হয় । আর ইসলামী আন্দোলনের জন্য ক্যাডার ভিত্তিক আন্দোলনের বিকল্প কি হতে পারে । এর পরেও তো বর্তমান সময়ে কর্মী-নেতাদের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন দেখা দিচেছ ?

5.মা: আব্দুর রহিম [র:] ও তো নাকি জামায়াত নামে সংঘটনের বিরোধীতা করেই জামায়াত ছেড়েছেন ? কিন্তু কোন সমাধান কি দিতে পেরেছেন ?

6.জামায়াত নেতারা ‘ব্যবসা-বাণিজ্যনিয়ে ব্যস্ত আছেন’ এই মুহূর্তে এর থেকে বড় নিষ্ঠুর মন্তব্য আর কি হতে পারে, যখন নেতা তো দূরের কথা কর্মীরা পর্যন্ত ঘরে ঘুমাতে পারেনা !

হ্যা আমিও মানি :

জামায়াতের উচিত ছিল ১৯৭১ সালের লিগ্যাসিকে চাপা দেওয়ার জন্য একটা আন্ডারগ্রাউন্ডপার্টি অথবা সেমি-আন্ডারগ্রাউন্ড পার্টি করা । তবে প্রস্তাবিত নতুন দলের ব্যাপারে আমার প্রথম আপত্তি হবে । এই নতুন প্লাটর্ফম কোন ভাবেই জামায়াতকে বাদ দিয়ে নয় বা এড়িয়ে নয় বরং তা হতে হবে জামায়াতের সাথে মিলে । আমি মুলত প্যারালাল সংঘটন বা আপনাদের কথা ধরেই গুচ্ছ সংঘটনের কথাই বলছি । একই উদ্দেশ্য কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে । আর জামায়াতের ভুল আছে এটা ভেবে যদি কেও জামায়াত ছেড়ে নতুন দল গড়ে তবে আমি আজ 100% শিউরেটি দিচ্ছি এতে ইসলামী আন্দোলনের শুধু ক্ষতিই হবে লাভ নয় । কারন আপনারা আমার চাইতে ভালো জানেন আমার চাইতে অধিক অবগত আছেন জামায়াতে যে মানসিক ঐক্য , আনুগত্য এককথায় বলতে গেলে যে জান্নাতি পরিবেশ তা অন্য কারো বা কোন সংঘটনের পক্ষে নতুন করে তৈরী করা অসম্ভব। অনেকে জামায়াত থেকে বেড়িয়ে অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছেন , তারা কেও সফল হন নাই । এক্ষেত্রে মা: আব্দুর রহিম এর নতুন দল বা আব্দুল কাদীর ভাইয়ের খেলাফত মজলিসের উদাহারন প্রনিধানযোগ্য । তাই আমি আবারো বলছি কোন ভাবেই জামায়াতকে ছেড়ে নয় বরং জামায়াতকে বুনিয়াদি সংঘটন হিসেবে রেখে , তার সাথে মিলে ইন্টেলেকচুয়াল মুভমেন্ট হিসেবে প্যারালাল একটি বা একাধিক নতুন সংঘটন হতে পারে । আর যদি নতুন সংঘটন ইসলামী আন্দোলনের জন্য নাই হয়,তবে শুধু মাত্র রাজনীতির জন্য সংঘটনের কি প্রয়োজন ?

so…..“তবে ঘুড়ি যতটাই হোক নাটাই হতে হবে একটাই”।

2 Responses

  1. শাকিল মামুন
    শাকিল মামুন at |

    নতুন করে রাজনৈতিক দল গঠনের কোন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন সত্যিকারের একদল দায়ীর। যারা ইসলামের আসল রূপটা মানুষের সামনে তুলে ধরবে। ইসলামের নাম শুনলে ভয়ে পালিয়ে যাবে না।

    Reply

Leave a Reply