কি করা উচিত এবং কি করতে হবে….

এক) উচিত শব্দটি আইনের পরিভাষা। উচিত শব্দটি যখন ব্যবহার হয়, তখন সাথে সাথে অনুচিত কর্মের একটি তালিকা সামনে চলে আসে।মানুষের ফিতরাত এই দুটির একটি গ্রহন করতে বাধ্য। তবে অনুচিত কাজের দিকে ঝুঁকে থাকামানুষের বিবেক দিয়ে আটকাতে হয়।এই বিবেক এবং রুহের অবিরাম যুদ্ধবস্থা নিয়ে মানুষের চলাফেরা।রুহ এবং বিবেকের জয় পরাজয়ের মধ্যে রয়েছে উচিত আর অনুচিত কর্মের সম্পর্ক।আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ায় এই দুটি শক্তি (মানসিক) কাজ করে।তাই দেখা যায় মানুষ অনুচিত কাজ করেও তার জন্য যুক্তির আশ্রয় নেয়।সেটা তার জন্য স্বাভাবিক মনে করে। তা যতই মুনকার (হারাম অর্থে) কাজ হওউক না কেন।মা’রুফের প্রসংসা সবসময় – সব সমাজে একই হয়ে থাকে।
দুই) বিবেককে কাজে লাগাতে হলে অবশ্য আমাদেরকে উচিত কাজগুলো সম্পর্কে জানতে হবে।আর অনুচিত কজগুলো থেকে নিজেকে বাঁচাতে হলে অবাধ্য রুহকে লাগাম পরানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা করতে হবে।

রুহ আর বিবেকের মধ্যে ভারসাম্য আনতে যে সমস্ত কাজ করতে হয় তার বাংলায় নাম হল দোলন।আমি মুসলিম হলে আমাকে বলতে হবে এর নাম ইসলামী আন্দোলন।

কোরআনের পরিভাষা হল ‘আল জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহ’। তবে আরবীতে কয়েকটি পরিভাষায় পরিচিত। যেমন ‘হারাকাতুল ইসলামীয়া’। আরব বিশ্বের ডানপন্থী পত্রিকাগুলোতে পৃথিবীর কোন ইসলামী আন্দোলনকে বুঝাবার জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করে।তবে সেকুলার পন্থী পত্রিকাগুলোর ভাষা হয় ভিন্ন।কোথাও হয় হারাকাতুল জিহাদ। কোথাও লিখা হয় – হারাকাতুল ইরহাব (সন্ত্রাসী দল)। আবার কোথাও লিখে দেয় হিজবুল মুতাশাদ্দীদীন বা উসুলিয়া (মৌলবাদি দল) ইত্যাদি।

তিন) তবে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলন বলতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ই বুঝানো হয়। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও এই শব্দটি পরহেজ করতো আমাদের মিডিয়া সম্প্রদায়। বর্তমানে এই চিত্রের পরিবর্তন হয়েছে।

ইখওয়ানে প্রাক্তন মুর্শীদেআম (আমীরে জামায়াত) আল্লামা তিলমিসানী (রঃ) বলেছেনইসলামী আন্দোলন হল ‌’মুমীন জীবনের গর্বের চাদর যে মুমীন ইসলামী আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারলো নাতার মুমীন জীবনে গর্ব করার কোন বিষয় আর থাকে না। তিলমিসানীর এই বক্তব্যের সমর্থনে একটি হাদীস পাই। রাসূল (সাঃ) বলেছেন – ‘যার মধ্যে শাহাদাতের তামান্না (ইচ্ছা) থাকে না, সে মুনাফিক হয়ে মারা যাক,তাতে আমাদের কিছু আসে যায় না।

চার) এজন্য সমাজের উচিত আর অনুচিত সকল কর্মকান্ডের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন হল ব্যরোমিটার।

সমাজে ইনসাফ কায়েম করা।

সমতা ভিত্তিক একটি আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

সকল শ্রেণীর অধিকার নিশ্চিত করা।

মুসলিম অমুসলিম সকল নাগরিকের মৌলিক প্রাপ্যতার (আ’দল) আদায় করা।

জেন্ডার ইস্যু নামের কোন বৈষম্য না থাকা।এই সব কিছুর প্রচেষ্টার নাম হল ইসলামী আন্দোলন।

এজন্য ইসলামী আন্দোলন হল – ব্যক্তি,সমাজ,গোত্র,এবং অধিকার হারা গণমানুষের ভরসার একমাত্র জায়গা।সমাজের প্রতিটি নাগরিক তার হিস্সা পেতে জন্মগত ভাবে মওরুসী (আল্লাহর পক্ষ থেকে অধিকারপ্রাপ্ত)।

অবশ্য সেই সমাজটা হতে হবে কুরআন,সুন্নাহ বিম্বিত সামাজ।ইসলামী আন্দোলন সেই কাংখিত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য ই।

তাহলে সমস্যা কোথায়?

পাচঁ) যে বর্ণনা দেয়া হল তার বাস্তবতা কোথা? আজ থেকে ১৪৩৫ বছর পূর্বে যে সমাজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার রুপায়ন কি ২০১৪ সালে সম্ভব?

যারা এই কাজে অগ্রজ তাদের প্রস্তুতি কেমন?

সমাজের সকল অংশকে নিয়ে পথ চলার পাথেও কি আমাদের আছে?

কর্ম পদ্ধতি,কর্মসুচী,চিন্তা গবেষনা,বাস্তবায়নের বাঁধা সমুহের চিহ্নিতকরণ,পথ মাড়িয়ে মনজিলে পৌছার রসদ ইত্যাদির সর্বশেষ খবর কী?

One Response

  1. ইকবাল হোছাইন ইকু
    ইকবাল হোছাইন ইকু at |

    লেখাটির মাঝে যে ভুলত্রুটি আছে তা এখনও ঠিক হয়নি কেন?
    পৃথিবীর কোন সঠিক শব্দটি হবে কোনো
    হিস্সা সঠিক শব্দটি হবে হিস্যা
    ব্যক্তি,সমাজ,গোত্র,এ:- এরকম অনেক জায়গায় স্পেস দিতে হবে। মাত্রাও ঠিকমত দিতে হবে। ব্লগটি খুবই উচুদরের কিন্তু এখানে মুর্খের মত ভুল করলে কি আর চলে? আশাকরি এডমিনও বা মডারেটর ভাইদের দৃষ্টিগোচর হবে ইনশাআল্লাহ।

    লেখাটি বাস্তব সম্মত। আমরা মত ছোট নিয়মিত পাঠকের পক্ষ থেকে টকটকে লাল গোলাপ ও গাঁদা ফুলের শুভেচ্ছা। আপনাকে আমার লেখা পড়ার দাওয়াত দিলাম। আল্লাহাফেজ

    Reply

Leave a Reply