নাম নিয়ে জামায়াতের বাস্তবতা বিবর্জিত একগুঁয়েমি বনাম ইফকের ঘটনার শিক্ষা

ইসলামী আন্দোলন গুলি একটা মহান আদর্শের কথা বলে । নিজেদেরকে সেই আদর্শের মডেল হিসেবে তুলে ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে । সেজন্য অন্যান্য বাতিল মতাদর্শের ধারক-বাহকেরা আদর্শিকভাবে এর মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয় । তখন তাদের একটাই উপায় থাকে – শক্তি প্রয়োগ এবং অপবাদ আরোপ । ৭১ এ জামায়াত রাজনৈতিকভাবে অখন্ড পকিস্তানের পক্ষে ছিল, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াতের ওপরও অনেক অপবাদ চাপানো হয়েছে এবং হচ্ছে । মাওলানা সাঈদীকে বানানো হচ্ছে খুনী, ধর্ষক, লুন্ঠনকারী । ১৭ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়া ছাত্রকে ২০০ নারীর ধর্ষক সাজানো হচ্ছে ।

জামায়াত তার নাম নিয়ে রাজনীতি করে যাচ্ছে।এটা কতটুকু যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ? অনেকেই বলেন এটা যতটা না বুদ্ধিবৃত্তিক তাঁর চেয়ে বেশি আবেগী সিদ্ধান্ত । জামায়াতের নাম পরিবর্তন অবশ্যই জরুরী ছিল।এখনো তাই।আমিও এটাই মনে করি।এই প্রসঙ্গে আমি রাসুলুল্লাহ সাঃ এর জীবনের একটি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা- ইফকের ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা খুজে পাই।জামায়াত ইফকের ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নি।আমরা ইফকের ঘটনার সাথে জামায়াতের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করি –

১। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর চরিত্রে কালিমা লেপন কাফিরদের অসাধ্য ছিল । আল্লাহ তায়ালা তাঁর হেফাযত করেছেন । কিন্তু কাফেররা তাঁর পরিবারের অপর অপবাদ আরোপের সামান্য সুযোগ হাতছাড়া করেনি । তারা ঠিকই হযরত আয়েশা রাঃ এর অপর জঘন্য অপবাদ চাপিয়ে দেয় । ঘটনাটি ছিল এরকম-

“রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়ম ছিল, যখনই তিনি সফরে যেতেন তখনই স্ত্রীদের মধ্য থেকে কে তাঁর সংগে যাবে তা ঠিক করার জন্য লটারী করতেন । ” *বনীল মুসতালিক যুদ্ধের সময় লটারীতে আমার নাম ওঠে । ফলে আমি তাঁর সাথী হই । ফেরার সময় আমরা যখন মদীনার কাছাকাছি এসে গেছি তখন এক মনযিলে রাত্রিকালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাফেলার যাত্রা বিরত্রি করেন । এদিকে রাত পোহাবার তখনো কিছু সময় বাকি ছিল এমন সময় রওয়ানা দেবার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় । আমি উঠে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার জন্য যাই । ফিরে আসার সময় অবস্থান স্থলের কাছাকাছি এসে মনে হলো আমার গলার হারটি ছিঁড়ে কোথাও পড়ে গেছে । আমি তার খোঁজে লেগে যাই । ইত্যবসরে কাফেলা রওয়ানা হয়ে যায় । নিয়ম ছিল, রওয়ানা হবার সময় আমি নিজের হাওদায় বসে যেতাম এবং চারজন লোক মিলে সেটি উঠিয়ে উঠের পিঠে বসিয়ে দিতো । সে যুগে আমরা মেয়েরা কম খাবার কারণে বড়ই হালকা পাতলা হতাম । আমার হাওদা উঠাবার সময় আমি যে তার মধ্যে নেই একথা লোকেরা অনুভবই করতে পারেনি । তারা না জেনে খালি হাওদাটি উঠিয়ে উঠের পিঠে বসিয়ে দিয়ে রওয়ানা হয়ে যায় । আমি হার নিয়ে ফিরে এসে দেখি সেখানে কেউ নেই। কাজেই নিজের চাদর মুড়ি দিয়ে আমি সেখানেই শুয়ে পড়ি । মনে মনে ভাবি, সামনের দিকে গিয়ে আমাকে হাওদার মধ্যে না পেয়ে তারা নিজেরাই খুঁজতে খুঁজতে আবার এখানে চলে আসবে । এ অবস্থায় আমি ঘুমিয়ে পড়ি ।

সকালে সাফওয়ান ইবনে মু’আত্তাল সালামী আমি যেখানে শুয়ে ছিলাম সেখানে দিয়ে যেতে থাকেন । তিনি আমাকে দেখতেই চিনে ফেলেন । কারণ পর্দার হুকুম নাযিল হবার পূর্বে তিনি আমাকে বহুবার দেখেন । (তিনি ছিলেন একজন বদরী সাহাবী । সকালে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকা ছিল তাঁর অভ্যাস । তাই তিনিও সেনা শিবিরের কোথাও ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এবং এখন ঘুম থেকে উঠে মদীনার দিকে রওয়ানা দিয়েছিলেন । ) আমাকে দেখে তিনি উট থামিয়ে নেন এবং স্বতষ্ফূর্তভাবে তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে পড়ে, (আরবী) “রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী এখানে রয়ে গেছেন । ” তাঁর এ আওয়াজে আমার চোখ খুলে যায় এবং আমি উঠে সংগে সংগেই আমার মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে নিই । তিনি আমার সাথে কোন কথা বলেননি, সোজা তাঁর উটটি এনে আমার কাছে বসিয়ে দেন এবং নিজে দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন । আমি উটের পিঠে সওয়ার হয়ে যাই এবং তিনি উটের রশি ধরে এগিয়ে যেতে থাকেন । দুপুরের কাছাকাছি সময়ে আমরা সেনাবাহিনীর সাথে যোগ দেই । সে সময় সেনাদল এক জায়গায় গিয়ে সবেমাত্র যাত্রা বিরতি শুরু করেছে । তখনো তারা টেরই পায়নি আমি পেছনে রয়ে গেছি । এ ঘটনার কুচক্রীরা মিথ্যা অপবাদ রটাতে থাকে এবং এ ব্যাপারে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ছিল সবার আগে । কিন্তু আমার সম্পর্কে কিসব কথাবার্তা হচ্ছে সে ব্যাপারে আমি ছিলাম একেবারেই অজ্ঞ ।”

(বিস্তারিত জানার জন্য বুখারী ৩৮৩৫ হতে ৩৮৪০ পর্যন্ত হাদিস এবং তাফসীর গ্রন্থ হতে সুরা নূরের ব্যাখ্যা পড়ুন ।)

দেখুন- মুনাফিকরা সামান্য একটা অযুহাত পেল যে আয়েশা রাঃ একটু পেছনে পড়ে গিয়েছিলেন । আর এতেই তারা ব্যভিচারের লিপ্ত হবার মত জঘন্য অপবাদ ছড়িয়ে দিল ।

jamat

এখন একাত্তরে অনেক অপরাধ হয়েছে এটাতো সত্য । জামায়াতের লোকেরা করেনি এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায় । কিন্তু পাকিস্তানি সৈন্যরা করেছে, রাজাকারে থাকা আওয়ামী লীগাররা করেছে । যেহেতু জামায়াত সেসময় অখন্ড পাকিস্তান রাষ্ট্র সমর্থন করছিল [জামায়াত যুদ্ধকালীন সরকারে মন্ত্রীত্ব গ্রহণ করছিল ] , সেজন্য এর দায় কাফিররা , সেক্যুলাররা পুরোটাই জামায়াতের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে । এটাই স্বাভাবিক । এখন চাইলেই কি মুখের ফুঁৎকারে এই অপবাদের বোঝা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে ? যাবে না । এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করার উপায় নেই ।

২। আয়েশা রাঃ এর অপর অপবাদ আরোপের ঘটনায় স্বয়ং রাসুল সাঃ মানসিক ভাবে কষ্টে পড়ে যান ।

আয়েশা রাঃ বলেনঃ ” এ মিথ্যা অপবাদের গুজব কমবেশি এক মাস ধরে সারা শহরে ছড়াতে থাকে । নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মারাত্মক ধরনের মানসিক কষ্টে ভুগতে থাকেন । আমি কাঁদতে থাকি । আমার বাপ-মা চরম পেরেশানী ও দুঃখে- শোকে ভুগতে থাকেন ।’

রাসুল সাঃ নিজেও কিছুটা সংশয়- বিভ্রান্তিতে পড়ে যান । প্রমান দেখুন – আয়েশা রাঃ এর ভাষায় –

‘মদীনায় পৌঁছেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি এবং প্রায় এক মাসকাল বিছানায় পড়ে থাকি । শহরে এ মিথ্যা অপবাদের খবর ছড়িয়ে পড়ে । রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কানেও কথা আসতে থাকে । কিন্তু আমি কিছুই জানতাম না । তবে যে জিনিসটি আমার মনে খচখচ করতে থাকে তা হচ্ছে এই যে, অসুস্থ অবস্থায় যে রকম দৃষ্টি দেয়া দরকার রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দৃষ্টি আমার প্রতি তেমন ছিল না ।’

একপর্যায়ে সংশয়মুক্ত হবার জন্য রাসুল সাঃ আয়শা রাঃ এর চরিত্র সম্পর্কে তাঁর আশেপাশের লোকদের কাছে খোঁজখবর করেন ।

হযরত আয়েশা (রা) বলেনঃ “আমি চলে আসার পর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলী (রা) ও উসামাহ ইবনে যায়েদকে (রা) ডাকেন । তাদের কাছে পরামর্শ চান । উসামাহ (রা) আমার পক্ষে ভালো কথাই বলে । সে বলে, ‘হে আল্লাহর রসূল! ভালো জিনিস ছাড়া আপনার স্ত্রীর মধ্যে আমি আর কিছুই দেখিনি । যা কিছু রটানো হচ্ছে সবই মিথ্যা ও বানোয়াট ছাড়া আর কিছুই নয় । ’ আর আলী (রা) বলেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! মেয়ের অভাব নেই । আপনি তাঁর জায়গায় অন্য একটি মেয়ে বিয়ে করতে পারেন । আর যদি অনুসন্ধান করতে চান তাহলে সেবিকা বাঁদীকে ডেকে অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করুন । ’ কাজেই সেবিকাকে ডাকা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয় । সে বলে, ‘সে আল্লাহর কসম যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি তাঁর মধ্যে এমন কোন খারাপ জিনিস দেখিনি যার ওপর অংগুলি নির্দেশ করা যেতে পারে । তবে এতটুকু দোষ তাঁর আছে যে, আমি আটা ছেনে রেখে কোন কাজে চলে যাই এবং বলে যাই, বিবি সাহেবা! একটু আটার দিকে খেয়াল রাখবেন, কিন্তু তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং বকরি এসে আটা খেয়ে ফেলে । ’

এবার তাহলে বলুন- অপবাদ কতটা মারাত্মক হতে পারে ! যেখানে অপবাদে রাসুল সাঃ পর্যন্ত সংশয়ে পড়ে যান সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে ? কিন্তু জামায়াতে এই বাস্তবতা আমলে না নিয়ে বরং গায়ের জোরে অস্বীকার করা হয়েছে ।

৩। হাদীসে কয়েকজন লোকের নাম পাওয়া যায়। তারা এ গুজবটি ছড়াচ্ছিল। তারা হচ্ছে আবদল্লাহ ইবনে উবাই, যায়েদ ইবনে রিফা’আহ ( এ ব্যক্তি সম্ভবত রিফা’আ ইবনে যায়েদ ইহুদী মুনাফিকের ছেলে), মিস্‌তাহ ইবনে উসাসাই, হাস্‌সান ইবনে সাবেত ও হামনা বিনতে জাহশ। এর মধ্যে প্রথম দু’জন ছিল মুনাফিক এবং বাকি তিনজন মু’মিন। মু’মিন তিন জন বিভ্রান্তি ও দুর্বলতার কারণে এ চক্রান্তের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। এরা ছাড়া আর যারা কমবেশী এ গোনাহে জড়িয়ে পড়েছিলেন তাদের নাম হাদীস ও সীরাতের কিতাবগুলোতে আমার নজরে পড়েনি (তাফহীমুল কুরআন)।

বদরী সাহাবীরা পর্যন্ত মুনাফিকদের প্রতারণা-প্রচারণার ফাঁদে পড়েন । তাহলে আজ আমরা কীভাবে আশা করতে পারি যে – ইসলামী আন্দোলনের ওপর জঘন্য অপবাদের পরও সাধারণ মানুষ দলে দলে আন্দোলনের সাথে যুক্ত হবে ? সাধারণ মানুষ যদি বিশ্বাসও করে বসে , আন্দোলনের কর্মীও যদি সংশয়-ভ্রান্তিতে পড়ে যায় তাকে কতটা দোষ দেয়া যাবে ? স্বনামে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে এই বাস্তবতাকেও জামায়াত গায়ের জোরে অস্বীকার করেছে ।

৪। অবশেষে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আয়াত নাযিল হল যাতে আয়েশা রাঃ কে নির্দোষ ঘোষণা করা হলো । এর মাধ্যমে মুনাফিকদের এই প্রচারণার সমাপ্তি হল । সুরা নূর-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

১১) যারা এ মিথ্যা অপবাদ তৈরী করে এনেছে৮ তারা তোমাদেরই ভিতরের একটি অংশ ৷৯ এ ঘটনাকে নিজেদের পক্ষে খারাপ মনে করো না বরং এও তোমাদের জন্য ভালই৷১০ যে এর মধ্যে যতটা অংশ নিয়েছে সে ততটাই গোনাহ কামাই করেছে আর যে ব্যক্তি এর দায়দায়িত্বের বড় অংশ নিজের মাথায় নিয়েছে১১ তার জন্য তো রয়েছে মহাশাস্তি ৷.

﴿لَّوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنفُسِهِمْ خَيْرًا وَقَالُوا هَٰذَا إِفْكٌ مُّبِينٌ﴾

১২) যখন তোমরা এটা শুনেছিলে তখনই কেন মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে সুধারণা করেনি১২ এবং কেন বলে দাওনি এটা সুস্পষ্ট মিথ্যা দোষারোপ?

﴿لَّوْلَا جَاءُوا عَلَيْهِ بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاءَ ۚ فَإِذْ لَمْ يَأْتُوا بِالشُّهَدَاءِ فَأُولَٰئِكَ عِندَ اللَّهِ هُمُ الْكَاذِبُونَ﴾

১৩) তারা (নিজেদের অপবাদের প্রমাণ স্বরূপ) চারজন সাক্ষী আনেনি কেন? এখন যখন তারা সাক্ষী আনেনি তখন আল্লাহর কাছে তারাই মিথ্যুক৷১৪

১৪ . ”আল্লাহর কাছে” অর্থাৎ আল্লাহর আইনে অথবা আল্লাহর আইন অনুযায়ী। নয়তো আল্লাহ তো জানতেন ঐ অপবাদ ছিল মিথ্যা । তারা সাক্ষী আনেনি বলেই তা মিথ্যা, আল্লাহার কাছে তার মিথ্যা হবার জন্য এর প্রয়োজন নেই।

﴿وَلَوْلَا فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ لَمَسَّكُمْ فِي مَا أَفَضْتُمْ فِيهِ عَذَابٌ عَظِيمٌ﴾

১৪) যদি তোমাদের প্রতি দুনিয়ায় ও আখেরাতে আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা না হতো তাহলে যেসব কথায় তোমরা লিপ্ত হয়ে গিয়েছিলে সেগুলোর কারণে তোমাদের ওপরে মহাশাস্তি নেমে আসতো৷.

﴿إِذْ تَلَقَّوْنَهُ بِأَلْسِنَتِكُمْ وَتَقُولُونَ بِأَفْوَاهِكُم مَّا لَيْسَ لَكُم بِهِ عِلْمٌ وَتَحْسَبُونَهُ هَيِّنًا وَهُوَ عِندَ اللَّهِ عَظِيمٌ﴾

১৫) (একটু ভেবে দেখো তো¸ সে সময় তোমরা কেমন মারাত্মক ভুল করেছিলে) যখন তোমরা এক মুখ থেকে আর এক মুখে এ মিথ্যা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছিলে এবং তোমরা নিজেদের মুখে এমন সব কথা বলে যাচ্ছিলে যা সম্পর্কে তোমাদের কিছুই জানা ছিল না ৷ তোমরা একে একটা মামুলি কথা মনে করেছিলে অথচ আল্লাহর কাছে এটা ছিল্ গুরুতর বিষয়৷.

﴿وَلَوْلَا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ قُلْتُم مَّا يَكُونُ لَنَا أَن نَّتَكَلَّمَ بِهَٰذَا سُبْحَانَكَ هَٰذَا بُهْتَانٌ عَظِيمٌ﴾

১৬) একথা শোনার সাথে সাথেই তোমরা বলে দিলে না কেন, ‘‘এমন কথা মুখ দিয়ে বের করা আমাদের শোভা পায় না , সুব্‌হানাল্লাহ! এ তো একটি জঘন্য অপবাদ৷’’.

﴿يَعِظُكُمُ اللَّهُ أَن تَعُودُوا لِمِثْلِهِ أَبَدًا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ﴾

১৭) আল্লাহ তোমাদের উপদেশ দেন, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো,.

﴿وَيُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآيَاتِ ۚ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ﴾

১৮) তাহলে ভবিষ্যতে কখনো এ ধরনের কাজ করো না ৷ আল্লাহ তোমাদের পরিষ্কার নির্দেশ দেন এবং তিনি সবজ্ঞ ও বিজ্ঞানময়৷

এখন প্রশ্ন হচ্ছে – জামায়াতের জন্য কি কুরয়ানের আয়াত নাজিল হবার সুযোগ আছে ? অবশ্যই নেই । তাহলে এই অপবাদগুলো কতদিন কীভাবে মোকাবেলা করা হবে । আন্দোলনের কর্মীদের কি সারাজীবন ব্যয় করতে হবে অপবাদ, কলংক মোকাবেলায় ? তাহলে আসল দাওয়াত কখন দেয়া হবে । বিপ্লবের জন্য যোগ্য মানুষ তৈরি কখন হবে ? তাহলে জামায়াত নামেই থাকতে হবে , এই নাম নিয়েই আন্দোলনের কাজ এগিয়ে নিতে হবে কেন ? কেন এই একগুয়েমী ?

ইফকের ঘটনাকে নজির হিসেবে বিশ্লেষণ করে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি – জামায়াত নামে ইসলামী আন্দোলনকে খুব বেশিদূর এগিয়ে নেয়াটা বাস্তবতা সমর্থন করে না । এই নাম , এই ফরম্যাট অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে যদি আমরা আন্দোলনকে বিজয়ী করতে চাই ।

[জামায়াত নাম পরিবর্তন করলেই সব বিরোধিতা, বৈরিতা বন্ধ হয়ে যাবে এমনটা নয়।শহীদ আব্দুল মালেক ভাইকে যুদ্ধের অনেক আগেই হত্যা করা হয়েছে।যুগে যুগে এমনই হয়েছে।এমনই হবে।কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে বাঁচিয়ে আন্দোলনকে বিজয়ী করতে হলে একটা ফ্রেশ নাম , ফ্রেশ ইতিহাস অবশ্যই জরুরী ]

4 Responses

  1. ইকবাল হোছাইন ইকু
    ইকবাল হোছাইন ইকু at |

    মুহসিন আব্দুল্লাহ ভাইয়ের সাথে ঐক্যমত পোষণ করছি। আর জামাতের একটি দোষ হচ্ছে শুধু যারা জামাত করে তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক। আওয়ামী লীগদের সাথে তেমন চলাফেরা করার অভ্যাস নেই

    Reply
  2. saki bin
    saki bin at |

    জামায়াতের আতাঁত গল্প
    ছাগু নিরিহ পার্টি সমর্থক সাংবাদিক কাজি সিরাজ ০৯/১১/১৪ ইং তারিখে বাংলাদেশ প্রতিদিনে লিখেেছন জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে যাবেই। কারন আওয়ামিলীগের সাথে জামায়াতের আতাঁত হয়েছে। আর এ কারনে আওয়ামিলীগ আধ্যাপক গোলাম আযমের জানাযা নামােজর ব্যাবস্থা করে দিেয়ছে। তিনি আরো বলেছেন জামায়াতের নেতাদের মৃত্যু দন্ড বা ফাঁসী হলেও জামায়াত শিবির আন্দোলন করবে না, আন্দোলন করলেও হরতাল করবেনা, হরতাল ডাকলেও মােঠ নামবে না,মাঠে নামলেও সক্রিয় হবে না। কাজি সিরাজ সাহেব এত জানেন কিন্তু তিনি এটা বললেন না যে, বিএনপি জানে ট্রাইবুনাল ক্রটিপূর্ণ এবং এটা জানা সত্যে ও জামায়াতের মিত্র হয়েও অধ্যাপক গোলাম আযম সাহেবের মৃত্যুতে কোনশোক প্রকাশ করলো না কেন? জামায়াতের নেতাদের একের পর এক ফাঁসী হয়ে যাচ্ছে কিন্তুু তাদের মুেখ কোন কথা নেই। কািজ সিরাজ সাহেবএটা বলবেন কি বিএনপি কার স্বার্থে এবং কার সােথ আঁতাত করে এতো অন্যায়ের পরেও চুপ আছে? জামায়াত কঠোর আন্দোলন করলে বলবেন জঙ্গি, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলে বলবেন আতাঁত, এরকম ডাবল স্টান্ডবািজ কি আতাঁত নয়। যারা আজ আতাঁতের কথা বলেন তাদের বলতে চাই, দেশের দিকেচেয়েদেখুন কারা আন্দোলন করছে, কারা পুলিশের গুলিতে মারা যাচ্ছে, কারা গুম হচ্ছে, কােদর ফাঁসী হচ্ছে, কাদের পার্টি অফিস বছরের পর বছর সরকার বন্ধ করে রেখেছে, কারা বাড়ি ছাড়া, কাদের বািড় ঘর বুলডোজার দিয়ে গুড়িেয় দেওয়া হয়েছে, এ সবের উত্তর জামায়াত শিবির নেতা কর্মীদের। কািজ সিরাজ সাহেব ও ছাগু নিরিহ পার্টি নেতাদের চিন্তা মাওঃ সাঈদী সাহেবের ফাঁসী কেন হলো না? এটা আতাঁত। কাজি সিরাজ ও নিরিহ পার্টির নেতাদের ধারনা মাওঃ সাঈদী সাহেবের ফাঁসী হবে আর জামায়াত শিবির আন্দোলন করবে, সরকারের পতন হবে, নিরিহ পার্টির নেতারা ক্ষমতায় যাবে, আবার লুপপাট করবে, আরাম আয়েশে থাকবে। সপ্ন পূরন না হওয়ায় নিরিহ পার্টির নেতাদের খুব মন খারাপ। নিরিহ পার্টির নেতারা যখন তাদের আন্দোলনের আকােশ আর ঈদের চাঁদ খুজে পাচ্ছে না, তখন তারা অন্যের আতাঁত খুজে ফিরেছেন। বেগম জিয়া আন্দোলনের ডাক দিলে নিরিহ পার্টির নেতারা রুেম বসে টিভিতে আন্দোলন দেখেন তখন কািজ সিরাজ সাহেরা আতাঁত খুজে পান না। কািজ সিরাজ সাহেবদের বলবো দেশের মঙ্গল চাইলে জামায়াতের আতাঁত নামক মরিচিকার পিছনে না ঘুরে ছাগু নিরিহ পার্টির নেতৃিবন্দের আতাঁতের খোজ করুন। কে কার ব্যবসা বানিজ্য, অট্টলিকা,প্রাসাদ রক্ষার জন্য কার সাথে আতাঁত করেছে সিরাজ সাহেব খুজে বাহির করুন, অসত্য মনগড়া কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না। ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব লিখেছেন ওয়ান এলিভেন এর সময় বেগম জিয়া শুধু দুই পুত্রের কথা চিন্তা করতেন, দেশ জাতির ভাগ্য তার কাছে মুখ্য ছিল না। কার সাথে আতাঁত করে মিস্টার মওদুদ সাহেব এখনো বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আছেন? বেগম জিয়া ঠিক না ব্যারিস্টার মওদুদ সাহেব ঠিক? জামায়াত যদি আওয়ামিলীগের সাথে আতাঁত করতো তাহলে আধ্যাপক গোলাম আযম, মীর কাশেম আলী সৌদিআরব,আমেরিকা থেকে দেশে এসে ফাঁসীর দড়ি গলায় পড়তো না। ছাগুিনরিহ পার্টির নেতা লন্ডনে থেকে আন্দোলনের হুমকি দেন, কার ভয়ে দেশে আসেন না, জাতি জানতে চায়। কে, কোন দল কার সাথে আতাঁতের কারনে আজএই জালিম শাহী স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সফল হলো না জাতি তা ইতি মধ্যে বুেঝ গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে মার খাচ্ছে,মরছে, জেলে যােচ্ছ,গুম হচ্ছে, ফাঁসীর দড়িতে ঝুলছে জামায়াত শিবির, আগামি দিনে আন্দোলনও করবে জামায়াত শিবির, সরকারের পতন ঘটাবে জামায়াত শিবির, মানুষকে জুলুম থেকে রক্ষা করবে জামায়াত শিবির, জীবন দিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে জামায়াত শিবির ইনশাআল্লাহ। তবে যত কথাই বলি অকর্মা, অথর্ব, ব্যর্থদের কোন কাজ থাকবে না, তবুও তারা নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করতে ব্যস্ত থাকবে। যদিও সরকার পতনের আন্দোলনে আগামীতে ২০ দলের সমাবেশে চোখে পরার মতো উপস্তিতি থাকবে জামায়াত শিবিরের, মাঠে থাকবে জামায়াত শিবির, মরবে জামায়াত শিবির এর পরেও এরা বলবে মোঃ কামারুজ্জান এর ফাঁসী ৭দিনের মধ্যে হওয়ার কথা কেন হচ্ছে না এটা আতাঁত, কামারুজ্জামানের ফাসীর পর বলবে ফাঁসী দিয়েছে কিন্তু তাকে ফাঁসীর পূর্বে আদর যত্ন করে গোসল করিেয়েছ,ভাল খাবার খাইয়েছে এটা আতাঁত, খবরে প্রকাশ ফাঁসীর দড়ি মোলােয়ম ছিল এটা আতাঁত, ফাসীর পর দড়ি থেকে কামারুজ্জামানের লাশ নামানোর সময় খুব যত্ন সহকারে নামিয়েছে যেন কোন আঘাত না পায় এটা আতাঁত, লাশ শেয়াল কুকুর দিয়ে না খাইয়ে তার পরিবারের কােছ হস্তান্তর কেরেছ এটা আতাঁত,এর পর দেশে বিদেশে লক্ষ কোিট লোকের জানাজা হবে এটা দেখে নিরহ পাির্টর নেতাদের বুক ভেঙ্গে খান খান হয়ে যাবে পাবে আতাঁতের গন্ধ, এখানেই আতাঁত বন্ধ হবে না, নিরিহ পার্টির ভারাক্রান্ত সচিব একের পর হুংকার দিবে ঈদের পরের আন্দোলনের, কিন্তু যখন নিরিহ পার্টির ঐ আন্দোলনের আকশে চাঁদ উঠবে না আসবে না সেই কাংখিত ঈদ, তখন অবসর সময়ে আবার নেবে পরবে জামায়াতের আতাঁতের সন্ধানে। নিজামী, মুজাহিদ,মীর কাশেমদের আপিলের রায় হতে এত দেরী কেন? ঠিক আতাঁত হহয়েছে। নিজামী, মুজাহিদ,মীর কাশেম আপিলে ফাসীর রায় হলেও তা রাতারাতি কার্যকর হচ্ছে না কেন? ফাঁসী হলে বলবে তাদের লাশ সমুদ্রে ফেলা হলো না কেন? জামায়াত তারাতারি ব্যান্ড হচ্ছে না কেন? ব্যান্ড হলে বলবে কেন্দ্র,মহানগর,জেলা,থানা,ওয়ােডর্র নেতারা এখনো গ্রফতার হচ্ছে না কেন? গ্রেফতার হলে বলবে বিচার হচ্ছে না কেন? বিচার হলে বলবে ফাঁসী হলো না কেন? ফাঁসীর পরও নিরিহ পার্টির ভারাক্রান্ত সচিব বলবে এবং বলতেই থাকবে…………………………..এ সবই আতাঁতের অংশ। আর আমরা নিরিহ পার্টির তৈরি আতাঁতের গল্পে পাক খেতেই থাকবো, একের পর এক জীবন দিয়ে নিরিহ পার্টির নেতাদের কাছে আমরা যে আওয়ামিলীগের সােথ আতাঁত করিনি তার প্রমান সুবোধ বালকের মত দিতেই থাকবো। জাতির বিবেক কি বলে? কাজি সিরাজরা কোথায় থামবে?

    Reply
  3. Saiful Islam
    Saiful Islam at |

    “জামায়াতের লোকেরা করেনি এটা প্রায় নিশ্চিত করেই বলা যায় ।”
    -এই কথার মানে কি? রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস তাহলে কারা প্রতিষ্ঠা করেছে? ‘পাকিস্তানিরা জুলুম করেছে’ বলে মেনে নিলেন অথচ যুদ্ধের ৯ মাস তাদের সর্বাত্মক সহযোগীতাকারী ‘জামায়াত জুলুম করেনি’ এটা কি করে বললেন?
    -আপনি কোরআনের আয়াত দেখালেন, “১৩) তারা (নিজেদের অপবাদের প্রমাণ স্বরূপ) চারজন সাক্ষী আনেনি কেন? এখন যখন তারা সাক্ষী আনেনি তখন আল্লাহর কাছে তারাই মিথ্যুক৷১৪

    ১৪ . ”আল্লাহর কাছে” অর্থাৎ আল্লাহর আইনে অথবা আল্লাহর আইন অনুযায়ী। নয়তো আল্লাহ তো জানতেন ঐ অপবাদ ছিল মিথ্যা । তারা সাক্ষী আনেনি বলেই তা মিথ্যা, আল্লাহার কাছে তার মিথ্যা হবার জন্য এর প্রয়োজন নেই।”
    অথচ এখন আদালতে যখন জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ ধর্ষন মামলায় সাক্ষ্য দিচ্ছে, তাকে কেন মানছেন না?
    -আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া হচ্ছে? তাহলে ব্যক্তির কথা বাদ দেন। জামায়াত সাংগঠনিকভাবে যে অন্যায়ের দোসর হয়েছে, সে কলঙ্ক মুছবেন কি দিয়ে? পাকিস্তানীরা যখন জুলুম করছিলো, তখন জামায়াত তাতে সমর্থন দিলো কেন? কেন রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস গঠন করে তাদের জুলুমের সঙ্গী হলো?

    গঠনমূলক উত্তর আশা করছি।

    Reply
  4. মুহম্মদ আশরাফ আজীজ ইশরাক
    মুহম্মদ আশরাফ আজীজ ইশরাক at |

    অন্তত গবেষনার টেবিলে হলেও স্বীকার করতে হবে যে ছাত্রসংঘের মিলিট্যান্ট রুপ আল বদর। কাজেই প্রথমেই সমস্ত অপরাধ থেকে জামায়াতকে দায়মুক্ত করার সার্টিফিকেটটা পুরো নিবন্ধের গ্রহনযোগ্যতা হারিয়ে দিয়েছে।

    মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে আমাদের প্রথমেই বাংলাদেশী জাতিয়তাবাদের বাইরে এসে আলোচনা করতে হবে। এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ বক্তব্যটা আমার খুব মনে ধরেছে। যে একই অপরাধের কথা বলে মুজাহিদ-সাকার ফাঁসি হচ্ছে সেধরনের অপরাধ তো মুক্তিযোদ্ধারাও করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা কি রাজাকার মারে নাই? পাক সেনা মারে নাই? বিহারী মারে নাই? বিহারীদের ঘরদোর লুটপাট হয় নাই? ওগুলো কি যুদ্ধাপরাধ না?

    একাত্তর নিয়ে আমাদের আলোচনাটা হতে হবে এরকম। আর জামায়াতের সুহৃদ সেজে জামায়াতকে পরামর্শ দেয়াটা বন্ধ করা দরকার মুহসিন ভাই। আগে একগাঁদা তেল মেখে এরপর নিবেদন জানানোর সুলতানী সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। একাত্তরে জামায়াত অবশ্য অবশ্যভাবে সশস্ত্রভাবে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছে। এবং ছাত্রসংঘ অনেকক্ষেত্রেই সীমালংঘন করেছে।

    Reply

Leave a Reply