জামায়াত তথা ইসলামপন্থীদের দূর্বলতা ও করনীয়।

এখানে যে বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে তা মুলত যেসব এলাকায় দুর্বল তার উপরভিত্তি করে তুলে ধরা হয়েছে।

  • জামায়াত বা ইসলামপন্থীদের আচরনে সামাজিক জীব হিসেবে মনে হয় না।
  • কোথাও আগুন লাগলে, দুর্ঘটনা ঘটলে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে অনীহা, জড়তা, না দেখার ভান করা।
  • কোন ধরনের সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে উদ্যোগী না হওয়া। যেমন কোথাও রাস্তা মেরামত, বিদ্যুতের লাইন নেয়া অথবা গ্যসের লাইন পাওয়া ইত্যাদি কাজগুলোতে জড়িত না হওয়া।
  •  অতি ভদ্রতা, লজ্জা ও উচ্ছলতার অভাব।
  • মসজিদের সাথে সম্পর্ক কম। যেমন মসজিদ মাদ্রাসার কমিটিগুলোতে নেতৃত্ব না দেওয়া।
  • স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে না পারা। ধরুন একজন মাদ্রাসা বা কলেজের অধ্যক্ষ তিনি নিজেকে টোটাল সমাজ থেকে দূরে রাখেন।
  • জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন না করা যেমন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র , আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ইত্যাদি ইস্যুতে তীব্র আন্দোলন গড়ে সবশ্রেনীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার সুযোগ গ্রহন না করা।
  • স্থানীয় সরকারে ভুমিকা রাখতে না পারা। বিশেষ করে গ্রাম সরকার, পঞ্চায়েত, বাজার কমিটি, ওয়ার্ড মেম্বার ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটে নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে উদাসীনতা।
  • ওহাবী,সালাফী, মওদুদী ইস্যুতে মতভেদ ও দুরীকরনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহন না করা।
  • ইসলামের সৌন্দর্যগুলোকে বিকশিত করার চেয়ে ইসলামকে কঠোরভাবে উপস্থাপন করা।
  • মসজিদ ভিত্তিক সমাজ গড়ার দিকে নজর না দেয়া।
  • ইসলামী দলগুলো পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দেয়া।
  • নিজদলকেই একমাত্র সহীহ মনে করা ও দলকেন্দ্রিক ইসলাম প্রতিষ্টার চেষ্টা করা।
  • মুর্খ, কৃষক, শ্রমিকদেরকে কাছে টানতে না পারা।
  • স্বাধীন পেশার বা ব্যাবসা পরিবর্তে গোলামী করার প্রবনতা।
  • কর্মসংস্তান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প কলকারখানা গড়ার মত পরিকল্পনা না থাকা।
  • তথ্য-প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক কলাকোশল না বুঝে সবক্ষেত্রে সরলীকরন করা।
  • IT-expert এর ঘাটতি। সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠকের অভাব।                                                                                                                                        করনীয়ঃ
  • সত্যিকারার্থে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায় এমন দলগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আদর্শিক ভাবে মিল না থাকার পরও যদি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সাথে জোট করা যায় সেক্ষেত্রে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে মিল থাকার পর, শধুমাত্র কর্মপন্থা বা ছোট খাটো অমিলের কারনে ইসলাম্পন্থীদের ছাড় দিয়ে ঐক্যবদ্ধ না হওয়া অযোক্তিক।একজন অবিসংবাদিত নেতা নিরুপন করতে হবে। নেতা নির্বাচনের পদ্ধতি ঠিক করতে হবে।
  • একটা নির্দিষ্ট সময় জাতীয় রাজনীতি থেকে প্রয়োজনে ২ টার্ম দূরে থাকতে হবে। জাতীয় রাজনীতির পরিবর্তে স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
  • রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইউনিটগুলোর নেতৃত্ব দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে। এই জন্য একটি বিভাগ,জেলা,উপজেলা,ইউনিয়ন,গ্রাম,মহল্লার মসজিদ কেন্দ্রিক যতগুলো কমিটি আছে(মসজিদ কমিটি, বাজার কমিটি,গ্রাম সরকার, ক্লাব, স্কুল কমিটি,রিক্সাচালক,সি-এনজি, বাস-মালিক সমিতি ইত্যাদি) সবগুলোর তালিকা তৈরী করতে হবে। অনলাইনে ডাটাবেজ তৈরী করত হবে। দরুন সারা বাংলদেশে এই রকম ১ লক্ষ ইউনিট আছে প্রত্যেকটা ইউনিটের নাম ও পুরা কমিটির সদস্যের পরিচয় থাকবে। সেখানে ইসলামপন্থীদের কি অবস্থান যাচাইকরন ও ২ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা ও পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে বাজেট প্রনয়ন করতে হবে। এছাড়া অধিকসংখ্যক নেতৃত্ব সৃষ্টির লক্ষ্যে আরো বেশি উপসংগঠন সৃষ্টি করতে হবে। কোথাও ইসলামী শব্দের ব্যাবহারের দরকার নেই। পরিকল্পিতভাবে প্রত্যেকটি কমিটিতে অবস্থান তৈরী করতে হবে এবং সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্যতম করে গড়ে তুলতে হবে যাতে প্রত্যেকেই ঐ জোনে আইকনে পরিনত হবে। কারন এই সবগুলি ক্ষুদ্র ইউনিটের সমষ্টিই হলো রাষ্ট্র। তৃনমুলে জনপ্রিয় না হলে অথবা অবস্থান না থাকলে জাতীয় রাজনীতিতে মুলশক্তি হিসেবে প্রতিষ্টা লাভ করা। এই ইউনিটগুলোর ঐক্য ও শক্তি যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামুলকভাবে জাতীয় ইস্যুতে অল্প সময়ের জন্য আন্দোলন করতে হবে।
  • মসজিদ ভিত্তিক সমাজ গড়তে হবে। উপরের মত অনলাইনে ডাটাবেজ তৈরী করতে হবে।সারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্টা করতে না পারলেও একটি এলাকায় অন্ততঃ ইসলামের কিছু বিধান প্রতিষ্টা করা। যেমন নামাজ,যাকাত প্রতিষ্টা করা। সম্মিলিত যাকাতের টাকার মাধ্যমে নিজ এলাকার দরিদ্রদের পুনর্বাসন করা।
  • সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য বাস্তবায়নের নিমিত্তে স্ব স্ব এলাকার আধুনিক, সাংগঠনিক দক্ষতাসম্পন্ন ও তাকওয়া  সম্পন্ন আলেমদের মসজিদের ইমাম নিযুক্ত করা। স্বাধীন পেশার সুযোগ করে দেয়া যাতে স্বেচ্চায় ইমামতি করতে পারে।ইমামকে সমাজের আশা ভরসার স্থল হিসেবে প্রতিষ্টা করতে হবে।এমনকি ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউপি চেয়ারম্যনপদে নির্বাচিত করতে টার্গেট নিয়ে কাজ করতে হবে।স্থানীয় সরকারে ভুমিকা রাখতে পারলে জাতীয় নির্বাচনে বিজয় সহজতর হবে। মসজিদে সাহাবাকেরাম,তাবেতাবেইনদের জীবনী ও ইসলাম প্রতিষ্টায় তাদের ভূমিকা এবং ইসলামের গৌরবময় ঐতিহ্য বর্ননা করতে হবে। মসজিদে লাইব্রেরী স্থাপন করা ও পাঠক তৈরী করতে হবে।ধর্মীয় মৌলিক বিধিবিধান শেখানোর ব্যাবস্থা করতে হবে।মসজিদগুলো দান খয়রাতের পরিবর্তে যেন স্ব-অর্থায়নে চলে সে ব্যবস্থা করতে হবে।মসজিদ ও মাদ্রাসা স্থাপন ও সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে এবং পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে।মসজিদ,মাদ্রাসা ও বিদ্যালয়ের কমিটিগুলোতে ইসলাম পন্থীদের নেতৃত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে পাঠক তৈরী উদ্দ্যেশে মসজিদভিত্তিক বৃত্তি প্রদান।(কুইজ প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি।)

3 Responses

  1. abu sulaiman
    abu sulaiman at |

    কিছু কথা বেশ ভালো লাগলো। কিন্তু এ টি কি বললেন ভাই “সারা বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্টা করতে না পারলেও একটি এলাকায় অন্ততঃ ইসলামের কিছু বিধান প্রতিষ্টা করা। যেমন নামাজ,যাকাত প্রতিষ্টা করা।” এই একটি কাজই যথেষ্ঠ আপনার বাকী সব উদ্যোগ কে ভেস্তে দিতে। তাছাড়া ইস্লামের কোন চাপিয়ে কাজের মধ্যে পড়েনা। আধুনিক যুগে কন ইস্লামিক স্কলাররা একথা বলেন না। তবে হাঁ, তাদের কথা আলাদা, যারা মওদুদী সাহিত্য হারাম, জাকির নায়েক মুনাফিক কিংবা হালাল-হারাল ফতোয়া দিতে সিদ্ধহস্ত।

    Reply
    1. আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম
      আশরাফ আজীজ ইশরাক ফাহিম at |

      একটা চর আছে যেই চরটার নাম প্রথম আলো চর। ২০০৫ সালে প্রথম আলো এই চরটার নাম নিজেদের নামে রাখে এবং দাবী করে যে গ্রামবাসীরা এই চরটির নাম দেয় প্রথম আলো চর। সে যাই হোক, বর্তমানে এটা প্রথম আলো চর হিসেবে স্বীকৃত। প্রথম আলো ঐ চরে নিজেদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছে। বিদ্যালয় তৈরী করেছে, রাস্তাঘাট নির্মান করেছে। গুগলে ‘প্রথম আলো চর’ লিখে সার্চ দিলেই এসম্পর্কে অনেক তথ্য পাবেন।

      আর আজকে যদি ইসলামপন্থীদের বলা হয় যে একটি গ্রাম ইসলামী আদর্শে তৈরী করে সমাজকে দেখিয়ে দিন যে ইসলাম কত সুন্দর তখন তাঁরা বলবে যে সারা পৃথিবীতে ইসলাম কায়েম করতে হবে। ছোট্ট একটা গ্রাম নিয়ে চিন্তা করার সময় আছে?

      Reply
  2. আবু সাইফ
    আবু সাইফ at |

    @abu sulaiman- আমার মনে হয় এ পয়েন্টে উনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তা ঠিকমত বলতে পারেননি!

    স্থানীয়ভাবে সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গ্রাম/মহল্লা/ওয়ার্ডে ইসলামের কিছু বিধান প্রতিষ্টা করা- যেমন নামাজ, যাকাত প্রতিষ্টা করা (উশর, ফিতরা, সদকা সংগ্রহ ও বিতরণ) । সম্মিলিত যাকাতের টাকার মাধ্যমে নিজ এলাকার দরিদ্রদের পুনর্বাসন করা। (টিউশনী ও লজিং, পাঠ্যপুস্তকের লাইব্রেরী, অসুস্থ ব্যক্তিকে ডাক্তার/হাসপাতালে আনা-নেওয়ার জন্য চিকিতসা সহায়তা টীম ইত্যাদি ইত্যাদি)

    এসবের সামাজিক শক্তি পরীক্ষিত! যতদূর জানি- সাতক্ষীরা, চাঁপাই, বগুড়া ও অন্যান্য এবং দেশের অনেক এলাকাতেই এসবের কিছু কিছু বিদ্যমান আছে! রাজনৈতিক কর্মসূচীতে জনসম্পৃক্ততার অন্যতম কারণ/মাধ্যম এগুলো!

    Reply

Leave a Reply