মিডিয়া প্রচারণা বনাম একে পার্টি মধ্যকার যুদ্ধ! ইস্যু : তুরস্কের একে পার্টি কি একটি ইসলামী দল ?

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তুরস্কের একে পার্টিকে একটি ইসলামী দল হিসেবে দেখানোর প্রচেষ্টা চলে আসছে দেশে এবং বিদেশের মিডিয়াগুলোতে। অন্যদিকে একে পার্টি প্রত্যেকবারই সেই দাবীকে অস্বিকার করে আসছে। আরো মজার ব্যাপার হলো আমরা যারা পলিটিক্যাল ইসলামের ব্যাপারে কথা বলি, আমরাও একে পার্টিকে ইসলামী দল হিসেবে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করি। যদিও এর পেছনে যথেষ্ট কারণ আছে। একে পার্টির উপরের লিডারশীপদের ইসলামী দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ইতিহাস এবং এরদোগানের ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য কিছু কাজকর্ম আমাদেরকে সেটা মনে করতে বাধ্য করেছে। কিন্তু একে পার্টির কথা স্পষ্ট, তারা কোন ইসলামী রাজনৈতিক দল নয়, তাদের কোন গোপন ইসলামিক এজেন্ডা নেই এবং তারা গণতন্ত্রের কথা বলে কোন কেমোফ্লাজ পদ্ধতিও গ্রহণ করে নি! যদিও এরদোগান এবং তার দল বাংলাদেশের ইসলামী আন্দোলনের জন্য একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। তার মানে এটা নয় জামায়াত পরিবর্তন হয়ে পুরোপুরি একে পার্টির মত হয়ে যাবে। সেটা সম্ভব নয়! বরংচ একে পার্টির মত একটা ইসলামী ট্যাগহীন দল গঠন করতে পারলে ইসলামী আন্দোলনের জন্য সহায়ক হবে। এবং এই বিষয়ে এগিয়ে আসার এখনই সময় (ইনশায়াল্লাহ এই বিষয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছে আছে)।

এবার আসা যাক মিডিয়া এবং একে পার্টির মধ্যকার চলমান যুদ্ধ বা বিতর্কে !
২০০২ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কে নির্বাচনের প্রাক্কালে একে পার্টিকে “fundamentalist বা উগ্রপন্থি দল” হিসেবে উপাধি দিয়েছিল পশ্চিমা মিডিয়া! নির্বাচনে জয়লাভের পর একই মিডিয়া একে পার্টিকে একটি ‘ইসলামিষ্ট অথবা ইসলামী দল (Islamist or Islamic party) ’’ হিসেবে ডাকতে শুরু করে। এরপর যখন এই দলটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের Copenhagen criteria গুলো তুরস্কে বাস্তবায়ন করার ব্যাপারে রাজি হলো এবং কাজ শুরু করলো, তখন মিডিয়া কিছুটা নমনিয় হয়ে বলা শুরু হলো “party with Islamic roots” ! আমেরিকান রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং প্রাক্তন National Intelligence Council এর ভাইস চেয়ারম্যান Graham E. Fuller তার লেখায় একে পার্টিকে “party with Islamic roots” হিসেবে বুঝানোর জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন (http://i-epistemology.net/attachments/889_ajiss22-3-stripped-obay%20-%20Fuller%20-%20Freedom%20and%20Security.pdf)। ঠিক দুই বছর পর যখন একে পার্টি পার্লামেন্টে বেশ কয়েকটি রিফোর্ম বিল পাশ করলো, তখন তাদের কার্যক্রম দেখে মিডিয়া আরো নমণীয় হলো! তখনো একে পার্টিকে বলা হলো “reformed Islamist party” ! ২০০৭ দিকে এসে এক পার্টিকে ট্যাগ দেয়া হয় a “mildly Islamist” party ! আরো পরে এসে এখন অনেকে বলছে “the formerly Islamist AKP” ( বষ্টন ইউনিভার্সিটির Jenny White এর “The End of Islamism? Turkey’s Muslimhood Model.” বইটি পড়লে বিষয়টা আরো পরিস্কার হবেhttp://69.89.31.169/~kamilpas/wp-content/uploads/2008/02/whitehefner.pdf )!

মিডিয়া মোটামুটি জঙ্গী বা উগ্র দল হিসেবে শুরু করলেও , একে পার্টির কাজকর্মে তারা নমনীয় হতে বাধ্য হয়। তবে ইসলামিষ্ট ট্যাগটা বারবার দেয়ার চেষ্টা করেছে, এবং এখনও পুরোপুরি ক্ষান্ত হয়নি। অন্যদিকে এরদোগানের একে পার্টিও কম যায় না! তাদের কথা স্পষ্ট, ব্যক্তিগত জীবনে একে পার্টির লোকজন ধার্মিক হতে পারে, তবে তারা কোন ইসলামী দল নয়! এমনটি রিফোর্ম ইসলামী দল, বা লিবারেল ইসলামী দল হিসেবেও নিজেদের গণ্য করতে তারা নারাজ। বহুবার তারা অফিসিয়ালি ঘোষণা দিয়েছে তাদের কোন ইসলামী এজেন্ডা নেই। শুধুমাত্র সুষ্ট এবং সুন্দর রাজনীতি এবং ডেমোক্রেসির পক্ষে তারা। তুরস্কের একে পার্টির উপর ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির করা ছোট্ট একটা রিসার্সে খুব গুরুত্বের সাথে উল্ল্যেখ করা হয়: “Inevitably, the identity of the AKP is shaped both by what it wants to forget (Islamism)
and what it wants to become publicly (conservative democracy)’’ । তার মানে হলো একে পার্টি ইসলামী দলের সাথে তাদের সম্পৃক্ততার ইতিহাস ভুলে যেয়ে মানুষের কাছে একটি কনজারভেটিভ ডেমোক্রেটিভ দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

একে পার্টির দলীয় পোগ্রামে খুব সুন্দর করে উল্ল্যেখ ছিল ( নির্বাচনকে সামকে রেখে নতুন পার্টি পোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে) : ’’The AKP considers religion one of the most important institutions of humanity, and secularism as a prerequisite of democracy and an assurance of the freedom of religion and conscience. It also rejects the interpretation and distortion of secularism as enmity against religion…Our Party refuses to Exploit sacred religious values and ethnicity and to use them for political purposes.” তার মানে একে পার্টি সেক্যুলারিজমকে স্বৃকৃতি দিচ্ছে। এবং ধর্মকে তারা ব্যক্তি পর্যায় রেখে রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান। সাবেক মন্ত্রী ও একে পার্টির নেতা Hüseyin Çelik, স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন: ‘’পশ্চিমা বিশ্বে আমাদেরকে বেশীরভাগ সময় বলা হয় ‘Islamic,’ ‘Islamist,’ ‘mildly Islamist,’ ‘Islamic-oriented,’ ‘Islamic-based’ অথবা ‘with an Islamic agenda,’! এই characterizations আসল সত্য তুলে ধরে না। এটা আমাদের ব্যথিত করে। আমাদের AK Party একটি conservative democratic দল (সূত্র:http://www.hurriyetdailynews.com/default.aspx?pageid=438&n=akp-explains-charter-changes-slams-foreign-descriptions-2010-03-28) । ২০০৫ সালে একটি বক্তিতায় প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বলেন: ‘’ “We are not an Islamic party, and we also refuse labels such as Muslim-democrat.” তিনি আরও যোগ করেন: ‘’AK Party’s agenda is limited to “conservative democracy’’ ! (সূত্র: http://www.brookings.edu/research/papers/2012/04/24-turkey-new-model-taspinar)

সত্যিকার অর্খে এই দলটি পশ্চিমা এবং মুসলিম বিশ্ব, সবাইকে একটা গোলক ধাধাঁয় ফেলে দিয়েছে। চলছে একের পর এক গবেষণা। একে পার্টি কোন ইসলামী দল না হলেও বা তাদের কোন ইসলামী এজেন্ডা না থাকলেও, এই দলটির প্রতিষ্ঠা এবং অতি দ্রুত সাফল্য থেকে শিক্ষা নেয়ার সুযোগ আছে। যে কারণে একে পার্টি প্রতিষ্ঠার ১ বছরের মাধায় ক্ষমতায় এসেছে, ঠিক একই ভবে কিছু ইসলাম পন্হি ও ডানপন্থিদের নিয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন দল খুব অল্প সময়ে ক্ষমতায় আসিন করতে পারবে বাংলাদেশে! ইনশায়াল্লাহ সেই বিষয়টি নিয়ে আরেকদিন লেখার চেষ্টা করবো !

One Response

  1. lokman bin yousuf
    lokman bin yousuf at |

    Salam sir

    My Facebook link
    lokman022@yahoo.com

    Reply

Leave a Reply