হেফাজতে ইসলাম,আহলে হাদীস এবং দরদি বন্ধু সেকুলার রাজনীতি।পর্ব – (এক)

এক)
বড় এবং পরিচিত আলেম।এক নামে চিনা যাবে।এলাকায় একটি মাদ্রাসার মুহতামীম।(প্রিন্সিপাল) আমাদের পরিচিত সেই মক্তবে পড়ার সময় থেকে। পরিচিত বলতে আমাদের পরিবারের সকলের শ্রদ্ধেয়। যদিও চিন্তার ক্ষেত্রে আমার পিতার সাথে মিল একেবারেই নেই।তবে আমরা সবাই শ্রদ্ধা করি। এলাকার সবাই সম্মান করতো।তিনি ভারতের দেওবন্দ থেকে ফারেগ হওয়া আলেমে।নাম ডাক এখনো আছে।তবে আলেম হিসাবে নয়। বরং অন্য নামে।
এরশাদ পতনের পর গনতন্ত্রের সুবাতাশ শুরু হলে তিনি বেশ নড়ে চড়ে বসেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তিনি সোজা এমপি প্রার্থী হন।প্রার্থী হন মানে হল, তাকে করা হয়। কারন একটাই – ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা ছিল বেশী।তাকে পরাজিত করতে হবে। এটা এই আলেমের দৃষ্টিতে ইমান আকিদার বিষয়।
আওয়ামীলীগ থেকে যিনি দাড়িঁয়েছিলেন, তিনি এই হজুরকে দাঁড়াতে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা করলেন। হজুর নিশ্চিত জানতেন তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কিন্তু ঐ যে,তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে হারাবার মত বিরাট ইসলামের খেদমত করতে পারবেন। আর সাথে মাদ্রাসার নতুন একটা বিল্ডিং পাওয়া গেল।ঢাকায় সুশীল বান্ধব এই সেকুলার এমপি সাহেব পয়সা খরছ করে হজুরের মাধ্যমে জান্নাতে টিকেট নিশ্চিত করলেন। এখনো এমপি সাহেব সেই মাদ্রাসার বর্ষিক জলসায় উপস্থিত হয়ে ধণ্য হন। যদি এমপি সাহেবের দলের মাননীয় আইন (শফিক সাহেব) মন্ত্রী কওমী মাদ্রাসাগুলোকে জঙ্গি প্রজণণ কেন্দ্র হিসাবে মিডিয়াতে ঘোষণা দিয়েছিলেন।
এই হজুরের সাথে এখনো পারিবারিক সম্পর্ক আছে। নিজ মাদ্রাসা এখন তার হাত ছাড়া।তারই এক সময়ের ছাত্রের সাথে স্থানীয় সেকুলার রাজনীতির সংযোগটা বেশী।তিনি বয়সের এক প্রান্তে চলে এসেছেন।অবসর জীবন যাপনই করছেন।
দুই)
হেফাজতে ইসলামের আগমন এবং এর বিদায় বা পর্দার পিছনে চলে যাওয়া অথবা বর্তমানে সেকুলার রাজনীতির দরদি বন্ধু হওয়া – ইত্যাদি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।ব্লগে এবং ব্লগের বাহিরে চলছে হেফাজত নিয়ে নানান সমীকরণ।
আমি সে আলোচনায় যাবার আগে নিজের অবস্থান পরিস্কার করা প্রয়োজন মনে করছি। কারন অনেকে মনে করতে পারেন হয়তো কোন আক্রোশ থেকে আমার এই লেখা।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে কওমী পরিবারের সন্তান।এটা আমার গর্ব। কারন আমার নানার বংশের সবাই নাম করা কওমী আলেম। আবার আমার চাচা ছিলেন শাইখ বদরপুরী (রঃ)।তিনি নামের চাইতে উপাধী দিয়ে বেশী পরিচিত ছিলেন। যিনি ৪৭ এর পর ভারতের আসাম প্রদেশের করিমগন্জ জেলার বদরপুর চলে যান। যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন তিনি কংগ্রেসের এমপি ছিলেন। ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী আসাম রাজ্যে নির্বাচনী সফরে আসলে আমার চাচার বাংলাতে থাকতেন। বাংলাটা অবশ্য ইন্দিরা গান্ধীই বানিয়ে দিয়েছিলেন। জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের কেন্দ্রিয় চার জনের একজন ছিলেন।তিনি যখন ওফাত পান – তখন জানাযায় অংশগ্রহনের জন্য বডার খুলে দেয়া হয়েছিল।খুবই জনপ্রিয় আলেম ছিলেন।সারাটি জীবন তিনি মানুষের ই খেদমত করেছেন।
আমার কওমী ওলামাদেরকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে।যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখা পড়া করার সুযোগ হয়েছিল, তার আশে পাশে ছিল দেশের নাম করা দুটি কওমী মাদ্রাসা। সেই মাদ্রাসার শ্রদ্ধেয় হজুর সবাই ছিলেন আমার চাচার খুবই ভক্ত।তাই বিপরীত মেরুর সাথে অবস্থান করার পরও আমার যাতায়াত ছিল খুবই সহজ। সবাই আমাকে খুবই স্নেহ করতেন। শিবির করার অপরাধে মাদ্রাসার ১৬ জনকে বহিস্কার করার সিদ্দান্ত হলে কোন এক অজানা কারনে আমাকে বহিস্কার হতে হয়নি। কারন মাদ্রাসার মুহতামীম ছাহেব ছিলেন আমার চাচার একেবারে কাছের লোক।
যখন যেখানে সুযোগ পেয়েছি তখন সেখানে কওমী হাজারাতের খেদমত করার চেষ্টা করেছি। যদি তাদের মধ্যে কেউ কেউ আমার পরিচয় জানার পর খুবই প্রান্তিক মন্তব্য করেছেন। এটা দেশে যেমন হয়েছে তেমন সাউদি আরবেও হয়েছে।
হেফাজতের বর্তমান ইউটার্ন নিয়ে কষ্ট বা হতাশা অন্য দশজনের মত আমার একটু বেশী হবার ই কথা।
আমার এক প্রবাসী বন্ধু (তিনি ভাল আলেম) হেফাজতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে খুবই তির্ষক মন্তব্য করেছেন – ‘আল্লামা আহমাদ শফি সাহেবদের মোতাওয়াল্লী যারা – তাদেরকেই তো বন্ধু বলবেন। আপনার বা আপনাদের কষ্ট লাগে কেন?’
কওমী হাজারাতদের মোতাওয়াল্লী কারা তা আগামী পর্বে।

Leave a Reply