ইসলামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা (পর্ব:-২)

মূল: ড আহমদ শাওকি আল-ফাঙ্গারী

ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনার কুফল ঃ

ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে এধরনের ভ্রান্ত চিন্তার যখন কোন বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব দেয়া না হয় , অথবা ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রকৃত রূপ এবং ইসলামি রাষ্ট্রে গন মানুষের রাজনৈতিক স্বাধীনতার সরূপ যখন জাতির কাছে তুলে ধরতে মুসলিম বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ব্যর্থ হয় তখন নিম্নে উল্লেখিত সমস্যাগুলি দেখা দেয়।

১। ইসলামি জীবন ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ বিলম্বিত হয়। 
২। ইসলামী আন্দোলন তার সফলতা অর্জনে ব্যর্থ হয়।
৩। সমাজের যুবক,তরুণ এবং সংস্কৃতি মনা মানুষগুলি ইসলাম থেকে দলে দলে বেরিয়ে যায়।

চলুন এবার এ বিষয়গুলি একটু বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা যাক
,
এর প্রথমটি হল বাস্তবক্ষেত্রে ইসলামের প্রয়োগ বিলম্বিত হওয়া:– বিংশ শতাব্দী যে কয়টি ইসলামী রাষ্ট্র উপনিবেশ এর কবল থেকে স্বাধীনতা লাভ করেছে তার কোন একটি রাষ্ট্রও কি তাদের রাষ্ট্রীয় এবং জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ইসলামকে বেছে নিতে পেরেছে ?
আর এ বিষয়টি আরব,আফ্রিকা বা এশিয়ার প্রতিটা মুসলিম দেশের ক্ষেত্রে সমান ভাবে প্রযোজ্য। ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,পাকিস্তান,মরক্কো,আলজেরিয়া এ দেশ সমূহের নাম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

মুল কথা হচ্ছে এ দেশগুলি যখন স্বাধীন হয় তখন এ দেশসমূহের মোসলমানদের কোনরকম প্রস্তুতি ছিলনা,এক দিকে যেমন ইসলাম সম্পর্কে তাদের না ছিল সুসংগঠিত বিজ্ঞান ভিত্তিক জ্ঞান গবেষণা পদ্ধতি (এবং প্রতিষ্ঠান) ,অন্যদিকে ছিলনা কোন পূর্ব থেকে প্রস্তুত করা ইসলামি সংবিধান এবং এ সংক্রান্ত চিন্তাধারার পরিষ্কার রূপ। ফলশ্রুতিতে যা হবার তাই হল ,বাস্তবতার প্রয়োজনেই পশ্চিম থেকে আমদানিকৃত পূর্ব-প্রস্তুত (ready-made) ব্যবস্থাকেই জীবনের সকল ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হল। যা অত্যন্ত যত্ন ,এবং নিবির পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পশ্চিমা বাসীরা তাদের চিন্তা,বিশ্বাস এবং পরিবেশ প্রতিকূলতার, প্রয়োজনে বিকাশ ঘটিয়েছিল । আর ইসলাম বিস্তৃতির আড়ালে হারিয়ে গেল।

ড মোহাম্মদ আসাদ তার “ইসলামের শাসন ব্যবস্থা ” বইতে পাকিস্তান রাষ্ট্র ব্যবস্থার গোঁড়ার কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন ” পাকিস্তানের জনগণ একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে ছিল বিভোর ,কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থার সরূপ,বৈশিষ্ট্য,এবং তার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ সম্পর্কে তাদের স্বচ্ছ কোন ধারনাই ছিলনা।” পরবর্তীতে স্বাধীন পাকিস্তানে সরকার গঠিত হওয়ার পর ড মোহাম্মদ আসাদকে একটি বিশেষ কমিটির দায়িত্ব দেয়া হয় একটি ইসলামি সংবিধান রচনার জন্য। ড আসাদ আরও বলেন ” পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিবেশে পাকিস্তানের যে সংবিধান টি রচিত হয় (পরবর্তীতে এ সংবিধানটি প্রত্যাহার করা হয়) তাতে (ইসলামি শাসনতন্ত্র) সংক্রান্ত আমার প্রস্তাবের খুব কম অংশই গৃহীত হয়েছিল ।”
যদিও ড মোহাম্মদ আসাদের এ বইটিতে চল্লিশের দশকের ঘটনাপঞ্জি আলোচিত হয়েছে যা পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গোঁড়ার দিকের কথা। কিন্তু বাস্তবতা হল পাকিস্তানে ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে এসে ইসলাম কে তাদের রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে সংযোজনা করে। আর এ সংযুক্তির পিছনে কারণ হিসেবে কাজ করেছিল যুদ্ধে ভারতের কাছে শোচনীয় পরাজয় এবং পাকিস্তানের বিভক্তি। (লেখক সম্ভবত এখানে ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন)

আর এ উদাহরণ থেকে পরিষ্কার ভাবে বুঝা গেল যে, ইসলাম নামক এই সুস্পষ্ট জীবন ব্যবস্থাটি শুধুমাত্র তার দিকে আহবান কারীদের কারণেই আজ উপেক্ষিত ,অবহেলিত। যে আহবান কারী-গন এ দ্বীনের ইজতিহাদ,জ্ঞান গবেষণাকে কম গুরুত্ব দিয়েছিল এবং ইসলামি সংবিধানের নমুনা পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। শুধু তাই নয় আজও মুসলিম জনসাধারণের কাছে ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা,ইসলামি রাষ্ট্রে মানুষের রাজনৈতিক অধিকারের সরূপ এ বিষয়গুলি নিয়ে কোন সুস্পষ্ট ধারনা নাই

Leave a Reply