ইসলামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা (পর্ব:-৪)

মূল: ড আহমদ শাওকি আল-ফাঙ্গারী

ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং ইসলামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারনার ফলে চতুর্থ যে সমস্যাটি দেখা দেয় তা হচ্ছে “‘ সংস্কৃতি মনা যুব সমাজ দীনের দিকে ফিরে আসার চিন্তা বা সিদ্ধান্ত থেকে দলে দলে বেরিয়ে যায়

আজকের এই সময়ে কতজন মুসলিম যুবক আপনার আহবানে সারা দিবে, যদি তাদেরকে আল্লাহর দীনের দিকে আহবান করা হয় এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের অনুশাসন প্রয়োগের কথা বলা হয়। বরং এ আহবান শ্রবণ করার সাথে সাথে তার স্মৃতি পটে ভেসে উঠবে ইউরোপীয় মধ্যযুগের ইতিহাসের পোপদের ধর্মীয় শাসন ,অথবা আব্বাসীয়দের (স্বৈরাচারি) শাসন ব্যবস্থা ,অথবা তুর্কি খলিফাদের শাসনকাল (এবং তার সর্বপ্রকার কুৎসিত বৈষিষ্ট সহ) অথবা সমকালীন ধর্ম ব্যবসায়ী অথবা ধর্মের নামে সাধারন মানুষের উপর শাসন শোষণ করার বাস্তব চিত্র। সে কখনো ইসলামকে ইসলামের আসল রুপে দেখবে না বা বিবেচনা করবে না বরং মোসলমানরা ইসলামের নামে যে সমস্ত ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড করে থাকে তাকেই সে ইসলাম হিসেবে বিবেচনা করবে। ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের যে ধারনা তা হচ্ছে “ইসলামি রাষ্ট্র হচ্ছে এমন একটা শাসন ব্যবস্থা যার শাসক হচ্ছেন একজন পুরোহিত বা মোল্লা আর সেখানে ধর্ম হচ্ছে তার হাতে একটা অস্ত্র যা সে তার স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা এবং তার বিরোধী মত বা দলকে দমন করার জন্য যেভাবে-খুশি সেভাবে ব্যাবহার করে থাকেন,আর তার দুরাচারী শাসন ব্যবস্থার কেউ বিরোধিতা করলে ধর্মত্যাগী নাস্তিক ঘোষণা করে ফাঁসির মঞ্চে পৌছে দেন । বরং কোন কোন আরব এবং তুর্কি খলিফারা তাদের বিরোধিতা কারিদের শিরশ্ছেদ করাকেই বেশি পছন্দ করতেন । অথবা তাদের কিছু দরবারি আলেমদের ফতোয়ার মাধ্যমে বিরোধিদের স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি দখল করতেন শরিয়তের বিধানের নাম করে।
ধর্মীয় রাষ্ট্রের একজন শাসক নিজেকে যিল্লু আল্লাহে ফি আল-আরদ বা জমিনে আল্লাহর প্রতিরূপ মনে করে এবং মানুষকে শুধুমাত্র তার প্রতি আনুগত্যর দাস মনে করে ,কোন প্রকার দ্বিধা দ্বন্দ্ব ছাড়াই। সুতরাং নতুন-চিন্তা বা নতুন আবিষ্কার অথবা সংস্কার,ভিন্নমত পোষন এবং কোন প্রকার সমালোচনা সেখানে নিষিদ্ধ বিষয়। স্বভাবিক নিয়মেই জীবনের সকল ক্ষেত্রে তখন নেমে আসে জুমুদ(স্থবিরতা,অচল অবস্থা),তাক্বলিদ আল-সালাফ করা হয় ,কোন প্রকার চিন্তা ,গবেষণা অথবা স্থান কাল বিবেচনা না করেই(পূর্ববর্তী মনিশিদের অন্ধঅনুকরন ,পশ্চিমাদের পরিভাষায় একে fundamentalism বলা হয়)। অনেকের ধারনা এবং সংশয় এর মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে ,ইসলামী শাসন ব্যবস্থার রূপ তাদের কাছে নিচে উল্লেখিত দুটির যে কোন একটি:
১। একজন ব্যক্তি কেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা যেখানে খলিফা সর্বেসর্বা
২। অথবা একধরনের theocracy বা পুরোহিত তন্ত্র (মোল্লা তন্ত্র) যেখানে ধর্মীয় হুজুর শ্রেণী সকল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ।

জ্ঞান গবেষণা থেকে শুরু করে এবং বুদ্ধি-ভিত্তিক কর্মকাণ্ডের সকল ক্ষেত্রে তারা কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবেন। কোন প্রকার বিজ্ঞান গবেষণা থাকবে না,আর নারীদেরকে শিক্ষা,চাকুরী থেকে বঞ্চিত করে মধ্যযুগীয় হেরেমের দাসীতে পরিণত করবে। যার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তারা ইরান কে পেশ করে।
(ইরান সংক্রান্ত লেখকের অভিজ্ঞতা এবং মতামত কে আগামী পোষ্ট এ আলোচনা করা হবে। ইনশাল্লাহ)

Leave a Reply