ইসলামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা (পর্ব:-৫)

মূল: ড আহমদ শাওকি আল-ফাঙ্গারী

ইরান শাহ এর বিরুদ্ধে সেদেশের জনগণ যখন বিপ্লব শুরু করে তখন আমি ইরান ভ্রমণ করেছিলাম,সে সময় অধিকাংশ জনতার আশা ছিল জালিম শাহের অত্যাচারী শাসনের বদলে ইসলামের অর্থাৎ আল-কোরানের সুশাসন ফিরে যাওয়া।যাতে করে তারা স্বৈরাচার,দুর্নীতি,এবং সীমাহীন ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তি পায়।
ঘটনা ক্রমে সে সময় ইরানী ইসলামী বিপ্লবের নেতৃস্থানীয় কিছু ব্যক্তির সাথে মিলিত হওয়ার সুযোগ ঘটেছিল ,ইমাম খোমেনি তখন নির্বাসিত ছিলেন। বিপ্লব পরবর্তী সমজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে তাদের রক্তক্ষয়ী প্রান্তিক চিন্তার যে নমুনা তা শুনে আমার মনে ইসলামের ব্যাপারে আমি অনেক ভয় এবং বিস্ময় কাজ করছিল ,অনেক কষ্টও পেয়েছিলাম । আমি তখনই নিশ্চিত হয়েছিলাম ,যদি এই শ্রেণির হাতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ইসলামকে তারা বিকৃতভাবে ব্যাবহার করবে।
পরবর্তীতে ঠিক তাই ঘটল যা আমি আশংকা করেছিলাম। ইসলামি বিপ্লব ক্ষমতা গ্রহণ করতে না করতেই যাদেরকে তারা জনগণের শত্রু নামে আখ্যায়িত করেছিল তাদের জন্য ফাঁসীর মঞ্চ এবং সে সকল লোকের রক্ত দিয়ে গোসল করার ক্ষেত্র প্রস্তুত হইয়ে গেল। অতঃপর বিপ্লব তাদের নিজেদের সন্তানদের বিরুদ্ধেই অভ্যুত্থান ঘটিয়ে তাদেরকে সকল অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং তাদের রক্ত প্রবাহিত করল।
—জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে তাদেরকে খণ্ড বিখন্ড করে বিভক্ত করে ফেলল।
— জনগণকে সুখী সচ্ছল করার বদলে অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং দারিদ্রের দিকে ঠেলে দিল।

এই কি সেই ইসলাম ? যা দেখার আশায় বুক বেধে আমরা শতকের শতক অপেক্ষা করছিলাম! সেই দিন থেকে যেদিন ইসলামের বাস্তব প্রয়োগ আমাদের মুসলিম ভূমি থেকে উঠে গিয়েছিল।
আমাদের অনেক মোসলমান ভাইয়েরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আজ বলতে শুরু করেছেন “এই কুৎসিত চেহারায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেয়ে আরও একশ বছর ইসলাম প্রতিষ্ঠা না হওয়া ভাল। তাতে আল্লাহর এই দীন আল-হানিফে অন্তত বদনাম এর হাত থেকে বেচে যাবে।

এ ধরনের ভ্রান্ত চিন্তার সংশোধনে মুসলিম বুদ্ধিজীবী এবং দায়ীদের করনীয়:
– মুসলিম গবেষক যিনি ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করে থাকেন এবং দীন ইসলাম কে সত্যিকারেই ভালবাসেন,তার পক্ষে চরম এ বাস্তবতাকে অস্বীকার করা বা উপেক্ষা করার কোন উপায় নাই যে ,ইসলামের নামে এধরনের অন্ধ এবং ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় বিদ্যমান”
আমাদের চিন্তাবিদ এবং ইসলামি আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের উচিত ‘ইসলামি দাওয়াত এবং ইসলামি আন্দোলন কে এধরনের বাতিল,ভ্রষ্টতা এবং কু-সংষ্কারচ্ছন্ন ভ্রান্ত চিন্তা চেতনা থেকে পবিত্র এবং পরিচ্ছন্ন রাখা। …ইসলামকে তার প্রকৃত রূপ এ উপস্থাপন করা বিশেষকরে ইসলামের রাষ্ট্র ব্যবস্থা,ইসলামে রাজনৈতিক স্বাধীনতা,এবং ইসলামি সাংবিধানিক বিধান গুলিকে যথার্থ ভাবে তুলে ধরা। আমাদের পর্যবেক্ষণ থেকে পরিলক্ষিত হয়েছে এ বিষয় সংক্রান্ত জ্ঞান গবেষণা এবং বই পুস্তক পর্যাপ্ত পরিমাণে বর্তমান নেই ,যাও আছে তাদের সংখ্যা নিতান্তই সীমিত।
(আর এখানেই শেষ হল বইটির ভূমিকা ,আগামী পোষ্ট থেকে মূল আলোচনা শুরু হবে। ইনশাল্লাহ)

Leave a Reply