আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ই কি হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ডেডলাইন ?

আওয়ামী লীগের এবারের সরকার বৈধতার মাত্রা বিচারে একেবারে তলানিতে । একটা হাস্যকর নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রেখেছে । জনসমর্থন নেই বললেই চলে । একতরফা নির্বাচনে জাল ভোটের মহোৎসব সত্ত্বেও ভোট পড়েছিল শতকরা পাঁচ ভাগেরও কম । যার অর্থ দাঁড়ায় , আওয়ামি লীগের নিজের লোকেরাও ভোট দিতে যায়নি অথবা আওয়ামী লীগের জনসমর্থন পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে ।

আমেরিকার সাথে ইউনুস প্রশ্নে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে আগেই । বিডিআর হত্যাকান্ডের ফলে সেনাবাহিনীতে আছে চাপা ক্ষোভ । মাত্রাতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রশাসন হয়ে আছে স্থবির । ভেতরে চাপা হতাশা সরকারী কর্মচারীদের মনে । শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য, আইন শৃঙ্খলায় মারাত্মক অরাজকতা , অর্থনীতিতে লুটপাট , দুর্নীতি, জালিয়াতি- সব মিলিয়ে চরম অস্থিরতায় কাটছে সরকারের সময় । সরকার টিকে ছিল পুলিশবাহিনী এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের একতরফা অন্ধ সমর্থনে । ভারতে নির্বাচনে বিজেপি বিজয়ী হওয়ায় ভারতের কংগ্রেস সরকারের সময়কার সেই একতরফা অন্ধ সমর্থন আর থাকবেনা বলে ধরে নেয়া যায় ।

বিরোধী দলকে খুন-গুম-গ্রেপ্তার-আটকের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে । বিএনপির তো সাংগঠনিক শক্তিই নেই বড় ধরনের আন্দোলন গড়ার । জামায়াতকে রাখা হয়েছে ডান্ডার ওপর । জামায়াতের সব কার্যালয় বন্ধ, পুলিশ প্রহরা । নেতারা কারাবন্দী । অনেককে ইতোমধ্যে হত্যা করা হয়েছে । বাকিরা গুম খুনের সম্ভাবনার মুখে পলাতক জীবন কাটাচ্ছেন । নির্বিচারে কর্মী খুন এবং নেতাদের ভয়-ভীতি ও লোভ লালসা দেখিয়ে নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে হেফাজতকে ।

ভেতরে ফুসছে সবাই । স্বাভাবিক পন্থায় সরকারের বিদায় নেবার সুযোগ নেই বললেই চলে । সবাই অপেক্ষা করছে একটা গনবিস্ফোরণের । গনবিস্ফোরণ যে ঘটবে সেটাও অবশ্যম্ভাবী । কিন্তু কবে ? কখন ? কীভাবে ? সেটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ।

গত কয়েক বছরে বিশ্বকাপানো আরব জাগরণ শুরু হয়েছিল একটা খুব সাধারণ ঘটনার মধ্য দিয়ে । তিউনিসিয়ার এক শিক্ষিত বেকার যুবক মোহাম্মদ বুয়াজিজ প্রকাশ্য রাস্তায় নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছিল । এর প্রতিবাদে মানুষ ফুসে উঠেছিল প্রতিবাদে । সেই শুরু । হাওয়ায় ছড়িয়ে যায় আন্দোলনের আগুন । তিউনিসিয়া থেকে মিশর ইয়েমেন বাহরাইন । একের পর এক অবসান ঘটে যুগ যুগ ধরে চেপে বসে থাকা স্বৈরশাসনের ।
বাংলাদেশে কী ঘটবে ? কোথা থেকে বাজতে শুরু করবে গনতন্ত্রের খোলসধারী স্বৈরাচারের পতনঘন্টা ?

সরকার বহুদিন থেকে আপিল বিভাগে আল্লামা সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলার চূড়ান্ত রায় ঝুলিয়ে রেখেছে । বলা হয়েছে – যেকোন দিন দেয়া হতে পারে সেই রায় । দিস ইজ দা পয়েন্ট হোয়ার অটোক্র্যাট ক্যান বি ফলেন ডাউন ।

সাঈদী যে নিরপরাধ সেকথা দেশের মানুষ বিশ্বাস করে । যে বিশাবালীকে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগে সাঈদীর ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছিল ট্রাইব্যুনালে, সেই বিশাবালীরই সহোদর ভাই সুখরঞ্জন বালী সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন সাঈদীর পক্ষে । অবস্থা প্রতিকূল দেখে সরকার সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ করে ভারতের কারাগারে বন্দী করে রেখেছে । যে ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে সাঈদীর বিরুদ্ধে , সেই ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় সাঈদীর নাম ছিলনা । পিরোজপুরের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন বই-পুস্তকে উল্লেখ নেই সাঈদীর নাম । ২০১০ সালে গ্রেপ্তারের আগ পর্যন্ত কেউ অভিযোগ তোলেনি তাঁর বিরুদ্ধে । দেলোয়ার শিকদার নামে যে রাজাকারের সাথে তাকে এক করার চেষ্টা হয়েছে তার সাথে সাঈদীর পিতামাতার নামসহ সম্পূর্ণ বংশলতিকা ভিন্ন । ১৯৭২-৭৫ এর সময়েও সাঈদী প্রকাশ্যে ওয়াজ মাহফিল করেছেন সারাদেশে ।

সাঈদী শুধু জামায়াতের নেতা নন । তিনি হয়েছেন গনমানুষের প্রিয় আলেম । সেজন্যই দেখা যায় , গতবছর যখন ট্রাইব্যুনাল তাঁর রায় ঘোষণা করে – তখন সারাদেশের মানুষ প্রতিবাদে মুখর হয়েছিল । সে প্রতিবাদকে দমানোর জন্য সরকার একদিনে দুই শতাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল । তারও আগে সাঈদীর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে স্কাইপে কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ায় পদত্যাগ করতে হয়েছিল ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান নিজামুল হক নাসিমকে ।

এবার যদি সাঈদীর চূড়ান্ত রায়ে ফাঁসি বহাল রাখা হয় – তাহলে আবার আপামর মানুষ দলমত পেশা নির্বিশেষে প্রতিবাদ মুখর হবে । প্রতিবাদ হতে পারে অহিংস থেকে সহিংস । আর এটাই হয়তো হবে গনঅভ্যুত্থানের সূচনা । এর মাধ্যমেই সকল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে জনগন । বিরোধী দলগুলোর উচিৎ এই অবস্থাকে সামনে রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা ।
এই জোয়ারেই হতে পারে সরকারের পতন । আল্লামা সাঈদীর ফাঁসির রায়ই হতে পারে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ডেডলাইন ।

One Response

  1. Fatema Mahfuz
    Fatema Mahfuz at |

    এই সরকার পতনের তুমুল আন্দোলন গড়ে উঠুক, এটা কামনা করি-যদিও আমি দেখি বিপ্লব হওয়ার কারণের কমতি নেই, তবুও কেউ আওয়াজ তুলছে না। হতে পারে আমাদের ভিতরকার দূর্বল ঈমানের এটাই চিত্র!
    আপনি লিখেছেন-সাঈদী’র রায় বহাল রাখা হলে তুমুল আন্দোলন হবে। এদিকে আমি নিজেই চাই না সাঈদীর রায় দেয়া হোক,কারণ একবার দিয়ে দিলে, হয়ত যেকোনো দিন এরা কার্যকর করে ফেলবে। জানি না, আন্দোলন কি পরিমাণে হবে, সেটা কে হয়ত গুলির ওপর দিয়ে নিস্তেজ করে দেয়া হবে, এদিকে ঢাকার পরিস্থিতি নিয়েও আমার সন্দেহ আছে…

    Reply

Leave a Reply