জামায়াত-শিবিরের মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্যঃ ক্ষমতায় যাওয়া নাকি আল্লাহর সন্তোষ্টি অর্জন-১

ক্ষমতায় যেতে চাইলে জামাতের যা করা উচিত (১) শিরোনামে বিভ্রান্তিকর, কুফরি ও শিরকী চিন্তাধারায় লেখা পোস্টের জবাবেই এই লেখা। পোস্টদাতা গ্যারান্টি দিয়ে সেই পোস্টে দাবী করেন যে, কিন্তু বর্তমান ফরম্যাটে জামাতের ক্ষমতায় যাবার কোন সম্ভাবনা নাই। ক্ষমতায় যেতে হলে অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।। এমন দাবী করা বা গ্যারান্টি দেয়ার অর্থ কী, তা তিনি বুঝতেই অক্ষম!

আর লেখকসহ সমালোচক কিছু ভাই ধরেই নিয়েছেন যে, ইসলামী আন্দোলন বা জামাত-শিবিরের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে—রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়া। কিন্তু আমি ১৯৭৭ সাল থেকে তাদের সঙ্গে থেকে এমনকি রুকন পর্যন্ত পার করেও এমন কোনো উদ্দেশ্যই যখন খুঁজে পাইনি, তখন এমন বিভ্রান্তিকর লেখার প্রতিবাদসহ সঠিক তথ্য এবং আল্লাহ-নবীর মূল মিশন কী ছিলো-তাও ধারাবাহিকভাবে লিখবো এখানে?

আলোচক জামায়াত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ বলেই মনে হলো। জামাত-শিবিরের সিলেবাসের কোনো ইসলামী বই পড়েছেন বলেও মনে হয়না। একটা দল আবার ইসলামী দল সম্পর্কে লিখতে হলে আগে সেই দলের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য, মূলনীতি, কর্মপদ্ধতি, সংবিধান পড়া জরুরি। কিন্তু এই মূর্খপণ্ডিত জামাতের লোকেরাও যা জানেনা, দাবী করেনা যেমন-নারীদেরসহ অমুসলিমদের সম্পর্কে তাদের নেগেটিভ দৃষ্টিভঙ্গী, তা-ই তিনি জামাতের ওপর নির্দ্বিধায় চাপিয়ে দিচ্ছেন। অথচ জামাতের কোনো প্রকাশনার রেফারেন্স দিতে পারছেন না। অথচ তার জানা উচিৎ জামাত-শিবিরে অমুসলিম বন্ধু ও সমর্থক সৃষ্টি করার বাধ্যবাধকতাও আছে বলে আমরাও অনেক অমুসলিম ভাইদের সমর্থক ফরম পূরণ করিয়েছি এবং এখনো হাজার হাজার অমুসলিম জামাত-শিবিরের সাথে আছে। তাহলে তিনি অমুসলিমরা জামাত-শিবিরবিরোধী বলে কিসের ভিত্তিতে দাবী করলেন। সাঈদী সাহেব এবং তার ছেলে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীকে শত শত হিন্দু যে ভোট দিয়েছেন, তার কী জবাব দেবেন তিনি?

আর আরেকজন মোহাম্মদ ফখরুল নিজেকে ৯৭ সালের শিবির-জামায়াত সমর্থক এবং শিবিরের সাথী ছিলেন দাবী করে জামায়াতের সবকিছু জেনে ফেলার যে মিথ্যে দাবী করেছেন-তাও তার আপত্তিকর মন্তব্য এবংজামায়াতকে মওদুদীবাদী বা কুত্তার লেজ সোজা হয়না জাতীয় দাবী করায় সম্পূর্ণ পরিস্কার হয়েছে। আরো পরিস্কার হয়েছে যে, তার আর ইসলামবিরোধীদের জামায়াতবিরোধিতা একই সূত্রে গাঁথা যদিও তিনি ইসলামপন্থী বলে পরিচয় দিয়েছেন।

বিশেষতঃ জামাত-শিবির করা লোক নিষ্ক্রিয় হলে বা দল থেকে বহিষ্কৃত বা বের হয়ে গেলেও জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে আদাজল খেয়ে বাতিলের পক্ষে ওকালতী করেনা বলেই আমরা জানি। কিন্তু ফখরুল নামক শিবির দাবীকারী লোকটি আসলে ইসলামবিরোধী কেউ হবেন বলে আমার সন্দেহ। সেজন্যই তিনি জামাত-শিবিরবিরোধীদের সাথেই সবসময় আছেন।

পোস্টদাতা ভুলে গেছেন যে, জামায়াত-শিবিরে ঢুকতে হলে প্রথমে হতে হয় সমর্থক, এরপর সক্রিয় সমর্থক, কর্মী, অগ্রসর কর্মী, সাথীপ্রার্থী, সাথী, সদস্যপ্রার্থী(রুকনপ্রার্থী) এবং সদস্য(রুকন) এবং ধারাবাহিক সিলেবাসভিত্তিক প্রচুর ইসলামী সাহিত্য পড়তে হয়। সেসব বইয়ে কোথাও জামায়াত যদি দাবী করে থাকে যে, ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য, তবে তার উদ্ধৃতি দেয়া কি তাদের উচিৎ নয়?

যদিও ওই পোস্টে একভাইর জামায়াত সম্পর্কে চরম আপত্তিকর ও ইসলামবিরোধী গালাগালের জবাব দিয়েছি একটু রুঢ় ভাষায়; সেই মন্তব্য দিয়েই এই লেখাটির ভূমিকা দিলাম নিচেঃ

ইসলামের শত্রু খ্রিস্টান লর্ড ম্যাকলের মাদ্রাসা শিক্ষা 

মাদ্রাসার ভাইদের আমি সম্মান করি এবং আমার উদ্দেশ্যমূলক মন্তব্য পড়ে মনঃক্ষুণ্ণ না হতে অনুরোধ জানাই। এমন মন্তব্য করার কারণ হচ্ছে–মাদ্রাসার ছাত্র অনেকেই মাওলানা মওদুদীকে ছোট করার চেষ্টা করেন তিনি মাদ্রাসার ছাত্র নন দাবী করে। এমনকি আমরা যারা স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি পেরেয়ে এসেছি এবং ইসলাম যতই শিখিনা কেনো, তাদের ভাষায় আমরা আলেম নই এবং ইসলামের কথা বলার অধিকার আমাদের নেই। তাদের ভূয়া অহংকার ভেঙ্গে দিতেই আমাকে মাদ্রাসার ব্যাপারে এমন কথা বলতে হলো-এখন তাদের উচিৎ কুরআন- হাদীসের যুক্তি দিয়ে আমার কথা দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া।

জানিনা মাওলানা মওদুদীবিরোধীরা কী জবাব দেবেন? খ্রিস্টান লর্ড ম্যাকলের শিক্ষাপদ্ধতি হিসেবে ১০৩৬ সালে প্রবর্তিত বলে এটিকে ইসলামীশিক্ষা দাবী করা দাবী করা কি যায়! 

(দেখুন প্রমাণবরং একে বিদাত দাবী করলেও কেউ করতেই পারে। কারণ নবী ও সাহারা কেউ মাদ্রাসায় পড়েননি মাদ্রাসা-স্কুল কিছুই বানানো ফরজ-সুন্নত বা মুস্তাহাব মনে করেননি বলে। ইসলামের শত্রু খ্রিস্টান লর্ড ম্যাকলের মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা কিভাবে নিজেকে মাওলানা মওদুদীর চেয়েও বুজুর্গ এবং সম্মানী লোক দাবী করে তা শুনে আমার শুধু হাসি পায়? কী অজ্ঞ তারা, যাদের শিক্ষার শেকড় একজন খ্রিস্টানের হাতে, যারা ইংরেজি শিক্ষার জাতক, তারা কী করে তা ভুলে যায়? তবে যারা কওমির ছাত্র তাদের ব্যাপারে আমার মন্তব্য নেই। যদিও নবীসাঃ ও সাহাবারা কেউ মাদ্রাসাকে জরুরি বিষয় মনে করেননি বলে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করলেও একটি মাদ্রাসাও জীবনে প্রতিষ্ঠা করেন বা করতে বলেননি!! তাহলে এটি যে, বিদাত তাকি বলার অপেক্ষা রাখে? 

আর শিবির থেকে মোহাম্মদ ফখরুল সাহেবরা জীবনে লাভবান হয়েছেন কিনা জানিনে? তবে আমি যে শিবিরেরই প্রডাক্ট, তা বলতে আমি গর্ব করি। আমার ইসলামের পথে আসার একমাত্র ও মূল ঠিকানাই হলো শিবির-জামায়াত সেই ১৯৭৭ সাল থেকেই। 

কিন্তু ফখরুলের এই কথা ”কারণ জামায়াত মওদুদী মতবাদ ও ওহাবী দর্শন দ্বারা পরিচালিত হয়। জামায়াত যদি মওদুদী মতবাদ ও ওহাবী দর্শন পরিত্যাগ করে এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধী-স্বাধীনতাবিরোধী নেতাদের ও তাদের সমথর্কদের পরিত্যাগ করে তাহলেই জামায়াত নতুন নামে মাথা তুলে দাড়াতে পারবে।” শুনে মনে হলো তিনি ইসলামের মূল স্প্রিট ও আল্লাহর মানুষসৃষ্টির উদ্দেশ্য থেকেই দুরে সরে গেছেন। তিনি একজন গণক ঠাকুরও বটে এবং আল্লাহর মতোন গায়েবের খবর জানার অধিকারী দাবী করে শিরক করে যাচ্ছেন! এমনকি আল্লাহ কর্তৃক নবী-রসুলদের দুনিয়ায় প্রেরণ এবং জ্বীন-ইনসানকে বানানোর আসল উদ্দেশ্যই তিনি ভুলে গেছেন।

কারণ আমি ইসলাম শিখেছি যেখান থেকে তিনি সেখান থেকে শিখেছেন বিভ্রান্তি ও চরম অকৃতজ্ঞতা-মুনাফিকী। জামায়াত বিরোধী কাফিরসহ নাস্তিক, কমুনিস্ট, ইহুদী-খ্রিস্টান এবং জামায়াত-শিবিরবিরোধী দলসমূহের মানসিকতার সাথে তার মানসিকতার একটু ফারাক আছে বটে। কিন্তু থার্ড আইসহ তার কথা মানলে বলতে হয় যে, অন্য নবী-রাসুলরাও ক্ষমতায় না যেতে পেরে ভুল করেছেন এবং তাদের আন্দোলন ও জীবন সবই বৃথা ছিলো (নাউজুবিল্লাহ)’ আপনার ধারণা- ইসলামী হুকুমত কায়েমই ছিল নবীদের ও আল্লাহতায়ালার আসল ইচ্ছা উদ্দেশ্য। এর ব্যতিক্রম হওয়া মানেই চরম বিফলতা। কিন্তু আল্লাহ কোথাও এমন কথা বলেছেন? বরং বলেছেন-আমি আমি মানুষ ও জ্বীন জাতিকে শুধুমাত্র ইবাদতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছি। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম না হলে কি কেউ ১০০% ইবাদতগুজার হয়ে বেহেস্তে যেতে পারবেনা আপনাদের মতে? আল্লাহ এও বলেছেন–হে ঈমানদারগণ তোমরা হতাশ হয়োনা চিন্তা করোনা বরং তোমরাই বিজয়ী হবে যদি তোমরা প্রকৃত ঈমানদার হও।

তাই জামায়াত যতই ইসলামের কাজ করুক এবং আমার মত লাখ লাখ মানুষকে ইসলামের দিকে আনুক–তার কি কোনোই মূল্য নেই আপনাদের কাছে?

অনেক নবীর স্ত্রীরাও কাফির ছিলেন বা সন্তানরাও কাফির ছিলেন বলে বা নবীরা সাধারান মানুষ হওয়ায় কাফেররা যে তাদের নবুয়ত মানতে চাইতো না এ বলে যে, এ আবার কেমন নবী যে আমাদের মত খায় ইত্যাদি;এজন্যও কি নবীরাই অপরাধী যেহেতু তারা তাদের মনঃপূত নবী হলেন না, তাইকি?? এমন মুসলিম দাবীদারের আর বাতিলদের মাঝে কী ফারাক তা আমার বোধগম্যই হয়না।

ইসলামকে সমাজে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী খেলাফত কায়েম মুসলিমদের জন্য জরুরি হলেও একজন মুসলিমের পরকালীন মুক্তির জন্য তা কায়েমের শর্ত বাধ্যতামূলক কি? ঈমানের সংজ্ঞায় কি এমন কোনো শর্তও আল্লাহ-রসুল জুড়ে দিয়েছেন, যাতে যতোই ঈমানদার হোক ইসলাম কায়েমে ব্যর্থ হলে তাকে জাহান্নামে যেতেই হবে? নাহ- বরং আল্লাহ-রসুলের কথামতো চললেই যদিও ফরজ হিসেবে ইসলামী আন্দোলনে জড়িত থাকতে হবে কিন্তু পরকালীন মুক্তির জন্য ইসলামীরাষ্ট্র কায়েম কোনো শর্তযুক্ত নয়।

এমন অজ্ঞ মুসলিম ও পোস্টদাতার কথামত, ইসলামবিরোধীরা নবীদের আন্দোলনের বিরোধী থাকায় নবীদের কর্মপন্থাও যেমন বদল করা উচিত ছিলো যাতে তারা সফল হন কী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েমে কী দলে দলে বাতিলদের তাদের দলে ভিড়াতে?? এটা হয়নি বলে মানে আপনারদের ভাষায় অনেক নবীর ২/৪ জনের বেশি সমর্থকও ছিলো না বলে তার সফল হননি এবং বিফল ছিলেন, তাই কি??

তাহলে জামাত-শিবিরের কারণে আমাদের মত লাখ লাখ মানুষের ইসলামের পথে আসার কী হবে–আমরা কি বিফল এবং সবাই দোজখে যাবো? আমরা ভুল করেছি নাকি জামাত-শিবির আমাদের সৎপথ দেখিয়ে মহাভুল করেছে, এর কী জবাব আছে তাদের কাছে? (চলবে)

4 Responses

  1. আবু সুলাইমান
    আবু সুলাইমান at |

    কমেন্টঃ
    ১। ছবির ব্যবহার প্রাসঙ্গিক হলে ভাল হয়।

    ২। কোন মন্তব্য করার সময় আরো শালিন ও শোভন শব্দের ব্যবহার আশা করি।

    ৩। এক লিখায় সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে অনেক বিষয়েই কোন তথ্যবহুল, তাত্ত্বিক, যৌক্তিক এবং গভীর বুদ্ধিবৃকজাত পয়েন্ট আসেনি; কাজেই একেক্টি বিষয় আলাদা আলাদা করে আলোচনা করলে সুবিধা হয় কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ রইল।

    ৪। জামায়াতের পরিচয় কি– ইসাল্মি আন্দোলন নাকি রাজনৈতিক দল– সেটি পরিস্কার করে আলোচনা করলে সুবিধা হতো। কারণ মাওলানা মওদুদী নিজেই বলেছেন- জামাত যদি রাজনীতি নাই করে তাহলে তাবলীগের বাইরে নতুন দল গঠনের কোন প্রাসঙ্গিকতা থাকেনা। আর রাজনৈতিক দল হিসাবে ক্ষমতায় যাবার চিন্তাটি খুবই প্রাসঙ্গিক- এক্ষেত্রে “ক্ষমতায় যেতে চাইলে জামাতের যা করা উচিত” এমন পরামর্শ বা আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক কেন?

    Reply
  2. mazhar
    mazhar at |

    আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনই জামায়াতের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
    এখানে নবী রাসুলের সফলতা ও ব্যার্থতা বলার কারনে বলতে হয়, নবী রসুলরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সরাসরি আল্লাহর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে জামায়াতকে চলতে হচ্ছে নবী রসুলদের দেখানো পথে ও ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে। আর এই দেখানো পথ ও ইতিহাসের শিক্ষা নিতে যদি কেউ ভুল করে সেটার দায়দায়িত্ব তার।

    Reply

Leave a Reply