4 Responses

  1. আবু সাইফ
    আবু সাইফ at |

    খুব সুন্দর আলোচনা- জাযাকাল্লাহ..

    আমি একটু যোগ করতে চাইঃ-

    ““মেধাবী যতই মেধাবী হোক, ইসলামী সংগঠন মেধার কারনে নৈতিকতায় কোন ছাড় দেয় না, কোন কর্মীকে””।
    একথার ব্যতিক্রম সংগঠনে অনেক ছিল/আছে/(হয়তো থাকবেও)- যেসব কারণে এমন ব্যতিক্রম করা হয় সেসব কারণেই উদাহরণ দিলামনা!

    “শুনলাম ও মান্য করলাম” এ নীতি তো কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন কেউ ওহী দ্বারা পরিচালিত অথবা ওহীর নির্দেশনা লংঘণের দুর্বলতা থেকে মুক্ত(এ-ও কি সম্ভব?)
    এমন কথা সেই ব্যক্তি মানবে কেন- যার কাছে এর বিপক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে! সেক্ষেত্রে মুল বিষয় চেপে রেখে মেধাবীর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়কে (আনুগত্যহীনতা, ইগো ইত্যাদি) হাইলাইট করা হয় এবং তাকে বিচ্ছিন্ন(ISOLATED) করে ফেলা হয়! (এর বেশী বলা ঠিক নয়!)

    মেধাবী বা অতিমেধাবীরা মেধা বিক্রি করতে আকাঙ্খা করবে- এটা অস্বাভাবিক নয়! কিন্তু যদি সে মেধা বিনিয়োগ করার সুযোগ পায় তবে তা করবেনা- এমনটা মনে হয়না! সমস্যাটা হয় যখন মেধা বিক্রি বা বিনিয়োগ- কোনটারই সুযোগ মেলেনা!
    সাধারণতঃ দেখা যায়- মেধাবীর কোন প্রস্তাব/পরামর্শ সংগঠন তাতক্ষণিকভাবে বা স্বল্পমেয়াদে গ্রহন করতে না পারায় মেধাবী মনঃক্ষুণ্ন হয়ে নিষ্ক্রিয় হয়েছেন বা দূরে সরে গেছেন! এখানে সংগঠন/অন্যান্য মেধাবীদের কর্তব্য ছিল প্রস্তাবকারীর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা এবং প্রস্তাব/পরামর্শটির বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন অব্যাহত রাখা! এতে হয়তো একসময় সেটি সংগঠনেরও গ্রহনের সুযোগ এসে যেতো! কিন্তু দুঃখজনক সত্য যে প্রায়শঃই এমনটা করা হয়না!

    ঢাকা মহানগরীর একটা অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে- গোঁয়ার্তুমির রোগটা আমার নিজেরও ছিল (এখনো আছে- মাঝে মাঝে জেগে উঠলে টের পাই)- তরুণ বয়সে সেটা খুব প্রবল ছিল, আবার সংগঠনেও কখনো ব্যাকবেঞ্চার ছিলামনা! একবার মুহতারাম আমীরে জামায়াতের বক্তব্যের একটা বিষয় মেনে নিতে পারছিলামনা, থানা নাযিমের সাথে আলোচনা করেও ফল হলোনা, একজন শূরাসদস্যের পরামর্শে সরাসরি আমীরে জামায়াতকে লিখলাম! তিনি দায়িত্ব দিলেন ঢাকা মহানগরীর ততকালীন আমীর শহীদ আব্দুল কাদের মোল্লা ভাইকে! যতদূর মনে পড়ে- প্রায় দেড়-দুঘন্টা আলোচনা হয়েছিল! মোল্লাভাইয়ের সাথে সেই আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন, বিপ্লবের সাফল্য-ব্যর্থতার উপাদান এবং জনসাধারণ থেকে সংগঠনের শীর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সংশ্লিষ্টতা ও সীমারেখার ব্যাপারে আমি যেন কূয়োর ব্যাঙ পুকুরে নয়- সাগরে পড়েছিলাম! আমি তৃপ্ত ও অভিভূত হয়েছিলাম- নিজের এমন দায়িত্বশীলের জন্য গর্ব অনুভব করছিলাম!!

    এখন কি তেমন আমীর বা নেতা কেউ আছেন যিনি নিজে না পারলেও মোল্লাভাইএর মত যোগ্য খলিফা নিয়োগ করে প্রশ্নকারী কর্মী/শিক্ষার্থীর কৌতূহল নিবারণ করবেন!!
    হয়তো বলা হবে- এখন সংগঠন অনেক বড় ও বিস্তৃত হয়েছে, বাস্তব কারণেই তেমনটা সম্ভব নয়!!
    জবাব যদি তা-ই হয় তবে মেধাবীদের জন্য নেতিবাচক শব্দচয়নে হিসেবী এবং প্রয়োগে সংযমী হওয়া উত্তম মনে করি!

    মেধাবিনিয়োগের কিছু বিষয় এমন যে তাতে নিরবচ্ছিন্ন একাগ্রতা ও বিশেষ ধরণের ততপরতার প্রয়োজন হয়! এমন বিশেষায়িত ক্ষেত্রে যদি বিশেষ সুযোগ না তাকে তবে কাঙ্খিত ফললাভ হওয়া দূরূহ! কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়- সবাইকে সবখানে সবকাজে লাগানোর নীতির কারণে মেধাবীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত আউটপুট পাওয়া যায়না! এক্ষেত্রে সুরা তাওবাহর ১২২নং আয়াতটি সামনে রেখে চিন্তা করা যেতে পারে!

    “””অনেক মেধাবীর ইগো আর গোয়ারতুমির পর্যায় এমন যে, এরা দশজনের সামনে একটা প্রস্তাব করে, দশজনের মাঝে হয়তো ২-৩ তাঁর প্রস্তাবের গুরুত্ব বুঝে এটিকে সমর্থন দেয়, বাকী ৭-৮ জনের হয়তো প্রস্তাবটা প্রাগমেটিক মনে না হওয়ার অগ্রহনযোগ্য বিবেচিত হয়; এবং এ পর্যায়ে ঐ মেধাবীর দাবি থাকে যে তার প্রস্তাবটি শুরায় গৃহীত হোক। এটা কিভাবে সম্ভব!!! “””

    রাতারাতি পরিবর্তনের দাবী হয়তো কেউ কেউ করতে পারেন, সবাই নয়! তবে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা এবং কমপক্ষে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার আলোচনার ধারাবাহিকতা না থাকা বা রুদ্ধ হওয়া সমীচিন নয়!

    পরমানুঅস্ত্র নিয়ে ইরাণ-মার্কিন আলোচনা বোধ হয় একটা উদাহরণ হতে পারে! প্রস্তাবটি “অগ্রহনযোগ্য” হলো কেন? কেন সেটা “আরো আলোচনা-পর্যালোচনাযোগ্য” বিবেচিত হয়ে বিশেষ কারো দায়িত্বে দিয়ে অপেক্ষমান(pending) রাখা হলোনা? সমস্যার একটি পয়েণ্ট এখানে!

    তবে শেষ কথা সেটাই যা আপনি বলেছেন- …. সাংগঠনিক আনুগত্যে আলহামদুলিল্লাহ আপত্তি নেই। আমি কর্মীই থাকতে চাই।

    Reply
  2. Ahsanul Haque Arif
    Ahsanul Haque Arif at |

    @আবু সাইফঃ আপনার কথার সাথে একমত। 🙂

    Reply
  3. আবু সুলাইমান
    আবু সুলাইমান at |

    ভাই, আহসানুল হক আরিফ। সালাম। পূর্ব পরিচিতি না থাকায় অব্জেক্টিভ কমেন্ট করলাম।
    ০১. প্রথম অভিযোগ- লিখাটি ভদ্রতার মিনিমাম ক্রাইটেরিয়া ফুলফিল করেনি। যে কোন ব্যক্তি তা যে ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রেরই হোক না কেন, তাকে হেয় করে অপমাঞ্জঙ্ক কথা বলা একেবারেই অনুচিত। ইসলামি সৌন্দর্যের নীতিমালার বাইরে। এখানে তা ডিঙ্গিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্লগ যেহেতু আপন বাড়ির কোন আঙ্গিনা নয়, নয় কোন এহতেসাবের ব্যক্তিক বৈঠক, তাই এখানে এভাবে অপমানজনক কথা বলা ইসলামি আন্দোলনের অনুগত্যের দড়ি গলায় পরনেওয়ালা কোন ভ্রাতার লিখায় শোভনীয় নয়। আশা করি সামনের লিখায় এমন সীমানা ডিঙ্গানো লিখা আরিফ ভায়ের প্যাডে উৎপন্ন হবেনা।

    ০২. পুরো লিখাটি এক ধরণের স্টেরিওটাইপট চিন্তা থেকে লিখা। এখানে এত বড় অভিযোগ উত্থাপঙ্কারি কনক্লুসিভ লিখায় কোন পরিভাষার (Terminology) কোন ক্লারিফিকেশন করা হয় নি। এখানে আনুগত্য, ইসলাম, মুসলিম, সংগঠন, রাজনীতি, ইসলামের মৌলিক কার্যক্রম, ইসলামের সাধারণ কার্যক্রম, যে সকল বিধিমালায় বিতর্ক অনুমোদিত, যেখানে অনুমোদিত নয় এমন সব বিষয় কে সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা করে আলোচনা না করে সবের ভেতর তাল্গোল পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। আলোচনাটি করা হয়েছে জ্ঞান-ভিত্তিক নয় বরং শিবিরের ভেতর প্রচলিত নেতাদের মুখে চর্বিত-চর্বনের মত উচ্চারিত কিছু শব্দমালাকে মানদন্ড বিবেচনা করে।

    ০৩. শিবির করার অনেক সুফল রয়েছে, রয়েছে অনেক কুফল। শিবির করার সময় ছাত্রদের মাঝে নেতাদের কথার প্রতি এক ধরনের মোহ কাজ করে যা অনুগত্য ও শৃংখলার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু মনে রাখতে হবে ইস্লামের আলোচনায় এসব কথা কোন মানদন্ড হতে পারেনা। কারণ অনুগত্যের জন্য প্রয়োজন বিবেচিত হলে এসব কথার একটি ভাল অংশ চিন্তার দৃষ্টিকোণে সাবস্টান্ডার্ড এবং ইস্লামের চিন্তার সাথে কন্ট্রাডিকটরি। তাই অন্যদের (যারা সিনিয়র, যারা মুস্লিম, যারা ঘোষিতভাবে অমুস্লিম নয় তাদের ব্যাপারে) মন্তব্য করার পূর্বে কারো মুখের কথায় নয় বরং ইসলামের জ্ঞানের আলোকে করা উচিত।

    ০৪. মানুষ স্বভাবতই বৈচিত্র্যপ্রিয়। সীমারেখার ভেতর এ বিচিত্রতা ইস্লামে অনুমোদিত। সংগঠন ইসলামে অনুমোদিত হলে সংগঠন ও ইসলাম এক জিনিস নয়। যেমন রাজনীতি ইসলামে অনূমোদিত হলেও ইসলাম ও রাজনীতি এক নয়। কোন নামের আগে ইসলাম জুড়ে দিলেই তা ইস্লামের ন্যায় বাধ্যতামূলক হয়ে যায় না, যায় না কুরানের কোন আয়াত প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিকভাবে কোন কাজের আগে জুড়ে দিলেই। তাই আরিফ ভায়ের নিকট এ বিষয়ে সাবধানতা অবলম্বনের আশা করি।

    ভবিষ্যতে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখার আশা করি।

    Reply
  4. আবু সুলাইমান
    আবু সুলাইমান at |

    এ্যাট আবু সাইফ ভাই,
    সালাম। আপনি কর্মী থাকতে চাইলে আমরা জোর করে নেতা বানাতে পারবনা হয়তো। তাই বলে আপনি কর্মী থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে আমার নেতা হবার বসনাটিকে এভাবে মাটি চাপা দেবার চেষ্টা করলেন কেন? (সিরিয়াসলি নেয়া যাবেনা)

    আপনার নিকট থেকে আরিফ ভায়ের লিখার বস্তুনিষ্ঠ ক্রিটিক আশা করেছিলাম, তা করে এক কথায় সহমত বলে শেষ করলে কেমনে হবে। আমাদের ভুল-ত্রুটি আমাদেরকেই ধরিয়ে দিতে হবে, যাতে বাইরে আলোচনায় আমরা আর ভুল না করি।

    Reply

Leave a Reply