ইসলামেই শান্তি

জলে-স্থলে যে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে তা মানুষের দু-হাতের কামাই।” এটি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের সূরা রূমের ৪১ নং আয়াত। মুসলমান এ কথা বিশ্বাস করতেই হবে যে কুরআনের কথাগুলো অকাট্য সত্য। মুসলমান ছাড়াও সকল ধর্মের অনুসারী মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে আল্লাহ চ্যালেঞ্জ করেছেন কুরআনের সত্যতার বিষয়ে। মূলত কুরআন গোটা মানব জাতির জীবন বিধান হিসেবে প্রেরিত হয়েছে। যে মানব সম্প্রদায় তার প্রতিটি চিন্তায়-চেতনায়, কর্মে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনবরত শান্তি খুঁজে বেড়াচ্ছে তারাই যত অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার কারণ। এটি নিয়ে মানুষের ভাববার মোটেও কি প্রয়োজন নাই? এর আপাত কারণ মানুষের চিন্তায় যে ধরনের ব্যবস্থা শান্তির সহায়ক হিসাবে স্থির হয় তা ভিন্ন ভিন্ন এবং ত্রুটিপূর্ণ। ফলে মানুষে মানুষে সৃষ্টি হয় সংঘাত-সংঘর্ষ। কারও মতে সমাজতন্ত্র, কারও মতে ডেমোক্রেসি, কারও মতে সাম্যবাদ, কারও মতে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ কিংবা কারও মতে জাতীয়তাবাদ মানুষকে শান্তি এনে দিতে পারে। এগুলোর সবটাই আলাদা আলাদা মতবাদ হলেও রাশিয়ায় সমাজতন্ত্রীদের পতনের পর তারা সবকিছুকে গুলিয়ে ফেলার চেষ্টা করাতে হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। একসময় যারা গণতন্ত্রের বিপরীতে সমাজতন্ত্রের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল তারাই এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের ধারক-বাহকে পরিণত হয়েছে। যাহোক, সাধারণভাবে এসবগুলো বাদই শান্তি চায়। তবে বাস্তবতা হলো এগুলো পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণেই কাক্সিক্ষত শান্তি নির্বাসিত হয়েছে। এদের সবটার মধ্যেই এক অদ্ভুত মিল হলো সবটাই ইসলাম ফোবিয়া রোগে আক্রান্ত। ইসলামের ব্যাপারে সবটাই একই ব্যানারে হাজির হয়ে যায়।

এরা গণতন্ত্র! গণতন্ত্র! বলে চেচিয়ে বেড়ালেও ইসলামপন্থীদের কোনো প্রকার গণতান্ত্রিক অধিকার থাকবে না। তা সে যত বড় গণতন্ত্রিই হোক না কেন। সাম্প্রতিক মিসর এর জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। উপরোক্ত সবগুলো বাদেই অস্ত্রবাজি করলে হয়ে যায় বিপ্লবী। এদের আত্মীয়-স্বজনরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে মানুষ হত্যার চেষ্টা করলেও চাটুকার ভিসি মহোদয় শিবির খুঁজে বেড়ান। তার সাথে সুর মেলালেন যোগ দিলেন শিক্ষামন্ত্রীও। আর ইসলামপন্থীরা আক্রান্ত হয়ে আত্মরক্ষা করতে গেলেও তাদের বলা হয় সন্ত্রাসী । তাদের যেন মানবাধিকার থাকতে নাই। তাদেরকে দেখলেই গুলি করার হুকুম। মানবতা আর মানবাধিকারের সাথে এমন পরিহাস কি সভ্যতার জন্য হুমকি নয়?

ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে, অশান্তিই বাড়ে, শান্তি আসে না। ইসলামেই শান্তি। এ নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। এর ধারক-বাহকরা হবেন শান্তির দূত এটাই স্বাভাবিক। অথচ তাদেরকেই অশান্তির কারণ সন্ত্রাসী হিসাবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যারা এটি করছে পূর্বেই বলেছি যে তারা সবাই ইসলাম ফোবিয়া রোগে আক্রান্ত। আসলে তাদের মূল বিষয়টা হলো ক্ষমতা। সঙ্গত কারণেই এই নির্বাসিত শান্তিকে ফিরিয়ে আনতে হলে মানব সম্প্রদায়কে মুখ ফেরাতে হবে Divine guidance এর দিকে। মানবতার সকল সমস্যা সমাধান খুঁজতে হবে এখান থেকেই। মানুষকে তিনটি বিষয় পরিত্যাগ করে অপর তিনটি বিষয় গ্রহণ করতে হবে শান্তি ফিরিয়ে আনবার প্রয়োজনে।

প্রথমত, ধর্মহীনতার পরিবর্তে আল্লাহর আনুগত্য। অর্থাৎ ধর্মে ফিরে যাওয়া। পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো নাস্তিকতা। নাস্তিকতার চেয়ে যে কোনো ধর্ম অনুসরণ অধিকতর শ্রেয়। সকল ধর্মের অনুসারীরা যদি তাদের ধর্ম মেনে চলে তবে এটি অধিক কল্যাণকর। ধর্মহীনতা মানুষের জীবনকে বিশৃঙ্খল করে তুলে। মানুষ ভালো হয়ে চলার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে না। এখানে বলে রাখা দরকার যে, ইসলামকে সাধারণভাবে শান্তির ধর্ম বলা হয়ে থাকে। মূল কথা হলো, আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে শান্তি অর্জন করা। দ্বিতীয়ত, সংকীর্ণতার পরিবর্তে মানবতা। কোনো সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী চেতনা স্থায়ী শান্তি দিতে পারে না। পৃথিবীর সকল মানুষকে “মানুষ” হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। মানুষে-মানুষে সম্পর্ক হবে মানবতার ভিত্তিতে কোনো ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী কিংবা ভেদাভেদ থাকবে না। তৃতীয়ত, গণতন্ত্রে আল্লাহ দ্রোহী নীতিমালার পরিবর্তে আল্লাহর শাসন ভিত্তিক গণতন্ত্র। অর্থাৎ সংশোধিত গণতন্ত্র । যেখানে জনগণের পরিবর্তে সকল ক্ষমতার উৎস হবেন আল্লাহ। আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালার আলোকে রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যেখানে সকল ধর্মের অনুসারীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং বেঁচে থাকার অধিকার সমানভাবে স্বীকৃত হবে। যেখানে কতিপয় লুটেরা গোষ্ঠীর কাছে জনসাধারণের সম্পদ কুক্ষিগত হবে না এবং কোনো প্রকার আত্মকেন্দ্রিক ও সুবিধাবাদী রাজনীতি স্বীকৃত হবে না।

Leave a Reply