জামায়াতের বাস্তবতা

যারা জামায়াত ইস্যু নিয়ে চিন্তা ভাবনা করেন তাদের কিছু বিষয় জানা উচিত;

১. জামায়াতের অযুদ্ধাপরাধী নেতারা মনে করেন ১৯৭১ ইস্যুতে অভিযুক্তরা আসলে দোষী। তাদের রাজনীতি থেকে বাদ যাওয়া দরকার।
২. অভিযু্ক্তদের জেল-ফাঁসি যাই হোক না কেন জামায়াত সংগঠন হিসেবে পুরাতন বা নতুন নামে টিকে থাকবে। আমেরিকা জামায়াতকে নিষিদ্ধ হতে দেবে না।
৩. অভিযুক্তদের ইস্যু সরকার নিষ্পত্তি করে ফেললে জনগণের মাঝে এ ইস্যু কাজ করবে না। ৯০ ভাগ মোসলমানের দেশ বলেই বাংলাদেশে ইসলামপন্থা নিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ আছে।

পরবর্তী নেতৃত্ব

কারাবন্দিদের পরে নেতৃত্বের পাইপলাইনে রয়েছে জামায়াতের দুইটা গ্রুপ;

১. রফিকুল ইসলাম খানদের নেতৃত্বাধীন মেইনস্ট্রিম গ্রুপ।

২. ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকদের নেতৃত্বাধীন সংস্কারপন্থী গ্রুপ।
১. সহিংস আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কারাবিন্দদের পক্ষে নিজেদের আনুগত্য প্রমাণ দেখিয়ে প্রাচীনপন্থী গ্রুপটা পরবর্তী নেতৃত্বে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে চায়।
২. আইনী প্রক্রিয়া ও বৈদেশিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা দেখিয়ে সংস্কারপন্থী গ্রুপটাও পরবর্তী নেতৃত্বে নিজেদের কর্তৃত্ব দেখাতে চায়।
৩. দুই গ্রুপই অসৎ ও ক্ষমতালোভী হওয়ার কারণে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকবে, কিন্তু কেউই জামায়াত থেকে বেরোবে না।
৪. প্রাচীপন্থীদের দখলে জামায়াত ও শিবিরের জনশক্তি রয়েছে, কাজেই তাদেরকে একেবারে বাদ দিতে পারবে না সংস্কারপন্থীরা।
৫. সংস্কারপন্থীদের দখলে রয়েছে আর্থিক ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো, কাজেই তাদেরকেও একেবারে বাদ দিতে পারবে না প্রাচনীপন্থীরা।
৬. প্রাচনপন্থী ও সংস্কারপন্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের ভাগাভাগি হবে।

জোট
১. সম্ভবত বিএনপির সাথে ২০ দলীয় জোটেই থাকবে জামায়াত।
২. স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাথেও ব্যাপক আঁতাতে থাকবে তাদের।

ফেতনা
১. জামায়াত-শিবিরের উচ্চ শিক্ষিতদের মধ্যে সালাফী ইসলামের প্রভাব বাড়বে।
২. ধনী জামায়াত-শিবিরের মধ্যে আধুনিকতা বাড়বে।
৩. ধনী-গরীব ব্যবধান বাড়বে।
৪. পঁচা সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী ও জঙ্গীবাদীদের সাথে যোগাযোগ বাড়বে।

উপরের সব কিছুই জামায়াত বাস্তবতা। তবে সরকার যদি জঙ্গী কার্ড খেলে এবং বিএনপিকে কোনঠাসা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায় তবে সন্ত্রাসবাদের ইস্যুর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। তখন অবশ্য রাজনীতির বাস্তবতা একটু এদিক ওদিক হবে।

কাজেই জামায়াত-শিবিরের লোকদের উৎপাত দেখার বিষয় হিসেবেই থাকবে। যদি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া জোরদার হয় তবে অবশ্য খেলা অন্যরকম হবে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াত তখন কোনঠাসা থাকবে।

Leave a Reply