কামারুজ্জামানের ফাঁসি সমাচার-পক্ষে বিপক্ষে মুক্তিযুদ্ধাদের অবস্থান

কেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এতো নাটক। কেন এতো রাজনিতী? কেন? এত বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। সেটা নিযেও রাজনীতি। কেন? কেন মুক্তিযুদ্ধের সব দলগুলো এক মঞ্চে এসে মুক্তিযুদ্ধের অমিমাংসিত কাজ গুলোতে শরিক হয় না। কেন? কেন আজও মুক্তিযুদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ ইস্যুতে দুই ধারায়? কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের কারো কাছে কেউ রাজাকার আর করো কাছে পরহেজগার। কেন? যে রাজাকার সে সর্বাবস্থায় সবার কাছে সমান ভাবে ঘৃনিত হবে। তবে কেন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ আজ কাউকে রাজাকার বলেছে আবার কাউকে ফেরেশতা বলছে?

আমার মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। গল্প শুনেছি। বাপ চাচাদের কাছে। পাক বাহিনির নৃসংসতা অস্বিকার করার সাধ্য কারো নেই। কিন্তু তাদের দোষর রাজারকার আল বদর আল শামস বাহিনি নিযে আছে ভিন্ন মত। একই পরিবারে আছে মুক্তিযুদ্ধা ছেলে আর বাবা রাজাকার। রাজাকার বাবার প্রতি ছেলের কোন ঘৃনা নেই। বরং বাবার প্রতি এখনো শ্রদ্ধা বোধ দেখলে প্রান জুড়িয়ে যায়। কথা হলো এটা বাবার প্রতি সন্তানের কর্তব্য । দেশের প্রতি দেশের সন্তানের কর্তব্য হলো এসব রাজাকরদের যুদ্ধ থেকে ফিরেই ব্রাশ ফায়র করে মেরে ফেলা। মুক্তিযুদ্ধারা তা কি করেছ। করলে কতজন? বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। এটা ঠিক। আবার এটাও ঠিক এর ক্লাসিফিকেশন আছে। হ্যত্যা লুণ্ঠন ধর্ষন ……যারা করেছে সাধারণ ক্ষমা তাদের জন্য নয়। বর্তামানে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে যাদের ফাসিঁ কার্যকর হয়েছে তাদের মধ্যে আব্দুল কাদের মোল্লা আর সদ্য কামারুজ্জামান তারা দুজনই যুদ্ধাপরাধী হয়েও এদেশের মাটিতে স্বাধীনতর পর পড়াশুনা করেছ । চাকুরী করছে। কীভাবে?
তখনতো বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিল। তবে কি তারা সাধরণ ক্ষমার মধ্যে পড়েছিল? তাদরতো তখন চিকল আলীর মতো ফাসিতে ঝুলার কথা। এ কথাগুলা ও আজ মুক্তিযুদ্ধাদের এক অংশ বলছে। আমরা নতুন প্রজম্ম পরি বিভ্রান্তিতে। বর্তমানে যে ভাবে রাজনৈতিক হিংসা প্রতিহিংসা চলছে। কেউ দুধে ধোয়া নয়। তাই কার কথা সত্য কারটা মিথ্যা। বড়ই জটিল মনে হয় যখন চাইযে কোন নিরপরাধ কে ঝুলানো না হয়।

মুক্তিযুদ্ধাদের আজ বলতে শুনা যায়- অভিভক্ত পাকিস্তান যারা চেয়েছে তারাতো অন্যায় করেনি। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। পক্ষে বিপক্ষে মত থাকবেই। তাই বঙ্গবন্ধু শেষ পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েছেন। রক্তপাতহীন সমাধানের। কিন্তু এ যুদ্ধ আমাদের উপর চাপিযে দেয়া হয়। আমাদের নিরিহ মানুষদের রাতে আধারে হত্যাকরে। হত্যাযজ্ঞ না চালালে অভিভ্কত পাকিস্তান থাকার সম্ভাবনা ছিল বেশি। কাজেই রাজনৈতিক বিরোধীতার কারনে তাদের স্বাধীনতা বিরোধী বলা যেতে পারে কেউ যুদ্ধাপরাধী হতে পারে না।

যুক্তি? তর্ক? এর জবাবে মুক্তিযুদ্ধাদের আরেক অংশ বলছে যে সবমুক্তিযুদ্ধারা যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে যুক্তি দেয় তারা নব্য রাজাকার। তাদের মধ্যে যারা খেতাব ধারী তাদের খেতাব কেড়ে নেয়া উচিত। তারা হলো বাইচান্স মুক্তিযুদ্ধা।

গোলাম আজাম নিজামী এরা যে স্বাধীনতা বিরোধী এটা ছোট বেলা থেকেই জানা। কিন্তু মানবতা বিরোধী তর্ক বিতর্ক শুনছি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল হওয়ার পর। বলা হচ্ছে এখানে মানবতার বিরুদ্ধে যারা অপরাধ করেছ তাদের বিচার। সাধারণ ক্ষমা প্রপ্তদের বিচার হচ্ছে ণা। তারা সাধারণ ক্ষমার আওতায না পড়লে গোলাম আযম আর নিজমী গং মানবতারিরোধী অপরাধ করার কারনে তাদের বিচার করার কি দরকার? ব্রাশ ফায়র করে মেরে ফেললেই হতো। না ওদের বিচার করতে হবে! যাক বিচার শুরু হলো। কিন্তু এ বিচারের বিরোধতা যতটা না করছে সাজ প্রাপ্ত রা তার চেযে করছে মুক্তিযুদ্ধাদের একটি অংশ। যার ফলে ট্রাইবুনালের কার্যক্রমকে বিতর্কিত হচ্ছে। সাইদির মামলা আর স্বাক্ষী নিয়ে প্রসিকিউশনের যে কার্যক্রম তা ও এই বিতর্ককে আরো উস্কে দিল। কেন একটা বিচার সুস্ঠ ভাবে স্বাভাবিক গতিতে করা যাচ্ছে না? কেন বিতর্ক আর বিতর্ক। আজ কামারুজ্জামানের ফাসিঁর পর শুনতে হচ্ছে এক মুক্তিযুদ্ধা বলছেনে সরকারের ক্ষাম চাওয়া উচিত। কেন? একজন মহিলা লেখিকা বলছেন কাররুজ্ঝামান নিদোর্ষ? রাজাকারের পক্ষে কেন থাকবে মুক্তিযুদ্ধা কেন থাকবে সুশিল সমাজ?

নতন প্রজম্ম এর উত্তর চায়? সত্যিই কি রাজনৈতীক কোন চাল আছে এ বিচারে? সত্যাই কি ভোট ব্যালট জিতার জন্য এটা কোন অপকৌশল? না সব ঠিকই আছে এটা কেবলই অপ্রপ্রচার? যদি তাই হয তবে কেন রাজাকারের জানযায় হাজারো লোক। যেখানে মুক্তিযোদ্ধারও আছে। কেন আব্দুল কাদের মোল্রা আর কাররুজ্জামানের জন্য কাঁদছে হাজারো মানুষ? তাদের তো ঘৃনা করার কথা। জুতা মারার কথা। থুথু দেবার কথা। সম্মেলিত সংস্কৃতিক জোট সরকার রিলেটেড মুক্তিযুদ্ধের এক অংশ যার বিচার এর পক্ষে তারাই শুধু আনন্দ করছে। একতরফা। নতুন প্রজম্ম উত্তর চায় এসবের মানে কি? ৭১ ইস্যুতে সবাই এক থাবকে এটাই আমাদের কাম্য। কাঁদবে সাবই এক ভাবে, ঘৃনা করবে সাবই একভাবে। আনন্দও করবে একই কাতারে। কেন এমনটা দেখছি না? গনজাগরণ মঞ্চ ব্লগার রা শুরু করল। কিন্তু সেখানেও রাজনিতী ঢুকিয়ে দিল। আস্তিক নাস্কিক ঢুকে গেল। মহা ভজঘট। একজন মানুষ ধর্ম আর দেশ দুটোই ভালবাসবে। এটাতো অপরাধ নয়। আজ ধর্ম ভালবাসলে রাজাকার। আর দেশ ভালবাসলে আস্তিক নাস্তিক প্রশ্ন। এইসব চলছে।

কথা হলো এই দেশ সবার আস্তিকের ও নাস্তিকেরও । সাধুর ও অপরাধীদেরও। অপরাধীদের এ দেশে আইনের শাসন মেনে থাকতে হবে। তাদের এ দেশের আইনেই বিচার হবে। কথা হলো অপরাধীদের পক্ষে কেন আজ মানুষ? নানা যুক্তি? নানা মত? এইসব কিছুই সৃষ্টি হতো না যদি এই ট্রাইবুনাল করার আগে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দুটি দল একই টেবিরে বসে একই ডায়াগ্রামে ঊভয়ের পরামর্শ মতে বিচার করত। তা হয় নাই। সরকারী দল চায় বিরোধী দল এর ঐক্য ভেভ্গে বিপারে পরুক। তাই তাদের যুদ্ধপারধীদের বাছাই করে বিচার শুরু করা যাক। হলোও তাই। বেচে সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা রাজকাররা। এটা দেখে বিরোধীরা কি এই ট্রাইবুনালকে সাপোর্ট করতে পারে? ফলে যা হবার তাই হলো এর বিপক্ষে চলে গেল তারা। এটাই সাধারণ অবজার ভেশণ। তাই এখন এ বিচার একেবারে পরিশুদ্ধ এটা বুকে হাত দিয়ে কেউ বলতে পারবে না। হ্যা যারা খুশি তাদের কথা হলো ফাসিঁ দিয়েছি এটাই হল কথা। বিচার যেমনই হোক যাদের ফাঁসি চেয়েছি পেযেছি। কিন্তু কেউ ভেবে দেখছেনা। এভাবে জিদাজিদি করে কাজ কতটা বিপদজনক। যে কাজটা সুন্দর ভাবে করলে কোন সমস্যা ছিল না তাকে রাজনৈতিক কারনে জটিল করে আইমে জাহেলিয়াতের সেই বংশাক্রমিক শ্রত্রুতাকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে নাতো। একটু ভাবুন।

আওযামী লীগ বিএনপি দুইটোইতো মুক্তিযুদ্ধের দল। আমার তো এদুটো দলের ই সাপোটার। আমার কি সারাজীবন তারা যা বলবে তাই মানবো? না নিজের বিবেক কে একটু কাজে লাগাবো?

Leave a Reply