তালাকঃ স্বাধীনতা নাকি স্বেচ্ছাচারিতা?

11127664_1428637587451736_1827007959605614427_n

কয়েকদিনের ব্যবধানে দু’জন অভিনেত্রী,মডেল ও গায়ক দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদ সংঘটিত হয়। নদিয়া-শিমুল আর হৃদয়- সুজানা জুটি; মিডিয়া অঙ্গনে পরিচিত মুখ। এনারা সেলিব্রেটি ছিলেন বিধায় মিডিয়া মারফত আমরা জানতে পেরেছি-কিন্তু বাস্তবেই বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ তথা তালাকের প্রবণতা। আর জরিপ থেকে দেখা গেছে- অন্যান্য বিভাগের চেয়ে ঢাকায় তালাকের সংখ্যা বেশি।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের তথ্য মতে, পরিবার ভাঙ্গনের হার দিন দিন বাড়ছে, আর এ ক্ষেত্রে তথা তালাক (মেয়েদের ক্ষেত্রে খুলা তালাক) নেয়ার ক্ষেত্রে মহিলারা এগিয়ে। নভেম্বর ২০০৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত ঢাকা জোন- ২ এ ৩৭১ টি তালাকের মামলা তাদের কাছে আসে, যার মধ্যে পুরুষ কর্তৃক রেজিস্ট্রেশন করানো হয় ১১০টি আর বাকি ২৬১টি আসে স্ত্রী’র পক্ষ থেকে। একই জোনে জানুয়ারি ২০১২ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত ১৭২টি তালাকের মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে ৫৯টি আসে স্বামীর পক্ষ থেকে বাকি ১১৩টি আসে স্ত্রীর পক্ষ থেকে।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দু’টি এলাকায় ২০০৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তালাক কার্যকর হয় ২৩০৯টি, যার মধ্যে ১৬৯২টি স্ত্রী কর্তৃক আর স্বামী কর্তৃক ৯২৫টি৷ ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তালাকের সংখ্যা ৩৫৮৯টি৷ এর মধ্যে ২৩৮১টি স্ত্রী কর্তৃক আর স্বামী কর্তৃক হয়েছে ১২০৮টি৷ এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, তালাক দেয়া পুরুষ ৩০ শতাংশ, আর নারী ৭০ শতাংশ৷

ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর) জরিপ অনুযায়ী, ২০১৩ সালে তালাকের ৯৯.৩৫ শতাংশ নোটিশ দিয়েছেন স্ত্রীরা। ২০১২ সালে এ হার ছিল ৯৪.৫৫ শতাংশ। নারীর দিক থেকে তালাকের হার ৫ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৭৩২টি বিচ্ছেদের মধ্যে পুরুষের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয় ২৪টি। ২০১২ সালে ৩ হাজার ১৩৯ জনের বিয়ে বিচ্ছেদের মধ্যে পুরুষের দিক থেকে উদ্যোগ এসেছে ১৭১টি আর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে ২ হাজার ৯৬৮টি। (সূত্রঃ সাপ্তাহিক আজকাল)

এবার তালাক বৃদ্ধির হার দেখুন-
সিটি করপোরেশনের সমীক্ষা থেকে দেখা গেছে,
২০০০ সালে ঢাকা শহরে মোট ডির্ভোস নোটিসের পরিমাণ ছিলো ২৭৫৩টি,
২০০১ সালে নোটিস হলো ২৯১৬টি,
২০০২ সালে নোটিসের পরিমাণ ছিলো ৩,০৭৩টি,

২০০৩ সালে নোটিস এসেছে ৩২০২টি,

২০০৪ সালে তালাকের নোটিস এসেছিলো ৩৩৩৮টি,

২০০৫ সালে ৫৫১১ টি নোটিস এসেছে।

 

এদিকে মেয়েদের মধ্যে তালাক নেয়ার প্রবণতা কেনো বাড়ছে- সেটা আলাদাভাবে বর্ণনা করার আগে সর্বোপরি বিবাহ বিচ্ছেদের পিছনে দুটি কারণকে মুখ্য দেখা যায়-
প্রথমত,  সহনশীলতার অভাবঃ একটা মানুষের সাথে আরেকটা মানুষের পুরোপুরি মিল খাবে না- এটাই স্বাভাবিক। বৈচিত্র আছে বলেই, এই পৃথিবী বৈচিত্রময়। একজনের কাছে কিছু জিনিসের ঘাটতি থাকে বলেই হয়ত- সেটা পূরণের জন্য অপরজনের প্রয়োজন হয়। যদিও আমরা ধরে নেই- আমার জীবনসঙ্গী সম্পূর্ণ আমার মত হবে, আমার কথা মতো চলবে, যা বলবো সেটা মানবে। যে কারণে, পারষ্পরিক বোঝাপড়া, সহনশীলতা, এবং ধৈর্যের পরীক্ষায় আমরা পরাজিত হই । অপরপক্ষ থেকে সামান্য মতভেদ দেখলেই (যেটা হয়ত মেনে নেয়া যেতো, কাটিয়ে ওঠা যেতো, ভিন্ন পথ বের করা যেতো, কিন্তু না) আমরা বলে উঠি- “যাও! চলে যাও! তোমার উপর আমি নির্ভরশীল নাকি”? কিংবা “তোমার সংসার তুমি সামলাও, আমি গেলাম”। যদিও প্রকৃতঅর্থে মানুষ সামাজিক জীব বিধায় সে অপরজনের ওপর নির্ভরশীল, সে একা থাকতে পারে না। যদিও উপরের উক্তিগুলো বলাটা যেনো আমাদের কাছে সহজ হয়ে গেছে। আমরা ভুলে যাই- এক আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমরা যাকে কবুল করে নিয়েছি, সেই আল্লাহ তালাককে উপযুক্ত কারণ সাপেক্ষে বৈধ করেছেন নিশ্চিত, তবে তিনি মানসিক ও শারীরিক, নির্দিষ্ট সময়সীমা-এভাবে বিভিন্ন শর্ত দিয়ে তালাকের প্রক্রিয়াকে বেঁধে দিয়েছেন, কারণ এটা স্বামী-স্ত্রী কারো জন্যই সুখকর কোনো বিষয় নয়। আর শয়তান সবচেয়ে বেশি খুশি হয়- যখন সে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো এক কারণে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে।

এবার আসি দ্বিতীয় কারণে- আমাদের মধ্যে কম-বেশি নাটক-সাহিত্য-কিংবা ফিল্মের প্রভাব পড়ে। যেখানে আমরা নিজেকে নায়ক/নায়িকার আসনে বসিয়ে এক রাজকুমারি/রাজকুমারের স্বপ্ন দেখি। যেসব ফিল্ম-নাটকে বিয়ের শুধু রোমান্টিক দিকগুলোই তুলে ধরা হয় আর আমরা সেভাবেই কল্পনা করি। যেখানে একে অপরের প্রতি অধিকার বা দায়িত্বের কথা থাকে না। তাহলে কি সামান্য রোমান্টিকতাই জীবন? আসলেই কি আমাদের ফিল্ম-নাটক বাস্তবতা তুলে ধরে? আমরা হোঁচট খাই এই জায়গাটাতেই। প্রেম-ভালোবাসার রোমান্টিকতায় আমরা আগ্রহী হই অথচ চাওয়া-পাওয়া, অধিকার দেয়া-নেয়ার প্রশ্নে আমরা গা-বাঁচিয়ে চলতে চাই। ভুলে যাই- স্ত্রী/স্বামীর প্রতি হক আদায়ের কথা।

এদিকে, নারীর তালাক প্রদানের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে অনেক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন- “নারীরা দিন দিন শিক্ষিত হচ্ছে, উপার্জনক্ষম হচ্ছে, তাই তারা আর আগের মতো অত্যাচার সহ্য করে বসে থাকবে এমন নয়”।

এসব কথা বিশ্লেষন করলে বলতে হয়- অত্যাচার আগেও হতো, এখনো হয়- তবে পৃথিবীর রীতি সেই একই- ভালো মানুষরা (নারী হোক বা পুরুষ) হয় নির্যাতিত, আর খারাপ মানুষরা করে নির্যাতন। আইনও হয় ‘জোর যার মুল্লুক তার’ –এই ভিত্তিতে। যাই হোক- প্রথমেই আমাদের বুঝতে হবে- শিক্ষিত হওয়া মানে- অহংকারী নয় বরং নিরহংকার হওয়া। শিক্ষিত হওয়া মানেই “আমি এখন উপার্জনক্ষম” এই চিন্তা রাখার বাইরে আমি এখন উপযুক্ত- সচেতন ব্যক্তি এই চিন্তা মাথায় রাখা উচিত। কথাগুলো কিন্তু নারী-পুরুষ সবার ক্ষেত্রেই বলছি। এদিকে- একটা মেয়ে ‘আমি উপার্জন করতে পারি’ বলে ‘আমার কারো প্রয়োজন নাই’- এমন চিন্তা অমূলক। অবশ্যই তার জীবনে একজন পার্টনারের দরকার আছে, ভালোবাসার দরকার আছে, একটা সহানুভূতির স্পর্শের দরকার আছে; যেমন দরকার আছে একটা স্বামীর তার স্ত্রীর। এই পৃথিবীতে সব প্রয়োজনকে টাকা দিয়ে তোলা যায় না। ধরে নিলাম- স্বামী-স্ত্রী পরষ্পর বিচ্ছেদ হয়ে গেলো, কিন্তু দেখা যাবে- পরবর্তীতে নিজের দৈহিক ও মানসিক চাহিদা পূরণ করার জন্য অন্য এক নারী/পুরুষের প্রতি আমরা ঝুঁকে পড়ছি। সেক্ষেত্রে বিয়ে না করলেও রাখছি অনৈতিক সম্পর্ক। চরিত্র নষ্ট হচ্ছে কার? এই আমাদেরই।

আবার দেখুন- আমাদের সমাজে তালাকপ্রাপ্ত চরিত্রসম্পন্ন নারী/পুরুষের বিয়ে হওয়া ওত সহজ নয়। কিছু ক্ষেত্রে পুরুষের জন্য সহজ হলেও নারীর জন্য হয় আরো কঠিন। যদিও আমরা বিয়ে সহজ করার পক্ষে। আবার দেখুন-  ধর্মীয় রীতি মেনে তালাক দেয়াটা একটা ছেলের পক্ষে আর্থিক ও মানসিক দিক থেকে একটা চাপ। কারণ- আল্লাহ স্ত্রীদের প্রদান করা সম্পদ নিতে বারণ তো করেছেনই সেই সাথে কিছু দিয়ে বিদায় দিতে বলেছেন। “বিদায় দেয়ার সময় এরূপ করা তোমাদের পক্ষে জায়েজ নয় যে, তোমরা যা কিছুই তাদেরকে দিয়েছো, তা থেকে কোনো কিছু ফিরিয়ে নিবে” (সূরা বাক্বারা, আয়াত-২২৯)। এছাড়া তালাক বলার পর সেটা কার্যকরের সময়সীমা- তিন মাস। এই তিন মাসে স্ত্রীর খরচও বহন করার কথা বলা হয়েছে স্বামীকে। আর স্ত্রী যদি হয় প্রসূতি, কিংবা সন্তান যদি হয় দুগ্ধপোষ্য তাহলে সেই সময়সীমা আরো বেড়ে যায়। যার আর্থিক চাপ যায় স্বামীর উপর। আমরা জানি না- কয়জন পুরুষ নিয়ম মেনে তালাক দেন। যদিও বাস্তবে দেখেছি- তালাক তো দিলোই সেই সাথে কিছু দেয়া তো দূর, এমনকি মেয়ে মায়ের বাসা থেকে যা নিয়ে গিয়েছিলো তাও রেখে নিয়েছে। কি পরিমাণ ছোটলোকি!
 
এদিকে অনেক মেয়েরা উত্তেজনার বশে “আমি তো কামাই করতে পারি” এমন মনোভাবে কিংবা তাদের চারপাশ থেকে যখন এই চিন্তা তাদের মাথায় ঢুকানো হয় তখন তারা নিজেকে স্বাধীন মনে করে, সামান্য সন্দেহ, সামান্য মনোমালিন্যের জন্য (উপযুক্ত কারণ থাকলে সেটা ভিন্ন কথা) খুলা তালাক নেয়। আমরা জানি না, কয়জন নারী ধর্মীয় নিয়ম মেনে খুলা তালাক দেয়- যদিও নিয়মমাফিক তালাক নেয়াটাও হয় তাদের জন্য কষ্টকর। কারণ সেক্ষেত্রেও (যেহেতু স্বামী তালাক দিতে চাচ্ছে না, সে বিচ্ছিন্ন হতে চাচ্ছে) তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে স্বামীর দিক থেকে তালাক নিতে হয়। কিন্তু পরবর্তীতে একটা মেয়ের জীবন কি আদৌ সুখের হয়? কয়েকদিন না যেতেই মা-বাবা-ভাইরাও বোনকে বোঝা মনে করে।  

না, আমি বলছি না। শত অত্যাচার সহ্য করে মুখ বুজে থাকো। কারণ এমন অনেক দেখেছি- কি শিক্ষিত কিবা অশিক্ষিত অনেক পরিবারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয় নারী। তো, সেক্ষেত্রে সেই অত্যাচারী জীবন ছেড়ে নিজেকে নিরাপদে রাখা উচিত। আর আমরা বরাবরই তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার পরও চরিত্রসম্পন্ন নারী-পুরুষের বিয়ের পথ সুগম করার পক্ষে। যদিও আমাদের সমাজে তালাকপ্রাপ্ত নারী-পুরুষের বিয়ে সহজ নয়। তবে, একটা কথা নারী-পুরুষের অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত- সামান্য কারণ- যেটা হয়তো এমনিতেই মিটিয়ে নেয়া যেতো- সেসব কারণে তালাক না নেয়াই উত্তম।

এদিকে অনেক নারী বলে থাকে- ‘সন্তান হলেই সমস্যা হয়, সেক্ষেত্রে তাদের দিকে তাকিয়ে তালাক দেয়া যায় না’। এক্ষেত্রে বলবো- সন্তান কোনো সমস্যা নয়, বরং আল্লাহ’র পক্ষ থেকে নেয়ামতস্বরূপ- যদি আপনি তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন। আর তাদেরকে একটা সুন্দর পরিবেশ দিতে পারেন। আর সেটা দিতেই অনেক মা-বাবাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আর এই ত্যাগ যে শুধু মা’ই স্বীকার করবে বা সন্তানদের সুখের কথা একা মা’ই কল্পনা করবে তা নয়। বরং সন্তান সব সময় চায়- তাদের মা-বাবার সহবাস, তাদের সহচার্য, তাদের পরিচয়। এই দিকটা শুধু মা’কে নয় বাবাকেও চিন্তা করা উচিত। আমরা অনেক সময় সহনশীলতার পাঠ নারীদের উদ্দেশ্যে দেই- কিন্তু সেই একটা হাদিস আমরা ভুলে যাই- যেখানে রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেছেন- “সেই সবচেয়ে শক্তিশালী পুরুষ,  যে তার রাগ সংবরণ করতে পারে”। অথচ আমরা সমাজে তেমন পুরুষ দেখি খুব কম। বরং দেখা যায়- উত্তেজিত হয়ে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিচ্ছে। এটাকে স্বাধীনতা বলবো নাকি স্বেচ্ছাচারিতা?

আমি এবার পাঠকদের উদ্দেশ্যে নারী-পুরুষের সহশীলতার দুই মূর্তপ্রতীকের উদাহরণ তুলে ধরবো- জানি না, সমাজের কতো মানুষ এনাদের মতো-

১/ আমার এক নিকটয়াত্মীয়। বিয়ের প্রায় ২৫ বছর হবে। ওনার তিন সন্তান। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি- আর আফসোস লাগছে আমার এই আংকেলের জীবনের উপর। উনার স্ত্রী একেবারে দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি। সংসার, স্বামী কিংবা সন্তানের প্রতি যে নূন্যতম দায়িত্ব আছে- সেটাও বোধ হয় ঊনার বিবেকে নেই। অথচ, কোনো কাজ তো দূর, মেহমান আসলেই স্বামীর বিভিন্ন দোষারোপ নিয়ে বসে পড়েন। অথচ উনার স্বামী একেবারে চুপ। নিজের কাজ নিজের দায়িত্ব মনে করে করে যাচ্ছেন। সন্তানদের সকালে নাস্তা খাওয়ানো, স্কুলে নিয়ে যাওয়া, স্কুল থেকে নিয়ে আসা, কে কবে আসবে তার খবর রাখা। দুপুরে দোকান থেকে এসে সন্তানদের জন্য রান্না করা, একসাথে খাওয়া, রাতে সন্তানদের নিয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া। বাবার ভালোবাসায় সন্তানরাও “বাবা বাবা” করে। এদিকে সারাদিন কানের সামনে স্ত্রী বক বক করেই যাচ্ছেন, কিন্তু তিনি চুপ থেকে নিজের কাজ করেই যান। জানি না, কি পরিমাণে সহনশীল হলে একটা লোক এমন উন্নত চরিত্রের পরিচয় দেয়। সত্যি, তিনি শক্তিশালী পুরুষ! ২/ আরেক পরিবারের ঘটনা- যেখানে স্বামীর স্বভাব সবকিছুতে নিজের মত উপরে রাখা, স্ত্রী ভালো কথা বললেও- “মেয়ে মানুষ কম বুঝে”এই কথা বলে স্ত্রী’র আইডিয়া নিবেন না। সেই সাথে স্ত্রী যদি কখনো রাগ করে বাস্তবতা বলে ফেলে, ঘর ছেড়ে দেয়ার মতো কান্ড ঘটিয়ে দেয় স্বামী। তাই, অনেক সময় উনার স্ত্রী সব সহ্য করে নেয়। যখন তাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয়- স্বামীর কথার জবাব দেয় না কেনো? তখন বেশ বিচক্ষণতার সাথে উনার উক্তি- এভাবে জবাব দিলে অনেকই দেয়া যেতো, তুমি কি মনে করো ৩৩ বছরের সংসার এভাবেই টিকে আছে? কতো ত্যাগ, কতো ধৈর্য এর পিছনে! কিন্তু এই সময়ের মেয়েরা আমাদের মতো ধৈর্যশীল হবে কি”?

অবশেষে, কয়েকমাস আগে পত্রিকায় দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের এক জায়গায়- যেসব দম্পতি তাদের দাম্পত্য জীবনের ৫০ বছর পূর্ণ করেছে, তাদেরকে স্বীকৃতিস্বরূপ পুরুষ্কৃত করা হচ্ছে। বিষয়টা তখন হাস্যকর মনে হলেও মর্মটা সমাজের বাস্তবতা দেখে বুঝতে পেরেছি। যেভাবে আমাদের সমাজে তালাকের সংখ্যা বাড়ছে, তাহলে পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবন টিকিয়ে রাখতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে হবে কি?

 

Leave a Reply