গোঁড়ামী এবং অন্ধতা কখনোই কল্যাণ বয়ে আনে না।

জেদ, আবেগ আর হঠকারিতা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তার কিছু প্রমাণ পাচ্ছি সাম্প্রতিককালে জনাব ফরিদ আহমদ রেজা ভাইয়ের এক লেখার প্রেক্ষাপটে প্রতিক্রিয়া দেখে। যারা জামায়াত বিরোধী ইসলামিস্ট তারা যেন একটা সুযোগ পেয়ে গেলেন জামায়াতকে এক হাত নেয়া। আবার যারা জামায়াতের অন্ধ ভক্ত তারাতো ফরিদ রেজার চৌদ্দ পনের গোষ্ঠি উদ্ধার করতে ব্যাস্ত। আমি জানি হাসিনার ভক্তরা অনেকেই এই মল্লযুদ্ধ ভালই উপভোগ করছেন আর মিটিমিটি হাসছেন । যা হওয়ার কথা, যা হওয়া উচিত। তাই হচ্ছে।

ইসলামপন্থীরা (তথাকথিত ইসলামিস্ট বলবোনা, যদিও বলার প্রেক্ষাপট ছিল) সারা বিশ্বে যেভাবে মার খাচ্ছে এবং খাচ্ছি তারপরও জেদ যায় না, দম্ভ অহংকার তেজ এখনো কমেনি। ফরিদ রেজা ভাইয়ের লেখার প্রেক্ষাপটে অনেকগুলো খুব রুঢ় মন্তব্যের মধ্যে একটি মন্তব্যের ভাষা অনেকটা এমন যে, যা তোরা কিছু মুনাফিক এখন জামায়াত ছেড়ে গিয়ে জামায়াতের বা** ও ছিড়তে পারবিনা। মাওলানা সাখাওয়াতরা কোন **** ছিঁড়তে পারে নাই।

আমি বাংলাদেশে থাকাকালীন একটা প্রধান সময় শিবির জামায়াতের সাথে জড়িত ছিলাম অন দ্যা রেকর্ড। তবে জীবনে কোনদিন জ্বী হুজুর মার্কা ছিলাম না। অনেকেই লক্ষ্য করেছেন, আমি কথায় কথায় আমার বাবাকে টানি। আমি জানি সেটা লক্ষ্যণীয়, এবং আমি ইচ্ছা করেই টানি। অবশ্যই সেটা আমার পরিচয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমার বাবা এই জ্বী হুজুরগিরির প্রচন্ড বিরোধী ছিলেন। বিস্তারিত পরে লিখবো।

আমি একসময় মালয়েশীয়া পড়াশোনা করেছিলাম। সে সময় যাদের সাথে সময় কাটিয়েছি স্বভাবতই জামায়াত-শিবিরের একটা উল্লেখযোগ্য অংশের সাথে। প্রায় তিন বছর, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে দু বছর দশ মাস। কোন মানুষকে জানাশোনার জন্য এ সময়টা খুব একটা যথেষ্ট নয়। আমি যদিও আমার মালয়েশীয়ার অধ্যয়ন নিয়ে গর্ববোধ করি এবং আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় মনে করি, কিন্তু এই এক্সিট্রম, একদেশদর্শী, গোড়াঁ গুটি কয়েক ব্যাক্তির কারণে সে পরিচয়টা অনেক সময় দিতে কষ্ট লাগে। আমি জামায়াত সমর্থিত কোন সংগঠনের সাথে এখন জড়িত নই এ অপরাধে অনেক সময় খুব কড়া মন্তব্য শুনতে হয়েছে। বিরানী যেমন নষ্ট হলে খুব দুর্গন্ধ হয়ে যায় খাওয়া যায়না, ইসলামী আন্দোলন (তথাকথিত বলবো না যদিও বলতে পারতাম) করে কেউ একবার মাওলানা সাখাওয়াতদের মত হলে নাকি এমনই হয়ে যায়। লম্বা দাড়িঁ, লম্বা জুব্বা পরলেই কেউ ইসলামের মহাসেবক হয়ে যায় না।

কেউ কারো কিছু ছিড়ঁতে পারা না পারা নিয়ে আমার ছোট বেলার একটা ঘটনা বলে শেষ করবো। আমি যখন খুব ছোট ছিলাম তখন আমাদের গ্রামে একটা ছেলে ছিল, খুব অহংকারী, গায়ে খুব শক্তি দেখাতো আর বলতো তাকে কেউ কিল ঘুষি দিলেও সে ব্যাথা পায়না। সে সময় আমাদের চেয়ে ৮-১০ বছরের বড় এক ভাই ছিলেন একটু দুষ্ট প্রকৃতির। তিনি একদিন ঐ ছেলেটাকে আমাদের সামনে বললেন, হেই তুই নাকি কিল গুষিতে ব্যাথা পাস না? ছেলেটি বললো, না, পাই না। তখন বয়সে বড় এই ভাই ছেলেটাকে প্রচন্ড একটা ঘুষি মারে। সত্যি সত্যি এত জোরে ঘুষি মারে যে, আমার কাছে আজো যেন আফসোস লাগছে। ছেলেটা ঘুষির চোটে দাড়াঁনো থেকে মাটিতে পড়ে যায়, তখন বড় লোকটা জিজ্ঞেস করে, কিরে ব্যাথা পেয়েছিস। তখন ছেলেটা খুব কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে, “না ব্যাথা পাইনি”। জেদ, অহংকার এমনই। গোঁড়ামী, একদেশদর্শীতা কখনো কল্যাণ বয়ে আনে না।

Leave a Reply