হজ্জঃ সর্ববৃহৎ সম্মেলন হওয়া সত্বেও যে কারনে এটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র

পবিত্র হজ্জ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। হজ্জ মুসলমানদের সর্ব বৃহৎ বাৎসরিক সম্মেলনও। এটা ইসলামের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কর্তৃত্বের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। এটা চালু করেছিলেন এই উম্মতের আধ্যাত্মিক পিতা ইবরাহীম (আলায়হিস-সালাম)। আর এটাকে পূর্নাঙ্গরূপে প্রতিষ্ঠা করেছেন মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ (ﷺ)। ( এই প্যারাটি বিডি টুডে ব্লগের “আবুসামিহা” থেকে নেওয়া)।

এতো বড় সম্মেলনের পরও মুসলমানদের সমস্যাগুলো এখানে অনুচ্চারিতই থেকে যাচ্ছে। ফিলিস্তিন, কাস্মীর, সিরিয়া, আফগানিস্থান, ইরাক, ইয়েমেন, বাংলাদেশ, লিবিয়া, সুদান, সোমালিয়া , ইথিওপিয়া, ওআইসি প্রভৃতি সমস্যার কোন আলোচনা নেই এই সম্মেলনে। আজ যখন এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঠিক সেই দিনে কত হাজারো- লক্ষ মুসলমান অমুসলিমদের কাছে একটু আশ্রয়ের সাহায্য প্রার্থনা করে সাগর- মহাসাগর পাড়ি দিচ্ছে।

অথচ আরেকবার নবীজির (সাঃ) বিদায় হজ্জের ভাষণ পড়ে দেখুন। দেখবেন সেটি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ও কর্তৃত্বময়, কতটা দায়িত্বশীল ছিল সেই ভাষণ। সেদিন কি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব আলাদা ছিল?

আরাফার এই দিনে উপস্থিত হাজীগণ ও অনুপস্থিত সকলে কী ঘোষণা দিচ্ছি, তা আরেকবার খেয়াল করা উচিৎ।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

(আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই, তাঁর কোনো শরীক নাই, রাজত্ব [গুগল করে
ইংরেজি সব জায়গায় sovereignty লেখছে দেখতেছি] আর প্রশংসা একমাত্র তাঁরই, তিনি সব কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান ( এই প্যারাটি Brother Nazmussakib Nirjhorথেকে নেওয়া)

আমরা ও হাজী সাহেবগণ কি বুঝে শুনে উপরোক্ত এই ঘোষণা দিচ্ছি? যদি বুঝেই থাকি তাহলে আমাদের মুসলিম দেশ সমুহে ধর্মনিরপেক্ষতার নাম করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব থেকে ইসলাম কে আলাদা করেছি কেন?

আজ হজ্জের ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করার কথা ছিল মুসলিম খলিফার, মুসলিম রাজা- বাদশা নয়।

আরাফার এই দিনে এই উক্ত এই দোয়া হোক আমাদের বোধোদয়ের মুক্ষ্যম মাধ্যম। আর এই দোয়া যখন ওই অনুভুতি নিয়ে পড়া হবে তখনই তা সাওয়াব বহন করবে।

আমীন।

Leave a Reply