নিন্দিত গন্তব্যের পথে বাংলাদেশ

আমিমুল এহসান তানিম

 

১২১৫ সালের ১৫ জুনের পূর্বেকার ইংলান্ডের সামাজিক অবস্থা ও বর্তমান সময়ের বাংলাদেশের সামাজিক অবস্থা অনেকটাই কাছাকাছি বলে আমি মনে করি। ১২১৫ সালের ম্যাগনাকার্টা আইন চালুর আগে ইংল্যান্ড ছিল বিচারবিহীন হত্যাকাণ্ডের তীর্থস্থান। যদিও ৮০০ বছর আগেই এরা এই কালো অধ্যায়কে ম্যাগনাকার্টা আইনের জালে বন্দী রেখে আলোর পথে হাঁটছে। ১২১৫ সালের আগ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শাসকেরা কোনো ধরনের বিচারের তোয়াক্কা না করে তাদের খেয়ালখুশিমতো যখন যাকে ইচ্ছা গ্রেফতার করে হত্যা করত। ইংরেজ রাজা জনের আমলে এ অবস্থা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল। এই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা থেকে রার জন্য এক সময় দেশের সব প্রান্ত থেকে জনগণ অস্ত্র হাতে রাজপ্রাসাদ ঘেরাও করল। কিং জন প্রাণভয়ে সম্মত হলেন আইন প্রণয়নে। এই আইন ইতিহাসে ম্যাগনাকার্টা নামে পরিচিত। আইনটির সংপ্তি রূপ হলো এ রকম।
‘No free man shall be seized or imprisoned, or stripped of his rights or possessions, or outlawed or exiled, or deprived of his standing in any other way, nor will we proceed with force against him, or send others to do so, except by the lawful judgement of his equals or by the law of the land.’
আমার আজকের আলোচিত বিষয় ম্যাগনাকার্টা নয়। আমি এখানে ইতিহাস নিয়ে এলাম এ কারণে যে, বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী যেন ইতিহাস থেকে শিা নেয়, এরা নিজেরা যেন জঘন্য ইতিহাস না হয়ে যায়। আমার আলোচনার বিষয়: কোন গন্তব্যের পথে বাংলাদেশ, নিন্দিত নাকি নন্দিত? যদি এই প্রশ্ন আমাকে করা হয়, তবে আমি অবশ্যই বলব নিন্দিত গন্তব্যের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। শাসকগোষ্ঠীর ওপর এর দায় বর্তায়। তিলে তিলে একটি বিকাশমান জাতি যাচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। একটি কবিতার দু’টি লাইন এ মুহূর্তে মনে পড়ছে।

‘জরা সভ্যতার দাস হে শাসকসমাজ মানুষের অভিশাপ নিয়ে যাও তবে আজ’ শাসক সমাজের প্রতি কবির এই তিক্ত উক্তি এক সময় আমাকে কিছুটা বিচলিত করলেও বর্তমানে বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠীর অনিয়ন্ত্রিত শোষণ দেখে তার কবিতার মর্ম উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি। আমি জানি না এই কবি আজ বেঁচে আছেন কি না? নাম না জানা সেই কবি যদি বেঁচে থাকেন, তবে কি তিনি আরো কিছু লিখবেন? কোন বিশেষণে বিশেষায়িত করবেন আজকের এই পৈশাচিকতা? কোন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বাংলাদেশের আজকের মানবধিকার পরিস্থিতি। শাসকের চেতনা বিলুপ্ত না হলে অচিরেই এ বর্বরতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। বাংলাদেশকে নিয়ে দেশের মানুষের পাশাপাশি বিশ্বসম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। নিরীহ মানুষের বিকৃত লাশের ছবি সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে নিয়মিত। দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া এই লাশগুলো পৈশাচিকতার নিকৃষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করছে। রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকতেই পারে, তাই বলে কি এভাবে হত্যা করতে হবে? যা গোটা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। জাতি হিসেবে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে নিন্দিত গন্তব্যের দিকে।

– See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/21507#sthash.nBB60Vy6.Vczy2cUe.dpuf

4 Responses

  1. Shariful Islam Sharif
    Shariful Islam Sharif at |

    এক্ষেত্রে মাওলানা সাঈদী সাহবের ‘‘‘ নন্দিত জাতি নিন্দিত গন্তব্যে,,,, বইটি অসাধারন।

    Reply
  2. Ahmed
    Ahmed at |

    .

    Reply
  3. Ahmed
    Ahmed at |

    ………………

    Reply
  4. Shuhag71
    Shuhag71 at |

    “অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া” বলতে কি বুঝাতে চাও? এই ধরনের উস্কানিমূলক কলাম লিখার উদ্দেশ্যই বা কি? বিদেশের মাটিতে বসে সরকারের ইমেইজ নষ্ট করার পরিনতি ভাল হবে না। আমরা বেশ কিছু দিন ধরেই তোমার activity পর্যবেক্ষণ করছি। facebook এ তোমার পোস্ট গুলাও দেখেছি। আগেও তোমাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তুমি সতর্ক হও নাই। যাই হউক, একবার শুধু বাংলাদেশে আস তখন হাড়ে হাড়ে টের পাবে কত বড় ভুল তুমি করেছ।
    চরম পরিনতির জন্য মানুষিক ভাবে প্রস্তুত থাক। আমরা ভাল করেই জানি কিভাবে পথের কাটা উপরে ফেলতে হয়।

    Reply

Leave a Reply