“ভারত গোয়েন্দাদের মত বিদেশি হত্যায় আইএস নয়, জামায়াত জড়িত”- প্রসঙ্গে

 

ভারতের গোয়েন্দাদের মত
বিদেশি হত্যায় আইএস নয়, জামায়াত থাকতে পারে
– প্রথম আলো

দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে আইএসের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তাঁরা বলেছেন, এর মধ্যে আইএস থাকার কোনো সূত্র তাঁরা পাননি। তাঁরা মনে করছেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক খবরে মঙ্গলবার এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সাংবাদিক ভারতী জৈন।

১। আমাদের ৩ দিকে ভারত আর অপরদিকে সমুদ্র। ভু- রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ও এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি দিলে খুব সহজেই ভারত কর্তৃক বাংলাদেশের উপর আগ্রাসী মনোভাব ও নগ্ন হস্তক্ষেপ স্পষ্ট হয়ে উঠে। আর এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে যৌক্তিক ও জোড়ালে প্রতিবাদ বিএনপির চেয়েও জামায়াত বেশী করে থাকে। সুতরাং ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জামায়াত সম্পৃক্ততা খুঁজে পান, এটা নতুন কিছু নয়। ডাহা মিথ্যাচার।

২। ৫ জানুয়ারি ২০১৪’র আগে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক যে সবক দিয়েছিলেন, যেখানে জামায়াত বাংলাদেশে রাজনীতি করবে কি করবেনা এবং এরশাদের মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে গৃহ পালিত বিরোধী দল বানানোর আইডিয়া- এমন নগ্ন হস্তক্ষেপ মুলক মনোভাব, যা স্বাধীন রাষ্ট্রে জামায়াতের সাংবিধানিক অধকারের পরিপন্থী- রাষ্ট্র হিসেবে ভারত সবসময় জামায়াতের বিপক্ষে- এ কথাই মনে করিয়ে দেয়। সুতরাং ভারত এ সব বিষয়ে জামায়াতের সম্পৃক্ততা আবিষ্কার করে অধিকন্তু ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা “র” এমন ঘটনা ঘটায়।

৩। ভু- রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও অতীত ঘটনাবলী যেমন ফারাক্কা বাধ, টিপাইমুখী বাঁধ নির্মাণ প্রচেষ্টা, তিস্তা পানি বণ্টন, ট্রানজিট সুবিধা, সীমান্তে হত্যা ইত্যাদি প্রমাণ করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করলে ভারত এ থেকে সুবিধা নেয় বেশী। সুতরাং ভারতীয় পত্রিকায় এ ধরনের খবর প্রকাশে সচেতন দেশবাসির মনে ভারতের ষড়যন্ত্রের কথাই ভালো করে মনে করিয়ে দেয়।

৪। দুই দলের নেত্রী যখন বিদেশে সফর রত আর বিদেশীরা মধ্যবর্তী নির্বাচনের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে, থিক এমন সময়ে বাংলাদেশে বিদেশীদের খুনের মাধ্যমে ভারতীয় “র” জামায়াতের উপর দোষ চাপায়। কারণ জামায়াত বি এন পির জোটে। সাধারণত বি এন পি এককভাবে যে ভোট পায়, যদি জামায়াতের ভোট যুক্ত হয় তাহলে বাম সহ আওয়ামিলীগের চেয়ে বেশী হয়। ফলে জামায়াত মুক্ত রাজনীতি মানে আওয়ামিলীগের জয় জয়কার। রাজনৈতিক মোকাবেলায় আওয়ামিলীগ একা এ কাজে ব্যর্থ। তাই যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতের সহায়তায় ক্ষ মতায় থাকতে চায় আওয়ামিলীগ। মূলত এই আইডিয়া টা ভারতের। সুতরাং জামায়াত জঙ্গী, বিদেশী হত্যায় মেতে উঠেছে প্রভৃতি আবিষ্কারের মূল হোতা হলো ভারত এবং এর গোয়েন্দা সংস্থা “র”।

৫। এ ঘটনার পরে বিদেশীরা বাংলাদেশে অবস্থানের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হবেন, দেশ ছেড়ে যাবেন, বিনিয়োগে হাত গুটিয়ে নেবেন, খেলতে আসা বন্ধ করে দেবেন, সর্বোপরি আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের উপর আঘাত আসবে- সকল কিছুতে জামায়াত সুবিধা পাবে নাকি ভারত?

৬। আমি জানি আমার মত আপনাদেরও শুরুতেই এই প্রশ্নটি মাথায় এসেছে আর তা হল দেশের গোয়েন্দা সংস্থা এই খবর জানেনা কিন্তু ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ঠিকই বলে দিচ্ছে বিদেশী হত্যায় জামায়াত জড়িত। এর উত্তর উপরের ১,২,৩ ,৪ এবং ৫।

বাংলা লিঙ্ক দরে ফাঁসি, জেল- জুলুম ইত্যাদির পরেও রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত কে যখন রুখা আওয়ামিলীগের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না তখন এ ধরনের কাজে ভারত কর্তৃক জামায়াতকে দোষারোপ সচেতন ও দেশবাসি ভালো করেই জানে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনির্বাচিত সরকারকে সমর্থনই নয় শুধু বরং টিকিয়ে রেখে অবৈধ স্বার্থ হাসিলে “র” এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা হল টাইমস অব ইন্ডিয়ার এই প্রতিবেদন। আর এসব প্রকাশ অপ প্রচারে নেমেছে আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশীয় দোসর প্রথম আলো

http://timesofindia.indiatimes.com/…/articles…/49236241.cms…

http://www.prothom-alo.com/…/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0…

Leave a Reply