4 Responses

  1. ABUSAIF
    ABUSAIF at |

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ…

    পর্বগুলো শুরু থেকেই পড়ে আসছি, ভেবে দেখার মত অনেক কিছু আছে!

    Reply
  2. আবু যাহরা
    আবু যাহরা at |

    শরীফুল ইসলাম শরীফ (Shariful Islam Sharif) ঢাকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন এবং অনার্স শেষ করে এমএ করছেন বলে তার পরিচয়ে উল্লেখ করেছেন। এ থেকে তার বয়স অনুমান করি, তিনি ৮২ সালে জন্মেননি – যে ঘটনার স্মৃতিমূলক লেখার লেখার প্রতিক্রিয়ায় তিনি ধারাক্রমিক লিখে চলেছেন। ফরিদ আহমদ রেজা তাঁর স্মৃতিমূলক লেখায় কিছু ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। যে ঘটনাসমূহ অন্য অনেককে সহ ঘিরে ঘটেছিলো বা অনেকে ঘটনার একপ্রকার শিকার হয়েছেন। স্বভাবতই এ ঘটনায় পক্ষ বিপক্ষ বা দুটি পক্ষ ছিলো। ফরিদ আহমদ রেজা বর্ণিত ঘটনাগুলোর দুটো আলোচনা পর্য্যালোচনা হতে পারে। ১. ঘটনাগুলো সত্য না কি অাংশিক সত্য না কি সর্বৈব মিথ্যা। ২. ঘটনাগুলোর নৈতিক বিশ্লেষণ। নৈতিক বিচারে ঘটনাগুলোর অবস্থান কি?
    সত্য মিথ্যা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন তথ্যের বিপরীতে তথ্য। যেমন, এনামুল হক মঞ্জুর ‘ব্যক্তিগত কারণে’ পদত্যাগ। তিনি কি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন নাকি কোন চাপের মুখে বা প্ররোচনায় পদত্যাগ করেছেন সেটা যাচাই করার প্রাথমিক সূত্র এনামুল হক মঞ্জুর সাক্ষাৎকার। তিনি যদি ফরিদ আহমদ রেজার কথা অসত্য বলে খারিজ করেন, তবে স্বভাবতই অন্যান্য সূত্রে যাচাই করার প্রয়োজন।

    ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ইতোমধ্যে জাগতিক সকল সক্ষমতা ও তর্ক বিতর্কের উর্ধ্বে চলে গেছেন। আমি মহান আল্লাহর দরবারে তাঁদের জন্য ক্ষমা ও উচ্চতর মর্যাদার জন্য প্রার্থনা করি। অবশিষ্ট কিছু ব্যক্তি এখনো জীবিত আছেন। ফরিদ আহমদ রেজার বক্তব্য তাঁদের কাছে যাচাই করা যেতে পারে, অথবা তখনকার ঘটনার দ্রষ্টা যারা আছেন তারা অসত্য বর্ণনার প্রতিবাদ করে সত্য তথ্য দিয়ে ফরিদ আহমদ রেজার বক্তব্য খণ্ডন করতে পারেন। কেউ করছেন না।

    শরীফুল ইসলাম ধারাক্রমিক লেখায় যা করছেন ঘটনার তথ্যের বিপরীতে তার আবেগ নিয়ে হাজির হয়েছেন। তথ্যের বিপরীতে কুযুক্তি ও কুকথার আবর্জনার বিস্তার ঘটাচ্ছেন। সভাপতি দেলোয়ার ও আরেক সভাপতির মধ্যকার বাক্যালাপের হৃদয়গ্রাহী বর্ণনা দিয়ে ইমোশনাল ব্ল্যাক মেইলের যে কসরত করলেন, তার সাথে ফরিদ আহমদ রেজার বর্ণিত ঘটনাগুলোর সম্পর্ক কি? ফারুক মওদুদীর মিটিং শাহরিয়ার কবীরদের সাথে, এই বিবরণ ফরিদ আহমদ রেজার সাথে কিভাবে প্রাসঙ্গিক?
    দেলোয়ার যে হল সভাপতির দারিদ্র্যের বিবরণ শুনে কেঁদেছিলেন এমন ঘটনা ওটাই প্রথম বা একমাত্র নয়। ৮২র সময়ে, তার আগে ও পরেও ছিলো, থেকে থাকবে। সেই বিবরণ দেই না। অপ্রাসঙ্গিক সব কিছুই আবর্জনা বই কি! শরীফ! যদি সম্ভব হয়, তথ্যের বিপরীতে তথ্য দিয়ে হয় বক্তব্য খণ্ডন করুন! না হয় বিরত থাকাই শ্রেয়ো। সব শেষে বলি। এনামুল হক মঞ্জুর পদত্যাগের ঘটনা নিয়ে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এই চ্যালেঞ্জের শক্তি কি তার আবেগ না বিশ্বাস! ফরিদ আহমদ রেজা বলেছেন, কেউ এক মুমিনের দোষ গোপন করলে আল্লাহর তাঁর দোষ গোপন রাখেন। এ নীতি আমিও অনুসরণ করছি। যে কোন উসকানীর মুখে এ নীতিতে অবিচল থাকার তৌফিক দিন। আল্লাহর কাছে এ প্রার্থনা করি। আমিও ৮২ সালের একজন দর্শী। শুধু সংক্ষেপে এ টুকু বলি। বস্তুর যেমন বহু তল থাকে। ঘটনারও বহু তল থাকে। বস্তু বিশাল হলে কোন ব্যক্তি বস্তুর যে পাশে থাকেন তিনি সে দিক দেখেন। এমন বহু ঘটনা আছে, যা ফরিদ আহমদ রেজা বর্ণনা করেননি। কারণ ওগুলো তাঁর অদেখা। আমিও ৭৯-৮২ র কিছু ঘটনার সাক্ষি। হয়তো বলার প্রয়োজন হলে, সময় পেলে বলবো। জা. শিবির মানুষের সংগঠন। এখানে ফেরেশতা তৈরী হয় না। মানুষ তৈরী হয়। এদের নানান গুনের নানান মানুষ আছে। সবাই উত্তম মানুষ হবার সাধনা করে। মনুষ্যত্ব অতিক্রম করে কেউ ফেরেশতা হয় না। মনে রাখা দরকার।
    টানাটানি করে, অপ্রাসঙ্গিক আবর্জনা ছিটিয়ে কলম শানিত করার অনুশীল হবে বটে। মঙ্গল নেই। এডমিনের উচিৎ কোন লেখার প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ এলে তা প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করা ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া। এটা এডমিনের নৈতিক দায়িত্ব।

    Reply
  3. আবু যাহরা
    আবু যাহরা at |

    (২)

    জামাতে ইসলামী এবং ৮২ র বিভক্ত শিবিরের জামায়াত অনুগত অংশ বিদ্রোহী অংশ ও যুবশিবির প্রতিষ্ঠাতাদের মোকাবেলার জন্য তিনটি কৌশল নিয়েছিলো। ১. জামায়াত ও শিবিরের জনশক্তিকে নির্দেশ দিয়েছিলো শিবিরের বিদ্রোহী অংশের জনশক্তির যাদের সাথে অনুগত অংশের ও নিজেদের ব্যক্তি সম্পর্ক জোরালো তারা যেন সে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে বশ করার তৎপরতা চালায়। ২. যাদের কর্মসংস্থান বা রোজগারের প্রয়োজন যোগ্যতা মত তাদের বিভিন্ন প্রকল্পে চাকরি দানের প্রলোভন। (তবে অবশ্যই জামায়াতে যোগদান বা ছাত্রত্ব বজায় থাকলে শিবরের থেকে অানুগত্যের প্রমাণ দিতে হবে)। ৩. বশ না হলে অপবাদ দিয়ে ডিসক্রেডিটেড করে দিতে হবে এবং প্রয়োজনে ক্ষেত্র বিশেষে শারীরিক আক্রমণ করতে হবে। আবদুল কাদের বাচ্চুর জন্য প্রস্তাবনা ছিলো লণ্ডনে পাঠানো, অর্থনীতিতে পিএইডি করার জন্য। এভাবে নেতৃস্থানীয় ও সক্ষমতা সম্পন্ন প্রত্যকের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ির চাকরির প্রলোভন ছিলো। যাদের চাকরি গরজ বালাই ছিলো, তাদের কারো কারো নৈতিক অবস্থানের পরিবর্তনও ঘটেছে। যেমন, কুমিল্লাহর আশেক আহমদ জেবাল যিনি সেক্রেটারী জেনারেল নিয়োগ সম্পর্কিত ধারাটির সংশোধনী প্রস্তাবের প্রথম প্রস্তাবক তৎকালিন ঢাবি শাখার সভাপতি ঘটনার শুরুতে প্রফেসর সাহবের রায়ের অসন্তুষ্ট ও বিদ্রোহী দলে থাকলেও পরে অবস্থান বদল করেন এবং দ্রুত ছাত্রজীবন শেষ করে ইসলামী ব্যাঙ্কে চাকরি নেন। ঢাবি সভাপতি থাকা অবস্থায় অবশ্য ইনি সংবিধানের নীতি গর্হিত আরো অনীয়ম করেছেন সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে। সেটা বারান্তরে অন্যত্র বলা যাবে। এখন থাক। জামায়াতের এই ভিলেনিয়াস কর্মকাণ্ড ও সিণ্ডিকেটেড তৎপরতার প্রতিবাদী ছিলেন জামায়াতের ভেতরে মজলিসে আমেলার সদস্য কিশোরগঞ্জের মাও. আবদুল জব্বার। ক্রিটিকেল ও কঠোর নীতির লোক হবার কারণে কেন্দ্রের ভাতা বর্জনকারী একমাত্র নেতা যাকে প্রফেসর সাহেব জামায়াতের ব্রেক (গতি নিয়ন্ত্রক) বলে সম্বোধন করতেন – জামায়াতের ৮২র ভিলেনিয়াস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদী হবার কারণে এই নেতাকে বহিষ্কার করে রটনা চালানো হয় তাঁর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছে। মাও. জব্বার পাগল হয়ে গেছেন। আবদুল কাদের বাচ্চুর উপরে শারীরিক হামলা চালানো হয় চট্টগ্রামে। এমনিভাবে স্থানে স্থানে বিভক্ত শিবিরের জনশক্তির উপর হামলা চালানো হয়। “..আসিদ্দায়ু আলাল কুফ্ফারে ওয়া রুহামাউ বাইনাহুম” এই নীতি প্রয়োগ করা হয় এদের উপর।
    শিবির ৭৭ এ পূনঃজন্মের পর থেকে সেক্যুলার গোষ্ঠির নিগ্রহ ও নিপীড়নের মোকাবেলা মোকাবেলা করতে নিজেরা নিজেদের ভেতরে যে ফ্যাসিবাদী চরিত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে তার প্রকাশ ঘটায় প্রথম ৮২ ষড়যন্ত্রের পর।

    শরীফ! আবেগ দিয়ে বাস্তবতা লুকানো যায় না। কুযুক্তি আর কু কথার সমাবেশ ঘটিয়ে তথ্য ও সত্য খণ্ডন করা যায় না। ফরিদ আহমদ রেজা জামায়াতের ক্ষতি করার জন্য লেখেননি। লেখেছন নিজের নিজের অভিজ্ঞতা ও চোখে দেখা ঘটনাগুলো ইতিহাসের দলিল হিসেবে। তিনি ঘটনা বিশ্লষণ করেননি, পর্যঅলোচনাও করেননি। স্মৃতিমূলক লেখায় ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন মাত্র। বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনায় ভিন্নমত ভিন্ন পর্য্যালোচনা আসতে পারে। ঘটনা হয় সত্য, নয় মিথ্যা বা বানোয়াট। ফরিদ আহমদ রেজা কি বানোয়াট গল্প লিখেছেন? সাংগঠনিক ঘটনাগুলোর অনেকগুলোর দলিলতো সংরক্ষিত আছে। ব্যক্তি পর্যায়ে দু ব্যক্তির মধ্যে যা ঘটেছে, যেমন প্রিন্সিপাল ফরিদউদ্দিন/ফরিদ আহমদ রেজা কথোপকথন তাতো সত্য মিথ্যা জানে তারা দুজনেই। তৃতীয় ব্যক্তি জানবে তাঁদের কাছে শুনে। ফরিদ আহমদ রেজা যদি এখানে বানোয়াট কিছু বলেন, তার জবাব দিতে প্রিন্সিপাল ফরিদ উদ্দীন। তিনি কি বলেছেন রেজা এটা সত্য বলেননি। জবাবতো তিনি দিতে পারেন। নাকি প্রিন্সিপাল ফরিদ উদ্দীনকে জিজ্ঞেস না করে এটা বিশ্বাস করা ঈমানের পূর্ণতার জন্য এটা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, প্রিন্সিপাল ফরিদ উদ্দিন এমনটা করতে পারেনা – যেমনটি শুনেছিলাম, ঢাকার কাঁটাবন মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুসের মুখে,”আমার ঈমান বলে প্রফেসর সাব এটা করতে পারেন না”।

    Reply
    1. ABUSAIF
      ABUSAIF at |

      আসসালাম……

      আপনার বলা অনেক কথাই তখন শুনে/জেনেছিলাম

      মুক্তমঞ্চের জন্য এটা প্রযোজ্য নয়- “”এডমিনের উচিৎ কোন লেখার প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ এলে তা প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনা করা ও প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া। এটা এডমিনের নৈতিক দায়িত্ব।””
      কারণ এখানে সেন্সর করা হলে অন্যত্র প্রকাশিত হতে পারে

      এ কথাটুকু বলা অনুচিত হয়েছে-
      “”ঢাবি সভাপতি থাকা অবস্থায় অবশ্য ইনি সংবিধানের নীতি গর্হিত আরো অনীয়ম করেছেন সংগঠন পরিচালনার ক্ষেত্রে””
      অনুপস্থিত কারো ব্যক্তিগত দুর্বলতা প্রকাশ করে নিজের পরকালীন ক্ষতি করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়

      হাত খুলে লিখুন, এসবের প্রয়োজন আছে, তবে কারো ব্যক্তিগত অপ্রকাশিত দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করা থেকে সংযত থাকা উচিত

      “”রব্বানা লা তাজআল ফী ক্বুলুবিনা গিল্লাল লিল্লাজীনা আমানু….””

      Reply

Leave a Reply