আস্তিক-নাস্তিক এক প্লাটফর্মে চলে আসবে শীগ্রয়ই!

নাস্তিক-আস্তিক ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড, সুবিধাবাদী শ্রেণী ও প্রাসঙ্গিক

বাংলাদেশে প্রচলিত যে বিষয় গুলো আবহমান কাল থেকে চলে আসছে, যা আমাদের গৌরব আর অহংকারের তা হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর উৎসব প্রিয়তা, আর অন্যদিক দিয়ে সমাজ কাঠামো পরিবার ভিত্তিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের উপর নির্ভরশীলতা। যেমন কুমিল্লাতে কোটবাড়ী এলাকায় বার্ড এর নিকটবর্তী একটি সুন্দর বৃদ্ধাশ্রম আছে ওখানে গিয়ে একজনও বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা পাওয়া যায় নাই, জানতে চাইলে তারা বলে প্রথম প্রথম কয়েকজন ছিলো তারা কুমিল্লার বাহিরের, এরপর এই অল্প লোক দিয়ে এটা চালানো যায়না, তাই তাদেরকে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাক এটা উন্নত বিশ্বের চাইতে আমাদের আলাদা অর্জনের কথা শেয়ার করলাম।গরীব তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ণশীল একটি দেশ, কতো চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে এই বর্তমান অবস্থান তৈরী হয়েছে, সংখ্যালঘু গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারনে স্থিতিশীল সরকার কায়েম করা যাচ্ছেনা, এটা অন্য একটি আলোচনার বিষয়।

ইদানিং নাস্তিকতা, নাস্তিক ও ব্লগার বা শাহবাগী, গণজাগরন মঞ্চ বনাম অদৃশ্য জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বা সরকার, বিরোধী দল, আরো আছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কেন্দ্রীক জামাত-শিবির, আছে ইসলামী বিভিন্ন দল ও হেফাজতে ইসলাম। আস্তিক বলেন নাস্তিক বলেন, ব্লগার মুক্তমনা ইত্যাদি সব কিছু যার শুরু হয় ভালো কোন প্রত্যাশা নিয়ে কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি হওয়াতে দেখা যায় আজকে যারা বিরানী খেতে পায়, কায়েমী স্বার্থের কারণে তাদেরকেই খাইতে হয় দৌড়ানী। দেশে সরকারী এলিট বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য ব্যবহার করার কারণে এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার পরও অবৈধ নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করার কারণে বিচার ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা শুন্যে চলে আসছে।

পুলিশ সহ সব বাহিনীর লোকেরা বিভিন্ন স্বনামধন্য নেতা, সাধারণ হাজার হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে। এখানে আমি শুধু বলবো বিএনপির সালাউদ্দীনের কথা যাকে এক ধরনের পাগল বানিয়ে ভারতের এক হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছ। আর বলবো আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মাহমুদুর রহমান মান্না কে কেন, কোন আইনে বন্দি করা হলো তাহা সভ্য সমাজের নিকট মস্তবড় প্রশ্ন হয়ে আছে সরকারের নিকট। এমতবস্থায় মূলত আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের যার যার স্বার্থকেন্দ্রীক এই সকল নাস্তিক, আস্তিক, ব্লগার, মুক্তমনা লোকদের উপর হামলা করছেন, অনেককে হুমকী দিয়েছেন, অনেককে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে হত্যা করে চলেছেন।

সরকারী বাহিনী বা দল তার গদি ঠিক রাখতে যেমন অনেক লোককে এমনকি বর্তমানে গ্রুপিং করে একে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পরছেন, চবিতে দু গ্রুপের অস্ত্রের মহড়া পুলিশের সামনেই পুলিশ কাকে থামাবে দুই দলই সরকারের তাই নিজেরা আহত হয়েছেন। তারপরও কোন জোড়ালো পদক্ষেপ নাই। এই চিত্র কিন্তু সারা দেশের। দীপন ফজলুল হক স্যারের ছেলে, সে কিন্তু আস্তিকের ঘরের আস্তিক, শুধু ব্যবসায়ীক লাভের উদ্দেশ্যে অভিজিতের বই ছাপিয়েছে, তাকে এবং একই কায়দায় তাদেরকে হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়।

দীপনের বাবা তার স্বভাব সূলভ ভঙ্গীতে বলেন আমি বিচার চাইনা, কারণ আমার আস্থা নাই, উনার আস্থাহীনতার কারণ আমি আপনি নিজেরাই একশতটি বাহির করতে পারবো, সংক্ষেপে বলা যায় এ যাবত কালে কোন হত্যার বিচার দূরে থাক তদন্ত পর্যন্ত হয় নাই। কি এক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে তারা দায় স্বীকার করছেন আর পুলিশ হাত পা গুটিয়ে সাধারণ মানুষকে ধরে জেলখানায় ঢোকাচ্ছেন, বা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। পুলিশের যে ঘটনা উদঘাটনের নির্দেশ থাকে শুধু ঐ ঘটনা তড়িৎ গতিতে ক্লু মোটিভ, আসামী সব ধরে ফেলতে পারেন, কিন্তু বেশীর ভাগ ঘটনার কোন প্রকার তদন্ত বা ক্লু পর্যন্ত পাওয়া যায়না। তাই স্যারের ছেলের ব্যাপারে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন।

লীগের কিছু হঠাৎ নাযীল হওয়া নেতা ”মাহবুবুল আলম হানিফ” বলে ফেললেন যে দীপনের বাবা যারা হত্যাকারী তাদের সমর্থক তাই উনি এ কথা বলেছেন”। পরবর্তীতে যখন অভিজিতের বাবা এবং স্ত্রী বন্যাও একই কথা বললেন যে তাদেরও বিচারে আস্থা নাই, তখন অর্বাচিন নেতা হানিফ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। গণজাগরণ মঞ্চকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রাখা হইছিলো, কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয়তা সরকারের নিকট শেষ হয়ে গেছে তাই লীগের লোকজন দিয়ে ”ইংরেজদের ডিভাইডেড এন্ড রোলস পলিসি” ‘প্রয়োগ করে তাদেরকে গালাগালী করে কয়েক দফা লাঠিপেটা করা হয়েছে, জেলে নেয়া হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে গেছে তাই অদ্য ৩ নভেম্বর অর্ধ দিবস হরতাল পালন করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখে নারীদের গণহারে শ্লীলতাহানী করা হয়েছে কিন্তু সনাক্ত করে দেয়ার পরও পুলিশ বলে আমরা দেখী নাই। আর আইজিপি ব্লগার হত্যার পর যদি বলেন যে ব্লগারদেরকেও একটু সংযত হতে হবে। এই অথর্ব বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, দু একটা ব্লগারকে মারলে কোন অসুবিধা নাই। এই কিছুদিন আগে খিজির সাহেবকে হত্যার পর আইজিপি আর তদন্ত অফিসারের বক্তব্য আলাদা। আইজিপি ও লীগের কিছু নেতারা যাত্রাবাড়ী মার্ডারের পর বলে দিলেন এগুলো জামাত শিবিরের কাজ, পরে দেখা গেল লীগের এক নেতার ভাই ভাতিজা সহ ৮ জন গ্রেফতার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান। এগুলো করে তারা নিজেদের হালকা করে ফেলেছেন। তাই এখন আস্তিক, নাস্তিক এক প্লাটফর্মে চলে আসতে বেশী একটা সময় লাগবে বলে মনে হয়না। তাদের ঘোষিত নাস্তিক এবং আস্তিক কারোরই এই সরকারের প্রশাসন ও বিচারের উপর আস্থা নাই, এটাই বর্তমান সরকারের উপর জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

আমি নিজেও বিভিন্ন ব্লগে লিখি, সেই ক্ষেত্রে আমিও ধরে নিলাম ব্লগার। আমার নিজস্ব অবজারভেশণ মতামত থাকতে পারে তাই বলে আমাকে নাস্তিক বা আস্তিক ভাবা কি ঠিক হবে? নিশ্চয়ই না। কেননা, আমি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের অংশ উল্লেখ করতে চাই যা তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে মাটিতে পা ফেলার আগে ভাষণ কালে বলেছিলেন, ”পাকিস্তানীদের কারাগারে বন্দি অবস্থায় কয়েকবারই আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো, তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম আমি বাঙালী, আমি মুসলমান আমি মৃর্ত্যুকে ভয় পাইনা”।

One Response

  1. এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান
    এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান at |

    ” সর্বাত্মক রাষ্ট্রপন্থা এবং প্রাসঙ্গিক ভাবনা”

    এড. মোঃ সলীমুল্লাহ খান
    rosegarden.khan@gmail.co

    বিশেষ ধামা দিয়ে চাপা দেয়া দু’টি ঐতিহাসিক সত্য এ সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। এই পরম সত্যের একটি বলেছেন

    সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
    অন্যটি বলেছেন
    প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা।
    এরশাদ শেষমেশ স্বীকার করে ফেলেছেন যে, তার কোনো ছেলেসন্তান নেই! ১৯৮২ সালে বন্দুকের নল দেখিয়ে ক্ষমতা দখল করে এ দেশের বাদশাহ বনে যান তিনি। তারপর @#আঁটকুড়ে বাদশাহর অপবাদ ঘুচাতে সুস্থ সবল ও বয়স্কা স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে সন্তান জন্মদানের নাটক সাজান। পুরো ঘটনাটিই ছিল একটি মহাপ্রতারণা। তজ্জন্য শিল্পী কামরুল হাসান তাকে যে বিশ্ববেহায়া উপাধি দিয়েছিলেন, তার যথার্থতায় অনেকে আস্থা আনবেন। তার পরম অনুগত ও ব্যক্তিত্বহীন সেই স্ত্রীই হয়েছেন আজ বিরোধীদলীয় নেত্রী। ছাই ফেলতে যেন ভাঙা কুলাই ব্যবহৃত হয়েছে।

    অন্য দিকে বাংলাদেশের ২১তম বিচারপতি তার দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বাণীতে বলেন, ‘কোনো কোনো বিচারপতি রায় লিখতে অস্বাভাবিক বিলম্ব করেন। আবার কেউ কেউ অবসর গ্রহণের দীর্ঘ দিন পর পর্যন্ত রায় লেখা অব্যাহত রাখেন, যা আইন ও সংবিধানপরিপন্থী
    দেশ ও জাতির স্বার্থে তাই জাতিসঙ্ঘের তত্বাবধানে সামনের পাঁচটি সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছন অনেকেই।
    যারা এই জাতির প্রকৃত মঙ্গল চান ও জাতির বিবেক হিসেবে গণ্য তাদেরকে বিষয়টি নিয়ে ভেবে দেখার অনুরোধ করছি। সরকার যতই ছলচাতুরী করুক না কেন, তাদেরকে এই বাঘের পিঠ থেকে একদিন না একদিন নামতেই হবে। সেই নামার কাজটি যত তাড়াতাড়ি হবে, ততই তাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে। জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে এবং আমাদের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল ও টিকে থাকতে গিয়ে সমাজের পেশিশক্তির ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এরা জনগণের ওপর যে নির্যাতন করেছে, তাতে এদের ওপর জনগণের প্রচণ্ড ক্ষোভ জমা হয়েছে। কাজেই এই ক্ষোভ ও আক্রোশ থেকে বাঁচাতেও জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে এবং আমাদের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দরকার।
    আমি সাংগাতিক ভাবে ঐক্যমত প্রকাশ করে উনার লেখাকে সমর্থন ঘোষণার সাথে আমি আরো কিছু যোগ করবো যা আমি আমার অন্য লেখায় পরামর্শ হিসাবে লিখেছিলাম, তাহলো নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তমানের কথা, যা খুবই সুন্দর একটি কথা,
    রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাপ্রণালির নব-অভিষিক্ত রাজধর্মের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’। বর্তমান সরকারের ও সরকারি পার্টিজানদের এই ‘চেতনাবাদী’ রাজনীতিকে গালাগালি করতে দেখি অনেককেই। কিন্তু সত্যিকারের চেতনাবিরোধী তো আমি দেখি না, কই? কেউ ‘মুুক্তিযুদ্ধের চেতনা’, কেউ ‘ইসলামি চেতনা’, কেউ ‘সমাজতান্ত্রিক শ্রেণীচেতনা’। ড্যাশ। ড্যাশ। ড্যাশ।
    ‘চেতনা’র মাজেজা প্রাচীন, তবু তা বুঝতে যদি কারও বর্তমান স্বৈরতন্ত্রী সরকারকে দেখা পর্যন্ত সময় লেগে গিয়ে থাকে, তো এই সুযোগে গোড়ায় মন দিন। সমস্যা খোদ ‘চেতনা’ বা ‘মতাদর্শ’ নামের জিনিসটা নিয়ে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বা বিশেষ কোনো চেতনা নিয়ে নয়। এই ‘চেতনা’ আসলে আপনার-আমার মস্তিষ্কের নিজস্ব চেতনাপ্রণালিগত কিছু নয়। এটা হচ্ছে রাজ-চেতনা। এই চেতনাই সব অচেতনার গোড়া। গোড়ার এই কথাটুকু বুঝে না থাকলে লাভ কী হবে? কালকে অন্য চেতনাধারীরা আসবেন। তারা আপনার পছন্দের চেতনারও লোক হতে পারেন। তাদের কারণে আপনি বৈষয়িকভাবে লাভবানও হতে পারেন। কিন্তু তারাও আপনাকে পার্টির বা অন্য নামের অন্য কোনো দেবতার পা চাটতে বলবেন। আপনার নিজের কথা আপনাকে বলতে দেবেন না। আপনার আত্মসম্মান বলতে কিছু থাকবে না। আপনাকে বাঁধা-বুলি বানানো হয়েছে আর কাউকে কাউকে বুলবুলি হতে হবে। ‘বলবে সবাই সেলাম করে, বুলবুলিটা রাজার লোক’। অন্যের চেতনানাশ করাই রাজচেতনার কাজ।
    মুক্তিযুদ্ধের কপিরাইট কোনো রাজকীয় পার্টির নামে দেওয়া নয়। একাত্তরের আওয়ামী লীগ ‘আওয়ামী’ই ছিল জনসাধারণের সংগঠন ছিল রাজকীয় কোনো পার্টি নয়। আর, কোনো পার্টির কোনো প্রকার অভিভাবকত্বহীনতায় সমুদ্র শুকায় না। মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গোপসাগরের চেয়ে বড়।
    ‘স্বৈরতন্ত্র খারাপ’ ‘স্বৈরতন্ত্র খারাপ’ বলে চিল্লালেই সর্বোৎকৃষ্ট কাজ করা হয় না। প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়। প্রতিবাদের সর্বোচ্চ সফলতা কী হতে পারে? প্রতি-‘চেতনা’র প্রতিস্থাপন। নতুন পদ্ধতির স্বৈরাচার। হয়তো আরও বড় দুরাচার। দরকার ‘বাদ’প্রতিবাদ শুধু নয়। ‘বাদ’ বলতে নতুন-পুরাতন কোনো ‘ইজম’ নয়। বাদ মানে বাদীর অবস্থান থেকে কথা বলা। বিবাদী বা প্রতিবাদীর অবস্থান থেকে নয়। এর মানে নিজেরাই রাষ্ট্র হয়ে ওঠা।
    আমরাই রাষ্ট্র। রাষ্ট্রকে যতদূর পর্যন্ত আমরা করতে দেব, ততদূর পর্যন্তই তা রাষ্ট্র। রাষ্ট্র চলে সম্মতির ভিত্তিতে। বলপ্রয়োগের জন্যও সম্মতি লাগে। মহাবল প্রয়োগের জন্য মহা-সম্মতি। আমাদের সম্মতিতেই চলছে এই রাষ্ট্র। আমাদের সম্মতিতেই বন্ধ হয় ফেসবুক। শুধু সরকারবিরোধীদের জন্য নয়। সরকারপন্থীদের জন্যও বটে। এরই নাম বলতে চাচ্ছি সর্বাত্মক রাষ্ট্রপন্থা।
    ‘চেতনাবাদ’ রাষ্ট্রীয় পদার্থ। কোনো বিশেষ পার্টির মামলা নয়। একমাত্র ‘ক্রিপ্টো-পার্টি’ ছাড়া সব পার্টিই রাষ্ট্রীয়, রাজনীতিবাদী, রাজতন্ত্রী। রাষ্ট্র ও রাজতন্ত্র কাচ বা পাথরের জিনিস নয়। এ জিনিস গুলতি বা ডিনামাইট মেরে ভাঙা যায় না। এ হচ্ছে ‘চেতনা’র তৈরি জিনিস। যেমন জেলখানা। এর দেয়াল পাথরের দেখতে হলেও আসলে কাগজের তৈরি। বিশেষ কতগুলো বিশ্বাস ধারণা মূল্যবোধ চেতনা এবং আলাপ-আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই জেলখানা রচিত এবং সুরক্ষিত।

    ”যতবার জেল-ব্রেইক ঘটে ততবার জেলের প্রাচীর আরও দৃঢ় হয়। উঁচু হয়।” দুর্লঙ্ঘ হয়।

    জেল বিলোপ করতে গেলে নতুন ধারার আলাপ-আলোচনার বহু কালের অনুশীলন দরকার। অন্য উপায় নেই।
    রাষ্ট্র আসলে সম্পর্ক। বিশেষ ধরনের সম্পর্কপ্রণালি। রাষ্ট্রকে/রাষ্ট্রপন্থাকে বদলাতে গেলে বর্তমান রাষ্ট্রীয় সম্পর্কপ্রণালিটাকে বদলাতে হবে। কাগুজে সম্পর্কপ্রণালির জায়গায় বানাতে হবে মানবীয় সম্পর্কপ্রণালি। রাষ্ট্রীয়-প্রাতিষ্ঠানিক-পারিবারিক একেকটি পদের সঙ্গে অন্য পদের পদ-পদবিগত সম্পর্কপ্রণালির জায়গায় লাগবে ব্যক্তিমানুষ ও যূথমানুষের সঙ্গে অন্য ব্যক্তিমানুষ ও যূথমানুষের সম্পর্কপ্রণালি।
    বিদ্যমান রাষ্ট্রপন্থায় আমার পরিচয় ‘জাতীয় পরিচয়পত্র’ মাত্র। ভোটার মাত্র। ক্রেতা বা গ্রহীতা মাত্র। আমাদের এসব কাগজের পরিচয় থেকে মানুষের পরিচয় অর্জন করতে হবে। জেল বিলোপের মতো বিদ্যমান রাষ্ট্রতন্ত্রের বিলোপ নিয়ে আলাপ শুরু হোক। নতুন ধারার আলাপ।

    1991,1996,2001,মূলত বাংলাদেশ আমলে এই তিনটি নির্বাচনকে মানুষ গ্রহন যোগ্য হিসাবে মানে, এরপর গনতন্ত্র আবার সুদূর পরাহত ||রাজনীতি বিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসাবে আমি বলতে পারবোনা বর্তমানে কোন পদ্ধতির শাসন বাংলাদেশে চলছে, যে ইসির পক্ষপাতিত্ব খোলা বইয়ের মতো, একেবারে কাছের অতীতে যে নির্বাচন গুলো হলো তার কোনটাই মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা হয়নি,‪#‎মূলপ্রসঙ্গ‬:পৌরসভা নির্বাচন বিরুধী দলকে অংশগ্রহন করতে বলা হয়েছিল ড. আসাদুজ্জামান রিপন মুখপাত্র হিসাবে বলেছেন বিএনপি ভোটে যাবে,এবং গিয়েছিল, আর কি, কেমন দৃশ্য জাতী দেখেছে আর বিশ্ব বিব্ক নিস্তব্দ দাড়িয়ে দেখছিল ||

    এর আগে উপজেলা নির্বাচনে প্রথম দুই ধাপে সরকারী হস্তক্ষেপ না করায় বিএনপি ও জামায়াত সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়, নয়টি সিটি কর্পোরেশণও বিএনপির হাতে চলে যায়, ঢাকা ভাগ করে, চট্টগ্রামে দিনের এগারোটার মধ্যে সরকারী দল জোড় করে নিয়ে যায়, যদি এই একই ষ্টাইলে সরকার নির্বীচন চালান, তাহলে ভবিষ্যতে নির্বাচনের কোন প্রয়োজন নাই, শুধু শুধু দেশের টাকা, সময় ও রক্ত নষ্ট করে কি লাভ, লীগের প্রার্থীকে জয়ী ঘোষণা দিয়ে দিলেই ভালো হবে, রক্ত অর্থ সময় সবই বাচবে, আর যদি সদিচ্ছা থাকে যে, যা হয়েছে তাতো হয়েগেছেই, গনতান্ত্রিক ধারায় দেশের রাজনীতিকে পরিচালনা করবেন, তাহলে সুন্দর ও সুষ্ঠ নির্বাচন করে দেশের মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে নির্বাচনই সমাধানের পথ, আর জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠভাবে করতে হলে লীগকে এ কথা ভেবেই নির্বাচন দিতে হবে যে সরকারী দল হারবে, তবে গো হারা হারবেননা যদি নিরপেক্ষ ইসি গঠন করে ভোটের ব্যবস্থাপনাকে পরিবর্তন করার জন্য একটি পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন, যেমনপ্রদত্ত ভোটের % পার্সেন্টিস অনুযায়ী আসন বন্টনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, তখন কারো ভোটই পচা যাবেনা, কোন দল একেবারে কম আসন বা আসন শূন্য হবেনা, কমিউনিষ্ট পার্টিরও কমপক্ষে 3/4 টি আসন পাবে, জোট নির্বাচনের আগে হচ্ছে এটা গনতন্ত্রের পরিপন্থি, এটা কিছু দলকে মেরুদন্ডহীন করে ফেলছে বা ফেলবে, মার্কা অনুযায়ী ভোটে যার যার মার্কা বহাল থাকবে, তখনসত্যিকারেরগনতন্ত্রপ্রতিষ্ঠিত হবে, এখন যে গনতন্ত্র তাকে বলে সংখ্যালঘু গনতন্ত্র কেননা প্রতিটি আসনে দেখা যায় যে, বিএনপি পাইলো 103000লীগ পাইলো 117000জামায়াত পাইলো 40000জাতীয় পার্টি 22000অন্যান্য 25000মোট প্রদত্ত ভোট 307000লীগ পাস করলো 117000তাহলে দেখা যায় 190000 ভোটার বিভিন্ন দলে ভোট দিলেও যিনি পাস করেছেন তাকে 190000 লোক কিন্তু সমর্থন করে নাই, এই জন্য এই পদ্ধতিকে সংখ্যালঘু গনতন্ত্রবা সংখ্যালঘু সরকার বলা হয়, এই পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্সিয়ালসরকার হলে ঠিকছিলো, দ্বিদলীয় ব্যবস্থার জন্যও ঠিক আছে, কিন্তু সংসদীয় বা বহুদলীয় ব্যবস্থার জন্য সঠিক নয়, এটা টেকসই গনতন্ত্রের ক্ষেত্রে বিরাট অন্তরায়, আমরা যদি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাই, আমরা যদি টেকসই গনতন্ত্র চাই, আমরা যদি রাজনৈতিক হানাহানি পরিবারতন্ত্র ও দূর্নীতি, ব্লেইম গেইমথেকে মুক্তি চাই, তাহলে এই বিষয় গুলো নিয়ে ভাবতে হবে, নইলে সব সময় অল্প সমর্থনের লোক বা দল ক্ষমতা পাবে আর তার দুইগুন লোক রাস্তায় বিরুধীতা করতেই থাকবে, অশান্তি বিরাজিত থাকছে, এ জন্য আমি আমার বিভিন্ন লেখায় এ পরামর্শ দিয়ে আসছি, আমার অনুরোধ থাকবে এভাবে দলগত আচরণে যেভাবে বিরুধী দলকে মোকাবেলা করা হচ্ছে তাতে শত্রুতা থেকেই যাবে, প্রতিশোধের রাজনীতি সব দলকেই পরিহার করতে হবে, তানাহলে এইসব পৌরসভা, ইউনিয়ণ পরিষদ, কোন ভোটেই শান্তি আসবেনা, ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে গনতন্ত্রের ভবিষ্যত নির্ভর করছে নির্বাচন পদ্ধতির উপর, লেভেল প্লেইং ফিল্ডের উপর, যা আমরা সবাই চাই কিন্তু কিভাবে চাই এটা আমি ক্ষূদ্র জ্ঞান দ্বারা প্রকাশ করলাম, সবাইকে একটু ভেবে দেখার অনুরোধ করছি ||গনতন্ত্রের সরকার কায়েম হউক এবং টেকসই হউক এটাই আমাদের শুভ কামনা, কোন দল ক্ষমতায় আসলো আমাদের সেটা দেখার বিষয়না, দেখার বিষয় ম্যান্ডেট পেয়েছে কিনা, এরপর শেষে একটাকথা বলে আজকের এই প্রাসঙ্গিক আলোচনা ইতি টানবো, গনতন্ত্র তুমি প্রতিষ্ঠিত হওএবং থাকো ঠিক তোমারই মতো করে……

    Reply

Leave a Reply