জামায়াতের ইতিহাস-৭ঃ সংগঠনের ভিতরে রাজনীতির শুরু

বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন: ধারাবাহিকতা রক্ষার সার্থে এই সিরিজের আগের লেখাগুলো পড়ার পরেই এই লেখাটা পড়ার অনুরোধ রইল]

আগের পোষ্ট:  জামায়াতে ইসলামীতে প্রথম ভাঙ্গন

ভারত ভাগের পর যে রাজনৈতিক পরীক্ষার সম্মুক্ষীণ হয়েছিল জামায়াত ইসলামী

কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন ও জামায়াত

আগেই বলেছি জামায়াত দেশভাগের পরপরই ইসলামিক সংবিধানের পক্ষে নিজেদের কর্মসূচী নেয় এবং তাতেই দৃষ্টি দেয়।এর মধ্যেই ঘটে গেল এক মহা ঘটনা।১৯৫৩ সালে আহমেদিয়া কাদিয়ানী বিরোধী আন্দোলন শুরু করে সাধারণ উলেমাগন।এই আন্দোলন এক সময় খুবই খারাপ সংঘর্ষের দিকে মোড় নেয়।উলেমাগন আহমেদিয়াদেরকে অমুসলিম দাবীর জন্য সরকারের কাছে দাবী জানায় এবং পাকিস্তানের মন্ত্রী সভায় তখন একজন মন্ত্রী ছিলেন কাদিয়ানী তার পদত্যাগও দাবী করেন।জামায়াত খুব আন্তরিকতার সাথেই এই দাবীর পক্ষে ছিল কিন্তু সংবিধানের মত মুল দাবী থেকে ফোকাস সরে যাওয়ার আশংকায় কোন প্রকার গনমুখী আন্দোলন শুরু করা থেকে বিরত ছিল।তারপরেও মাওলানা মওদুদী কাদিয়ানী সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে একটি বই লিখেন (See;The Qadiani Problem) কিন্তু সরকার ঐ বইকে provocative(উস্কানীমুলক) হিসেবে চিহ্নিত করে।অনেক মানুষ ঐ সময় সংঘর্ষে মারা যায়,ফলে সামরিক শাসন জারী হয় এবং মাওলানা মওদুদী সহ আরো অনেক আলেমকে গ্রেফতার করে।মাওলানা মওদুদীকে ফাঁসি দেয়ারও চেষ্টা করে আর্মি প্রশাসন কিন্তু বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চাপে তা না করে যাবতজীবন কারাদন্ড দেয়,প্রায় ৩বছর পরে আদালত তার আটকাদেশকে অবৈধ ঘোষণা করলে তিনি জেল থেকে বেরিয়ে আসেন।(1) (see; The Third Statement of Maulana Syed Abul A’la Maududi in the Court of Enquiry)

আগেই জানিয়েছি ১৯৫১ এর নির্বাচন পরবর্তী ভিন্ন মতের কোন সফল সমাধান করার আগেই মাওলানাকে জেলে যেতে হয়।১৯৫৪ সালে মাওলানা মওদুদী জেল থেকে বের হওয়ার পর করাচীতে একটি সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়।উক্ত সমাবেশ হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিতভাবে অন্যদিকে মোড় নেয়।সংগঠন পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে অভিযোগ,১৯৫১ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের কারন এবং ১৯৫৩ থেকে ১৯৫৪ সাল অবদি সরকারের নির্যাতন ইত্যাদি নিয়ে সড়গরম হয়ে উঠে সমাবেশ।(2) ঐ সমাবেশেই পান্জাব প্রদেশের এক সময়ের আমীর সাইদ আহমেদ মালিক অপর একজন উচ্চ পদস্থ দায়িত্বশীলের ethical misconduct and financial embezzlement(অনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপব্যবহার)বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।মাওলানা মওদুদী খুবই বিব্রত হন এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই মালিক সহ শুরার ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন এবং তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে মালিকের আনা অভিযোগ ও সমাবেশে উথ্থাপিত বিষয়াদী নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়।

কমিটি খুব অল্প কিছু দিনের মধ্যে সংগঠনের ভিতর লুকায়িত এক অজানা শক্তির আবিষ্কার করে।তা জানতে আমাদের চিন্তাকে একটু পেছনে নিয়ে যেতে হবে। প্রথম দিকের বছরগুলোতে(১৯৪১-৪৭) জামায়াত সদস্যরা সাংগঠনিক ও দাওয়াতী কাজ করতেন part time(খন্ডকালীন)(3)।১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর বাস্তবিক কারনে সংগঠন বড় হয়ে যাওয়ায় লাহোর হেড অফিস কেন্দ্রীক জামায়াত শক্ত সাংঠনিক কাঠামো তৈরি করে।তবে পার্থক্য হল ঐ অফিসে যারা কাজ করত তাদের অনেকেই ছিল full-time employees (4),যারা ১৯৫৪ সাল অবদি সংগঠনের উপর যথেষ্ঠ প্রভাবশালী হয়ে উঠে।They were mainly younger and more politically inclined members and had vested interests of their own, both with regards to the Jama’at’s internal policies and its stand on national issues. (5)

ঐ সমস্ত ষ্টাফ কাম দায়ীত্বশীল ব্যাক্তিবর্গ সাইদ আহমেদ মালিক যার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তার পক্ষেই অবস্থান নেন।অভিযোগের সত্যতা খুজতে কমিটি জামায়াতের লাহোর অফিসের প্রায় সকল পলিসি ও পরিচালনা পদ্ধতি ঘেটে দেখার সীদ্ধান্ত নেয়।কিন্তু জামায়াতের তৎকালীন সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া তোফায়েল আহমেদ তাকে দোষারোপ করা হবে এই ভয়ে কমিটিকে কাজ শুরু করতে দেরি করাতে থাকেন।কমিটির প্রধান আবদুল রহিম আশরাফ এই ইস্যুটি ১৯৫৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্টিত শুরার সামনে পেশ করেন।(6)

শুরার প্রত্যক্ষ প্রেসারে কমিটি পরবর্তিতে কাজ শুরু করেন ঠিকই কিন্তু bureaucracy (অফিস বিভাগ) কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪ জনে নামিয়ে আনতে সফল হন, তাদের মধ্যে তিন জনই(আব্দুল গাফ্ফার হাসান, আব্দুল জব্বার গাজী এবং সুলতান আহমাদাল)ছিলেন আলেম ও বড় দায়িত্বশীল কিন্তু তাদের কেউই জামায়াত অফিসের ষ্টাফ ছিলেননা এমনকি লাহোরে থাকতেননা।

কমিটি কাজ শুরু করতে না করতেই এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে,অভিযোগ ও অনিয়মের ধারণা শুরুতে যা করা হয়েছিল তার পরিমাণ বাস্তবে আরো বেশি ও গুরুতর এবং আরো জঘন্য হল they reached far up in the hierarchy(অনেক উপরের দায়িত্বশীল পর্যন্ত।)ঐ সময় মাওলনা মওদুদী আরব বিশ্ব ভ্রমণে ছিলেন ফলে তিনি কমিটির কাজের পরিধি সম্পর্কে জানতেন না।আবদুল গাফ্ফার হাসান ছিলেন ঐ সময় মাওলানার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বশীল ফলে কমিটির কাজে কেউ কোন ধরনের বাধাঁ সৃষ্টি করতে পারেনি।কমিটি দীর্ঘ এক বছর যাবত তদন্ত করে,তদন্তকালীন সময় কমিটি প্রায় ২০০ সদস্যের ইন্টারভিউ নেয় সারা পাকিস্তান জুড়ে এবং তাদের অভিযোগ,অনুযোগ এবং সংগঠনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গী জানতে চায়। (7)

তদন্তের ফলাফল মোটেই ভাল ছিলনা বরং ছিল খুবই disturbing।ব্যাপক অনৈতিক এবং অর্থনৈতিক অনিয়ম ও অপব্যবহারের ঘটনা পাওয়া যায়, সাথে সাথে লাহোর অফিসের ব্যবহার ও পদ্ধতির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ গৃহীত হয়। কমিটি একটি comprehensive report তৈরি করে ১৯৫৬ সালের নভেম্বরে শুরার সামনে পেশ করে। শুরার মিটিংয়ের স্থায়িত্ব ছিল ১৫দিন, রেজা নাসরের মতে এটা ছিল জামায়াতের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সেশান।

কমটির রিপোর্টের সারসংক্ষেপ ছিল এরকম, জামায়াত তার আসল পথ থেকে বিপথে চলে গেছে, “upholding the truth” (সত্যের সাক্ষ্য)থেকে opportunism(সুযোগ সন্ধানী) এবং জনগনের ইচ্ছার দলে পরিণত হয়েছে,জামায়াত তার আসল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য শিক্ষার আলোয় উৎসর্গীকৃত দল থেকে একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে,তার নৈতিক মানে খুবই বড় ধরনের পতন ঘটেছে,রাজনৈতিক কর্মসুচী পুরো সংগঠনের এতটা সময় দখল করে ফেলেছে যে ধর্মীয় পড়াশুনা এমনকি ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব কমে গেছে।অর্থবিভাগ অর্থের জন্য খুব বেশি সংগঠনের বাহিরের সোর্সের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে,যা কিনা সংগঠনকে ও তার সদস্যদের সীদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে।রিপোর্টে আরো বলা হয়, ৬.৭% সদস্যই সংগঠনের ভাতায় চলার ফলে তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা ও কাজ করার স্পৃহা হারিয়ে ফেলেছে।(8)

আবদুল রহিম আশরাফের নেতৃত্বে ৪ সদস্য কমিটির বক্তব্যের সারমর্ম ছিল নিন্মরুপ;
১। যে হারে অভিযোগ এবং তাদের ধরন রিপোর্টে উঠে এসেছে তা সহজে বলে দেয় যে জামায়াত পুরোপুরি বিপথে চলে গেছে
২। খুব খারাপ ফলাফল নিয়ে রাজনীতি জামায়াতের কর্মসূচীকে ঘিরে ফেলেছে
৩। জামায়াত যদি রাজনীতি থেকে সড়ে না আসে তাহলে এতদিন যা অর্জন করেছে সব হারাতে হবে।
আবদুল রহিম আশরাফ তার নয় ঘন্টার বক্তব্যে তাদের পয়েন্ট তুলে ধরেন এবং যুক্তি দিয়ে আরো বলেন,১৯৫১ সালের চার দফা থেকে এক বিন্দু সড়ে আসা মানে জামায়াতের মৌলিক আদর্শের সাথে আপোষ করা হবে। (9)

মাওলানা মওদুদী, মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী সহ অন্যান্য শুরা সদস্যগন রিপোর্টের আদলে করা জামায়াতের এ ধরনের কঠিন সমালোচনার কোন রকম পাল্টা জবাব দিতে পারেন নি। মাওলানা মওদুদী শুরার বৈঠক চলাকালীন কয়েক বারই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কমিটি যুক্তি দিয়ে বলেন তাদের উদ্দেশ্য তাকে সড়ানো নয় বরং সংগঠনের নৈতিক অবস্থানকে পূনরায় স্থাপন করা।Mawdudi was not, however, thoroughly convinced, but he was outvoted(10)

নিন্ম লিখিত ৪টি বিষয়ে ঐক্যমত্য নিয়ে ১৫ দিন ব্যাপী শুরা সেশান শেষ হয় (11);

১। জামায়াত তার মুল কাজ থেকে দুরে সড়ে গেছে।পার্টির অর্জন হয়েছে অনেক কিন্তু ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক তাই এই ক্ষতি পোষাতে হবে 
২। ১৯৫১ সালের জুলাই মাসে শুরায় গৃহীত ৪ দফা যেখানে রাজনীতির উপর কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তা চালু থাকবে,ফলে ১৯৫১ সাল থেকে সংগঠনের কর্মসূচীতে রাজনীতির যে আধিক্য ও চাপ গেছে তা কমানো হবে। 
৩। বিভিন্ন বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কোন পক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে নয় এমনকি তাতে মাওলানা মওদুদীর সাহিত্য কর্ম কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারবেনা।বরং সকল সীদ্ধান্ত হবে কোরআন, হাদীস, আমীর ও শুরার সীদ্ধান্তের উপর 
৪। সবশেষে, মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহী ও আরো দুই জন সিনিয়র দায়ীত্বশীলের সমন্বয়ে একটি গঠিত হবে যারা শুরার সীদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

উপেক্ষিত শুরা

শুরার সীদ্ধান্ত ও প্রস্তাবনায় মাওলানা মওদুদী খুবই মর্মাহত হলেন কিন্তু সংবিধানিকভাবে তিনি তা মানতে বাধ্য।১৫ দিন ব্যাপী শুরা জামায়াতকে শুধু রাজনীতি থেকে দুরে সরে আসার সীদ্ধান্তই নেয়নি বরং দলের প্রধান হিসেবে তার ক্ষমতাকেও চ্যালেন্জ করেছে।For the first time in the Jama’at’s history it was the shura’, rather than he, who was deciding the party’s future. He was by no means reconciled to the decision of the shura’, and this allowed the Lahore bureaucracy to enter the fray. (12)

তদন্ত কমিটির সীদ্ধান্ত লাহোর অফিস কোন ভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলনা কারন তা নিঃসন্দেহে তাদের ক্ষমতাকে প্রভাবিত করবে।তাদের অধিকাংশই ছিল সাধারণ ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন ও বয়সে তরুন,দলের সিনিয়র আলেমদের সাথে তাদের নৈতিকতা ও রাজনীতি নিয়ে চিন্তার পার্থক্য ছিল ব্যাপক।তারা আসন্ন নির্বাচনে (১৯৬২সালে)জয়ী হওয়ার ব্যাপারে প্রচন্ড আশাবাদী হয়ে উঠে এবং ১৯৫১ সালের ৪ দফাকে উপেক্ষা করে আসন্ন নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাতারাতি জামায়াতকে একটি জাতীয় দলে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছিল।কিন্তু আশরাফের মত দলের চিন্তাশীল সদস্যরা তাদের দূরদর্শীতা দিয়ে দেখতে পাচ্ছিলেন অদূর ভবিষ্যতেও ১৯৫১ সালের ফলাফল বরণ করতে হবে জামায়াতকে।(13)

মাওলানা মওদুদী লাহোর পৌঁছার সাথে সাথেই সাইয়েদ আসাদ গিলানী, আবদুল গাফ্ফার আহমেদ এবং কাউসার নিয়াজীর নেতৃত্বে সাধারন সদস্যরা মাওলানা মওদুদীকে শুরার সীদ্ধান্ত উপেক্ষা করতে উৎসাহ দিতে লাগলেন।তাদের যুক্তি ছিল ছিল শুরার সীদ্ধান্ত ছিল biased এবং রেসুলুশান মাওলানার বিরুদ্ধে এক ধরনের বিদ্রোহ,এ ধরনের কাজ দলের ভিতর বিভক্তি তৈরি করবে এমনকি সংগঠন ভেঙ্গেও যেতে পারে।তারা(শুরা)আমীরকে অমান্য করেছে যা জামায়াতের সংবিধানের স্পষ্ট লংঘন।তারা আরো যুক্তি দেয় যে কমিটির প্রস্তাবনা ছিল ভুলের ভিত্তিতে এবং কমিটির সদস্যদের গোপন কোন অভিসন্ধি আছে ফলে শুরার ঐ সীদ্ধান্ত মানা জরুরী নয়।তারা আমীরে জামায়াতকে এভাবে প্রভাবিত করতে থাকে।(14)

রাজনীতিকদের জয়, তাকওয়াশীলদের পরাজয়

লাহোর অফিসের প্রভাবে মাওলানা মওদুদী অবশেষে দলের ভিতরে রাজনীতির দাবার গুটি হয়ে গেলেন।এই সুযোগে তিনি তার উপর শুরার অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ ও চাপকে দমনের সুযোগ পেয়ে গেলেন।মাওলানা মওদুদীর দুই বছর জেলে খাটার ফলে এমনিতেই তার প্রতি দলের সম্মান বেড়ে গিয়েছিল এবং তা তাকে এক প্রকার হিরো বানিয়ে দিয়েছিল।আমীন আহসান ইসলাহী তার উচ্চ প্রশংসা করে বলেন, আমি নিজে খুবই আন্তরিকতার সাথে তার হাতে চুমু খেয়েছিলাম এজন্য যে Allah had endowed with the help of the pen to be testimony to the Truth.(15)

২৩ ডিসেম্বর ১৯৫৬, শুরা সমাবেশের ১৩ দিন পর মাওলানা মওদুদী তদন্ত কমিটিকে চিঠি লিখে বললেন যে, তারা তাদের উপর অর্পিত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং অজান্তেই জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।তিনি আরো অভিযোগ করেন যে তারা তাদের নিজস্ব উচ্চাকাঙ্খার লক্ষ্যে দলের ভিতর ভাঙ্গন সৃষ্টি করতে চায়।এই ধরনের গভীর অপরাধের কারনে শুরার মাঝে তীব্র ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে,তাই তিনি তাদের পদত্যাগ দাবী করেন অন্যথায় তিনি তাদের স্ব স্ব এলাকায় গিয়ে জামায়াত সদস্যদেরকে তাদের থেকে দুরে থাকার আহবান জানাবেন। (16)

আমার মতে এটি ছিল মাওলানা মওদুদীর জীবনে সবচেয়ে বড় ভূল সীদ্ধান্ত*(নিচে দেখুন মাওলানা কেন এই সীদ্ধান্ত নিয়েছিলেন,মাওলানা আমীন আহসান ইসলাহি কে লেখা চিঠিতে তার কিছুটা ফুটে উঠেছে।)। যেই ভূল জামায়াতকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঐতিহাসিক মাছিগোটে পৌঁছে দেয়(পরবর্তী পোষ্টে এই নিয়ে আলোচনা থাকবে)

সংগঠনের বাইতুল মালের অপব্যবহার আজও দেখা যায় কিন্তু ইতিহাস যেহেতু ঐ সমস্ত লোকদের হাতেই গড়ে উঠেছে ফলে এই বিষয়ে কথা বলা মানে হচ্ছে আনুগত্যের বরখেলাপ, আনুগত্যের বরখেলাপ মানে out of structure, মানে নিজের গর্দান থেকে দ্বীনের রশি খুলে ফেলা এবং…….অতপর..?

জামায়াতে ইসলামীর Paradigm Shift যেখান থেকেঃজামায়াতের ইতিহাস-৮

—————————————————–

* In a letter to Islahi after Machchi Goth, dated January 18, 1958, Mawdudi explains that he viewed the shura’ session of November December 1956 as the proof of emergence of factionalism in the Jama’at, which unless controlled there and then would destroy the party altogether. Since the factionalist tendency was unconstitutional and anti-Jama’at, no compromise with it, as was evident in the resolution that shura’ session, was possible; and in the interests of preserving the Jama’at, Mawdudi was justified in using all means available to him. The letter is reprinted in Nida, March 7, 1989,page 29-30 citation in Vanguard of Islamic Revolution by Veli Nasr.

নোট: 
1. Mumtaz Ahmed, The Jamaat-i-Islami and the Tablighi Jamaat,” in Martin E. Marty and R. Scott Appleby, eds., Fundamentalisms Observed (Chicago, 1991), 471

2. Much of the following discussion is based on interviews with ‘Abdu’l-Ghaffar Hasan, ‘Abdu’l-Rahim Ashraf, Israr Ahmad, and Mustafa Sadiq. Interview recorded by Sayyed Vali Reza Nasr in his Book, The vanguard of the Islamic revolution: the Jamaʻat-i Islami of Pakistan, University of California Press,1994[সে তার বইয়ে অন্তত ৪০-৫০ জন জামায়াত নেতার সাক্ষাত নিয়েছেন যাদের অনেকেই ছিলেন শুরা সদস্য,আমীর, প্রাদেশিক আমীর,সেক্রেটারী এবং জামায়াত ঘরানার বুদ্ধিজীবি)

3. Rudad Jamat-e-Islami(Proceedings of the Jamat-e-Islamii)(Lahore:Jamat-e-Islami Pakistan.1994), vol. 2, 4860 and 72ff( জাময়াত ইসলামীর কার্যবিবরনী )

4. & 5. এখানে full time and Part time মানে হচ্ছে, শুরুতে প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিল যেমন অধিকাংশই ছিলেন মাদ্রাসার শিক্ষক তারা শিক্ষকতার পাশাপাশি সংগঠন করতেন ফলে সংগঠন থেকে কোন ধরনের ভাতার প্রয়োজন হতনা।কিন্তু একটা সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে কিছু লোককে সার্বক্ষণিক সময় দিতে হয় সংগঠনে ফলে তারা অন্য কোথাও কাজ করার হয়ত সুযোগ হয়না তাই সংগঠন তাদের জন্য সময় উপযোগী একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাতা নির্ধারণ করে দেয়।(Vali Reza Nasr,The vanguard of the Islamic revolution: 31)
6. Israr Ahmad, Tahrik-i Jama’at-i Islami: Ik Tahqiqi Mutala’ah (Lahore, 1966), 5
7. & 8. Cited in Ahmad, Tahrik-i Jama’at-i Islami, 187-201
9. & 10. Vali Reza Nasr,The vanguard of the Islamic revolution) : 32-33 from NGH, 21-24
11. Vali Reza Nasr,The vanguard of the Islamic revolution: 33
12. Ibid
13. Interview with Amin Ahsan Islahi recorded by Vali Reza Nasr,The vanguard of the Islamic revolution:33

14. See, for instance, Gilani’s later account of Machchi Goth in Sayyid Asad Gilani, Maududi: Thought and Movement (Lahore, 1984), 10

15. cited in Abdur Rahman Abd, Sayyed Maududi Faces the Death Sentence (Lahore, 1978). 16-17

16. Vali Reza Nasr,The vanguard of the Islamic revolution:34 cited from NGH:31

মন্তব্য:

(লেখাটি সোনার বাংলাদেশ ব্লগে প্রথম প্রকাশ হওয়ার পরে,অনেক পাঠকই মন্তব্য-প্রতি মন্তব্য করেছেন।সেখান থেকে পোষ্টের সাথে রেলিভেন্ট কয়েকটি মন্তব্য তুলে ধরা হল।)

রাজনীতিকদের জয়, তাকওয়াশীলদের পরাজয় বাক্যটা নিয়ে একজনের মন্তব্য:

৭১ বলছি লিখেছেন; এখানে দুটি বিষয়কে মুখোমুখি করার মাধ্যমে মনে হচ্ছে এরা পরস্পর সাংঘর্ষিক। তার মানে বিষয়টা এমন দাড়ায় যে এরা একত্রিতভাবে বসবাস করতে পারেনা। অবশ্য তৎকালীন পরিস্থিতির বর্ণনায় এমনটা আসাই স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু চেষ্টা করলে হয়তো অতি রাজনৈতিক না হয়েও বর্তমানে এরা তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। তবে যেহেতু শেকরটা অনেক অতীতে এবং সেই সাংগঠনীক দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকেই বর্তমান সময়ের অনেক টেক্সট ও সিলেবাসের বইগুলো ডেভোলাপড সুতরাং বর্তমান কিংবা আরো বিশ তিরিশ বছর আগের মোটিভেটেড হওয়া মানুষগুলোকে এটা বুঝিয়ে আন্দোলনের মৌলিক ট্রাকে ফিরিয়ে আনা টা অনেক কষ্ট সাধ্য কাজ। এবং এসব করতে গেলেই অনেককে আজকাল খুব সস্তা ভাষায় “র” এর এজেন্ট বলে নিজেরাই নিজেদেরকে অসম্মানিত করে।

সুতরাং সমাধানের পথ সম্পর্কে যদি লেখককে এককভাবে চাপ প্রয়োগ বা অনুরোধ না করে বরং নিজেরাই আলোচনা শুরু করে দিতাম তাহলেই বরং আলোচনার একটি সুন্দর ক্ষেত্র তৈরী হতো।

আবু সামীহার গুরাবা (আল-গুরাবাঃ যাদের হাতে ইসলামের বিজয় আসবে) পড়েছি। ভালো লিখেছিলেন উনি। সমস্যা হচ্ছে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টিতে আসে তাদেরকে যে কাতারে ফেলা হয় যারা যুগপোযোগী সমাধান নিয়ে আসে কেবলমাত্র এই সংগঠনকে ভালবেসে তাদেরকেও একই কাতারে ফেলার মতো নগন্য মানসিকতার কিছু লোকজন সবসময়ই কর্মঠ।

লেখকের জবাব; আমি আমার স্টাডি থেকে বলতে পারি, জামায়াতের ইতিহাসে সকল ক্রাইসিস মুহর্তে তাকওয়ার ভিত্তিতে সমাধান খুব কমই হয়েছে বরং রাজনীতিকদের হাতে বরাবরই ইন্টেলেকসুয়ালদের পরাজয় হয়েছে।তাই আমি উক্ত দুইটি বিষয়কে মুখোমুখি দাড় করিয়েছি…পরবর্তি পোষ্টগুলোতে এই বিষয়টা আরো পরিষ্কার হবে আশাকরি।এটা দুঃখজনক কিন্তু এটাই বাস্তবতা।

মনসুর লিখেছেন; “উপেক্ষিত শুরা’ ও “রাজনীতিকদের জয়, তাকওয়াশীলদের পরাজয়” দুটি বিষয়ই একটু শেষ মতামত (কনক্লুসন) ধরনের হয়ে গেছে। যা কোনো কোনো পাঠককের আনুধাবন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা আবার কারো কারো কাছে অনাকাংখিত। ইতিহাস লেখার এই বৈশিষ্ঠ পশ্চিমা ধাঁচের, সাধারণত মুসলিম মনীষীরা ইতিহাসের কোনো ঘটনার বিষয়ে মতামত দিয়ে থাকেন আলাদা করে, পবিত্র কোরান-হাদিসের আলোকে। তখন কেউ সহজে অনর্থক সমালোচনা করতে পারবে না। অবশ্য আমার মনে হয় যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আপনি হয়তো সরাসরি ভাষান্তর করেছেন।

লেখকের জবাব; এটা কনক্লুসন মনে হতে পারে আপনার কাছে তবে আমি এটা কোথাও থেকে অনুবাদ করিনি।মুল লেখক(পশ্চিমা কিন্তু মুসলিম বলেই জানি)আরো কঠিনভাবে লিখেছে যা আমাদের অনেকের সহ্য হবেনা।তবে পশ্চিমারা জামায়াতের তাকওয়ার ব্যাপারে কনসার্ন কেন হবে বলুন?? তাকওয়ার গুরুত্বতো আমরা মুসলমানরা বুঝি ভাল তাইনা?তাই তাদের ধাঁচ বলার সুযোগ নেই। হ্যারি কে টমাস(বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন এম্বাসেডর) যখন বলে জামায়াত একটি মডারেট ইসলামিক দল এবং এরা কোনভাবেই আমেরিকান স্বার্থের জন্য হুমকি নয়,তখন আমাদের মত এই “বেশি বুঝা”(অনেকের কাছ থেকে শুনা একধরনের গালি) লোকদের বুঝতে অসুবিধা হয়না এই সার্টিফিকেট কোন তাকওয়ার অনুসারী দলের হতে পারেনা।উপেক্ষিত শুরা’ ও “রাজনীতিকদের জয়, তাকওয়াশীলদের পরাজয়” কেন এই শব্দ ব্যবহার করলাম তার অবশ্যই যথাযথ কারণ আছে। কিভাবে হল তার উত্তর আপনি/ পাঠক নিজেই পরের পোষ্ট থেকে পেয়ে যাবেন আশাকরি।

ফুল টাইমার ও ভাতা নিয়ে মন্তব্য:

লিখেছেন অকপট শুভ্র: জামায়াতের ২৪ ঘন্টা সময়দানকারী দায়িত্বশীল আছেন এবং সেটা অনেক বড় সংখ্যায়। একদিন এক বড় ভাইয়ের সাথে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। এই সংখ্যাটা যেমন একেবারে কম হওয়াও ভালো নয় তেমনি অতি বেশী হওয়াও উত্তম নয়। কারন যেহেতু মানুষ ভুলের উর্ধে না সেহেতু এই ভুল করার সম্ভাবনা থেকেই যায়।
সেজন্য নিয়মিত অডিটিং পদ্ধতিটা কঠোরভাবে মেইন্টেইন করাটা একটি উপায় কিন্তু এটাই সব নয়। এতে হয়তো আর্থিক দুর্নীতিকে কমিয়ে আনা যায় কিন্তু সিন্দাবাদের ভুতের মত বসে থাকা সেই দায়ীত্বশীলদের জায়গায় মেধাবী ও যুগোপযূগী দায়িত্বশীল আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়।
আমি এখনকার কোন দায়ীত্বশীলকে সিন্দাবাদের ভুত বলছি না। কিন্তু দিন দিন এরকম হবার সম্ভাবনা কি বেড়েই যাচ্ছে না? জামায়াত যে লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে সে লক্ষ্যে পৌছুতে অনেক বাধা বিপত্তি আসবে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই সমস্যাগুলো ঘটার পথ বন্ধ করার কাজ নিয়মিত চলতে থাকতে হবে। এভাবেই হয়ত ইতিহাসের কালো অধ্যায় গুলির পুনরাবৃত্তি ঠেকান যাবে।

ইন্টারনাল পলিটিক্স যে কোন সংগঠনের জন্য একটি অতি গুরুত্বপুর্ন বিষয়। যে কোন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে যে সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে আর্থিক বিষোয়াদি জড়িত থাকে সে সবের জন্য এই ইন্টারনাল পলিটিক্সের ব্যপারে একটি নির্দিষ্ট পলিসি থাকা দরকার। তা না হলে মাওলানা মউদুদী যেভাবে এর স্বীকার হয়েছিলেন আজকের মাওলানা নীজামীও একই পরিস্থিতিতে পরতে বাধ্য। শুধু তাই নয়, শিবিরের অভ্যন্তরিন যে সমস্যাটা রিসেন্টলি হয়েছে তাতে হয়ত অনেকেই মনে করেন যে মাওলানা নিজামী এই ইন্টারনাল পলিটিক্সের স্বীকার ইতিমধ্যেই হয়েছেন।

লেখকের জবাব;

২০০৭ সালে বাংলাদেশ জামায়াত নিয়ে লন্ডনে একটা ইনটেনসিভ স্টাডির একটি ফাইন্ডিং ছিল আপনার বলা এই বিষয়টি এবং বলা হয়েছিল এটা অন্যতম চ্যালেন্জ হিসেবে। ফুল টাইম কাজের ফলাফল এবং তা যদি হয় সংঠনের ভাতায় তাহলে মানুষের স্বাধীন চিন্তাকে অবশ্যই প্রভাবিত করে, অনেক সময় অপ্রিয় সত্য কথা বলা যায়না।

মাওলানা মওদুদীর জীবন থেকে নেয়া একটি ঘটনা বলি;
এই সিরিজের শুরুর দিকে দেখেছেন মাওলনা মওদুদী “দারুল ইসলাম” নামে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন কিন্তু এটা যখন অংকুরেই শেষ হয়ে গেল তখন মাওলানা মওদুদী লাহোরে চলে যান এবং সেখানে একটি কলেজে লেকচারার হিসেবে জয়েন করেন কিন্তু তিনি কোন রকম বেতন নিতেন না।ফলে তিনি স্বাধীনভাবে ইসলাম,ইসলামী আন্দোলন,মুসলিম পূনর্জাগরণ ইত্যাদি নিয়ে ছাত্রদের মাঝে বক্তব্য দিতে পারতেন।

অল্প কিছু দিনের মধ্যে ওনার এই লেকচার জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং অন্যান্য ক্লাসের ছাত্ররাও জয়েন করতে শুরু করে।কিন্তু ঐ এলাকায় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দু ও বামপন্থিরা এটা জেনে ফেলার পর এক সময় কলেজ প্রশাসনের উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে।

প্রশাসন এক সময় মাওলানা মওদুদীকে বেতনভুক্ত করার চেষ্টা করেন কিন্তু তিনি বেতন নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।একটা পর্যায়ে কলেজ প্রশাসন ওনাকে প্রেসার দিলে উনি কলেজের চাকুরী ছেড়ে চলে যান।মাওলানা মওদুদী বুঝতে পেরেছিলেন ওনাকে বেতনভুক্ত করার উদ্দেশ্য কি?????

সে জন্য আমরা দেখি জামায়াতের প্রথম দিকের লোকগুলো নিজেদের স্ব স্ব জীবিকার জন্য কাজ করতেন এবং পার্ট টাইম সময় তারা সংগঠনের জন্য,দাওয়াতী কাজ ইত্যাদি করতেন।সেই জামায়াতই একটা সময় তার নেতৃত্বকে “ভাতার” আওতায় নিয়ে আসল?

মাওলানা মওদুদীর নিজের ইনকাম সোর্স ছিল,তার প্রকাশনা থেকে অর্জিত রয়ালিটি ছিল,উনি কখনো সংগঠন থেকে ভাতা নিয়ে চলতেন বলে আমার জানা নাই।

আমরা আমাদের দেশের বাস্তবতায়ও দেখি,শিবির যারা করে তারা মলত পার্ট টাইম ই করে পড়াশুনার পাশাপাশি ফলে ওখানে ভাতার প্রয়োজন হয়না,আর তাই শিবিরের মত ডাইনামিক কোন সংগঠন বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরে তৈরি হয়নি।স্যাকুলার স্কুল,কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের আওয়াজ তোলায় শিবির অনন্য এবং আল্লাহর এক অশেষ রহমত। কিন্তু আমাদের মুরুব্বিরা সংগঠন করেন ফুলটাইম?!! এর হয়ত প্রয়োজনও আছে কিন্তু ২০০৭ সালের ঐ স্টাডির রিকমেন্ডেশন ছিল জামায়াত থেকে ফুলটাইম লোক কমানো…?

Leave a Reply