প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে উসমানী খিলাফাতের অংশগ্রহণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে তুরস্ক ও রাশিয়ার উত্তেজনা

উসমানী খিলাফাত কিভাবে প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিল আমরা সকলেই কমবেশি এই সম্পর্কে জানি। তবুও পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। জার্মান যুদ্ধজাহাজ গবেন এবং ব্রেসলাও ব্রিটিশ বাহিনীর কাছ থেকে পলায়ন করে উসমানী খিলাফাতের কাছে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে উসমানী খিলাফাত এই যুদ্ধজাহাজ দুটিকে কিনে নিয়ে এদের পূর্বের নাম পরিবর্তন করে ইয়াভুজ এবং মিদিল্লি নাম রাখে।কিন্তু উসমানী খিলাফাতকে যুদ্ধে জড়ানোর লক্ষ্যে জার্মান সেনাপতির নির্দেশে এই জাহাজ ২ টি রাশিয়ার সিভাসটপল এবং অদেসা বন্দরে বোমা হামলা করে। পরবর্তীতে রাশিয়া ওসমানী খিলাফাতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং ওসমানী খিলাফাত এই প্রক্সি যুদ্ধে অংশ গ্রহন করতে বাধ্য হয়।
রাশিয়ান সাম্রাজ্যের সাথে উসমানী খিলাফাতের এই মহা সমরের পর উভয় সাম্রাজ্যয় ভেঙ্গে পড়ে। রাশিয়ান সাম্রাজ্য পরবর্তীতে রাশিয়ান ইউনিয়ন নামে যাত্রা শুরু করে এবং উসমানী খলাফাত একেবারে সঙ্কুচিত হয়ে বর্তমানের গণতান্ত্রিক তুরস্কে রুপ লাভ করে।

12341254_1066536590065793_4611487523652073281_n
প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের পর এই বৃহৎ ২ টি দেশ এখনকার মত আর কখনো এমন যুদ্ধাবস্থায় উপনিত হয়নি। সংক্ষিপ্ত ভাবে বলতে গেলে ইয়াহুদিদের এক ষড়যন্ত্রে মুসলিমদের সর্বশেষ আশা ভরসার স্থল উসমানী খিলাফাতকে প্রক্সি যুদ্ধে শরিক করে মুসলিম উম্মাহকে এক গভীর অন্ধকারে ঠেলে দেয়। যার পরিণতি আজ শুধুমাত্র মুসলিমগণ নয় সমগ্র মানবতাকে দিতে হচ্ছে। সমগ্র মানবতা আজ সাম্রাজ্যবাদী জায়নবাদী শক্তির হাতে বন্ধী।
এখন, আমরা যদি এই অবস্থাকে পর্যালোচনা করে বর্তমান অবস্থাকে বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাই প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের নায়কগন এখনও নায়ক। সেই সময়ে তারা যেভাবে ২ পরাশক্তিকে যুদ্ধে শামিল করে উসমানী খিলফাতের পতন ঘটিয়ে প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর মধ্য প্রাচ্যকে নিজেরা পিতৃ সম্পদের মত ভাগ করে নিয়েছিল আজও কি তারা অন্য উদ্দেশ্যে এই অবস্থা সৃষ্টি করেছে? রাশিয়া তুরস্কে গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার সাথে সাথে ভূমধ্য সাগরে অবস্থিত ইসরাইলি গ্যাস লাইন থেকে তুরস্ককে গ্যাস সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে।আর এখানেই হল ইসরাইলের সব চেয়ে বড় সফলতা। মুখে মুখে তুরস্কের সাথে বন্ধু সুলভ আচরন করে, তুরস্ককে যুদ্ধের উস্কানি দিয়ে তুরস্ককে দুর্বল করে তারা তাদের বহুল প্রত্যাশিত বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পকে বাস্তবায়ন করতে চায়।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল তুরস্কের রাডারের সফটওয়্যার হল NATO সফটওয়্যার। অর্থাৎ কোন দেশের বিমান তুরস্কের সীমানায় প্রবেশ করেছে কি করে নাই তুরস্ক মূলত এই খবর পায় NATO র রাডার থেকে।

12348165_1066536606732458_683129363670839134_n

এখন যদি সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলীকে বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাই যে, রাশিয়া দাবী করছে যে তাদের SU24 বিমান তুরস্কের সীমানায় প্রবেশ করেনি। তারা অবশ্যয় তাদের রাডার থেকে নেওয়া তথ্য অনুযায়ী একথা বলছে। তুরস্কও তাদের রাডার থেকে নেওয়া তথ্য থেকে বলছে রাশিয়ান বিমান তাদের আকাশসীমা অতিক্রমন করেছে। এই জন্য আমরা তাদেরকে সতর্ক করেছি এবং পরবর্তীতে ভূপাতিত করেছি।
তাহলে এখানে কার দাবী সত্য আর কার দাবী মিথ্যা? কার দাবী এখানে সত্য আর কার দাবী মিথ্যা এটা প্রমান করার জন্য উভয় দেশ বসে তাদের রাডারকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এটা গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। বর্তমানের আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই কাজ করা খুবি সহজ।কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সেটা না করে রাশিয়া অন্যদের উস্কানিতে তুরস্কের বিরুদ্ধে একের পর এক সিধান্ত নিয়ে যাচ্ছে। ভূমধ্য সাগরে তারা তাদের রণতরী স্থাপন করেছে সেই সাথে আর ১২ টি দেশ তাদের রণতরী পাঠিয়েছে। এই সংকট উত্তরণের জন্য কাওকে কন কার্যকর ভুমিকা পালন করতেও দেখা যাচ্ছে না।তুরস্কের এই নাজুক পরিস্থিতে অন্য প্রতিবেশী মুসলিম দেশ গুলুও এগিয়ে আসছে না। এগিয়ে আসছে কোরআনে ঘোষিত মুসলমানদের চির দুশমন ইয়াহুদিরা এবং তাদের দেশ ইসরাইল। ২০০৯ সালে তুরস্কের দাতব্য সংস্থা IHH এর ফ্রিডম ফ্লাটিলাতে আক্রমন করে ৯ তুর্কি নাগরিক শহীদ হওয়ার পর তুরস্ক ইসরাইলের পুরাতন বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। যদিও ২ দেশের বাণিজ্য ইতিহাসের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু এই মুহূর্তে ইসরাইলের তুরস্কের পাশে দাঁড়ানো অনেক সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।
অবস্থা যখন এই তাহলে আমরা এটাকে ঐতিহাসিক একটি ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করতে পারি। এই অঞ্চলের ২ বৃহৎ শক্তি যদি একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তাহলে ২ টি দেশই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এই অঞ্চলে শক্তিশালী কোন দেশ থাকবে না। ফলশ্রুতিতে ইসরাইলের যে বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য প্রতিষ্ঠার (Great Middle East Project) পরিকল্পনা এটা বাস্তবায়ন করতে সহজ হবে এবং ২০০২ সালে তারা যে ঘোষণা দিয়েছিল ২১টি দেশের মানচিত্র পরিবর্তন করবে এটাও তাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।
যদি রাশিয়া এবং তুরস্কের মধ্যে যুদ্ধ হয় তাহলে পরাজিত হবে ২ দেশই আর বিজয়ী হবে ইসরাইল ও যায়নবাদ। যেমনটা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে।
greaterisrael

One Response

  1. আল মাহদি
    আল মাহদি at |

    মুসলিমদের সর্বশেষ আশা ভরসার স্থল উসমানী খিলাফাতক কখনোই ছিল না।আমি মনে করি কুরান ও নবী পরিবারের(আঃ) অনুসারীরাই হচ্ছে মুসলমানদের আশার স্থল।এর জ্বলন্ত উদাহরন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান।১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্টা হবার পর বিশ্বের সমস্ত পরাশক্তি চেষ্ট করেও ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে পরাজিত করতে পারেনি।আর একারনেই ইজ্রাইলের ১৯৫২ সালের “The Protocol of Elders of Jewon” বাধাগ্রস্ত হয়।আর বলাই বাহুল্য ইজ্রাইল আজো পরযযন্ত তাঁর ষড়যন্ত্রের বিষ দাতগুলো মুসলমানদের বিরুদ্বে প্রয়োগ করে চলেছে।এর সর্বশেষ উদাহরন হচ্ছে-আই এস,যাদেরকে ৩০টি দেশ(ইজ্রাইল,আমেরিকা,ভারতসহ) অর্থায়ন করে।আর ইহুদী লবী তুরস্ককে উসমানীয় খেলাফতের মুলা দেখাইয়া আরেক ফাদে ফেলেছে।

    Reply

Leave a Reply