নয়া যমানার ডাক -১ (উদ্দেশ্য ও মুলনীতি)

সভ্যতার উত্থান-পতন,মানব সভ্যতা উন্নতির মুল ধারাপাত। পুরাতন ভেঙ্গে যাবে, নতুন প্রতিষ্ঠিত হবে, যোগ্যরা এগিয়ে যাবে, অযোগ্যরা পিছিয়ে পড়বে, ধ্বংস হয়ে যাবে। এটাই মানব সভ্যতা অগ্রগতির মূলনীতি। সভ্যতার আবর্তনে গ্রিকরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করল, পুরাতন হল ঘোনে ধরল, ভেঙ্গে পড়ল। তারপর রোমানরা গ্রীক সভ্যতার ধ্বংসস্তুপের উপর বাইজেন্টাইনী সভ্যতা গড়ে তুলল। প্রাচ্যে দারার উত্তরসূরিরা পারস্য সভ্যতার সৌধ নির্মান করল। কাল পরাম্পরায় বাইজেন্টাইনি ও পারস্য সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়ল। মানুষ মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠল। পৃথিবী অন্ধকারাচ্ছন্ন হল, ভুপৃস্টের চেয়ে মানুষের নিকট ভুঅভ্যন্তর প্রিয় হয়ে উঠল। মানব জাতি কোন ত্রানকর্তার আশায় উর্ধ্বলোকে তাকিয়ে প্রহর গুনতে লাগল। হেনকালে উষর মরুর বুকে এক ত্রানকর্তার আবির্ভাব ঘটল। তিনি ঐশী কিতাব প্রাপ্ত হলেন। রক্ত পিপাসু পরস্পর খুনখার মরুচারি দুরন্ত বেদুঈনদের তিনি সেই কিতাবের আলোকে দীক্ষা দিলেন। তারপর বললেন, এবার ছড়িয়ে পড় বিশ্বময়, মানুষকে মানুষের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এ মহাবিশ্বের মহা স্রষ্টার দাসত্বে আনিত কর, মানবজাতির মধ্যে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ স্থাপন কর, সামাজিক বৈষম্য মিটিয়ে দাও, অর্থনৈতিক সমবন্টন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা কর। মানব জাতীর তরে আশির্বাদ বহন করে নিয়ে যাও। তারপর সেই কিতাবের মশাল জ্বালিয়ে দুরন্ত আরব বেদুঈন পাহাড়ি ঢলের মত পুর্ব পশ্চিমে আঁচড়ে পড়ল। তারা কাউসারের পেয়ালা নিয়ে পিপাসার্ত মানবের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। যে সাসানি ও ইউনানি খান্দান মহাকাল ব্যাপিয়া মানুষের রক্ত চোষে চোষে কসরে আবয়ায (শ্বেত প্রাসাদ) ও কসরে আহমার (লাল প্রাসাদ) নির্মান করেছিল এবং মনি মানিক্য প্রবাল আর হিরা জহরতের পাহাড় গড়ে তুলেছিল- ইসলামের সন্তানদের ইস্পাত পেটানো বাহুর মুহুর্মুহু আঘাত সেইসব স্বৈরাচারের প্রাসাদ তোলার ন্যায় উড়িয়ে দিয়েছিল, আর সম্পদের পাহাড় কোদাল দিয়ে কেটে কেটে মানব জাতির মধ্যে সমহারে বন্টন করে দিয়েছিল। বাইজেন্টাইনি ও পারস্যের স্বৈরাচারী সভ্যতার ধ্বংস স্তুপের উপর তারা গড়ে তুলেছিল এক বাগান, মানবতার বাগান। যে বাগানে কোন নিঃস্ব দিগম্বরের হাহাকার ছিলনা, কোন বঞ্চিত মজলুমের আহ উচ্চারিত হত না, কোন বুভুক্ষুর ক্রন্দন শুনা যেত না, কোন দাম্ভিক স্বৈরাচারীর অস্ত্র ঝনঝনিয়ে উঠত না। এ ছিল এক জান্নাতি বাগান, ইসলামের বাগান, যার নাম ইসলামী সমাজ/রাষ্ট্র ব্যবস্থা বা ইসলামী হুকুমত। যে হুকুমতে অলংকারাবৃতা অতুল সুন্দরী কোন যুবতী নারী সঙ্গিহীন একাকী বাহনে সওয়ার হয়ে সুদূর সিন্দু থেকে মক্বা পর্যন্ত ভ্রমণ করত কিন্তু তার মনে আল্লাহ্‌র ভয় ছাড়া অন্য কোন ভয় জাগ্রত হত না। এ ছিল এক সভ্যতা, এ ছিল মানবাধিকারের পুর্ন প্রতিষ্ঠা, এ ছিল ভু-অভ্যন্তর থেকে ভু-পৃষ্ঠ মানুষের কাছে প্রিয় থাকার অবলম্বন। কিন্তু কাল ক্রমে এ বাগানের মালিরা ঘুমিয়ে পড়ল। আল্লার নবীর নির্দেশ-ঘোড়ায় চড়ে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে সীমান্তে শত্রু পাহারা দেয়ার চেয়ে তারা পরস্পর ষড়যন্ত্র ও ভ্রাতৃঘাতি হানাহানি, খুনাখুনিতে নিরাপদ ও আনন্দ বোধ করল। পক্ষান্তরে কল্যানের মুর্তিমান প্রতিক মুহাম্মদ (সাঃ) মানবতার মুক্তির যে সংবিধান কোরআন-সুন্নাহ তারই প্রতিনিধি আলেম সমাজের হাতে গচ্ছিত রেখে গিয়েছিলেন এ মর্মে যে, তারা এ সংবিধানকে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ়তার সাথে ধারন করবে, বিভক্ত হবে না এবং এ সংবিধানের আলোকে পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করবে আর মানুষের অর্থনৈতিক ও ন্যায় বিচারের অধিকার নিশ্চিত করবে। কিন্তু আলেম শ্রেণী আল্লাহ্‌ ও রাসুল (সাঃ) এর সাথে নিকৃষ্টতম গাদ্দারি করল। তারা কোরআন সুন্নাহর নির্দেশ উপেক্ষা করে রাসুল (সাঃ) এর উম্মাহকে শত শত হাজার হাজার ফিরকায় বিভক্ত করে পরস্পরের বিরুদ্ধে কামড়া কামড়িতে লাগিয়ে দিয়ে কুকুরের জাতিতে পরিণত করল, উম্মাহ ধ্বংস করল। তাদেরকে বহির্মুখি শত্রু দমন থেকে ভিতরমুখি ভ্রাতৃঘাতি হানাহানির দিকে ঠেলে দিল। ফলে ইসলামের নামে গজিয়ে উঠা প্রত্যেকটি ফিরকা পরস্পর খুনখার দুশমনে পরিণত হল। তারা শত্রু দমনের চেয়ে একে অপরকে দমন করা ফরয মনে করল। এমনকি শত্রুর সাহায্য নিয়ে পরস্পরকে ধ্বংস শুরু করল। এভাবে উম্মাহ দুর্বল থেকে দর্বলতর একটা দাস জাতিতে পরিণত হল। এ সুযোগে পশ্চিমা দাজ্জাল-খৃষ্টান শক্তি যারা হাজার বছর ধরে মুসলিম সাম্রাজ্য পদানত করার লক্ষে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও কুটকৌশল অবলম্বন করে আসছিল- তারা সুযোগ পেয়ে গেল। পশ্চিম থেকে পুর্বে তারা বানের পানির মত ঢোকে পড়ল, ধ্বংস করল মুসলিম শিক্ষা সভ্যতা ও সংস্কৃতি। নিজেদের মানবতা ও সভ্যতা বিধ্বংসি শিক্ষা সভ্যতা ও আইন মুসলিম দুনিয়ার উপর চাপিয়ে দিল। এভাবে তারা মুসলমানদের নিকৃষ্টতম দাসে পরিণত করল। মুসলমানদের হত্যা করল, ধ্বংস করল, তাদের স্ত্রী সন্তানদের বেইজ্জত করল, এমনকি কবর থেকে মুসলিম নারীর লাশ তুলে ধর্ষণ করল। আজ সমগ্র কুফর শক্তি একই ফ্লাট ফর্মে একাট্টা ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছে পৃথিবী থেকে মুসলিম জাতির নাম নিশানা মুছে ফেলার লক্ষে। তদুপরি শাসন শোষণ ও রক্ত পিপাসু এ সভ্যতা এখন সমকামী, বিসমকামি, উভকামি, পশুকামি ও অজাচারি সভ্যতায় পরিণত হয়েছে। কাজেই এখন এর ধ্বংস অনিবার্য।

সুতরাং এ দাজ্জালী সভ্যতা ধ্বংস এবং মুসলিম সভ্যতা পুনরুজ্জীবনের লক্ষে জাতীর তরুন সমাজ জেগে উঠেছে। দিকচক্রবাল পর্যন্ত তারা বাহু বিস্তার করেছে। তাদের উদ্দেশ্য মুসলিম জাতির দাসত্বের নিগঢ় ছিঁড়ে ফেলে পৃথিবীতে প্রভুত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা। শীঘ্রই তারা বঙ্গসাগরের উপকুল থেকে পশ্চিমে মার্চ করবে এবং পশ্চিমা দুনিয়ার শেষ প্রান্তর পর্যন্ত দাজ্জালের পিছু ধাওয়া করবে। কাজেই মুসলিম যুবক ! তুমি কি থাকবে, থাকবে তাদের সাথে ? যদি থাক, তাহলে কসম খোদার, তোমরা পৃথিবীতে কোন জাতির দাস থাকবেনা, বরং তোমরাই হবে সকল জাতির প্রভু আর ভাগ্য বিধাতা। কাজেই তোমরা কি দাসত্ব করবে নাকি প্রভুত্ব করবে, এখনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ কর, সময় খুব কম।

উদ্দেশ্যঃ মুসলিম জাতি পৃথিবীর মুল ভুখন্ড এবং মুল সম্পদের মালিক হয়েও যে ধ্বংস গহ্বরে পতিত হয়েছে সৃষ্টির সূচনা থেকে নক্ষত্র মন্ডল পৃথিবী পৃষ্টে অন্য কোন জাতির ক্ষেত্রে এমন লাঞ্চনাদায়ক পতন আর কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। আজ সম্মিলিত কুফর শক্তি মহাউল্লাসে মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে ইসলামের নামধারি কিছু কিছু সন্ত্রাসী সংগঠন মুসলিম হত্যায় কাফেরদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমেছে। আজ মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে পৃথিবীর এমন কোন দেশ নেই যেখানে মুসলিম হত্যা নির্যাতন চলছেনা, মুসলিম নারীরা বেইজ্জত হচ্ছে না। বাস্তবতা বলছে, মুসলিমরা যেন কুকুরের জাতি, কাফের নামের বাঘ সিংহরা তাদেরকে ধরে ধরে খাবে, অবশিষ্টরা কুকুরের মত কামড়া কামড়ি করে ধ্বংস হয়ে যাবে। কাজেই এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় জাতীয় ঐক্য। এ ব্যাপারে ইজমায়ে উম্মত-সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যে, উম্মাহর সর্বাত্মক ঐক্য ব্যতীত এ অভিশাপ থেকে মুক্তির দ্বিতীয় কোন পথ নেই। ঐক্যবদ্ধ হলেই এ জাতি দাসত্ব থেকে প্রভুত্বের আসনে পুর্ব পুরুষদের ন্যায় অধিষ্ঠিত হতে পারবে। কাজেই আমরা পুর্নাঙ্গ সচেতন হয়ে পুর্নাঙ্গ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি, আল্লাহ্‌র সাহায্যে এ জাতিকে কোরআন সুন্নাহর ভিত্তির উপর ঐক্যবদ্ধ করবই করব, ইংশাআল্লাহ। আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দাশ্য হল, উম্মাহর সকল ইসলামী দল, মত, মাযহাব ও ফিরকা গুলিকে কোরআন সুন্নাহর ভিত্তির উপর ঐক্যবদ্ধ করে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। শিয়া সুন্নি নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর আলেমকে ঐক্যের ওপর বাধ্য করা। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেলেই খিলাফত প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে। তদুপরি খেলাফত ব্যবস্থায় যে অর্থনৈতিক সাম্য ও ন্যায় বিচার তথা মানবাধিকার রয়েছে- মানুষের মধ্যে তা প্রচার করলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই সাধারণ জনগণ খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবে। তবে এ খিলাফত কোন ব্যক্তি ও রাষ্ট্র কেন্দ্রিক হবেনা বরং অনেকটা জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ন্যায় হবে। কাজেই এর নাম হতে পারে মুসলিম জাতিসংঘ বা আফ্রেশিয় ইউনিয়ন। তবে পার্থক্য হল এটা হবে অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রীয়-ফেডারেল সরকার ব্যবস্থার ন্যায়। কারন এ সংস্থার অধিনে মুসলিম দেশ গুলি একেকটা প্রদেশ বলে গন্য হবে। কেন্দ্রীয় খেলাফতের অধিনে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে একই আইন, শিক্ষা, ভাষা, মুক্ত কর্মক্ষেত্র, ধনী-দরিদ্রের বৈষম নিরসন ইত্যাদি বিষয়গুলি কার্যকর হবে। আর অমুসলিম দেশগুলিতে ইসলামী অর্থ ব্যবস্থা ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। কারন প্রত্যেক অমুসলিম দেশের শোষিত নির্যাতিত বঞ্চিত সাধারণ জনগণ নিজেদের টিকে থাকার স্বার্থেই খিলাফত প্রতিষ্ঠা করবে। আমাদের কর্তব্য শুধু মুসলিম জাতীকে ঐক্যবদ্ধ করে খিলাফত ব্যবস্থার প্রবর্তণ করা। তারপর সমগ্র বিশ্বে এমনিতেই খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ। (বিস্তারিত, খিলাফত ইশতিহার)।

মূলনীতিঃ কোরআনের অসংখ্য আয়াত দ্বারা ঐক্য ফরয এবং বিভক্তি হারাম প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ তালা কোরানে বিভক্তিবাদিদের কাফের আখ্যা দিয়েছেন। তাছাড়া রাসুল (সাঃ) সাহাবায়ে কেরামের মাঝে কখনো কোন বিষয়ে মতভেদ দেখলে অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে উঠতেন, তার চেহারার রং পাল্টে যেত। অসংখ্য হাদিসে তিনি বলেছেন তোমরা কখনো এখতেলাফ করো না, পুর্ববর্তি উম্মতরা এখতেলাফ করে বিভিন্ন ফেরকায় বিভক্ত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। কাজেই তোমরাও এখতেলাফ করলে ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, বনী ইসরাইল ৭২ ফেরকায় বিভক্ত হয়েছে, আমার উম্মত ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হবে আর তখন তাদের নামায ও দোয়া কবুল হবে না এবং তাদের একটি দল ব্যতীত বাকী ৭২ ফেরকা জাহান্নামে যাবে।(আর এ নাজাত প্রাপ্ত দলটি হচ্ছে যারা ফেরকাবাজি না করে উম্মাহকে ঐক্যের পথে ডাকে)। এ ছাড়াও কোরআন হাদিসে ফিরকাবাজদের সম্পর্কে আরো কঠোর শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। এরপরেও যারা ফিরকাবাজি করবে উম্মাহকে বিভক্ত করবে তাদেরকে আল্লাহ্‌ তালা কাফের আখ্যা দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ফরয করেছেন। কাজেই ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আমাদেরকে ফিরকাবাজ আলেমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। অন্যথায় আল্লাহ্‌র কাছে আমদের জবাবদিহি করতে হবে, তার ক্রোধ ও পাকড়াও থেকে আমরা বাচতে পারব না। (এ ব্যাপারে আল কোরআনের কাঠ গড়ায় বিভক্তিবাদ গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে)। যাই হউক, ফিরকাবাজ আলেমরা নিজেরা তো কাফের হয়ে জাহান্নামের দিকে দৌড়ে যাচ্ছেই, সেই সাথে আমাদেরকেও টেনে নিয়ে যাচ্ছে। যে শিশু মুসলমান হিসেবে জন্ম নিচ্ছে তাকে ফিরকাবন্দী করে তার ঈমান খুইয়ে দিচ্ছে। বস্তুত তারা শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে আল্লাহ্‌ ও রাসুল (সাঃ) এর নয়। তাদের অপকর্মের কারনে উম্মাহ বিভক্ত হয়ে কাফেরের হাতে তো মার খাচ্ছেই সেই সাথে তাদের ইহকাল ও পরকাল উভয়ই নষ্ট হচ্ছে। কাজেই বুঝা যাচ্ছে বিভক্তিবাদি আলেমরাই হল উম্মাহর প্রকৃত দুশমন। এ জন্যই আমরা তাদের ব্যাপারে নিম্নোক্ত আয়াত থেকে মূলনীতি গ্রহণ করেছি-আশিদ্দাউ আলাল কুফফার ও রুহামাউ বাইনাহুম। অর্থাৎ আমরা বিভক্তিবাদিদের বিরুদ্ধে সাতিশয় কঠোরতা অবলম্বন করব এবং অন্যদের সাথে সহমর্মিতা ও সৌহার্দের পন্থা অবলম্বন করব। তাছাড়া কোন বিষয় নির্মুল করতে চাইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর হতে হয় অন্যথায় তা নির্মুল করা সম্ভব হয় না। যেমন শায়খ ইবনে ওয়াহহাব নজদী শিরক বিদাতের বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছিলেন বিধায় তা নির্মুল করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তদ্রুপ আমরাও ফিরকাবাজ আলেমদের বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বন করব। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের মূলনীতি হবে প্রথমে তিনবার ঐক্যের আহ্বান জানানো হবে, ঐক্যের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উপকারিতা ইত্যাদি বুঝানো হবে। তারপরও যারা ঐক্যের পথে আসবে না, কোরআনের নির্দেশ অনুসারে তাদেরকে হত্যা করা হবে। সে যত বড় আলেম ফকীহ বা পীর-মাশায়েখ হউক না কেন। এ হত্যা বলতে ব্যক্তি উদ্যোগে চোরা গোপ্তা হত্যা নয়। রাষ্ট্রীয় ভাবে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা। মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত কোন দেশের সরকার যদি এ দন্ড কার্যকর করতে অস্বীকার করে তাহলে সম্মিলিত মুসলিম শক্তি সেই সরকারের পতন ঘটাবে, তারপর সেই অপরাধির বিচার করবে। কেউ আপত্তি উত্থাপন করতে পারে, শ্রদ্ধেয় আলেম সমাজের ব্যাপারে এ নীতি দৃষ্টতার শামিল। আমরা বলব, যারা কোরআন সুন্নাহর নির্দেশ উপেক্ষা করে উম্মাহকে বিভক্ত করে ধ্বংস করছে, তারা কি আল্লাহ্‌ ও রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নি, দৃষ্টতা প্রদর্শন করেনি ? তদুপরি বাতাও, এ ছাড়া উম্মাহর মুক্তির কি অন্য কোন পথ খোলা আছে ? থাকলে আমরা সেই পথ অবলম্বন করব, ফিরকাবাজ আলেমদের ব্যাপারে আপত্তি তুলব না। যাই হউক, উম্মাহর মধ্যে ঐক্যের মধ্যস্ততার জন্য আমরা প্রতিটি ইসলামী দল ও ফিরকা থেকে একজন করে বিজ্ঞ আলেম বা স্কলার নিয়ে প্রতিটি মুসলিম রাষ্ট্রে একটি করে কমিটি গঠন করব। এ কমিটি প্রথমে ইসলামী দল ও ফিরকা গুলির মধ্যে ঐক্য স্থাপন করবে। তারপর সম্মিলিত ইসলামী দলগুলি প্রত্যেক দেশের রাজনৈতিক দলগুলির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। কারন রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐক্য প্রতিষ্ঠিত না হলে তারা ঐক্যবদ্ধ ইসলামী দলগুলির বিরোধিতায় নামবে, পশ্চিমের দাজ্জালকে নিজের ঘরে ডেকে আনবে। তাতে সমস্যা আরো ঘনীভূত হবে। তা ছাড়া মুসলমানদের মাঝে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যে কোন ধরনের বিভেদ-বিভক্তি হারাম। কাজেই সামগ্রিক উম্মাহর মাঝে ঐক্য স্থাপন করতে হবে। পুর্নাংগ ঐক্য প্রতিষ্ঠার পড় প্রত্যেক দেশে বিজ্ঞ আলেম, বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদদের নিয়ে মজলিসে শুরা/ শরিয়া বোর্ড গঠন করতে হবে। এই বোর্ডগুলি পরস্পর পরামর্শের ভিত্তিতে প্রত্যেক দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করবে এবং কেন্দ্রীয় খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গঃ এ দেশের প্রত্যেকটি ইসলামী দল-ফিরকা এতটাই খোদাদ্রোহি এবং উম্মাহর দুশমন যে, এদের মধ্যে কেহই ঐক্যের চিন্তা চেতনা, দাবী বা আশা-আকাংখা পোষণ করে না। অথচ প্রত্যেকেই জানে এবং বলে যে, ঐক্য ছাড়া মুক্তির কোন উপায় নেই। তদুপরি প্রত্যেক দলে ঐক্যের সমর্থক ও আশাবাদি বিরাট একটা অংশ রয়েছে। কাজেই আর পিছিয়ে থাকার সময় নাই। এক্ষণে, এ মুহুর্তে কমিটি গঠনের জন্য প্রত্যেক ইসলামী দল থেকে একজন করে সদস্য চাই। উল্লেখ্য যে, দেওবন্দিদেরকে বলা হয় সবচেয়ে গোঁড়া, সংকির্নমনা, পশ্চাৎপদ। তারা ঐক্যের পথে আসলেই উম্মাহর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হয়ে যেত। কাজেই আমিই সর্বাগ্রে দেওবন্দিদের থেকে, দেওবন্দের চত্বর থেকে হাত বাড়িয়ে দিলাম। এখন বিখ্যাত আলেমদের কেউ এগিয়ে আসলে আমার দরকার নাই। অন্যথায় আমি তো আছিই। কাজেই এখন তো আর কারো পিছিয়ে থাকার মত অজুহাত, সুযোগ বা অবকাশ নাই। সুতরাং জামাতে ইসলামী থেকে একজন, তরিকত ফেডারেশন থেকে একজন, চট্টগ্রামের সুন্নিদের থেকে একজন, বেরেলভিদের থেকে একজন, উলামা দল থেকে একজন, উলামা লীগ থেকে একজন, হিযবে তাহরীর থেকে একজন, হিযবে তাওহীদ থেকে একজন এবং অন্যান্য ইসলামী দলগুলো থেকে একজন করে সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের মধ্যস্ততা করবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন কোন রাজনৈতিক রূপ ধারন করবে না বরং আওয়ামি লীগ ও বি এন পির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করবে। কারন এ দুটি মুসলমানদেরই দল, মুজিব-জিয়া আমাদের, আমরা তাদের, জাতি তাদের কাছে ঋণী। তাদের ভুল ত্রুটি গুলি কোরআনের আলোকে আমরা সংশোধন করে নিব। এভাবে ধর্মিয় ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য স্থাপনের পর সর্ব প্রথম বাংলাদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করা হবে। তারপর মরক্কো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত এক যোগে খিলাফতের ডাক দেয়া হবে, ইংশা-আল্লাহ। আল্লাহুম্মা আমীন, আমীন, ছুম্মা আমীন।

Leave a Reply