আল-কোরানের কাঠগড়ায় বিভক্তিবাদ-২

আল্লাহকে ভয়ের প্রধান বিষয়

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ  ﴾ হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করো৷ মুসলিম থাকা অবস্থায় ছাড়া যেন তোমাদের মৃত্যু না হয়। (আল-ইমরান/১০২)

ব্যাখ্যাঃ – حَقَّ تُقَاتِهِ-অর্থ আল্লাহকে যথোপযুক্ত ভয় করা।অর্থাৎ আল্লাহ্‌র আনুগত্য করা, অবাধ্য না হওয়া, তাকে সর্বদা স্বরণ করা কখনো ভুলে না যাওয়া,তার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা, কখনো অকৃতজ্ঞ না হওয়া। কেউ কেউ বলেন, উক্ত আয়াত রহিত হয়ে গেছে সুরা তাগাবুনের এ আয়াত দ্বারায়. ﴿فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُواَ﴾ তাই তোমাদের সাধ্যানুযায়ি আল্লাহকে ভয় করে চলো, শোন, আনুগত্য করো।) কারণ উক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার পর সাহাবায়ে কেরাম নৈরাশ্য প্রকাশ করলেন যে, আল্লাহকে যথোপযুক্ত ভয় করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। তখন তা রহিত করে তাগাবুনের আয়াতটি নাযিল হয়। কিন্ত ইবনে আব্বাস বলেন, উক্ত আয়াত রহিত হয়নি বরং এর অর্থ হচ্ছে فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْঅর্থাৎ তোমাদের সাধ্যানুযায়ি আল্লাহকে ভয় করো। নিয়ম হল বিপরিতার্থক দুটি আয়াতের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান সম্ভব হলে নুসখের বিধান প্রযোজ্য হয় না।

যোগসুত্রঃ উক্ত আয়াতে আল্লাহ্‌ তা’লা নির্দেশ দিয়েছেন তাকে যথোপযুক্ত ভয় করার। আর আল্লাহকে ভয় করার বিষয়াবলীর মধ্যে প্রধান বিষয় হল উম্মাহর মধ্যে বিভক্তি ও ফাটল সৃষ্টি না করে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ। এ জন্যই পরের আয়াতে আল্লাহ তা’লা ঐক্যের নির্দেশ এবং বিভক্তি সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন। কারণ বিভক্তি ও ফিরকাবাজি ইসলামের যতটুকু ক্ষতি করে অন্য কোন বিষয় ততটা ক্ষতি করতে পারে না। যেমন কোন মুসলমান নামায, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি কোন কিছুই আদায় না করলে তার ব্যক্তিগত ক্ষতি হয় কিন্ত ইসলাম ও উম্মাহর তেমন কোন ক্ষতি হয় না। পক্ষান্তরে উম্মাহর মধ্যে ফিরকা ও বিভক্তি সৃষ্টি হলে তারা পরস্পর মারামারি-হানাহানিতে লিপ্ত হয়, একে অপরকে ধ্বংসের প্রতিযোগিতায় নামে। ফলে কাফেররা তাদেরকে ধ্বংসের সুযোগ পায়। কোরান ও হাদিসের মূল বার্তা হচ্ছে, সকল কাফের এক সম্প্রদায়, মুসলিম নিধনে একমত। এজন্যই বর্তমানে দেখা যায় মুসলমানরা নিজেরা নিজেরা তো কামড়া কামড়ি করে মরছেই সেই সাথে সকল কাফের শক্তি একাত্না হয়ে মুসলিম ধ্বংসে তৎপর রয়েছে। বর্তমান বাস্তবতাই বলে দিচ্ছে ফিরকা-বিভক্তি মুসলিম জাতিকে দুর্বল করে দেয়, আর দুর্বল জাতি আল্লাহ্‌র নির্দেশ- أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِদ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।অথচ আল্লাহর ইচ্ছা- بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ ﴿التوبة: ٣٣﴾ هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ– তিনিই সেইজন যিনি তাঁর রাসূলকে পাঠিয়েছেন পথনির্দেশ ও সত্য-ধর্মের সাথে যেন তিনি উহাকে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী করতে পারেন, যদিও মুশরিকরা তা চায় না। (৯: ৩৩) এ জন্যই আল্লাহ্‌ তা’লা তাকে ভয়ের বিষয়াবলির মধ্যে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিধানকে অগ্রাধিকার দিয়ে সর্বাগ্রে উল্লেখ করেছেন। (ধারাবাহিক)

Leave a Reply