আল-কোরানের কাঠগড়ায় বিভক্তিবাদ- ৭ (বিভক্তিবাদীদের জন্য অশনি বার্তা)

বিভক্তিবাদিরা কাফের

﴿يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ ۚ فَأَمَّا الَّذِينَ اسْوَدَّتْ وُجُوهُهُمْ أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ﴾

﴿وَأَمَّا الَّذِينَ ابْيَضَّتْ وُجُوهُهُمْ فَفِي رَحْمَةِ اللَّهِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ﴾

(৩/১০৬) যেদিন কিছু লোকের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এবং কিছু লোকের মুখ কালো হয়ে যাবে৷ তাদেরকে বলা হবে, ঈমানের নিয়ামত লাভ করার পরও তোমরা কুফরী নীতি অবলম্বন করলে ? ঠিক আছে, তাহলে এখন এই নিয়ামত অস্বীকৃতির বিনিময়ে আযাবের স্বাদ গ্রহন করো৷ (৩/১০৭) আর যাদের চেহারা উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের আশ্রয় লাভ করবে এবং তারা চিরদিন এই অবস্থায় থাকবে৷)

যোগসুত্র ও ব্যাখ্যাঃ সুরা আল-ইমরানের ১০২ নং আয়াতে আল্লাহ্‌ তা’লা তাকে যথোপযুক্ত ভয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। ১০৩ নং আয়াতে ভয়ের প্রধান বিষয় হিসাবে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ১০৪ নং আয়াতে বিভক্তির সম্ভাবনাকে চূড়ান্তভাবে অপনোদন করার লক্ষে উম্মতের দায়ী অংশের উপর ফরয (কেফায়া) করে দিয়েছেন যে, তারা সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজে বাধা দিবে-অর্থাৎ ঐক্য প্রতিষ্ঠিত রাখবে এবং বিভক্তিতে বাধা দিবে। এত কিছুর পরেও যারা বিভক্তি ও ফিরকাবাজিতে লিপ্ত থাকবে তাদেরকে আল্লাহ্‌ তা’লা ১০৫ নং আয়াতে ইহুদি- খৃস্টানের সাথে তুলনা করে কঠোর শাস্তির সংবাদ দিয়েছেন। আর বক্ষমান ১০৬ নং আয়াতটি ফিরকাবাজ বিভক্তিবাদিরা কাফের প্রমাণিত হওয়ার উপর বজ্র দলীল। কাজেই বুঝা যাচ্ছে উম্মাহর মধ্যে শিয়া, সুন্নীসহ হকপন্থি বা বাতিলপন্থি নিবির্শেষে যতগুলি ফিরকা রয়েছে যেমন বেরেলভী, দেওবন্দী, জামাতী, তাবলীগী, সালাফী, তালেবান, হিজবে তাওহীদ, হিজবে তাহরির ,বুকো হারাম, আইসিস, ব্রাদার হুড ইত্যাদিরা সবাই কাফের। যেহেতু তারা সবাই ফিরকাবন্ধি। বিশেষতঃ আলেম সমাজ যারা এসব ফিরকার জন্ম দিয়েছে এবং পরস্পর বিদ্বেষ ছড়িয়ে এগুলি জিইয়ে রাখছে, উম্মাহ ধ্বংসের পথ তৈরি করে দিচ্ছে- তারা আলোচ্য আয়াতগুলির ভিত্তিতে কাফের প্রমাণিত হলো। কারণ আয়াতে স্পষ্ট . أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ. অর্থাৎ ঈমানের পড় কুফর উল্লেখ আছে।

বিশেষ সতর্কতাঃ রাসুল (সাঃ) ইরশাদ করেন- لا تكفروا اهل القبلة-অর্থাৎ আহলে কিবলাকে কাফের বলবে না। কাজেই আমরা কাউকে কাফের বলতে পারি না।কিন্তু স্বয়ং আল্লাহই ফিরকাবাজদের কাফের বলে ঘোষণা দিলেন। এর কারণ হচ্ছে, যারা ঐক্যের ফরযিয়্যত ও বিভক্তির হুরমত অস্বিকার করে ফিরকাবাজীতে লিপ্ত হবে তারা কাফের হয়ে যাবে, যেমন নামায রোযার ফরযিয়্যত অস্বিকার কারী কাফের হয়ে যায়। তবে আত্মরক্ষার্থে ফিরকা বাজ আলেমরা এখানে দুটি ব্যাখ্যা দাড় করবে। যেমন-

১ম ব্যাখ্যাঃ-তারা আপত্তি তুলবে, এ আয়াত বা বিধান ইহুদী নাসারার সাথে সম্পৃক্ত মুসলমানের জন্য প্রযোজ্য নয়। এ দাবী সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কারণ আয়াতে স্পষ্টতঃ বলা হয়েছে .. أَكَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ. তোমরা কি ঈমান আনার পরে কুফুরি করেছিলে ? অথচ ইহুদী নাসারারা তো ঈমানই আনেনি। তারা তো পূর্বে থেকেই কাফের আবার নতুন করে কাফের হওয়ার কি আছে। কাজেই বুঝা যায় এ কুফুরির বিধান ফিরকাবাজদের জন্য প্রযোজ্য। দ্বিতীয় উত্তরঃ অত্র আয়াতের পূর্বাপর কোথাও আল্লাহ্‌ তা’লা ইহুদি-নাসারাদের সম্বোধন করে কোন বিধান বা নির্দেশ দেন নি, বরং মুসলমানদের সম্বোধন করে বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন যারা এ নির্দেশ পালন করবে না –তারা কাফের প্রমাণিত হবে।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যাঃ-ফিরকাবাজ আলেমরা বলবে এ আয়াত শিরক, বিদআত, নিফাক ইত্যাদি অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, বিভক্তি- ফেরকাবাজির জন্য প্রযোজ্য নয় । তাদের এ দাবিও ডাহা মিথ্যা। কারণ অত্র আয়াতের পূর্বাপর কোন আয়াতে শিরক, বিদাত, নিফাক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়নি বরং ঐক্য ও বিভক্তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আয়াত গুলিতে আল্লাহ্‌ তা’লা ঐক্য ফরয করেছেন এবং বিভক্তি হারাম করেছেন। এখন এ ফরয ও হারাম লঙ্গন করে যারা ফিরকাবাজীতে লিপ্ত হবে তারা অবশ্যি অবশ্যি কাফের বলে গণ্য হবে। সুতারং কোরআন দ্বারা প্রমাণিত হল যে ফিরকাবাজরা কাফের। তবে উল্লেখ্য যে, যারা ফিরকাবাজি জায়েয মনে করে তারা কাফের। কিন্তু যারা ঐক্য ফরয বিভক্তি হারাম জেনেও নমনীয়তা, উদাসীনতা ও সুযোগের অভাবে কোন ফিরকায় লিপ্ত রয়েছে-তারা কবিরা গুনায় লিপ্ত, কাফের নয়। বর্তমান বিশ্বের আলেম সমাজ এ শ্রেণীভুক্ত। কারণ বিভক্তি হারাম-এটা সবাই স্বীকার করে। সুতরাং সুরা আলে ইমরানের ১০২ থেকে ১০৬ পর্যন্ত আয়াতগুলি দ্বারা ফেরকাবাজরা কাফের প্রমাণিত হল। কাজেই নিজেদের পরকাল রক্ষার্থে এবং উম্মাহকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ঐক্যের বিকল্প নেই। সুতরাং আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি।

তাফসীর কারকদের মতামতঃ- يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ – ইমাম কুরতবি বলেন, চেহারা স্বেতবর্ণ ও কৃষ্ণবর্ণ হওয়া সম্পর্কে তিনটি অভিমত র‍য়েছে। ১। এটা কিয়ামতের দিন কবর থেকে পুনরুত্থানের সময় ঘটবে। তখন মুমিনদের চেহারা উজ্জ্বল হবে আর কাফেরদের চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হবে। ২ ইহা আমলনামা হাতে পাওয়ার পর হবে। মুমিন তার আমলনামায় নেক আমল দেখে খুশি হবে, তার চেহারা উজ্জ্বল হবে। পক্ষান্তরে বদকার যখন তার বদ আমল দেখবে তখন তার চেহারা কৃষ্ণরূপ ধারন করবে। ৩ ইহা মিযানের সময় হবে, নেককারদের নেকের পাল্লা ভারি হলে চেহারা উজ্জ্বল হবে আর বদকারদের পাপের পাল্লা ভারি হলে চেহারা কালো হয়ে যাবে। আর তখনই তাদেরকে বলা হবে. ” وَامْتازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ” [يس: 59](পৃথক হয়ে যাও হে অপরাধিরা)

কিয়ামত দিবসে কাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে, সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। যেমন আতা বলেছেন চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হওয়ার দ্বারা বনী নাযির আর বনী কুরায়যা উদ্দেশ্য। উবাই বিন কাব বলেছেন কাফেররা উদ্দেশ্য, কাতাদা বলেছেন মুরতাদরা উদ্দেশ্য, কেউ বলেছেন মুনাফিকরা, ইকরামা বলেছেন কাদরিয়্যা, আবু উমামা বলেছেন হারুরি তথা খারেজিরা উদ্দেশ্য। তবে সঠিক কথা হচ্ছে, এর দ্বারা বিদাত সৃষ্টিকারী, প্রবৃত্তির অনুসারী ফিরকাবাজরা উদ্দেশ্য। যেমন ইবনে আব্বাস বলেন فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: تَبْيَضُّ وُجُوهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَتَسْوَدُّ وُجُوهُ أَهْلِ الْبِدْعَةِ.

عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى” يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ” قَالَ: (يَعْنِي تَبْيَضُّ وُجُوهُ أَهْلِ السُّنَّةِ وَتَسْوَدُّ وُجُوهُ أَهْلِ الْبِدْعَةِ = অর্থাৎ আহলে সুন্নাতের চেহারা স্বেতবর্ণ হবে আর বিদাতিদের চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হবে।

বুখারি শরীফে বর্নিত- وَفِي صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (إِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الْحَوْضِ مَنْ مَرَّ عَلَيَّ شَرِبَ وَمَنْ شَرِبَ لَمْ يَظْمَأْ أَبَدًا لَيَرِدَنَّ عَلَيَّ أَقْوَامٌ أَعْرِفُهُمْ وَيَعْرِفُونِي ثُمَّ يُحَالُ بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ (. قَالَ أَبُو حَازِمٍ : فَسَمِعَنِي النُّعْمَانُ بْنُ أَبِي عَيَّاشٍ فَقَالَ: أَهَكَذَا سَمِعْتَ مِنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ؟ فَقُلْتُ نَعَمْ. فَقَالَ: أَشْهَدُ عَلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ لَسَمِعْتُهُ وَهُوَ يَزِيدُ فِيهَا: (فَأَقُولُ إِنَّهُمْ مِنِّي فَيُقَالُ إِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ فَأَقُولُ سُحْقًا سُحْقًا لِمَنْ غَيَّرَ بَعْدِي (. وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:) يَرِدُ عَلَى الْحَوْضِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ رَهْطٌ مِنْ أَصْحَابِي فَيُجْلَوْنَ عَنِ الْحَوْضِ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيَقُولُ إِنَّكَ لَا عِلْمَ لَكَ بِمَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ إِنَّهُمُ ارْتَدُّوا عَلَى أَدْبَارِهِمْ الْقَهْقَرَى (. وَالْأَحَادِيثُ فِي هَذَا الْمَعْنَى كَثِيرَةٌ. فَمَنْ بَدَّلَ أَوْ غَيَّرَ — অর্থাৎ সাহল ইবন সা’দ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (সা)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি হাউযের পাড়ে তোমাদের আগে উপস্থিত থাকব। যে সেখানে উপস্থিত হবে, সে সেখান থেকে পান করার সুযোগ পাবে। আর যে কেউ একবার সে হাউয থেকে পান করবে সে কখনই তৃষ্ণার্ত হবে না। অবশ্যই এমন কিছু দল আমার কাছে উপস্থিত হবে যাদেরকে আমি ( আমার উম্মত বলে) চিনতে পারব এবং তারাও আমাকে চিনতে পারবে। কিন্তু এর পরই তাদের ও আমার মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দেওয়া হবে। আবু সাঈদ খুদরীর (রাঃ) বরাতে এসেছে, তখন আমি (রাসুল) বলব, তারা তো আমার ! তখন রাসুল (সাঃ) কে বলা হবে, আপনি তো জানেন না আপনার পড় এরা কী বিদাত সৃষ্টি করেছে। তখন আমি বলব, দূর হও দূর হও- যারা আমার পড় দ্বীনের মধ্যে পরিবর্তন করেছে, বিকৃতি করেছে। আবু হুরায়রা (রাঃ) এর বরাতে এসেছে, আপনি তো জানেন না আপনার পর তারা কী বিদাতটাই না সৃষ্টি করেছিল, তারা নিজেদের পশ্চাতে ঘুরে গিয়েছিল। এ সম্পর্কিত অনেক হাদীস আছে।

তারপর ইমাম কুরতুবি বলেন, যে বা যারা দ্বীনের মধ্যে এমন পরিবর্তন পরিবর্ধন করবে অথবা বিদাত সৃষ্টি করবে যে বিষয়ে আল্লাহ অনুমতি দেননি তারাই হাউজে কাউসার থেকে বিতারিত হবে, দূরে নিক্ষিপ্ত হবে এবং তাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। যারাই মুসলিম জামাত (ঐক্য) এর খেলাফ করবে এবং তাদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে তারাই চুড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে এবং দূরে নিক্ষিপ্ত হবে। যেমন খারেজিরা পৃথক ফিরকা হয়ে গেছে, রাফেজিরা স্পষ্ট গুমরাহিতে লিপ্ত হয়েছে, মু’তাজিলারা প্রবৃত্তির অনুসরণ করেছে- কাজেই তারা সবাই দ্বীন পরিবর্তনকারী এবং বিদাত সৃষ্টিকারী। দ্বীনের মধ্যে প্রত্যেক বক্রতা সন্ধানকারী দল, প্রবৃত্তির অনুসারী দল ও বিদাত সৃষ্টিকারীদের উপরই এ আয়াত প্রযোজ্য। ( আকলে সলীম বলছে, ইমাম কুরতুবি যদি এ যুগের হতেন তাহলে উক্ত আয়াতের প্রতিপাদ্য হিসাবে বর্তমান যুগের ফিরকা বেরেলভী, দেওবন্দী, তাবলীগী, জামায়াতে ইসলামী, ব্রাদারহুড, তালেবান, আইসিস, সূফীবাদ, সালাফী ইত্যাদির কথা উল্লেখ করতেন)।

ব্যাখ্যাঃ রাসূল (সাঃ) এর হাদীস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনায় বুঝা গেল, যারা দ্বীনের মধ্যে বিদাত সৃষ্টি করে জামাত থেকে বের হয়ে গেছে, নতুন দল সৃষ্টি করেছে, ফিরকাবাজি করেছে, উক্ত আয়াত দ্বারা তারাই উদ্দেশ্য। কিয়ামতের দিন তাদের চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হয়ে যাবে এবং তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। এখন উম্মাহর অনুসন্ধান করতে হবে কোন জাতীয় বিদাতের জন্য আল্লাহ তা’লা এত কঠোর শাস্তি দিবেন। সাধারণ ছোট খাট বিদাত যেমন মিলাদ, কিয়াম, মাযার যিয়ারত, দুয়াল্লিন-যুয়াল্লিন, রুকু সেজদায় হাত উঠানো না উঠানো,তারাবি আঁট রাকাত নাকি বিশ রাকাত, একই দিনে রোযা ঈদ ইত্যাদি জাতীয় বিদাত গুলি ইসলাম ও উম্মাহর কোন ক্ষতি করছে না বিধায় এ জাতীয় বিদাতের জন্য আল্লাহ এতবড় শাস্তি দিবেন না।

পক্ষান্তরে বৃহৎ বিদাত হচ্ছে রাসূল সাঃ নুরের সৃষ্টি নাকি মাটির সৃষ্টি বিতর্ক তুলে রেজাখানি বেরেলভিরা মুসলিম জামাত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, সাহাবায়ে কেরাম মি’ইয়ারে হক কিনা বিতর্ক করে জামাত পৃথক ফিরকা বা দল গঠন করল, জিহাদের বিকল্প তাবলীগ- এ বিতর্কে তাবলিগরা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।বিজ্ঞান থেকে ধর্মীয় শিক্ষা আলাদা করে দেওবন্দীরা উম্মাহর শিক্ষা ও চিন্তাধারা বিভক্ত করে দিল, সালাফী ও আহলে হাদীসরা মাযহাব ও তাকলিদ বিতর্কে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, পাশ্চাত্যের পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ধারায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিতর্কে জামাত, ব্রাদার হুড ইত্যাদিরা পৃথক হয়ে গেল, সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্ঠার বিতর্কে তালেবান, আল কায়েদা, আইসিস ইত্যাদিরা উম্মাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। আরো অসংখ্য বিদাত বা নতুন নতুন মতবাদ সৃষ্টি করে উম্মাহ শত শত ফিরকায় বিভক্ত হয়ে গেছে। আর এসব ফিরকা একে অন্যের সাথে কোনরুপ মিল মুহাব্বত তো দুরের কথা বরং তারা পরস্পরকে এতটাই ঘৃণা করে, একে অন্যকে ধবংসের এতটাই প্রচেষ্টা করে যে, কাফেররাও অন্তত এতটা করে না। ফলে একেকটা ফিরকা আজ পৃথিবীর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র সংখ্যালঘুতে পরিনত হয়েছে। বর্তমানে উম্মাহর পরিচয় হচ্ছে, পরস্পর বিদ্বেষী অসংখ্য সংখ্যালঘু জাতি বা ফিরকার একটা সমষ্টি। সঙ্গত কারণেই মুসলিম জাতি বলতে বোঝায় পৃথিবীর দুর্বলতর একটা জাতি। কাজেই বুঝা যাচ্ছে, এই দ্বিতীয় প্রকারের বিদাত ইসলাম ও মুসলিম জাতি ধ্বংস করছে, এমনকি ইসলাম ও মুসলিম পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। এ জন্যই আল্লাহ তা’লা এ জাতীয় বিদাত ও বিদাত সৃষ্টিকারী ফিরকাবাজদের জন্য ঐ কঠিন শাস্তি নির্ধারন করেছেন। কিয়ামতের দিন তাদের চেহারা কৃষ্ণবর্ণ হবে আর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে।

আমাদের আহ্বানঃ- ইসলাম ও উম্মাহর স্বার্থে বিভক্তিবাদিরা এক্ষুনি, এ মহুর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় ইসলাম ও উম্মাহ রক্ষার্থে তাদের সাথে যুদ্ধ করা আবশ্যক। (ধারাবাহিক)

2 Responses

  1. ABUSAIF
    ABUSAIF at |

    আসসালামু আলাইকুম……
    আপনি বলেছেন-
    “””আমাদের আহ্বানঃ- ইসলাম ও উম্মাহর স্বার্থে বিভক্তিবাদিরা এক্ষুনি, এ মহুর্তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় ইসলাম ও উম্মাহ রক্ষার্থে তাদের সাথে যুদ্ধ করা আবশ্যক।”””

    কে কার/কাদের সাথে কিভাবে একত্রিত হবে?
    ঐক্যবদ্ধ অবস্থার নেতৃত্ব কে দেবেন, কিভাবে তা নির্ধারিত হবে?
    কে কার/কাদের সাথে কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করবে?
    এ নেতৃত্ব এবং যুদ্ধ করার ইখতিয়ার কিভাবে অর্জিত হয়েছে?

    “””আমি/আমরাই শুধু সঠিক, আর বাকিরা সব গোমরাহ”””-
    এমন দাবী/বিশ্বাসের চেয়ে বড় গোমরাহী আর কী হতে পারে???

    আরো বলেছেন-
    “”দ্বীনের মধ্যে প্রত্যেক বক্রতা সন্ধানকারী দল, প্রবৃত্তির অনুসারী দল ও বিদাত সৃষ্টিকারীদের উপরই এ আয়াত প্রযোজ্য। ( আকলে সলীম বলছে, ইমাম কুরতুবি যদি এ যুগের হতেন তাহলে উক্ত আয়াতের প্রতিপাদ্য হিসাবে বর্তমান যুগের ফিরকা বেরেলভী, দেওবন্দী, তাবলীগী, জামায়াতে ইসলামী, ব্রাদারহুড, তালেবান, আইসিস, সূফীবাদ, সালাফী ইত্যাদির কথা উল্লেখ করতেন)।”””
    বাহ্, চমতকার!!!!!! ঈমাম কুরতুবীকেও সাথে নিলেন!! ভাগ্যিস তিনি বেঁচে নেই!!

    সবকিছুকে নিজের পছন্দমত ব্যাখ্যা করাটাই বর্তমান যুগের মুসলমানদের সবচেয়ে বড় অপরাধ!!

    রব্বানা লা তুঝিগ কুলুবানা বা’দা ইজ হাদাইতানা……..

    Reply
  2. Shinjan Mogal
    Shinjan Mogal at |

    জামায়াতে ইসলামী বার বার চেষ্টা করেছে উম্মাহককে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য।

    Reply

Leave a Reply