আল-কোরানের কাঠগড়ায় বিভক্তিবাদ- ১৭

ক্ষতিগ্রস্থ ও ব্যর্থ কর্মশীলদের বিবরনঃ

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا [١٨:١٠٣]

বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।

الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا [١٨:١٠٤]

তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। ﴿١٠٤﴾

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا [١٨:١٠٥]

তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন ওজন স্থির করব না। ﴿١٠٥﴾

মুফাসসিরীনে কেরামের মতামতঃ এ আয়াতগুলি পরিত্যক্ত। কারণ বর্তমানের আলেম সমাজ আয়াতগুলিকে ইহুদী, খৃষ্টান ও কাফের মুশরেকদের জন্য প্রযোজ্য ঘোষণা দিয়ে বর্জন করেছেন। অথচ মুফাসসিরীনে কেরামের কেউ এমনটি করেননি, তারা এগুলিকে ব্যাপকার্থে প্রয়োগ করেছেন- নিচের আলোচনাতেই তা বুঝা যাবে।

বস্তুত উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেছেন ইহুদি নাসারা উদ্দেশ্য, কেউ বলেছেন মক্বার কাফেররা, কেউ বলেছেন ইহুদী খৃষ্টান পোরুহিত- রাব্বীরা উদ্দেশ্য, তবে সঠিক কথা হচ্ছে আয়াতগুলি ব্যাপকার্থক বিধায় মুসলিম অমুসলিম সকলের জন্য প্রযোজ্য হবে।

যেমন ঈমাম তাবারী বলেন, والصواب من القول في ذلك عندنا، أن يقال: إن الله عزّ وجلّ عنى بقوله (هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالأخْسَرِينَ أَعْمَالا) كلّ عامل عملا يحسبه فيه مصيبا، وأنه لله بفعله ذلك مطيع مرض، وهو بفعله ذلك لله مسخط، وعن طريق أهل الإيمان به جائر كالرهابنة والشمامسة وأمثالهم من أهل الإجتهاد في ضلالتهم، وهم مع ذلك من فعلهم واجتهادهم بالله كفرة، من أهل أيّ دين كانوا.

অর্থাৎ আমাদের নিকট সঠিক মনে হচ্ছে, অত্র আয়াত দ্বারা আল্লাহ তা’লা উদ্দেশ্য নিয়েছেন এমন প্রত্যেক আমলকারি যে স্বীয় আমলকে সঠিক মনে করে এবং স্বীয় আমল দ্বারা আল্লাহর আনুগত্য কারী এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট কারী মনে করে। অথচ তার সেই কর্ম দ্বারা সে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে। আর ঈমানদাররা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করার পদ্ধতি হচ্ছে, স্বীয় কর্মে সীমালঙ্ঘন করা। যেমন বৈরাগ্যবাদ ও যাজকত্ব গ্রহণ করা এবং মুজতাহিদ কর্তৃক অনুরুপ ভ্রান্ত ইজতিহাদ করা। তারা নিজেদের কর্ম ও ইজতিহাদ দ্বারা আল্লাহর সাথে কুফুরী করে, তা তারা যে কোন ধর্মের অনুসারী হউক না কেন।

ইমাম ইবনে কাছির বলেন, হযরত আলী (রাঃ) প্রভৃতি সাহাবীদের মতে এর দ্বারা খারেজীরা উদ্দেশ্য। ভাবার্থ এই যে, এই আয়াত দ্বারা যেমন ইহুদী ও খৃষ্টানরা উদ্দেশ্য, অনুরূপভাবে খারেজীরাও এর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, আয়াতটি ব্যাপকার্থক। যে কেউই আল্লাহ তা’লার ইবাদত ও আনুগত্য ঐ পন্থায় করবে, যে পন্থা আল্লাহ তা’লার নিকট পছন্দনীয় নয়, তারা সবাই এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত। যদিও তারা নিজেদের আমলে খুশী হয় এবং মনে করে নেয় যে, তারা আখেরাতের পাথেয় অনেক কিছু সংগ্রহ করে নিয়েছে এবং তাদের নেক আমল আল্লাহ তা’লার নিকট পছন্দনীয় ও তাদের সৎ আমলের বিনিময় তারা অবশ্যই লাভ করবে। কিন্তু তাদের এই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। তাদের আমল আল্লাহ তা’লার নিকট গ্রহণীয় নয়, বরং বর্জনিয়। তারা ভুল ধারনাকারী লোক।

এগুলি মক্বায় অবতীর্ণ আয়াত। আর এটা স্পষ্ট যে, মক্বায় নাযিলকৃত আয়াতগুলি দ্বারা যেমন ইহুদী খৃষ্টান সম্ভোদিত নয় তদ্রুপ তখন খারেজীদের অস্তিত্ব ছিল না বিধায় তারাও সম্ভোদিত নয়। কাজেই উক্ত আয়াত দ্বারা ইহুদী, খৃষ্টান, খারেজী ও তাদের মত অন্যান্য যারা আছে সবাই উদ্দেশ্য হবে।

তারপর ইমাম ইবনে কাছির কয়েকটি আয়াত উল্লেখ করে বলেন, এরা ঐ সব লোক যারা নিজেদের পন্থায় ইবাদত ও আমল তো করে এবং মনেও করে যে, তারা অনেক কিছু পুণ্যময় কাজ করলো এবং সেগুলো আল্লাহ তা’লার নিকট গ্রহণীয় ও পছন্দনীয়। কিন্তু তাদের ঐ আমলগুলো আল্লাহ তা’লার নির্দেশিত পন্থায় ছিল না এবং তাঁর রাসূলের (সাঃ) নির্দেশ মুতাবেকও ছিল না বলে সেগুলো গ্রহণীয় হওয়ার পরিবর্তে বর্জনীয় হয়ে গেলো এবং প্রিয় হওয়ার পরিবর্তে অপ্রিয় ও অপছন্দনীয় হয়ে গেলো। কেননা, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতো।

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ – অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় তিনি বলেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ: “إِنَّهُ لَيَأْتِي الرَّجُلُ الْعَظِيمُ السَّمِينُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يزن عند الله جناح بعوضة” وقال: “اقرؤوا إِنْ شِئْتُمْ: {فَلا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا

وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ: حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ صَالِحٍ مَوْلَى التَّوْأمة، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: “يُؤْتَى بِالرَّجُلِ الْأَكُولِ الشَّرُوبِ الْعَظِيمِ، فَيُوزَنُ بِحَبَّةٍ فَلَا يَزِنُهَا”. قَالَ: وَقَرَأَ: {فَلا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا}

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন একটা মোটা তাজা ও ভারী ওজনের লোককে আনয়ন করা হবে। কিন্তু আল্লাহ তা’লার কাছে তাঁর ওজন একটি মশার পাখার সমানও হবে না”। তারপর তিনি বলেনঃ “তোমরা ইচ্ছা করলে. فَلا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا.. এই আয়াতটি পাঠ করে নাও”।

মুসনাদে ইবনু আবি হা’তিমের বরাতে রয়েছে যে, খুব বেশী পানাহারকারী মোটা তাজা লোককে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’লার সামনে হাজির করা হবে। কিন্তু তাঁর ওজন শস্যের দানার সমানও হবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এই আয়াতটি পাঠ করেন।

عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَقْبَلَ رَجُلٌ مِنْ قُرَيْشٍ يَخْطُرُ فِي حُلَّةٍ لَهُ. فَلَمَّا قَامَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: “يَا بُرَيْدَةُ، هَذَا مِمَّنْ لَا يُقِيمُ اللَّهُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا”

মুসনাদে বাযযারে রয়েছে যে, একজন কুরায়েশী হুল্লা (লম্বা পোশাক বিশেষ) পরিধান করে অহংকার ভরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর পার্শ্ব দিয়ে গমন করে। তখন রাসূল (সাঃ) হযরত বুরাইদা (রাঃ)কে বলেন “এই লোকটি ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের আল্লাহ তা’লার নিকট কিয়ামতের দিন কোনই ওজন হবে না” ।

বাস্তব প্রয়োগঃ- কোরান সার্বজনিন সর্বকালিন। কাজেই উক্ত আয়াত মুসলিম অমুসলিম সকল সম্প্রদায়ের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। অত্র আয়াতত্রয়ে আল্লাহ তা’লা ইরশাদ করেন যারা মনে করে যে, তারা উত্তম কর্ম সম্পাদন করছে অথচ এ কর্মের কারণেই তারা ক্ষতিগ্রস্থ এবং তাদের সকল কর্ম প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এখন অত্র আয়াত বাস্তবতায় প্রতিস্থাপন করলে আমরা দেখতে পাই, ইসলামের প্রতিটি ফেরকা এ আয়াতের প্রতি পাদ্য হয়েছে। যেমন মিসরের ব্রাদারহুড ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ। শহীদ হাসান বান্না, সায়্যেদ কুতুব থেকে নিয়ে বর্তমান পর্যন্ত হাজার হাজার নেতা কর্মিকে হত্যা করা হয়েছে। জেল, যুলুম, নির্যাতন অর্থনৈতিক ক্ষতির কোন সীমা পরিসীমা নাই। যেমন জয়নব আল গাযালি লিখিত কারাগারে রাতদিন বইটিতে পাশবিক নির্যাতনের কিছুটা চিত্র ফুটে উঠেছে। আবার ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য শতাব্দি ব্যাপি তাদের যে চেষ্টা প্রচেষ্টা, ত্যাগ তিতিক্ষা সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে, ক্ষমতায় এসেও তারা টিকে থাকতে পারেনি। অথচ তারা মনে করে সঠিক কর্মপন্থাই তারা অবলম্বন করেছে। ভারত বর্ষে জামাতে ইসলামির অসংখ্য নেতা কর্মিকে হত্যা করা হয়েছে এবং হচ্ছে। জান মাল উভয় দিক থেকে তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ। পৌনে এক শতাব্দি ব্যাপি ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তাদের চেষ্টা তদবির কুরবানি সবই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। অথচ তারা মনে করে যে, সঠিক কর্ম প্রচেষ্টাই তারা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার দেওবন্দীরা তো সম্পূর্নই ব্যর্থ, তারা তো দেশের নাগরিক হিসাবেই গন্য নয়। কারণ স্কুলে একটি ছেলে ৮ম/১০ম শ্রেণী পাস করে একটি চাকরি পেতে পারে কিন্তু দেওবন্দী ধারায় সাড়া জীবন লেখা পড়া করেও সরকারি খাতায় সে নিরক্ষর এবং জাতীয় খেদমত তথা চাকরির জন্য অযোগ্য। সংবিধানের সমানাধিকারের অপ্রাপ্তি প্রমাণ করে যে, তারা নাগরিক নয়। আবার যে দলই ক্ষমতায় যায়- সবাই তাদেরকে মারে, হত্যা করে, জঙ্গি মৌলবাদী ইত্যাদি বলে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে, অন্যান্য জুলুম নির্যাতন তো আছেই। অথচ দেওবন্দীরা মনে করে তারা ইসলামের জন্য নিজেদের জিবন যৌবন উৎসর্গ করে উত্তম কর্ম সম্পাদন করে যাচ্ছে। এভাবে যতগুলি ফিরকা আছে পার্থিব জীবনে তাদের সকল কর্ম- প্রচেষ্টা ব্যর্থ এবং তারা জান ও মালের দিক দিয়ে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ। আবার ফিরকাবাজির কারণে তাদের পরকালও শঙ্খামুক্ত নয়। এখন প্রশ্ন হল এ ব্যর্থতার কারণ কী, তাহলে কী কেউ ইসলামী আন্দোলন করবে না? হ্যাঁ করবে, অবশ্যি করবে, ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করা ফরয। তবে তা করতে হবে কোরান-সুন্নাহ নির্দেশিত পথ ও পদ্ধতিতে। আর সে পদ্ধতিটি হচ্ছে, ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করা। কাজেই ঐক্যহীনতার কারণেই ইসলাম ও ইসলামী দলগুলি পরম্পরায় মার খেয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে তারা মারও খেতে থাকবে ইসলামও প্রতিষ্ঠিত হবে না- যতক্ষন পর্যন্ত না তারা ঐক্যবদ্ধ হয়। যেমন আল্লাহর নির্দেশ,-. أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ. অর্থাৎ বিভক্ত না হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর)। কাজেই ঐক্য হলে চোখের পলকে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে, এ জাতি গোলামীর আসন থেকে প্রভুত্বের আসনে অভিষিক্ত হবে। উল্লেখ্য যে, ব্রাদারহুড, জামাত ও দেওবন্দীদের প্রতি সহানুভূতি ও তাদের সাফল্যের লক্ষে তাদের ভুলগুলি তুলে ধরতে হচ্ছে। কারণ তাদের ঐক্যহীনতা, গোঁড়ামি ও কোরানের নির্দেশ বর্জনের ফলে আজ ইসলামের সন্তানরা মার খাচ্ছে আর দাজ্জালের সন্তানরা নেতৃত্ব করছে। আর কোন মুমিনের পক্ষে এ অবস্থা মেনে নেয়া সম্ভব নয়।

আমাদের আহ্বানঃ

ঐক্য ফরয বিভক্তি হারাম। আবার মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ফরয তা ভঙ্গ করা হারাম। আবার বিভক্তি ও ঐক্যহীনতার কারণে মুসলিম জাতি আজ ধ্বংসের শেষ ঘাটি অতিক্রম করছে। কাজেই আমরা মরক্বো থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত সকল ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও পেশাজীবি দল-সংগঠনের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে আমাদের মূলনীতি হচ্ছে, কোন রাজনৈতিক দল বা কোন সংস্থা, সংগঠন ঐক্য ফ্রন্টে না আসতে চাইলে তাদের বুঝিয়ে শুনিয়ে কৌশলে বা চাপ দিয়ে ঐক্যের পথে আনতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আলেম সমাজের তত্ত্বাবধানে ঐক্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। তবে কোন আলেম যদি ঐক্যের পথে না এসে বিরোধিতা করে, যেমন কোন শিয়া আলেম যদি বলে সুন্নী কাফেরের সাথে ঐক্য নাই, তদ্রুপ সুন্নী আলেম বলে শিয়া কাফেরের সাথে ঐক্য নাই বা জামাতী বলে তাবলীগি তরিকতীদের সাথে ঐক্য নাই, তাবলীগি ও তরিকতীরাও তাই বলে, তদ্রুপ হানাফী সালাফী ইত্যাদি যে কোন ফিরকার আলেম যদি বলে ঐক্যের দরকার নাই। অথবা যদি তারা বলে-

قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَٰلِكَ يَفْعَلُونَ –তারা বলে — ”না, আমাদের পিতৃপুরুষদের আমরা দেখতে পেয়েছি এইভাবে তারা করছে (২৬: ৭৪)إِنَّا وَجَدْنَا آبَاءَنَا عَلَىٰ أُمَّةٍ وَإِنَّا عَلَىٰ آثَارِهِم مُّهْتَدُونَ ” — আমরা তো আমাদের পিতৃপুরুষদের একটি সম্প্রদায়ভুক্ত (মযহাব বা ফিরকা) পেয়েছি আর আমরা নিঃসন্দেহে তাদেরই পদচিহ্নের উপরে পরিচালিত হয়েছি (৪৩: ২২)

قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا — তারা বলে — ”না, আমরা অনুসরণ করব আমাদের বাপদাদাদের যাতে পেয়েছি তার। قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ آبَاءَنَا — তারা বলে — ”আমাদের জন্য এই যথেষ্ট যার উপরে আমাদের পিতৃপুরুষদের দেখেছি)।

অর্থাৎ তারা যদি বলে আল-ফাদলু লিল-মুতাকাদ্দিমিন। কাজেই পূর্ববর্তী বুজুর্গরা আমাদের চেয়ে কম জ্ঞানী ছিলেন না, তারা চিন্তা গবেষণা ও ইজতিহাদ করে যে পথ ও মত দিয়ে গেছেন- আমরা তাঁর উপরই আছি এর বাইরে যেতে রাজি নই, ঐক্যের দরকার নাই। তাহলে অবশ্যই তাকে কঠিনতর শাস্তি দিতে হবে। কারণ সে শয়তান। মোট কথা তাকে নযিরবিহীন কঠিনতর শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে যাতে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন আলেম নামধারি শয়তান উম্মতের মধ্যে ফেরকা বিভক্তির দুঃসাহস না দেখায়। বস্তুত এ জাতীয় আলেমকে হত্যা করা অত্যাবশ্যক। কারণ এরা পৃথিবীতে—حزب الشيطان- অথবা সরাসরি শয়তান। যেমন وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا আর এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু, মানুষ ও জ্বীন-এর মধ্যেকার শয়তানদের, তারা একে অন্যকে প্ররোচিত করে চমক্‌প্রদ বাক্য দ্বারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে।(৬: ১১২)।আলেম নামধারি এ মানব শয়তানরা চমক্‌প্রদ কথা দ্বারা বিভক্তি সৃষ্টি করে উম্মাহর ইহকাল-পরকাল ধ্বংস করছে।

২। এরা গাফেল, ইতর প্রাণীর চেয়েও নিকৃষ্ট। যেমন – وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ ﴿الأعراف: ١٧٩﴾ = আর আমরা জাহান্নামের জন্য নিশ্চয়ই সৃষ্টি করেছি জ্বীন ও মানুষের মধ্যের অনেককে, — তাদের হৃদয় আছে তা দিয়ে তারা বুঝে না, আর তাদের চোখ আছে তা দিয়ে তারা দেখে না, আর তাদের কান আছে তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা গবাদি-পশুর ন্যায়, বরং তারা আরো পথভ্রষ্ট। তারা নিজেরাই হচ্ছে উদাসীন। (৭: ১৭৯)

ব্যাখ্যাঃ ইসলামের বিধান হচ্ছে, বুনিয়াদি বিষয়ে এখতেলাফ জায়েয নেই, কিন্তু ফুরুয়ি (শাখাগত) বিষয়ে জায়েয আছে, তবে এখতেলাফের উপর ভিত্তি করে বিভক্তি জায়েয নেই। কিন্তু আলেমগণ শরীয়ত বহির্ভুত তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয়- যেমন রাসূল নুরের সৃষ্টি নাকি মাটির সৃষ্টি, সাহাবায়ে কেরাম মি’য়ারে হক কিনা, মাযার যিয়ারত- ইত্যাদি নগন্য বিষয়ের এখতেলাফের উপর ভিত্তি করে শত শত ফেরকার জন্ম দিয়েছেন। আর প্রতিটি ফেরকা পরস্পরের জানী দুশমনে পরিণত হয়েছে। ফলে মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভ্রাতৃঘাতি কামড়া কামড়ি চলছে। তারা দুর্বল থেকে দুর্বলতর সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে পৃথিবীর সকল অমুসলিম জাতি মহাউল্লাসে মুসলিম নিধনযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে, নির্যাতন করছে, শোষণ করছে। বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমান মাতম করছে, আর্তনাদ করছে। যেমন-

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا ﴿النساء: ٧٥﴾ = আর তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও)।

কিন্তু তাদের সাহায্য করার কেউ নেই। বিভক্তিবাদী আলেমদের অন্তর আছে, কিন্তু সেই অন্তর দ্বারা তারা কিছুই অনুভব করে না, তাদের কর্ন আছে, কিন্তু সেই কর্নে মজলুম মুসলমানের আর্তনাদ পৌছে না, তাদের চক্ষু আছে কিন্তু সেই চোখ দিয়ে তারা ফিলিস্তিন, আরাকান, জিংজিয়াং, কাশ্মিরে আবাল বৃদ্ধ বনিতার ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পায় না। তাদের ফিরকাবাজির অপকর্মের কারণে আজ মুসলিম জাতি ধ্বংসের পথে। ফিরকাবাজি না থাকলে, উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ অবস্থার উদ্ভব হতো না বরং মুসলমানরা পূর্বপুরুষের ন্যায় বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত থাকত। অন্তর থাকা সত্ত্বেও তাদের সেই অনুভূতি নেই। কাজেই আল্লাহ তাদেরকে চতুস্পদ জন্তুর সাথে তুলনা করেছেন বরং এর চেয়েও নিকৃষ্ট। সুতরাং এরাই গাফেল আর গাফেলের জন্য জাহান্নাম অবধারিত।

কিন্তু বিভক্তিবাদী আলেমরা তো ক্বীল ও ক্বালের ব্যাপারে বনী ইসরাইলের চেয়ে বেশি বৈ কম নয় বিধায় তারা আপত্তি তুলবে, এ আয়াত কাফেরদের জন্য প্রযোজ্য মুসলমানের জন্য নয়। এটা মিথ্যা দাবী। কারণ আয়াতের মধ্যেই এর উত্তর নিহিত আছে। যেমন আয়াতে আল্লাহ তা’লা বলেন, তিনি জ্বীন ইনসানের অধিকাংশকে জাহান্নামের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। এখানে তিনি কাফের মুশরিক নির্ধারিত না করে ইনসান- আম বা ব্যাপকার্থক শব্দ উল্লেখ করেছেন- যার মধ্যে মুসলিম অমুসলিম উভয় শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত। আর জাহান্নামের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন হৃদয়- চক্ষু- কর্ন থাকা সত্ত্বেও এগুলোকে সঠিক বিবেচনাধিন প্রয়োগ না করার অপরাধ। আর এ অপরাধটি কাফেরদের সাথে সাথে বর্তমান আলেম সমাজের উপর অতি উত্তমরূপেই প্রযোজ্য হবে। কারণ নিজেদের অপকর্মের কারণে চোখের সামনে স্বজাতি ধ্বংস হয়ে গেলেও যাদের হৃদয়-চক্ষু-কর্ন জাগ্রত হয় না, তারা কাফেরের চেয়েও নিকৃষ্ট। কাজেই একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই তাদের যথার্থ প্রাপ্য।

আমাদের দায়িত্ব

ইরশাদ হচ্ছে – ﴿وَإِن طَائِفَتَانِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اقْتَتَلُوا فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا ۖ فَإِن بَغَتْ إِحْدَاهُمَا عَلَى الْأُخْرَىٰ فَقَاتِلُوا الَّتِي تَبْغِي حَتَّىٰ تَفِيءَ إِلَىٰ أَمْرِ اللَّهِ ۚ فَإِن فَاءَتْ فَأَصْلِحُوا بَيْنَهُمَا بِالْعَدْلِ وَأَقْسِطُوا ۖ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ﴾

৯) ঈমানদারদের মধ্যকার দু’টি দল যদি পরস্পর লড়াইয়ে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও৷ তারপরও যদি দু’টি দলের কোন একটি অপরটির বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করে তবে যে দল বাড়াবাড়ি করে তার বিরুদ্ধে লড়াই করো৷ যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে৷ এরপর যদি তারা ফিরে আসে তাহলে তাদের মাঝে ন্যায় বিচারের সাথে মীমাংসা করিয়ে দাও এবং ইনসাফ করো৷ আল্লাহ ইনসাফকারীদের পছন্দ করেন৷

﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ﴾

১০) মু’মিনরা তো পরস্পর ভাই ভাই ৷ অতএব তোমাদের ভাইদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক করে দাও৷ আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমাদের প্রতি মেহেরবানী করা হবে৷

সুতারাং আমরা হলাম মীমাংসা কারী সেই দল। কাজেই আমরা মুসলিম জাতির মধ্যে সকল ফেরকা বিভক্তি মাড়িয়ে আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি, যারা ঐক্যের পথে আসবেনা কোরানের নির্দেশ অনুসারে তাদের বিরুদ্দে জিহাদ করা আমাদের জন্য ফরজ। কারণ আয়াতে – ٰ فَقَاتِلُوا (যুদ্ধ কর) আমর বা অনুজ্ঞার শব্দ এসেছে-যা দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। কাজেই আমরা তাদের বিরুদ্দে জিহাদ করব যতক্ষন পর্যন্ত না তারা ঐক্যের পথে ফিরে আসে অথবা সমুলে ধ্বংস হয়।

One Response

  1. আবু সাইফ
    আবু সাইফ at |

    আসসালামু আলাইকুম…………..
    আপনি বলেছেন-
    “সুতারাং আমরা হলাম মীমাংসা কারী সেই দল। কাজেই আমরা মুসলিম জাতির মধ্যে সকল ফেরকা বিভক্তি মাড়িয়ে আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি, যারা ঐক্যের পথে আসবেনা কোরানের নির্দেশ অনুসারে তাদের বিরুদ্দে জিহাদ করা আমাদের জন্য ফরজ। কারণ আয়াতে – ٰ فَقَاتِلُوا (যুদ্ধ কর) আমর বা অনুজ্ঞার শব্দ এসেছে-যা দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। কাজেই আমরা তাদের বিরুদ্দে জিহাদ করব যতক্ষন পর্যন্ত না তারা ঐক্যের পথে ফিরে আসে অথবা সমুলে ধ্বংস হয়।”

    “”আমরা হলাম মীমাংসা কারী সেই দল।””” এমন দাবীদারের সংখ্যাও তো কম নয়!
    আপনারাই সেই দল- এ দাবীর ভিত্তি কী??

    রাসূলﷺ তো আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে মনোনীত ও প্রেরিত! কিন্তু অপর কোন মানুষ তেমন দাবী করতে পারে কি?

    কোন কোন আয়াতের ব্যাখ্যার শেষে আপনার নিজস্ব বক্তব্যটুকু সামঞ্জস্যহীন মনে হয়!! এমন কথাও বলেছেন যা সকল ফুকাহায়ে কিরামের সর্বসম্মত রায়ের বিপরীত!!

    আপনার এ কতাগুলোও চমতকৃত হওয়ার মত বটে-
    “”অর্থাৎ তারা যদি বলে আল-ফাদলু লিল-মুতাকাদ্দিমিন। কাজেই পূর্ববর্তী বুজুর্গরা আমাদের চেয়ে কম জ্ঞানী ছিলেন না, তারা চিন্তা গবেষণা ও ইজতিহাদ করে যে পথ ও মত দিয়ে গেছেন- আমরা তাঁর উপরই আছি এর বাইরে যেতে রাজি নই, ঐক্যের দরকার নাই। তাহলে অবশ্যই তাকে কঠিনতর শাস্তি দিতে হবে। কারণ সে শয়তান। মোট কথা তাকে নযিরবিহীন কঠিনতর শাস্তি দিয়ে হত্যা করতে হবে যাতে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন আলেম নামধারি শয়তান উম্মতের মধ্যে ফেরকা বিভক্তির দুঃসাহস না দেখায়। বস্তুত এ জাতীয় আলেমকে হত্যা করা অত্যাবশ্যক। কারণ এরা পৃথিবীতে—حزب الشيطان- অথবা সরাসরি শয়তান। যেমন وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا আর এইভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর জন্যে সৃষ্টি করেছি শত্রু, মানুষ ও জ্বীন-এর মধ্যেকার শয়তানদের, তারা একে অন্যকে প্ররোচিত করে চমক্‌প্রদ বাক্য দ্বারা প্রতারণার উদ্দেশ্যে।(৬: ১১২)।আলেম নামধারি এ মানব শয়তানরা চমক্‌প্রদ কথা দ্বারা বিভক্তি সৃষ্টি করে উম্মাহর ইহকাল-পরকাল ধ্বংস করছে।”””
    বালআম বাউরা-র দোয়া করার ব্যাপারটা মনে পড়ছে- আপনার কথাগুলো আপনার নিজেরই বিপক্ষে যাচ্ছেনা কি???

    আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন!!

    Reply

Leave a Reply