ভারত-বাংলাদেশ ‘নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর’ সুপারিশ

সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে দশটি বইয়ের লেখক জয়দীপ সাইকিয়া রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সম্মেলনে মিয়ানমারকেও এই নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্ত করার পরামর্শ দেন। আসামের সন্তান সাইকিয়া বাংলাদেশের ভূখণ্ডে উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ ইতিহাস সম্মিলনি ও কলকাতার সেন্টার ফর ইস্ট অ্যান্ড নর্থ-ইস্ট রিজিওনাল স্টাডিজ যৌথভাবে বাংলা একাডেমিতে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।সরকারের মন্ত্রী, শিক্ষাবিদ, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও দুই দেশের সাবেক কয়েকজন কূটনীতিক এ সম্মেলনে অংশ নেন।সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সহযোগিতা নিয়ে একটি পর্বে সাইকিয়া বলেন, শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণেই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দিল্লির সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে।    

ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সশস্ত্র সদস্যরা বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে আসামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল ভারতের। ২০০৯ সালে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বেশ কয়েকজন উলফা নেতা গ্রেপ্তার হন। এই ভূমিকার জন্য ভারত সরকারও শেখ হাসিনার প্রশংসা করে আসছে। গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সীমান্তে যৌথ টহল এবং আসামি প্রত্যর্পণ আইন করে অপরাধীদের হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার হয়েছে বর্তমান সরকারের সময়ে।

সাইকিয়া বলেন, “দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি কি হবে, তা এখন স্পষ্ট। মিয়ানমারে এখন নতুন সরকার এসেছে, তাদেরও এতে সম্পৃক্ত করা যায়।” সীমান্ত ব্যবস্থাপানার উন্নয়ন ও দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি একটি জয়েন্ট টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেছেন, যেখানে দুই দেশের গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরাও থাকবে।

দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ মহড়ার আয়োজন এবং সমুদ্র সীমার নিরাপত্তায় একটি যৌথ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলারও সুপারিশ করেছেন সাইকিয়া। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষক ইশফাক ইলাহি চৌধুরী সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যমত্যের ওপর জোর দেন। বিমান বাহিনীর এই সাবেক কর্মকর্তাও সন্ত্রাস দমনে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য যৌথ মহড়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

উৎসঃ  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, ২৭ মার্চ ২০১৬ 

রিলেটেড নিউজঃ 

ভারতের উচিত বাংলাদেশকে উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা– বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ভারতের মতো বন্ধু রাষ্ট্রকে আমাদের মতো প্রতিবেশীকে উদার দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত। তাহলে আমাদের মতো ছোট দেশের জন্য সুবিধা হয়। রোববার বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা শীর্ষক সম্মেলনের কর্মঅধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাস সম্মিলনী ও কলকাতাভিত্তিক সেন্টার ফর ইস্ট অ্যান্ড নর্থ রিজিয়ন স্টাডিজ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমাদের সবারই বাস্তববাদী হওয়া উচিত। ভারত বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশেরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হচ্ছে। আমাদের প্রত্যাশা সৎ প্রতিবেশী ভারত বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে পাশে থাকবে। সম্মেলনে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কিছু কিছু আমলাতান্ত্রিক এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের সম্পর্কে কখনও কখনও প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। যেহেতু সার্কের ভবিষ্যৎ খুব আশাব্যঞ্জক নয়, তাই আমাদের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমেদের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এমএম আকাশ প্রমুখ। 

উৎসঃ যুগান্তর, ২৮ মার্চ, ২০১৬

Leave a Reply