ভারতের বৈদেশিক নীতি বুঝার জন্য আমাদের বুঝতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির চিত্র।চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক এক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ন।তবে চীনের সাথে দুনিয়ার অন্যান্য বৃহৎ শক্তিদের সম্পর্ক আরো গুরুত্বপুর্ন।এজন্য সংক্ষিপ্ত আকারে এখানে বিশিষ্ট সাংবাদিক John Pilger এর সাম্প্রতিক একটি নিবন্ধ দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বর্তমান চিত্র বুঝা যাবে খানিকটা।
- A world war has begun. Break the silence – John Pilger, RT, 22 Mar, 2016
To my knowledge, no journalist in the Western “mainstream” – a Dan Rather equivalent, say – asks why China is building airstrips in the South China Sea. The answer ought to be glaringly obvious. The United States is encircling China with a network of bases, with ballistic missiles, battle groups, nuclear-armed bombers.
This lethal arc extends from Australia to the islands of the Pacific, the Marianas and the Marshalls and Guam, to the Philippines, Thailand, Okinawa, Korea and across Eurasia to Afghanistan and India. America has hung a noose around the neck of China. This is not news. Silence by media; war by media.
In 2015, in high secrecy, the US and Australia staged the biggest single air-sea military exercise in recent history, known as Talisman Sabre. Its aim was to rehearse an Air-Sea Battle Plan, blocking sea lanes – such as the Straits of Malacca and the Lombok Straits – that cut off China’s access to oil, gas and other vital raw materials from the Middle East and Africa.
In 1947, a series of National Security Council directives described the paramount aim of American foreign policy as “a world substantially made over in [America’s] own image.” The ideology was messianic Americanism. We were all Americans. Or else. Heretics would be converted, subverted, bribed, smeared or crushed. (বিস্তারিত লিংকে যেখানে লেখক আমেরিকান ফরেইন পলিসি, বর্তমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে পর্যালোচনা করেছেন)
আমেরিকান ফরেইন পলিসির সাথে সম্পর্কিত রাশিয়া ও চীনের প্রতিক্রয়া।আর ভারতীয় উপমহাদেশে ভারত হচ্ছে আমেরিকার জুনিয়র পার্টনার।এই চিত্রটা মাথায় রেখেই বাংলাদেশের মত ছোট দেশে ভারতীয় বৈদেশিক নীতির প্রভাব বুঝতে হবে।
- ভারতের সহযোগী উন্নয়ন পথ, দৈনিক ইত্তেফাক, ২৯ মার্চ, ২০১৬
চারিদিকে নানাবিধ হট্টগোলের ভেতর কয়েকটি কাজ তাই বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে: (১) চট্টগ্রাম বন্দরে যাতে ভারত সরাসরি, ভিন্ন দেশ হবার কারণে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া, প্রবেশ ও ব্যবহার করতে পারে তার ব্যবস্থা হচ্ছে। (২) পারমাণবিক ব্যবস্থাপনায় ভারতের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। (৩) বঙ্গোপসাগরে ‘সমুদ্র অর্থনীতি’ বিকাশে ভারতের সাথে যৌথ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কাজ চলছে। (৪) ট্রানজিটের বিষয়ে সকলদিকে অগ্রগতি হচ্ছে দ্রুত। (৫) মোদী সরকারের ঘনিষ্ঠ আদানি ও রিলায়েন্স গ্রুপ বিদ্যুত্ খাতে একাধিক প্রকল্পের অনুমোদন পাচ্ছে। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহে বাধ্যবাধকতা এবং প্রায় তিনগুণ বেশি দামে বিদ্যুত্ ক্রয়ের ব্যবস্থা থাকছে তাতে। এসব চুক্তি হচ্ছে দায়মুক্তি আইন অনুযায়ী, কোনো স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া ছাড়াই। (৬) বাংলাদেশের উপগ্রহ ব্যবস্থাপনায় ভারত যুক্ত থাকতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। (৭) সুন্দরবনবিধ্বংসী যৌথ বিদ্যুত্ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেবার পাশাপাশি এই এলাকায়, প্রতিবাদী জনযাত্রা চলাকালীন সময়ে, ভারত বাংলাদেশের যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। (৮) একই এলাকায় ভারতের জন্য একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
- চীনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শ্রীলঙ্কায় নোঙর করল ভারতের দুই যুদ্ধজাহাজ, আনন্দবাজার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৬
ভারত মহাসাগরে আধিপত্য কায়েমের লড়াইতে চিনকে জোর ধাক্কা দিল ভারত। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় বন্দর গড়ে নৌবহর মোতায়েন করেছিল চিন। সেই বন্দর থেকে ফিরে গেল চিনের তিন যুদ্ধজাহাজ। আর তার পরই ভারতীয় নৌসেনার সবচেয়ে বড় এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার আইএনএস বিক্রমাদিত্য নোঙর করল কলম্বোতে। সেখানে স্থায়ীভাবে ভারতীয় নৌবহর মোতায়েন করার কথাও ভাবতে শুরু করেছে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। শ্রীলঙ্কা সরকারও সব রকম সহযোগিতায় তৈরি।
মাহিন্দা রাজাপাক্ষে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ক্রমশ দূরত্ব বাড়ছিল নয়াদিল্লি আর কলম্বোর মধ্যে। চিনের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার দ্রুত ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকা মোটেই পছন্দ ছিল না ভারত সরকারের। কিন্তু ভারতকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে শুরু করেন রাজাপাক্ষে। চিন কলম্বোতে বন্দরও বানাতে শুরু করে। সেখানে মোতায়েন করা হয় চিনা নৌবহর। ভারতকে চাপে রাখতে চিনের বেশ কয়েকটি সাবমেরিনকেও পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলম্বোর চিনা বন্দরে। সেই বন্দরকে কাজে লাগিয়ে গোটা ভারত মহাসাগরেই দাপট বাড়াচ্ছিল চিন।
বৃহস্পতিবার কলম্বোয় নোঙর করেছে আইএনএস বিক্রমাদিত্য এবং আইএনএস মাইসোর। শনিবার পর্যন্ত দুই ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ সেখানে থাকবে। ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ দু’টি ঘিরে শ্রীলঙ্কায় প্রবল উৎসাহও দেখা দিয়েছে। সে দেশের নৌসেনার আধিকারিকরা ভারতীয় নৌসেনার যুদ্ধজাহাজগুলি ঘুরে দেখেন বৃহস্পতিবার। স্কুল পড়ুয়াদেরও সুযোগ করে দেওয়া হয় আইএনএস বিক্রমাদিত্য দেখার।
ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, নৌসেনার দুই যুদ্ধজাহাজ ‘গুডউইল ভিজিট’ অর্থাৎ ‘সদ্ভাবনা সফর’-এ কলম্বো গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশারদরা বলছেন, আসলে কলম্বোয় রণতরী পাঠিয়ে বেজিংকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ ছুড়ল নায়াদিল্লি। ভারত মহাসাগরে চিনের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা যে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না, তা বুঝিয়ে দিল ভারতীয় নৌসেনা। শুধু শ্রীলঙ্কা নয় মায়ানমার, বাংলাদেশ, সেশ্যেলস, মরিশাস, মালদ্বীপ— ভারত মহাসগরীয় অঞ্চলকে ঘিরে ছড়িয়ে থাকা এই সব দেশেও নৌবহর মোতায়েনের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
- চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্যই আসামে ভারতের পরমাণু ঘাটি: পরেশ, বাংলা বিডি নিউজ, ২৬ মার্চ ২০১৬
চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে উত্তর-পূর্বের আসাম রাজ্যে ভারত গোপনে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করেছে বলে সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে আসামের গেরিলা সংগঠন উলফা। বিবৃতিতে উলফা জানায়, ভারত ইতিমধ্যেই ইন্দো-রাশিয়ান প্রযুক্তির ব্রহ্ম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরির জন্য নাগাল্যান্ডে এবং অক্ষ পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরির জন্য আসামে স্থান নির্ধারণ ও জরিপের কাজ সম্পন্ন করেছে।
টাইমস অফ আসামে উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘প্রায় এক শতক ধরে চীনের সঙ্গে রাজ্যটির কোনো বিরোধ না থাকলেও চীন ভারত দ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে স্যান্ডউইচড হতে যাচ্ছে আসাম।’’
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধে ভারতের সৈন্যরা পালিয়ে গেলেও চীন আসামের ওপর কোনো আঘাত হানেনি। এখন আবার যদি দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বাধে তবে নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে তা আসামের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক হবে বলে জানান উলফা কমান্ডার। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘‘কেননা স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধে চীনের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে আসামের পরমাণু ঘাটি যা দেশটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে।’’
তিনি বলেন, ‘‘অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যে যুদ্ধ বাধার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি তৈরি করছে আসাম ভূখণ্ডে। যার ফলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে মূল্য দিতে হবে।’’ উল্লেখ্য এর আগে আসামের জোড়পুকুর এলাকায় বিশাল জায়গাজুড়ে ভারতের ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ারের জন্য বিমানবাহিনীর ঘাঁটি তৈরিতেও ভারত সরকারকে বাধা দিয়েছিল উলফা।ভারতের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে উলফাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নবাদী সংগঠনগুলো চীনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজার রাখছে বলে অভিযোগ করা হলেও চীন বরাবরই এ বক্তব্য অস্বীকার করে আসছে।
- ভারত-চীন সম্পর্ক ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি, তারেক শামসুর রেহমান, যুগান্তর, ০৩ মার্চ ২০১৫
ইতিমধ্যে ওবামার ভারত সফর (২৫ জানুয়ারি ২০১৫) এ অঞ্চলে নতুন এক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এ মেরুকরণ কিছুটা হলেও প্রভাব ফেলবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তথা ভারত মহাসাগর আগামী দিনে প্রত্যক্ষ করবে এক ধরনের প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। এ দুটি অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ‘সামরিক তৎপরতা’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সমন্বয়ে একটি সামরিক ঐক্য গঠিত হয়েছে। উদ্দেশ্য চীনের ওপর ‘চাপ’ প্রয়োগ করা। অন্যদিকে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীন তার নৌবাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে। দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মালাক্কা প্রণালী হয়ে ভারত মহাসাগর অতিক্রম করে অ্যারাবিয়ান গালফ পর্যন্ত যে সমুদ্রপথ, তার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় চীন। কারণ এটি তার জ্বালানি সরবরাহের পথ। চীনের জ্বালানি চাহিদা প্রচুর। এদিকে ভারতও ভারত মহাসাগরে তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভারতের নৌবাহিনীর ‘নিউ ইস্টার্ন ফ্লিটে’ যুক্ত হয়েছে বিমানবাহী জাহাজ। রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন। আন্দামান ও নিকোবরে রয়েছে তাদের ঘাঁটি। ফলে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চীন ও ভারতের মধ্যে রয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়ার কর্তৃত্ব নিয়ে চীন ও ভারতের অবস্থান এখন অনেকটা পরস্পরবিরোধী। যেখানে চীনা নেতৃত্ব একটি নয়া ‘মেরিটাইম সিল্ক রুটের’ কথা বলছে, সেখানে মোদি সরকার বলছে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডোরের’ কথা। স্বার্থ মূলত এক ও অভিন্ন- এ অঞ্চলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আর এ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে এশিয়ার এ দুটি বড় দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এটাকেই কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে একটা ভয়ের কারণ আছে- চিরবৈরী দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা। ওবামার ভারত সফরের পরপরই ভারত পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য মিসাইল অগ্নি-৫ উৎক্ষেপণ করে। এ অগ্নি-৫-এর ব্যাপ্তি সুদূর চীন পর্যন্ত। ভারত এখন আর পাকিস্তানকে বিবেচনায় নিচ্ছে না। ভারতের টার্গেট চীন। অর্থাৎ চীনের কর্তৃত্ব কমানো। অগ্নি-৫ নিক্ষেপের পরদিনই পাকিস্তান তার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘রাদ’ বা ‘ব্রজে’র পরীক্ষা চালায়। এর আগে পাকিস্তান পারমাণবিক বোমা বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছিল। ফলে দেশ দুটি আবারও এক ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় নিয়োজিত হয়। মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানের গুরুত্ব কম। যদিও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের উপস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল দু’দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মোদির পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশ গুরুত্ব পাচ্ছে বেশি। ইতিমধ্যে তিনি ভুটান ও নেপাল সফর করেছেন। এ মার্চেই তিনি যাবেন শ্রীলংকায়। সেখানে তিনি জাফনাতেও যাবেন। মার্চে বাংলাদেশে আসতে পারেন। চীনকে গুরুত্ব দেয়ার পেছনে কাজ করছে তার বাণিজ্যিক নীতি। তিনি চান বিনিয়োগ। তবে চূড়ান্ত বিচারে চীনের সঙ্গে তার সম্পর্ক কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা এ মুহূর্তে বোঝা যাচ্ছে না। তবে এ অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমানোই হবে মোদি সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার।
- চীন-ভারত সম্পর্ক, কালের কণ্ঠ, ৫ আগস্ট, ২০১৫
বলা হয়ে থাকে, ২১ শতক হবে এশিয়ার। এই মহাদেশের অন্যতম শক্তিধর চীন এরই মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সাদা চোখে যুক্তরাষ্ট্রই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতির গতিবিধির দিকে গভীরভাবে মনোনিবেশ করলে দেখা যায়, চীনের প্রধান প্রতিযোগী এশিয়ারই আরেক বড় দেশ ভারত। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই জাপানকে ছাড়িয়ে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে মাথা তুলবে ভারত। সুতরাং এশিয়াসহ পুরো বিশ্বের অগ্রগতির জন্য চীন-ভারত সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১৯৬২ সালের যুদ্ধে জড়িয়েছিল দুই বৃহৎ প্রতিবেশী চীন ও ভারত। এর জেরে দুই দেশের মধ্যে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়, তা এখনো পুরোপুরি মিলিয়ে যায়নি।
সিসিলি ও মরিশাসের সঙ্গে একাধিক চুক্তি করে দেশ দুটিতে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় প্রভাব বৃদ্ধির তৎপরতা প্রমাণ করে, ভারতীয় মহাসাগরভুক্ত অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় নয়াদিল্লি। আন্দামানে নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে। অন্যদিকে চীন তাদের নৌবহরে বিমানবাহী রণতরীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে আরব সাগরঘেঁষা গাওদার সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করে দিচ্ছে চীন।
এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। জাপানের বড় সমর্থক তারা। দেশটিতে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি। একই কথা প্রযোজ্য ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও। ফলে সমুদ্রসীমা নিয়ে চীনের সঙ্গে জাপান ও ফিলিপাইনের যে বিবাদ, তাতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্বাভাবিকভাবেই চীনের বিপক্ষে। ভারতের কাঁধে হাত রেখে চীনবিরোধী আবহ জোরালো করতে চায় তারা।
ভারতকে বুঝা সিরিজের বাকী পোস্টগুলো;
‘যারা ভারতের শত্রু, তারা বাংলাদেশেরও শত্রু’
বাংলাদেশ ভারতের বাণিজ্যিক বাজার
‘অখণ্ড ভারত’ স্বপ্ন ও ‘ভারতীয় গুপ্তচর’ বৃত্তি
‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ভারতীয় রাজনীতি
বিজেপির বাংলাদেশ বিরোধী রাজনীতি
‘বাংলাদেশিদের সঙ্গে শত্রুর মতো আচরণ করছে ভারত’
হায়দ্রাবাদ থেকে সিকিম হয়ে বাংলাদেশ:নেহেরু ডকট্রিন ও আজকের বাস্তবতা




