বাংলাদেশি মিডিয়ার অন্ধকার জগত-১

মানুষ কোন ঘটনাকে অনেক কারণেই বিশ্বাস করতে পারে। বন্ধুর কাছ থেকে শুনে বিশ্বাস করতে পারে। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিশ্বাস করতে পারে। কিংবা মিডিয়ার মাধ্যমে জেনে বিশ্বাস করতে পারে। এই তিনটি পদ্ধতির মধ্যে কেবলমাত্র প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই প্রশ্নাতীত। বাকি দুটির মধ্যে রকমফের রয়েছে। বন্ধুর কাছ থেকে শোনা ঘটনা বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি মানদন্ড রয়েছে। যেমন বন্ধুটি আমার কাছে কতটা বিশ্বস্ত। কিংবা তার বর্ণনা আমি কতটুকু বিশ্বাস করতে চাই। মিডিয়ার ক্ষেত্রেও অনেকটা এমন বিষয়ই কাজ করে। কিন্তু বন্ধুর কাছে শোনা ঘটনার চেয়ে মিডিয়ার মাধ্যমে জানা ঘটনার প্রভাব অনেক বেশি। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রদের কাছে বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট। একবার কোন বিষয় ছাপা হয়ে গেলে, তাকে মানুষের মন থেকে দূর করা কিংবা নতুন কোন বিশ্বাস সামনে হাজির করা অনেকটাই দুঃসাধ্য কাজ। যদিও মানুষ মিডিয়াকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে আজকাল তারপরও মিডিয়ার গুরুত্বকে অস্বীকার করার উপায় নেই। এই সুযোগটাই কাজে লাগাচ্ছে মিডিয়া। মিডিয়ার চোখ দিয়ে অবস্থাকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে সত্যিটা কোন সময়ই মানুষের সামনে আসে না। এমন নয় যে মিডিয়ায় প্রকাশিত সকল খবরই মিথ্যা। অনেক ঘটনাই সত্য। তবে মিথ্যাকে সত্যের মতো করেই বর্ণনা করার জন্য মিডিয়ার নিজস্ব একটা পদ্ধতি রয়েছে। মিডিয়ার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেকটাই অন্ধের মতো পথ চলছে। যদিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু এখানেও সংশয়, কোনটা বিশ্বাস করবো!

একজন মিডিয়াকর্মী হিসেবে বাংলাদেশের মিডিয়া জগতটাকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। অনেক সময়ই এমন সব তথ্য সামনে এসেছে, যা প্রকাশ পেলে বড় ধরণের বিপ্লব সংঘটিত হতে পারতো। কিন্তু তা মিডিয়া কর্মীর গলাতেই চেপে রাখতে হয়েছে। হয়ত রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের বন্দুকের ভয়ে কিংবা মালিক পক্ষের দাদাগিরিতে চেপে যেতে হয়েছে সবকিছু। সাগর-রুনি হত্যা মামলা, ইলিয়াসের অন্তর্ধান রহস্য, হেফাজতকর্মীদের নির্বিচারে হত্যার ঘটনাগুলো কি মিডিয়াকর্মীরা জানে না! নিঃসন্দেহে জানে। অনেকের কাছে অনেক প্রমাণপত্রও রয়েছে। তারপরও কোনকিছুই প্রকাশ পাচ্ছে না। কারণ কি? কিছুটা হয়ত সরকারের বন্দুক বাহিনীর ভয়। বাকিটা? স্বার্থ চিন্তা। হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের কারা কেন মরল, এতে মিডিয়ার মাথা ব্যথা হবে কেন? মিডিয়া ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোন বিষয়কেই অতি তুচ্ছ মনে করে। পৃথিবীতে সারভাইভেলের জন্য উপযোগী নয় তারা? তাদের শিক্ষা কম? জ্ঞান কম? না, তা নয়। বরং অনেকক্ষেত্রেই তারা বেশি যোগ্য। তারা পৃথিবীকে সুন্দর করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যদের চেয়ে দক্ষ। তারা শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবনও দিতে পারে। এগুলোই মিডিয়ার কাছে অতি দুষণীয় বিষয়।

আমার এই লেখার উদ্দেশ্য বাংলাদেশি মিডিয়ার মুখোশ উন্মোচন করা। বিভিন্ন ঘটনাকে আলোকপাত করে এই বিষয়টি প্রমাণ করা যে বাংলাদেশি মিডিয়া জনগণের চোখ কালো পর্দা দিয়ে ঢেকে রেখেছে। সত্যিটা তারা কোনদিনই জানতে পারে না। যারা জানানোর চেষ্টা করে, তাদের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করে দেয়া হয়।

কেস স্টাডি-১

হেফাজতকর্মীদের মহাসমাবেশ ও ৫ মে’র অন্তর্ধান রহস্য

৫ মে, ২০১৩। গভীর রাত। আলো-আঁধারির মধ্যেই মতিঝিল শাপলা চত্বরে কয়েক লাখ মানুষ আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানাচ্ছে। অনেকে সারাদিনের কোলাহল শেষে রাতের নিরব অন্ধকারের গায়ে হেলান দিয়ে শুয়ে পড়েছে। কারো চোখে তন্দ্রা। কেউ বা ঘুমাচ্ছে বেঘোরে। এরই মধ্যে অন্ধকার পোশাকধারীরা মারনাস্ত্র নিয়ে নেমে এল রাস্তায়। দৈনিক বাংলা এবং ফকিরাপুল থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল। কিছুটা হুমকী-ধামকীর পর শুরু হলো রাতের অন্ধকারে পাষন্ড উৎসব। শত শত গ্রেনেডের বিকট আওয়াজ ছাপিয়ে উঠল আহতদের তীব্র আর্তনাদ। ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলো জেগে উঠল আতঙ্ক নিয়ে। তারপর? পরের ছবিটা স্পষ্ট নয়। ইচ্ছে করে, অনেক জোর-জবরদস্তি করে ছবিটাকে অস্পষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কিন্তু এতটাই কি সহজ সবকিছু! বিশেষ করে যেখানে শত মানুষের আর্তনাদ আর মৃতের চিৎকার একাকার হয়েছিল তা কি এতটা সহজেই ধামা-চাপা দেয়া যাবে? এসব প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যত দিতে পারে। তবে বর্তমানের বাস্তবতাটা হচ্ছে বাংলাদেশের মিডিয়া মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনা বেমালুম ভুলে গেল। যেখানে ব্যভিচার করার কারণে বেত মারার ঘটনা লিড নিউজ হতে পারে, সেখানে শত মানুষের লাশের খবরটাকেই গুম করে ফেলল মিডিয়া!

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে কয়েক লাখ লোকের সমাবেশ কি কারণে হয়েছিল? এই প্রশ্নটা এখানে এতটাই নগন্য যে তা না বললেও চলে। কয়েক লাখ মানুষ নিজেদের ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য উপস্থিত হয়েছিল। এদের বেশিরভাগই ছিল স্বাভাবিক দুনিয়া সম্পর্কে বেখবর। এদের অনেকেই জানতো না রাত্রির অন্ধকারে রক্ষকরা কতটা ভক্ষক হতে পারে। সেই নীরীহ মানুষগুলোর অশান্ত আত্নারা এখনো পত্রিকা অফিসগুলোর দুয়ারে দুয়ারে হয়ত ভীড় করে বেড়াচ্ছে!

মতিঝিলে আসলে কি হয়েছিল? এই প্রশ্নের উত্তর পত্রিকা থেকে জানা সম্ভব নয়। কিছুদিন আগে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে তথ্য প্রমাণ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাপলা চত্বরের ঘটনা মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছে। রাষ্ট্র পক্ষ থেকে সংখ্যাটা ১১ জন স্বীকার করা হয়েছে। আর হেফাজতে ইসলাম এখনো সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যার কথা জানাতে পারেনি। তবে প্রাথমিক ঘোষণায় তারা বলেছিল, শাপলা চত্বরের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০০০ জন শহীদ হয়েছিল। আল জাজিরা তাদের এক প্রতিবেদনে সরকারের প্রতি অভিযোগ করেছিল যে, সরকার শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পরিবেশন করেনি। ঢাকার জুরাইনের আব্দুল জলিল নামে মুক ও বধির এক কবর খননকারী ইশারায় ইঙ্গিতের ভাষায় আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হেফাজতের বিরুদ্ধে অভিযানের পর তিনি এক রাতে ১৪টি লাশ দাফন করেছেন। এসব লাশের দাড়ি ছিল এবং এদের দেহে বন্দুকের গুলীর চিহ্ন পাওয়া গেছে।

এই ধুম্রজাল ভবিষ্যতে নিশ্চয়ই শেষ হবে। তবে এই কেস স্টাডিটা যেহেতু মিডিয়ার মুখোশ উন্মোচন করার জন্য তাই এই ধুম্রজাল নিয়েও এখানে খানিকটা আলোকপাত করার প্রয়োজন রয়েছে। এখানে তিন জন ব্যক্তির সাক্ষাতকার তুলে ধরা হবে। সঙ্গত কারণেই তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করার সম্ভব হচ্ছে না। একজন অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাস্টের কর্মচারী। একজন স্বনামধন্য একটি পত্রিকার ফটোগ্রাফার। একজন সেই অভিযানে অংশ নেয়া রয্যাব সদস্য।

অ্যাগ্রোর লোকটা বলছেন, রাত তখন কতটা আমার মনে নেই। হঠাৎ করেই দেখি গোলাগুলি শুরু হলো। আমি ছুটতে শুরু করলাম। তবে পথ-ঘাট তেমন একটা চেনা না থাকায় পুলিশের বাধার মুখে গিয়েই পড়লাম। আমাকে একজন পুলিশ লুকিয়ে পড়তে বললেন। আমি একটি গলিতে গিয়ে লুকিয়ে পড়লাম। সেখানে গিয়ে দেখি, আরো লোক রয়েছে। আমরা দশ-বারো জন হবো হয়ত। তবে বেশিক্ষণ আমরা এখানে লুকিয়ে থাকতে পারলাম না। পুলিশরা আমাদেরকে দেখে ফেলল। একজন বলল, এই এখানে লুকিয়ে আছে। দল বেঁধে তারা ছুটে এল আমাদের দিকে। গনপিটুনীর কবলে পড়লাম আমরা। সেখান থেকে যেদিকে পথ পেয়েছি দৌড় দিয়েছি। রাস্তার পাশে অনেক মানুষকেই শুয়ে থাকতে দেখেছি। তারা আহত কি নিহত আমি বলতে পারবো না। এক সময় পুলিশদের ছাড়িয়ে আমি অনেক দূর চলে গেলাম।

ফটোগ্রাফার বলছেন, আমি ছবি তুলতে গিয়েছি অনেক পরে। প্রায় সকালের দিকে। ততক্ষণে বিভিন্ন ট্রাকে করে অনেক লাশই সম্ভবত সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তারপরও আমি ২৯টা লাশের ছবি তুলেছি। এত কষ্ট করে ছবি সংগ্রহ করলেও দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো, এগুলো আমার পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে না। আমার আগে সেখানে যারা ছিলেন তারা আরো বেশি লাশের ছবি তুলেছেন। সম্ভবত ৬০-৭০ জন লোক নিহত হয়েছে শাপলা চত্বরের ঘটনায়।

রয্যাব সদস্য বলছেন, ৬ মে সকালে অভিযান শেষ করার পর আমি অস্ত্র ফেরত দিলাম। আমাকে দেয়া গুলির একটা রাউন্ড আমি খরচ করিনি। অফিসার আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে কেবল বললেন, গুড। তবে এই ঘটনা আর কোন সদস্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে বলে শুনিনি। আগের রাতে মতিঝিলে আমাদেরকে অভিযানে পাঠানোর আগে সবাইকে অন্তত ৫০/১০০ রাউন্ড করে গুলি দেয়া হয়েছিল। আমি অনেককেই বাঁচাতে চেষ্টা করেছি। তবে আবার অনেককেই রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেছি। আমার ধারণা পঞ্চাশের বেশি লোক মারা যায়নি।

এই তিনটা স্বাক্ষ্য এবং বিভিন্ন রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা যাক। মোটামুটি তিনটা সূত্র বলছে ৬০-৭০ জন লোক নিহত হয়েছিল। আমরা সম্ভাব্য সংখ্যাটা ৬০ই ধরে নিই। এবার বিশ্লেষণে যাওয়া যাক। বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট থেকে জানা যায়, শাপলা চত্বরের অভিযানে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় আট থেকে দশ হাজার সদস্য অংশ নিয়েছিল। রয্যাব সদস্যদের যদি ৫০ রাউন্ড করে গুলি দেয়া হয়, পুলিশেদেরও নিশ্চয়ই কম দেয়া হয়নি। বিজিবি সদস্যরাও নিশ্চয়ই এমন গড়েই গুলি পেয়েছিল। এই গুলি যদি সাধারণ মানুষের উপর খরচ করা হয়ে থাকে, যেখানে কয়েক লাখ লোকের একটা সমাবেশ ছিল, তাহলে কত জন লোক নিহত হতে পারে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট কোন উত্তর এখনই দেয়া সম্ভব নয়। কেবল ধারণা করা যেতে পারে। সরকারী ভাষ্যকে অস্বীকার করে যদি নিরপেক্ষ মাধ্যমগুলোর খবরও ধরে নিই তাহলেও অন্তত ৬০ হেফাজত কর্মী সেদিন নিহত হয়েছিল। অথচ এর কোন খবরই পরের দিনের কিংবা তার পরের দিনের পত্রিকার পাতা খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাহলে কি হেফাজতকর্মীদের লাশ মিডিয়ার কাছে কোন মূল্যই রাখে না?

এটা খুব বড় একটা প্রশ্ন। অনেক পত্রিকাই খুব বড় গলায় নিজেদের নিরপেক্ষ বলে দাবি করে। আবার অনেকেই সত্য প্রকাশে আপোসহীন হওয়ার কথা বলে। কিন্তু ৫ মে’র সত্যটা তাহলে কি আপোষ করার মতো সত্য ছিল?

এবার মিডিয়ার মুখোশটা উন্মোচন করি। বাংলাদেশের প্রথমসারির প্রায় সবগুলো মিডিয়াতেই সরকারপন্থী লোকেরাই সর্বেসর্বা। উপরের প্রায় সবগুলো পোস্টই তাদের দখলে। তারা মাঝে মধ্যে সরকারের সমালোচনা করলেও তা কেবল নিজেদের নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়ার জন্যই করে থাকেন। কিন্তু তারা এমন কোন ঘটনা প্রকাশ করতে রাজি নন, যেখানে সরকারের ক্ষতি হতে পারে। সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য হতে হয়। হেফাজতে ইসলামের নীরীহ মানুষগুলো অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়ে গেছে। এর দায় ভার কার? এই প্রশ্নের দিকে আমাদের যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাদের কেবল এতটুকু মনে রাখলেই চলবে, সাদাসিধে এই মানুষগুলো পত্রিকাওয়ালাদের দৃষ্টিতে কোন মানুষই নয়! যেসব পত্রিকার রিপোর্টাররা ৫ মে’র রাতে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ছিলেন, তাদের হাতে হাতকড়া লাগানো হয়েছে। তাদেরকে লিখতে দেয়া হচ্ছে না। সম্পাদক থেকে শুরু করে মালিক পক্ষ পর্যন্ত হুমকী দিয়ে বলে রাখছে, সাবধান এ ব্যাপারে একটা কথাও উচ্চারণ করা যাবে না। ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবিগুলোকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হয়েছে। পারলে সেই ফটোগ্রাফারের হার্ডডিস্কটাও চুরি করে নিয়ে যায়। মিডিয়া এখানেই থেমে থাকেনি। উদোর পিন্ডি ভুদোর ঘাড়ে চাপানোর মতোই হেফাজতের ঘাড়ে তারা চাপাল কুরআন পোড়ানোর অভিযোগ। এই অভিযোগ যে একজন পাগলও বিশ্বাস করবে না, তার কি দ্বিরুক্তি হওয়া প্রয়োজন রয়েছে?

মিডিয়ার এই অপপ্রচারে রাজনৈতিক অঙ্গনে কি পরিবর্তন হলো? কোন দলের লাভ হলো? কার ক্ষতি হলো? এসব প্রশ্নের উত্তর আমার প্রয়োজন নেই। আমার কেবল প্রয়োজন, একদল মানুষ নিহত হলো অসহায়ভাবে। ঘুমের গভীরে থেকেই তারা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল। অনেকে জানতেই পারল না কেন তাদেরকে মরতে হলো। এই অসহায় নীরীহ মানুষগুলোর যে অন্যায়ের শিকার হলো, তার স্বীকৃতিটা প্রয়োজন। প্রয়োজন এর জন্য দায়ী ব্যাক্তিটির সর্বোচ্চ শাস্তি। কিন্তু মুখোশের আড়ালে থাকা মিডিয়ার কানে এসব কথা কখনোই পৌঁছবে না। তারা নিজেদের মতো চালিয়ে যাবে আরো অনেক কাল!

4 Responses

  1. Digital President
    Digital President at |

    তথ্য সন্ত্রাস ও হলুদ সাংবাদিকতা এ দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। চেতনার আড়ালে দেশদ্রোহী ও খোদাদ্রোহীরা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়েছে এবং চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, নৈতিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। সময় এসেছে হলুদ সাংবাদিকতা রুখে দেয়ার। আমাদের মত অনলাইন যোদ্ধাদেরই এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। আমি আমার প্রায় লেখায় হলুদ সাংবাদিকতার মুখোশ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি উদাহরণ সহ।

    চেতনার আড়ালে দেশদ্রোহীরা সাবধান হুঁশিয়ার,
    জেগেছে জনতা জেনেছে তারা দালাল তোমরা কার।

    Reply
  2. sajid karim
    sajid karim at |

    ৫ মে কালো রাত পেরিয়ে ভোরের আলো ফুটতেই ক্যামেরা হাতে রওনা দিয়েছিলাম মতিঝিলের উদ্দেশ্যে। বাইতুল মোকাররমে ঢুকে ছবি তুলতে গিয়ে মুখোমুখি র‍্যাবের সদস্যদের সাথে। কোন রকমে প্রাণে বেঁচে ফিরে আসা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেটা তা ছিল আহতদের সুচিকিৎসা। দুঃখজনকভাবে জামায়াতের পক্ষ থেকেও আশানুরুপ সাহায্য পাইনি। পরবর্তীতে ৬ মে’র অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে।

    Reply

Leave a Reply