বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সেশনের সেটআপ সম্পন্ন হয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। আরটিএনএন নামে একটি অনলাইন পোর্টাল জানায় আতিকুর রহমান সভাপতি ও মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সেশনের জন্য সেক্রেটারি “নির্বাচিত” হয়েছেন।কিন্তু এতেই দেখা গেছে বিপত্তি।আতিকুর রহমান সভাপতি হবেন এটা গত বছরেই নির্ধারিত হয়েছে,যেদিন তিনি ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী হিসেবে জামায়াত থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।একই ঘটনা ঘটেছে ইয়াছিন আরাফাতের বেলায়ও, তাকেও জামায়াতের পেশীশক্তি ও সৌয্যবির্যের প্রতিক ঢাকা মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে সেক্রেটারী হিসেবে নিয়োগ করা হয় আগামী বছর সভাপতি বানানোর লক্ষ্যে।অথচ আরটিএনএন প্রচার করে শিবির সভাপতি “নির্বাচিত” হয়েছেন!
নিয়োগপ্রাপ্ত বা মনোনয়ন আর সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত কি এক বিষয়? এই মিথ্যাচারে সংগঠনটির দায়িত্বশীলগন মুষরে পরেছেন এবং অতিশীগ্রয়ই আরটিএনএন এর বিরুদ্ধে মগবাজার আল ফালাহ আদালত আজমাইনে অভিযোগ দাখিল করার জন্য আইনী প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। সদস্যদের অভিযোগ শিবিরের এত দিনের একটি সাংগঠনিক ঐতিহ্য নিয়ে এরকম মিথ্যাচার কেউই মেনে নিতে পারছেন না। এই বিষয়ে অবশ্য জামায়াত-শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল তরুন বুদ্ধিজীবি আহমদ মুসাফ্ফা ভিন্ন মতামত ব্যক্ত করেছেন,তার হুবহু বক্তব্য নিন্মরুপ;
একটি ভিন্ন নির্বাচনী খবরঃ জামায়াতের ধোঁকাবাজি
শিবিরের ধোঁকাবাজির সভাপতি নির্বাচন আজকে সুসম্পন্ন হয়েছে। শিবিরের ঐতিহ্য অনুযায়ী যিনি আগের বছর সেক্রেটারী জেনারেল থাকেন শিবিরের সদস্যরা তাকেই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। যেমন, গত বছর আতিকুর রহমান শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল ছিলেন এইবার তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল নির্বাচন কিন্তু সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে হয় না, মনোনয়নের ভিত্তিতে হয়। এই মনোনয়নের জন্য তাদের সংবিধানে অন্যান্য কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের সাথে পরামর্শের কথা থাকলেও এখানে আসল পরামর্শদাতা হচ্ছে জামায়াত। অর্থাৎ শিবিরের সেক্রেটারী জেনারেলের মনোনয়ন আসে জামায়াত থেকে এবং পরের বছর শিবিরের সদস্যরা ঐ মনোনীত ব্যক্তিকেই সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে। তারমানে শিবিরের সভাপতি নির্বাচন মূলত কোন নির্বাচন নয়, এটি একধরণের মনোনয়ন। আরো নির্দিষ্টভাবে বললে জামায়াতের মনোনয়ন।
মনোনয়নের মাধ্যমে এমন একজনকে সভাপতি বানানো হয় যিনি জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যকারী, যিনি সভাপতি দায়িত্বপালন কালে জামায়াতের কথায় উঠবস করবেন। জামায়াতের নেতৃত্বের স্ট্রাকচারের ব্যাপারে প্রশ্ন আছে ছেলেদের মাঝে এমনটা দেখলেই তাদের আগাম ছাটাই করে নেওয়া হয়। ২০০৯ সালে শিবিরের যে ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটেছিল তা মূলত এই বিষয়টাকে কেন্দ্র করেই।
নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে সারাদেশের শিবিরের ছেলেপেলেদের বুঝানো হয় যে তারাই সংগঠনের কর্ণধার, শিবির জামায়াতের কোন অঙ্গসংগঠন নয় ইত্যাদি ইত্যাদি। এ বিশ্বাস থেকে শিবিরের অধঃস্তন নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের ব্যাপারে ‘আনুগত্য’ পরায়ণ হয়। ধোঁকাবাজির নির্বাচন হইলেও এতে ফায়দা আছে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, যেই জামায়াত নিজেদের ছাত্র সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের মত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ধোঁকাবাজি এবং প্রতারণার আশ্রয় নিতে ন্যুনতম কুন্ঠাবোধ করে না, তাদেরকে যদি এদেশের জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হয়, তারা যে বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগের মত আচরণ করবে না তার গেরান্টি কোথায়?
এই বিষয়ে জনাব মুসাফ্ফার সাথে জনৈক মারুফ আল্লামের মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য আরো কিছু বাড়তি মাত্রা যোগ করে।
অন্যদিকে, খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, গতকালের পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে সরকারের জালিয়তির প্রতিবাদ করতে মাঠ পর্যায়ের জামায়াত-শিবির কর্মিদেরকে কোনভাবেই মাঠে নামাতে পারছেনা জাময়াত।কর্মিদের একটাই প্রশ্ন দেশের মুলধারার নির্বাচনে জিতিনি তো কি হয়েছে আমাদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করতে পেরেছি,আর এতেই আমাদের সকল দুঃখ মুছে গেছে।জামায়াত থেকে যখনই দেশের গনতন্ত্র রক্ষায় সরকারের জালিয়তি নির্বাচনের কথা বুঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে তখনই জামায়াত-শিবির কর্মিরা বলার চেষ্টা করেন ” নির্বাচনের নামে জালিয়তি যেখানে আমাদের সাংঠনিক ঐতিহ্য” সেখানে জাতীয় পর্যায়ে এরকম কিছু হলে (আওয়ামীলিগের নেতৃত্বে যেটা হতেই পারে) এর প্রতিবাদ করা কিছুতেই আমাদের ঈমানী দায়িত্বের মধ্যে পরেনা।
জামায়াত নেতৃত্ব কর্মিদের এহেন প্রতিক্রিয়ায় কেবল মুর্ছা যাচ্ছেন এবং কারন অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি তৈরি করবার চিন্তা করছেন বলে জানা যায়।এই বিষয়ে জানার জন্য জামায়াতের একজন সিনিয়র কাবিল কে ফোন করা হলে তিনি জানানা; “কর্মিরা আজ-কাল কেমন কেমন চ্যালেন্জিং প্রশ্ন করেন,আগের মত শুনলাম আর মানলান টাইপের কর্মি পাওয়া দুষ্কর হয়ে পরেছে” এর সম্ভাব্য কারন কি জানতে চাইলে তিনি বলেন; “শুনেছি আইএমবিডি ব্লগ-নামে একটি ওয়েবসাইট নাকি আমাদের আভ্যন্তরীন অনেক বাটপারির খবর প্রকাশ করে কর্মিদের বিভ্রান্ত করছে“,তিনি ঐ সাইটকে জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।
——————————————————
সংযুক্তিঃ লেখকের লেখায় আইএমবিডি ব্লগ সম্পাদক অনাহুত কাঁচি চালায়না।কিন্তু লেখায় আইএমবিডি ব্লগ নিয়ে যে তথ্য এসেছে সে ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে; আইএমবিডি ব্লগ কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত নয়।যেহেতু এটি সবার জন্য খোলা প্লাটফরম সেহেতু প্রায় প্রত্যেকটি লেখারই দায়ভার সম্পূর্ণভাবে লেখকের। আইএমবিডি ব্লগ সকল প্রকার দলা-দলি, দালালী এবং বিরুদ্ধাচরন থেকে মুক্ত হয়ে সবাইকেই মতামত তুলে ধরার একটি প্লাটফরম হিসেবে কাজ করছে।







