এটা কারো কাছে অস্পষ্ট নয় যে একটা কঠিন অন্ধকার সময় আসছে। যতটুকু মনে হয়, নাসের বা মোবারকের মিশর থেকে আরো খারাপ সময় হবে সেটা। পশ্চিম বঙ্গ বা ভারতের মতো কোন দেশের সরাসরি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপ থেকে মিশর মুক্ত ছিল। এর সাথে আছে নতুন ভাবে জাগ্রত করে দেয়া ৭১ প্রসঙ্গ। জামাত কি করেছে, কতটুকু করেছে এবং কেন করেছে তা গত ৪০ বছর কেউ জানেনি। শুধু এক পক্ষের কথাই মানুষ জেনেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে সাম্প্রতিক মরণ-পণ যুদ্ধ। টিভি চ্যানেল এবং বহুল প্রচারিত পত্রিকার প্রচারণায় মানুষ দেখছে, শেখ হাসিনার বিরোধীরাও জামাতের ব্যাপারে আপোস করতে রাজি নয়। এর একটা বিরাট প্রভাব সর্বস্তরের তরুণদের মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও অনুকূলে নয়। এখন হাসিনা সরকার জামাতকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চূড়ান্ত পদেক্ষেপ গ্রহণ করবে। এমনি অবস্থায় আমার সুস্পষ্ট পরামর্শ হচ্ছেঃ
এক.
আন্দোলন করে নেতাদের রক্ষা করার উপায় নেই। আমরা জানি না আল্লাহর ফায়সালা ভিন্ন কিছু আছে কি নেই। সেটা বুঝা আমাদের সীমানার বাইরে। সাঈদী এবং কাদের মোল্লার ৭১-এ সংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ থাকলেও অন্যদের বিষয় এ রকম নয়। অন্যান্যদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে মানুষের মনে কোন প্রশ্ন নেই। তাই মরণ-পণ আন্দোলনের চেয়ে এ ব্যপারে মুখ রক্ষার আন্দোলনই যথেষ্ট। মরণ-পণ দোয়া এবং লবি করতে বাঁধা নেই। কিন্তু জীবন পণ করে রাস্তায় নেমে কাজ করলে শুধু শক্তির অপচয় হবে, কোন কাজ হবে না।
দুই.
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে একটা প্লাট ফরম তৈরি করতে হবে। যাদের কাজ হবেঃ
ক) তরুণদের মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ করা
খ) আলেমদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন
গ) সেবা-মূলক কাজের মাধ্যমে গণ-ভিত্তি মজবুত করা
ঘ) রাজনীতি কর্মসূচী থেকে দূরে থাকা (এটা বলার প্রয়োজন নেই যে আমরা রাজনীতি করি না)
তিন. নতুন লোকদের দিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করা। তারা ইতিবাচক রাজনৈতিক কাজ করবে। সংঘাত পরিহার করবে। কখনো আঘাতের বদলে প্রত্যাঘাত করার চিন্তা করবে না।
বাঞ্চিত ফল পেতে হলে প্রস্তাবিত এ দু সংগঠনকে শিবির, ফুলকুড়ি বা ইত্তেহাদুল উম্মাহ বানালে চলবে না। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্যে ছেড়ে দিতে হবে। সাথে সাথে জনশক্তিকে বলতে হবে, তারা যেন এ দু সংগঠনের বিরোধিতা করা থেকে বিরত থাকে।
চার. মিডিয়ার সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং সাংবাদিক ও লেখক তৈরিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।




