২০০৯ সালে আরব বিপ্লবের পর জামায়াতকে মিশর এবং তিউনিসিয়ার ইসলামী দলগুলো থেকে শিক্ষা নেয়ার এক জোর দাবী উঠেছিল! মুসলিম ব্রাদারহুড এবং আন নাহদা পার্টির এর মত জামায়াতকে কৌশল গ্রহণ করা এবং কাজ পরিচালনা করার ব্যাপারে অনেক তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। ৩ বছর পর মিশরে ব্রাদারহুডের পতন এবং আন নাহদা ক্ষমতার ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তারা নিশ্চুপ। এখন আবার দাবী উঠছে তুরস্কের একে পার্টিকে অনুসরণ করে সংগঠন চালানোর জন্য। মূলত এরদোগান এবং তার দলের তিন তিনবার বিজয় তাদেরকে এই চিন্তার উদ্রেক সৃষ্টি করে।
দুই দল থেকেই শিক্ষা নেয়ার আছে। এবং নেয়া উচিত। বিশেষ করে তাদের কর্ম কৌশল এবং কাজের ধরণ নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন। এবং সেই অনুসারে ভালো দিক গুলো জামায়াতকে নিজেদের কর্ম কৌশলের সাথে অন্তর্ভূক্ত করা এখন সময়ের দাবী। তবে (!) এক তরফা ভাবে পুরোপুরি তুরস্ককেই অনুসরণ করতে হবে বা মুসলিম ব্রাদারহুডকেই অনুসরণ করতে হবে বলে যারা দাবী করেন তারা আসলেই অনেকটা আবেগ বসত কথা বলছেন (আমার ব্যক্তিগত মতামত) বলে আমরা ধারণা।
কারণ হচ্ছে মিশরে ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য , তাদের সমাজ ব্যবস্থা , শিক্ষা ব্যবস্থা এবং টেকনোলজি এর সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশ নগন্য! যেমন ধরেন (ছোট্ট একটা উদাহরণ) , আরবীতে পারদর্শী হওয়া বা ইসলাম শেখার জন্য সাড়া বিশ্ব থেকে মিশরে লোকজন যায়। বড় বড় ইসলামী স্কলারদের বসবাস মিশরে। এটা ইতিহাস এবং ঐতিহ্যগতভাবে।
অন্যদিকে তুরস্কের একে পার্টি তো কোন ইসলামী দল নয় ! আশ্চর্য হলেন ? এটাই বাস্তবতা। একে পার্টি একটি কনসারভেটিভ ডেমোক্রেটিক পার্টি। এটা কোন ইসলামী দল নয়। যদিও ২০০১ সালে তুরস্কে ইসলামী দল Virtue Party (FP) নিষিদ্ধ হলে সেই দলের বিভিন্ন নেতারা এই দল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু আর ১০টা দল থেকেও কিন্তু বিভিন্ন ডানপন্থি-বামপন্থি রাজনীতিবীদরা মিলে একে পার্টি গঠন করে। এবং একে পার্টি অফিসিয়ালি বার বার ঘোষণা দিয়েছে তারা কোন ইসলামিষ্ট দল নয়। তুরস্কের ইসলামী দল সাদাত পার্টির জনপ্রিয়তা ২% এর চেয়েও কম!
অনেকগুলো কারণেই কোন দলকে এককভাবে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন আছে। ইনশায়াল্লাহ এখন থেকে ধারাবাহিতভাবে তুরস্কের একে পার্টি নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো। তাদের ইতিহাস, সাফল্য-ব্যার্থতা, এবং ভবিষ্যত নিয়ে লিখবো। এরই ধারাবাহিতকায় অন্যান্য দেশের ইসলামী দলগুলো যেমন মরক্কো, ইয়েমেন, আলজেরিয়া নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো ইনশায়াল্লাহ।
বি.দ্র : এগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত চিন্তা। ছোট মানুষের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো





এই পোস্টের জন্য আব্বাস নোমানী ভাই কে ধন্যবাদ। আর সিরিজ লিখার অগ্রিম ঘোষণা দেয়ার জন্য রইল অগ্রিম মোবারাকবাদ।
একটি প্রশ্নঃ
………………
অনেকেই বলেন বিশ্ব ইস্লামি গতিধারা, বিশেষ করে তার্কি ও মিশর, মালয়েশিয়ায় নিয়ে গবেষণা করা দরকার। কিন্তু কিভাবে হতে পারে এই গবেষণা? এই বিষয়ে কোন আউটলাইন পাওয়া গেলে জামাত-শিবির প্রজেক্ট আকারে এই উদ্যোগ না নিলেও অনেকই ব্যক্তিগতভাবে এই উদ্যোগ নিতে পারবেন, আংশিকভাবে হলেও। তাই গবেষণার ধরণ-পদ্ধতি নিয়ে কোন ভাইকে লিখার জন্য অনুরধ করা হলো। বিশেষ আপনাদের মত যারা দেশের বাইরে আছেন তারা এগিয়ে আসলে খুবই সুবিধা হয়।
তুরস্ক, মিশর , তিউনিসিয়া এবং মালেয়শিয়া নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে একটা গবেষণা শুরু হয়েছিল। যিনি দ্বায়িত্বে ছিলেন, তিনি সে সব দেশ ঘুরে এসেছিলেন। একটা সেমিনারে গবেষণার একটা অংশ তুলে ধরা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ রিসার্সের এর ব্যাপারে কোন কিছু আর জানানো হয় নাই।
বর্তমানে আব্দুর রাজ্জাক সাহেব একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চালু করেছেন এই দেশগুলোর আন্দোলন নিয়ে গবেষণার জন্য। তারা প্রতি সম্পাহেই বসছেন। এই থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সম্পর্কে অবগত আছি এবং কারা একে আছেন সেটাও জেনেছি। তবে তাদের উদ্দেশ্যে এবং কার্জক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা নেই।
যেহেতু যারা কাজ করছে, তাদের কাছ থেকে কোন কিছু এখনও জানতে পারছি না। তাই নিজে কিছুটা পড়াশোনা করার চেষ্টা করছি। সেই আলোকে নিজের কিছু ভাবনা লিখে যাবো ইনশায়াল্লাহ….
জাযাকাল্লাহ…
আপনি বলেছেন-
অনেকগুলো কারণেই কোন দলকে এককভাবে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন আছে…
এ কথায় আপত্তি করার সুযোগ নেই!
দেশ-জনগণ-শিক্ষা-সংস্কৃতি-প্রতিবেশ ও আরো অনেক ফ্যাক্টর বিবেচনায় রেখেই সামনে এগুতে হবে!
মুহতারাম আবু সুলাইমান এর মন্তব্য, প্রস্তাব ও আহ্বান সমর্থন করছি!
পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায়….