আবুল মনসুর আহমেদ তার “বাংলাদেশের কালচার” বইয়ে একটা কথা স্পষ্ট ভাবে লিখেছেন-
“রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের কবি হইয়াও বাংলার জাতীয় কবি নন। বাংলার জাতীয় কবি নন এই সহজ কারনে যে, বাংলায় কোন ‘জাতি’ নাই। আছে শুধু হিন্দু-মুসলিম দুটি সম্প্রদায়। তিনি বাংলার জাতীয় কৃষ্টির প্রতীক নন এই সহজ কারনে যে এখানে কোনও জাতীয় কৃষ্টিও নাই। এখানে আছে দুটি কৃষ্টিঃ একটা বাংগালী হিন্দু কৃষ্টি, অপরটি বাংগালী মুসলিম কৃষ্টি।”
এবার একটু খেয়াল করবেন, আমাদের শিক্ষা সমাপনীর বিদায়ী উৎসবের দুইটি পদ্ধতির দিকে। একটি হচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের “সমাবর্তনে মেডেল প্রদান পদ্ধতি” অপরটি মাদ্রাসায় “পাগড়ী প্রদান পদ্ধতি”।
এই দুই পদ্ধতির প্রথমটি(মেডেল প্রদান) হিন্দু কৃষ্টি থেকে এসেছে।
আর্য যুগে ছাত্ররা গুরুর আশ্রম থেকে লেখাপড়া শেষে, গুরু ছাত্রকে ব্রহ্মাচর্য সমাপ্তিসূচক #স্নান করিয়ে গলায় #পৈতা পরিয়ে দিতেন। এই স্নান থেকে স্নাতক আর পৈতা থেকে মেডেলের উৎপত্তি।
আর মাদ্রাসা শিক্ষায় কোন বিশেষ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন শেষে ওস্তাদ সাগরেদকে “পাগড়ী” পরিয়ে দেন।
ফলে মুসলমান হিসাবে এটাই আমার আত্মপরিচয়ের কৃষ্টি!
এই কথা শুনে আমাকে আপনারা সাম্প্রদায়িক উপাধি দিতে পারেন(!) কিন্তু যখন দেখি আবুল বারাকাত স্যাররা “মাদ্রাসা শিক্ষার রাজনৈতিক অর্থনীতি” টাইপের সেমিনার করে করে মাদ্রাসা বিরোধী জনমত গঠনের চেষ্টা করেন, তখন এর প্রতিক্রিয়া হওয়া আবশ্যক।
বর্তমানে বাংলার মুসলমানরা ব্যাপক আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগে থাকেন, ঢাবি ছাত্ররাও তার ব্যাতিক্রম নয়। ফলে হোলি, ভ্যালেন্টাইন কিংবা থার্টি ফাষ্ট কোনটিতে তাদের ভুমিকা কি হবে তা তারা আবিষ্কার করতে অক্ষম! নিছিক হালাল-হারামের ফালতু তর্ক করে তারা ক্লান্ত!
হিন্দুরা আমার ভাই-বোন। তাদের সাথে কোন সংঘাত আমাদের নাই তবে কালচারের ভিন্নতা আছে। তাই কেউ সাম্প্রদায়িকতা খুজবেন না। শুধুই আত্মপরিচয় বাঁচিয়ে রাখার প্রচেষ্টা!





আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ………
যথার্থই বলেছেন, জাযাকাল্লাহ….
যে জাতি/গোষ্ঠী তার আত্মপরিচয় সংরক্ষণ করতে পারেনা তার স্বকীয়তা ভিনজাতীয় সংস্কৃতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী!!