লিখেছেন; শায়খ রশিদ আল ঘানুশি*
অনুবাদ; আইএমবিডি ভলান্টিয়ার টিম
ভূমিকা
এই প্রবন্ধ ইসলামের অনুসারীদের অনৈসলামিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অথবা এর প্রশাসনে অংশগ্রহনের ব্যাপারে ইসলামের অবস্থান সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করবে। প্রথমেই এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিচে উল্লেখ করা হল:
প্রথম: একটি ধারণা, যে ইসলামি সরকারের অস্তিত্ব আছে এবং সেখানে মুসলমানদের ব্যক্তিগত এবং দলীয়ভাবে এমন একটি সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য কাজ করা ধর্মীয় কর্তব্য।
দ্বিতীয়: আরেকটি বিষয়, যেখানে ইসলামি সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই এবং মুসলমানদের জন্য বর্তমান সরকারকে সমর্থন দেয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই সেখানে সরকারের দূর্নীতির উপাদানগুলোতে সংস্কার আনার জন্য কাজ করা উচিত।
তৃতীয়: বর্তমান অবস্থায় ইসলামি সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা অনুকূল নয়। সুতরাং এমন একটি সরকার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সেখানে ব্যর্থ হলেও সকল মুসলমানের দায়িত্ব আল্লাহর নির্দেশাবলি পূর্ণ করতে এবং ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে অনবরত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে:
হে, বিশ্বাসীরা, তোমরা আল্লাহর জন্য ন্যায়ের ওপর সাক্ষী হয়ে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে থাকো, কোনো সম্প্রদায়ের দুশমনী যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে এর ফলে তোমরা ন্যায় ও ইনসাফ থেকে দূরে সরে আসবে, তোমরা ইনসাফ করো কারণ এটি আল্লাহকে ভয় করে চলার অধিক নিকটতর পন্থা। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, অবশ্যই আল্লাহ তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণ অবগত আছেন। (৫:৮)
একই অধ্যায়ের ৪৯ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:‘ আল্লাহ যা নির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুযায়ি বিচার কর এবং অসারতাকে অনুসরণ কর না।’ আবার ৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হচ্ছে: ‘যারা আল্লাহর দেখানো পথে বিচার করে না তারা অবিশ্বাসী।’
ব্যতিক্রমী অবস্থা
এই আলোচনাটি সাধারণ অবস্থায় প্রয়োগ করার সুযোগ নেই, যখন মুসলিম সমাজ তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক, আর্থনীতিক, আন্তর্জাতিক এবং অন্যান্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটি মুসলমানদের হৃদয় এবং আত্নার গভীর থেকে উৎসারিত বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দ্বারা নিশ্চিত হয় যে পশ্চিমি ঔপনিবেশিকতার বিপক্ষে ইসলামের মৌলিক ভিত্তিগুলোকে গ্রহন করা হবে। আলোচনাটি এখানে দৃষ্টি দিয়েছে ব্যতিক্রমী কিছু অবস্থার দিকে। যখন বিশ্বাসীদের সমাজ তাদের লক্ষ্য, সরাসরি ইসলামি সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন করতে অক্ষম। এই অবস্থায় (মুসলিম) সমাজ বেশ কিছু কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হয়।
বাস্তবতা এবং নমনীয়তা দুটোই ইসলামি শরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে যে, এই ধর্ম হচ্ছে জীবন চলার পথ, যা সকল সময় এবং সকল স্থানের জন্যই উপযুক্ত। এছাড়া মুসলিম এবং মানব সমাজের জীবন প্রতিনিয়তই চলমান এবং ঠিক একজন মানুষের জীবনের মতোই সুস্থতা-অসুস্থতা, জয়-পরাজয়, সফলতা-ব্যর্থতা, প্রগতি-দুর্গতি, সবলতা-দুর্বলতার মাঝে সবসময় ওঠানামা করে। এবং এটি হচ্ছে প্রাকৃতিক। তবে এটি প্রয়োজনীয় যে একটি ধর্ম যা সকল সময়ে এবং সকল স্থানে মানব জীবনের কল্যাণ সাধনের জন্য এসেছে তাদের (এর অনুসারীদের) এমন সক্ষমতা থাকা উচিত যে কোন অবস্থার যেন মোকাবেলা করা যায় এবং মুসলিম সমাজ যা অনুমোদন করে এমন বিষয়গুলোতে যেন সংস্কারমূলক উন্নয়ন করা যায়। এটিও করতে হবে এবং ধর্মের প্রধান সোজা লাইনটিকে বাঁকানোর চেষ্টাও বাতিল করতে হবে। কেবলমাত্র সাধারণ অবস্থার জন্যই ইসলামের নিয়মনীতি সঠিকভাবে পালন করলে হবে না, সেই সঙ্গে অন্যান্য কঠিন এবং ব্যতিক্রমী অবস্থায়ও ইসলামের আইন এবং নিয়মতন্ত্রকে রক্ষা করতে হবে। সবলতা এবং দুর্বলতা উভয় পরিস্থিতিতেই শরিয়তের (ইসলামের নিয়মনীতি) মৌলিকতাকে ধরে রাখতে হবে বিশ্বাসীদের।
অনৈসলামিক সরকারে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব
মানব কর্মের বিচারে সাধারণ আইন হচ্ছে, নিষিদ্ধ নয় এমন সকল বিষয়ই অনুমোদিত। এ নিষেধাজ্ঞা আসে আল্লাাহর আইন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা থেকে। এ নিষেধাজ্ঞা আল্লাহর আইন ব্যতীত অন্য কোন আইন থেকে আসে না। আল্লাহর আইনের আনুগত্য এবং তার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সকল মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।
কিন্তু এটি করতে মুসলমানরা যদি অক্ষম হয়, তাহলে আমরা যা করতে সক্ষম তাই যদি করি তবেই আমরা অনুগত হিসেবে বিবেচিত হবো।
কোন আত্নাই তার সামর্থ্যরে বাইরে কোন কিছু করতে বাধ্য নয়। (২:২৩৩)
ইসলামি সরকার হচ্ছে:
১. অন্যান্য সকল আইনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ শরিয়াতই ইসলামের সর্বোচ্চ আইন প্রকাশ করে। এই বিবেচনায় এটি সকল গবেষকদের দায়িত্ব যে তারা বিচারকদের ব্যবহারের জন্য যুক্তি অনুযায়ী আইনের ব্যাখ্যা দিবেন। ইসলামি শাসন কাঠামোর মূল কথা, নির্বাহি কমিটির নেতা বিশ্বস্ততার সঙ্গে আইন-কানুন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবেন।
২. আলোচনার মাধ্যমে তৈরী শূরার কাছেই জাতির রাজনৈতিক ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকা উচিত।
যদি এ ধরণের সরকার থাকে তবে বিশ্বাসীদের এটি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টার প্রয়োজন নেই। যদি না থাকে তখন জাতি কি করবে?
ইসলামের মৌলিক নীতির উপর ভিত্তি করে এবং মানুষের আকাঙ্খা এবং প্রয়োজন (বিশ্বাস এবং সুস্বাস্থ্য রক্ষা এবং শয়তানের প্রতিরোধ) পূরণের উদ্দেশ্যে মুসলিম সমাজের দায়িত্ব হচ্ছে সকল ধরণের নিষ্ক্রিয়তা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদকে পরিহার করা। প্রতিটি মুসলমানেরই দায়িত্ব ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করা। যদি তা সম্ভব না হয় তবে মুসলিমদের যতটুকু কর্তব্য পালন সম্ভব তা করাই শ্রেয়।
ইসলামি অথবা অনৈসলামি পরিবেশে সামাজিক আইন প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমতার অংশীদারিত্ব একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। এই ক্ষমতার অংশীদারিত্ব ইসলামি শরিয়া অনুযায়ী হতে হবে, এমনটি প্রয়োজনীয় নয়। যাই হোক, এটি ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ যা শূরা অথবা জাতির কর্তৃপক্ষ; এক নায়কতন্ত্র, বিদেশি আগ্রাসন অথবা স্থানীয় বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করে। ক্ষমতার অংশীদারিত্ব একটি জাতীয় অথবা মানবতান্ত্রিক প্রয়োজন যেমন স্বাধীনতা, উন্নয়ন, সামাজিক সাম্যতা, জনগণের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বহুদলীয় রাজনীতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অথবা মসজিদ এবং ইসলামি কার্যক্রমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ের দিকেও লক্ষ্য রাখে।
কোন মুসলিম সমাজ যদি ইসলামি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অক্ষম হয়, তবে ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে কি সংকোচ করা উচিত? উত্তর হচ্ছে, না। এমন একটি পদ্ধতি প্রবর্তনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা মুসলমানদের ব্যক্তি এবং সমাজ হিসেবে ধর্মীয় দায়িত্ব। ইবনে খালদুনের মতে, মুসলমানরা এই পদ্ধতিতে শরিয়াতসমৃদ্ধ একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাদের অক্ষমতা স্বত্বেও।
তথ্য পরীক্ষা
কোরআন থেকে কিছু উদ্ধৃতি দেয়া যেতে পারে। সুন্নাহ এবং ইসলামের ইতিহাস প্রমাণ করে, যে মুসলিমরা এককভাবে অথবা সম্মিলিতভাবে ভাল কিছু করার জন্য এবং শয়তানি কার্যক্রমকে প্রতিরোধ করতে অনুমতিপ্রাপ্ত হয়েছে অনৈসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অথবা এমন সরকারের প্রশাসনে অংশ নিতে।
কোরআনের একটি অধ্যায়ে আমাদেরকে বলা হয়েছে ইউসুফ (আ:) এর ঘটনা। যিনি ভাইদের দ্বারা কুয়ায় নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মুক্তি পেয়ে মিশরের ফারাওদের প্রাসাদে স্থান পেয়েছিলেন। যেখানে তিনি প্রলোভন এবং বিচারের সম্মুক্ষীন হয়েছিলেন। এটি একজন তরুণের জন্য বিস্ময়ের, যাকে কারারুদ্ধ এবং অত্যাচার করা হয়েছিল, তিনি সময়ের সদ্ব্যবহার করলেন এবং ফেরাওন সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহন করতে রাজি হলেন এই বিশ্বাসে যে তিনি অসংখ্য জাতিকে মুক্তি দিতে পারবেন যারা মৃত্যূর হুমকিতে ছিল। তিনি এজন্য অপেক্ষা করেননি যে মিশরীয়রা প্যাগানবাদকে বাদ দিয়ে তার ধর্মকে একটি ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য গ্রহন করবে। এই তরুণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যে ধর্ম এসেছে মানুষকে সেবা দিতে এবং তাদের প্রয়োজন পূরন করতে। জনগণকে ধ্বংস এবং মৃত্যূ থেকে রক্ষা করতে ইউসুফ অপেক্ষা করেননি। তিনি দেখলেন যে তিনি সাহায্য করতে সক্ষম। সুতরাং ফেরাওন সরকারে গণ সংযোগ প্রশাসনে তার কার্যকরী ভূমিকা রেখে তিনি ইসলামের জন্যই তার দায়িত্ব পালন করলেন। এবং শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের জীবনকে সংস্কারের মাধ্যমে ভাল পথে নিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগালেন। কোরআনে ইউসুফের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে এমন ব্যবস্থা অনুমোদনযোগ্য। ইউসুফ যা করেছেন তা মুসলমানরা যে কোন সময় যে কোন স্থানে করতে পারে। এমন অবস্থায় মুসলমানদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং শয়তানকে প্রতিরোধ করতে রাজনৈতিকভাবে অনৈসলামি সরকার প্রতিষ্ঠায় এবং প্রশাসনিক কাজে অংশ গ্রহন ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। এটি করতে ব্যর্থ হলে জাতীয় আকাঙ্খা পূরণ হবে না এবং সমাজে শয়তানি কাজ বিস্তার লাভ করবে।
দ্বিতীয় উদাহরণ হচ্ছে, ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইথিওপিয়ার সম্রাট নাজ্জাসী। নবী তার কিছু সঙ্গীকে আবিসিনিয়ায় যেতে বললেন, নাজ্জাসী সম্পর্কে এই মন্তব্য করে যে, নাজ্জাসীর রাজ্যে কোন অন্যায় হতে পারে না। পরবর্তিতে আবিসিনিয়ায় ক্ষুদ্র একটি মুসলিম দলের উপস্থিতি নাজ্জাসীর ইসলাম গ্রহন নিশ্চিত করেছিল। তারপরও তিনি তার সরকারে কোন শরিয়াতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইন প্রনয়ণ করেননি। এমন ধরণের যে কোন পদক্ষেপ তার রাজত্বে তার এবং তার অতিথিদের জীবন বিপন্ন করতে পারতো। এই পরিচিত রাজার ঘটনাটি ইসলামের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ আছে এবং বর্তমান কালেও তা আলোচিত হয়ে আসছে। এই রাজার মৃত্যূ সংবাদ পাওয়ার পর নবীজী তার সাহাবীদের রাজার আতœার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করতে বলেছিলেন। এই ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়্যার মন্তব্য উদ্ধৃত করা যায়। ‘আমরা জানি যে তিনি নিশ্চিতভাবে কোরআনিক কোন আইনকে তার সমাজে প্রবর্তন করেননি। কেননা তার জনগণ তাকে এই ব্যাপারে অনুমতি দেয়নি। এই ব্যাপারে বলা যায়, নাজ্জাসী এবং এমন সকল মানুষ যারা তার মতো, তারা ইসলামের আইন পরিপূর্ণভাবে না মেনেও তাদের পদ্ধতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি খুঁজে নিয়েছিলেন। এবং এই পদ্ধতিই বর্তমান অবস্থায় পরিপূর্ণতা দিতে পারে।’
তৃতীয় উদাহরণ হচ্ছে হিলফুল ফুজুল। যা আল ফুজুলের একটি মৈত্রী চুক্তি। এটি হচ্ছে ইসলাম পূর্ব যুগে আরব গোত্রগুলোর সম্মিলিত একটি ঘোষণা। যেখানে মন্দকে সমর্থন করা হয়েছে, আতœীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করতে বলা হয়েছে এবং তাদের ভালভাবে দেখা শোনা করতে বলা হয়েছে। নবীজী তার নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে এই মৈত্রী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। এবং পরবর্তীতে বলেছিলেন, যদি ইসলামের মাঝেও এমন কোন চুক্তি হয় তবে তিনি নিঃসন্দেহে তা অনুমোদন করবেন। সেই সঙ্গে তিনি বললেন, জাহিলিয়্যার যুগে যে কোন ভাল চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ইসলামের অন্তর্ভূক্ত হয়ে যাবে। এটি একথাই প্রকাশ করে যে. বিশ্বাসী সমাজের ন্যায় বিচার রক্ষা করতেই এমন চুক্তিতে অংশ নেয়া উচিত। যা মানুষের প্রয়োজন পূরন করবে, মানবাধিকার রক্ষা করবে, জনগণের শাসন নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার নিশ্চয়তা দিবে। বিশ্বাসীরা এ লক্ষ্যগুলো পূরণের চেষ্টা করতে পারে তাদের আদর্শের সঙ্গে না মিললেও।
চতুর্থ উদাহরণ হচ্ছেন উমর বিন আব্দুল আজীজ। এই উমাইয়া খলীফা যার শাসনকাল দুই বছরও অতিক্রম করেনি ঐতিহাসিকভাবে এবং গবেষকদের দ্বারা তিনি পঞ্চম খলীফা হিসেবে স্বীকৃত তার ন্যায় বিচারের জন্য। এমনকি চার খলীফার শাসনকাল পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রম করার পরও একথা বলা যায়। তিনি এমন এক রাজা যিনি রাজত্বকে ঘৃণা করতেন। তিনি রাজতন্ত্রের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট ছিলেন এবং তিনি এটিকে স্বীকার করতেন না। যাই হোক, তিনি এই ব্যবস্থা উৎখাত করলেন না এবং তিনি অনেক বছর ধরে সরকারে যে দূর্নীতি চলে আসছিল তা থেকে জাতির অধিকার রক্ষা করতে অক্ষম ছিলেন। তবে তিনি অসংখ্য মন্দ বিষয়গুলোতে সংস্কার এনেছিলেন এবং ন্যায় বিচার ও স্বচ্ছ্বতা নিশ্চিত করেছিলেন। রাজতন্ত্র গ্রহন করার পরও, যা তিনি স্বীকার করতেন না, তিনি অনেক ভাল কিছু করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং কেউ বলতে পারবে না যে তিনি তার কাজে ভুল কিছু করে গেছেন।
সমসাময়িক অবস্থায় করণীয়
ইসলামি সরকার অনেকগুলো মূল্যবোধের উপর নির্ভর করে। যা নিশ্চিত করে তাদের সম্পূর্ণ বিষয়টি কতটুকু উপযুক্ত অথবা অনুপযুক্ত হবে। কিন্তু সকল মূল্যবোধই পরিপূর্ণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। এবং এমন অবস্থায় কেবল মাত্র একটি সরকার প্রতিষ্ঠাই যথার্থ হবে। এমন সরকার যদি ইসলামি নাও হয় তবুও ইসলামি সরকার হিসেবেই বিবেচিত হবে। কেননা ইসলামি সরকারের জন্য ন্যায় বিচার অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি বলে ন্যায় বিচারই হচ্ছে আল্লাহর আইন।
ইবনে আকিল আস সিয়্যাসাহ আশ শারিয়াহকে (ইসলামের প্রশাসন ব্যবস্থা) সংজ্ঞায়িত করেছেন এমন কাজ হিসেবে যা মানুষকে ভাল পথে নিয়ে আসে এবং মন্দের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এমনকি যদি তা নবী কর্তৃক স্বীকৃত নাও হয় এবং আসমান থেকে না এসে থাকে।
তিনি এ ব্যাপারে ‘ইসলামি আইনের মতো যে কোন কিছু’ বাক্যটি ব্যবহার করে আরো ব্যাখ্যা করেন যে, এ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা যাবে এবং এটি শরিয়াতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না। যদি কেউ ‘বাক্য’টির এই অর্থ করে যে অবশ্যই কোরআন এবং সুন্নাহর দ্বারা সকল কিছুই প্রমাণিত হতে হবে, তবে রাসুলের সাহাবীরা নিশ্চয়ই ভুল পথে ছিলেন। কেননা তারা পরিবর্তিত অবস্থায় এমন অনেক ব্যবস্থাই গ্রহন করেছিলেন সামাজিক প্রয়োজন এবং উন্নয়নের জন্য যা ছিল সম্পূর্ণ নতুন।
বর্তমান অবস্থায় অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যেতে পারে যেখানে অনৈসলামিক ব্যবস্থায় ইসলামি ব্যক্তি এবং দল মৈত্রী স্থাপন করেছেন মন্দকে প্রতিরোধ এবং সমাজকে সাহায্য করতে। এ স্বত্বেও এমন অনেক গবেষক রয়েছেন, যারা এই বিষয়টিকে অনুসরণ করতে বাধা দেন। শ্রদ্ধার সঙ্গেই বলছি, এমন গবেষকগণ মুসলমানদের জন্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধর্মকে কঠিন করে তুলছেন। তাদের মতামত এমন বিষয়গুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা অবশ্যই আইনসঙ্গত এবং অনুমোদনযোগ্য। এমন বিষয়ের উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যা মুসলমানদের উৎসাহিত করে যে কোন কঠিন অবস্থায় ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকার জন্য।
এমন অবস্থায় কিছু উদাহরন দেয়া যেতে পারে:
প্রথম: বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মুসলমান সংখ্যালঘু হিসেবে বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। যা প্রকাশ করে যে তারা তাদের দেশে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না কখনোই। এদের মাঝে অনেক সংখ্যালঘু মুসলিম অন্য ধর্মানুসারীদের দ্বারা এবং অন্যান্য চাপের কারণে নির্বাসন অথবা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ভয়ে থাকে। ইসলামিক নীতি তাদের জন্য কি ব্যবস্থা রেখেছে? কিছু মানুষ এই সকল সংখ্যালঘু মুসলমানদের মুসলিম প্রধান দেশে অভিবাসনের জন্য পরামর্শ দেন। যদি এটি সম্ভব হতো, যদিও তা সত্যিকার অর্থে অসম্ভব, তারপরও এটি কি ফল নিয়ে আসতো? অথবা এমন পরামর্শ কি মুসলমানদের তাদের ঘর ছাড়া করবে না? এখানে এমন অনেকেই আছেন, যারা মুসলমানদের বিচ্ছিন্ন হতে এবং অপেক্ষা করতে উপদেশ দেন। কিন্তু এটি ইসলামের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যা বিশ্বাসীদের ইতিবাচক, উদ্যোগী এবং যুক্ত হতে উৎসাহিত করে।
এই সংখ্যালঘু মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করা। তারা একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে পারেন, যা মানবাধিকারকে সম্মান দিবে, নিরাপত্তা এবং বিশ্বাস প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। এটিই হচ্ছে মানবতাবোধ, যা পূরণ করতে ইসলামের আগমণ।
ইসলামি ধারণা অনুযায়ী যে কোন সমাজের জন্য এই বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে, ইসলাম বিরোধী এবং ইসলামকে ধ্বংস করতে উন্মুখ হয়ে আছে এমন দারুল হারবে শান্তি এবং স্থিতাবস্থায় নিয়ে আসা। আল ইমাম আন নবুবী দারুল হারবের সংজ্ঞা দিয়েছেন, এটি এমন একটি দেশ যেখানে বিশ্বাসীরা মুক্তভাবে তাদের ধর্মীয় দায়িত্ব অনুশীলন করতে পারে না এবং ধারাবাহিকভাবে অভিবাসন প্রয়োজনীয় হয়ে গেছে। সত্যিকার গনতন্ত্র এমন নয়, গণতন্ত্র উপাসনা এবং বিশ্বাসের স্বাধীনতা দেয়।
দ্বিতীয়: মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে অনেক ইসলামি দল এবং আন্দোলন আছে, কিন্তু সেখানে তারা একনায়কতন্ত্র দ্বারা শাসিত হচ্ছে অথবা একনায়কতন্ত্র ইসলামকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে। এমন ইসলামি দলগুলো সম্ভবত এককভাবে সংস্কার অথবা পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়। শরিয়া (ইসলামি আইন) কি এই আন্দোলনগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে একনায়কতন্ত্রের বিপক্ষে কাজ করাকে সমর্থন করে? যাতে করে মানুষকে সম্মান জানানো যায় এবং তাদের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়া যায়? না, এমনটি নয়।
তৃতীয়: একনায়কতন্ত্র দ্বারা শাসিত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসলামি দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন আদায় করতে পারে এবং একটি ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। যাই হোক, এমন মধ্যবর্তী সময় তাদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে তাদের নিজেদের দেশ অথবা বিদেশি আগ্রাসন। নতুন প্রতিষ্ঠিত ইসলামি সরকারের উপস্থাপনা অথবা অন্যান্য চাপও তাদেরকে পতনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
যতক্ষণ পর্যন্ত না ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করার দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং ধর্ম নিরপেক্ষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ইসলামি দলগুলোর ধর্ম নিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে একমত হয়ে কাজ করতে না পারার ব্যাপারে কি কোন কারণ আছে? সত্যিকার অর্থে এর বিরুদ্ধে বলার মতো কিছুই নেই।
নিশ্চয়ই এটি বলতে হবে যে এই প্রক্রিয়াটি ইসলামি এবং অনৈসলামি সরকারের পছন্দ অপছন্দের উপর হচ্ছে না, হতে যাচ্ছে একনায়কতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের মাঝে।
চতুর্থ: বিদেশি শক্তি দ্বারা শাসিত দেশে ইসলামি দলগুলো কি করবে? এখানে কি কোন কারণ আছে, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি না করার? যেখানে উভয়েরই রয়েছে সাধারণ শত্র“ এবং জাতীয় স্বার্থও এখানে সংশ্লিষ্ট? এই অবস্থায় মুসলমানরা ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনে থাকার চেয়ে ভাল অবস্থায় থাকতে পারবে। এখানে এমন কিছুই নেই যা তাদেরকে এমন কাজ করা থেকে বিরত রাখতে পারে।
উপসংহার
আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে ইসলামি সরকার প্রতিষ্ঠা করা যদি প্রতিটি ইসলামি দলের স্বল্প অথবা দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা হয়ে থাকে তবে শরিয়াত এমন বিষয়গুলোতে ছাড় দিবে যেখানে সহজেই লক্ষ্য পূরণ করা যায় না। এবং সেখানে একটি পরিবর্তিত ব্যবস্থা চাল করা যায়। ব্যতিক্রমী অবস্থায় ইসলামি দলগুলোকে অনৈসলামিক দলের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে একটি বহুদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেখানে ক্ষমতা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।
এমন মৈত্রী চুক্তির মাধ্যমে যে কোন আগ্রাসনের মোকাবেলা করা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। এই সকল বিষয়ে মৈত্রী চুক্তি করার সময় অবশ্যই ইসলামকে নিচে ফেলে দেয়া যাবে না। এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যারা কাজ করেছে তাদেরকে বাধা দেয়া যাবে না।
এই মতামতের উপর ভিত্তি করে:
১. এই নীতি সমর্থন করে যা ভাল কিছু নিয়ে আসে এবং বাধা দেয় এমন কিছুকে যা মন্দের জন্ম দেয়,
২. এই নীতি যা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তা নির্ভর করে এর নিজের গুরুত্বের উপরই,
৩. এই নীতির ফলাফল,
৪. প্রয়োজনই নীতি,
একজন মুসলমানের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে হবে এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করতে নাকি অবস্থার উপর ভিত্তি করে তারা পূর্ণতার সঙ্গে আপোস করবে, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর আইনের প্রয়োজনীয়তা যা আল্লাহ পাঠিয়েছেন, তা হচ্ছে মানবতার জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
আমি অবশ্যই আমার রসুলদের সুস্পষ্ট নিদর্শনসহ পাঠিয়েছি এবং আমি তাদের সঙ্গে আসমানী গ্রন্থ পাঠিয়েছি। আরো পাঠিয়েছি ন্যায়দন্ড যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে। (৫৭:২৫)
ক্ষমতার অংশীদারিত্বের ধারণাটি অসংখ্য সমস্যামুখর। যেখানে ইসলামপন্থীরা এর বিরোধিতা করতে পারে গণতন্ত্র, বহুদলীয় পদ্ধতি এবং ক্ষমতার অংশীদারিত্বকে গ্রহন করতে। বর্তমান ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ ধারাই হচ্ছে ক্ষমতার অংশীদার হওয়া। এমনকি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার হলেও। এর অর্থ জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, জনগণের স্বাধীনতা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং আর্থনীতিক উন্নতি এবং বিভিন্ন হুমকীর মোকাবেলা করা।
মূল সমস্যা হচ্ছে অন্যদের বুঝানো যে সরকার হচ্ছে জনগণের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মৌলিক নীতি। এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর মতো ইসলামপন্থীদের অধিকার রক্ষা করা যাতে তারা রাজনীতিতে সক্রিয় হতে পারে এবং ক্ষমতার জন্য লড়াই করতে পারে অথবা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার অংশীদার হতে পারে।
তিউনিসিয়ান এবং আলজেরিয়ান নির্বাচনে ইসলামপন্থীদের শাস্তি হচ্ছে যে তাদের স্থান দখল করে আছে পশ্চিমা গণতন্ত্র এবং স্থানীয় ধর্ম নিরপেক্ষ উচ্চ শ্রেণী। তারা সম্মিলিতভাবে দুটি দেশেই সরকার প্রতিষ্ঠা করে বসে আছে। এটি আমাদের সামনে উপস্থিত করে মুসলিম বিশ্বের অসতর্ক অবস্থার বিষয়টি। আমাদের প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে এখন একটি সত্যিকার গণতন্ত্রে উত্তরণ।
*রশিদ আল ঘানুসি তিউনিসিয়ায় জন্ম নেয়া একজন ইসলামি চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক কর্মী। তিনি কায়রো এবং দামাস্কাস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। ঘানুসি তিউনিসিয়ায় ইসলামিক টেন্ডেন্সি মুভমেন্ট প্রতিষ্ঠা করেছেন ১৯৮১ সালে (তিউনিসিয়ার সবচেয়ে বড় ইসলামিক দল)। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে নাম পরিবর্তন করে দলের নামকরণ করা হয় হিজব আল নেহাদা (পুনর্জাগরনী দল)। তিনি ১৯৮০‘র দশকে দুই বার বন্দি হয়ে জেলে গিয়েছেন। ১৯৯০‘র দশকের প্রথম দিকেই তাকে লন্ডনে নির্বাসন দেয়া হয়। ইসলামি আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ইসলামের রাজনীতি, সামাজিক বিষয়সমূহ এবং ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে ঘানুসি একটি তীব্র কণ্ঠস্বর। ২০১১ সালে তিউনিশিয়ায় রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি দেশে ফিরে যান এবং এননাহাদা পার্টির প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন।আরব বসন্ত পরবর্তি তিউনিশিয়ায় স্থিতিশীল ও গনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের জন্য সম্প্রতি দেশে বিদেশে ভূয়সী প্রশংসা পান।
Source: Azzam Tamimi,Power-sharing Islam? Chapter: The participation of Islamist in a Non-Islamic Government, Liberty for Muslim World, 1993




