আস্তিক-নাস্তিক এক প্লাটফর্মে চলে আসবে শীগ্রয়ই!

নাস্তিক-আস্তিক ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ড, সুবিধাবাদী শ্রেণী ও প্রাসঙ্গিক

বাংলাদেশে প্রচলিত যে বিষয় গুলো আবহমান কাল থেকে চলে আসছে, যা আমাদের গৌরব আর অহংকারের তা হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর উৎসব প্রিয়তা, আর অন্যদিক দিয়ে সমাজ কাঠামো পরিবার ভিত্তিক ও ধর্মীয় অনুশাসনের উপর নির্ভরশীলতা। যেমন কুমিল্লাতে কোটবাড়ী এলাকায় বার্ড এর নিকটবর্তী একটি সুন্দর বৃদ্ধাশ্রম আছে ওখানে গিয়ে একজনও বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা পাওয়া যায় নাই, জানতে চাইলে তারা বলে প্রথম প্রথম কয়েকজন ছিলো তারা কুমিল্লার বাহিরের, এরপর এই অল্প লোক দিয়ে এটা চালানো যায়না, তাই তাদেরকে ঢাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাক এটা উন্নত বিশ্বের চাইতে আমাদের আলাদা অর্জনের কথা শেয়ার করলাম।গরীব তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়ণশীল একটি দেশ, কতো চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে এই বর্তমান অবস্থান তৈরী হয়েছে, সংখ্যালঘু গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার কারনে স্থিতিশীল সরকার কায়েম করা যাচ্ছেনা, এটা অন্য একটি আলোচনার বিষয়।

ইদানিং নাস্তিকতা, নাস্তিক ও ব্লগার বা শাহবাগী, গণজাগরন মঞ্চ বনাম অদৃশ্য জঙ্গীবাদী গোষ্ঠী বা সরকার, বিরোধী দল, আরো আছে যুদ্ধাপরাধীর বিচার কেন্দ্রীক জামাত-শিবির, আছে ইসলামী বিভিন্ন দল ও হেফাজতে ইসলাম। আস্তিক বলেন নাস্তিক বলেন, ব্লগার মুক্তমনা ইত্যাদি সব কিছু যার শুরু হয় ভালো কোন প্রত্যাশা নিয়ে কিন্তু ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতি হওয়াতে দেখা যায় আজকে যারা বিরানী খেতে পায়, কায়েমী স্বার্থের কারণে তাদেরকেই খাইতে হয় দৌড়ানী। দেশে সরকারী এলিট বাহিনীর মাধ্যমে বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য ব্যবহার করার কারণে এবং বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার পরও অবৈধ নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ করার কারণে বিচার ব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা শুন্যে চলে আসছে।

পুলিশ সহ সব বাহিনীর লোকেরা বিভিন্ন স্বনামধন্য নেতা, সাধারণ হাজার হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে। এখানে আমি শুধু বলবো বিএনপির সালাউদ্দীনের কথা যাকে এক ধরনের পাগল বানিয়ে ভারতের এক হাসপাতালের প্রিজন সেলে রাখা হয়েছ। আর বলবো আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ও মাহমুদুর রহমান মান্না কে কেন, কোন আইনে বন্দি করা হলো তাহা সভ্য সমাজের নিকট মস্তবড় প্রশ্ন হয়ে আছে সরকারের নিকট। এমতবস্থায় মূলত আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের যার যার স্বার্থকেন্দ্রীক এই সকল নাস্তিক, আস্তিক, ব্লগার, মুক্তমনা লোকদের উপর হামলা করছেন, অনেককে হুমকী দিয়েছেন, অনেককে মারাত্মকভাবে কুপিয়ে হত্যা করে চলেছেন।

সরকারী বাহিনী বা দল তার গদি ঠিক রাখতে যেমন অনেক লোককে এমনকি বর্তমানে গ্রুপিং করে একে অন্যের উপর ঝাপিয়ে পরছেন, চবিতে দু গ্রুপের অস্ত্রের মহড়া পুলিশের সামনেই পুলিশ কাকে থামাবে দুই দলই সরকারের তাই নিজেরা আহত হয়েছেন। তারপরও কোন জোড়ালো পদক্ষেপ নাই। এই চিত্র কিন্তু সারা দেশের। দীপন ফজলুল হক স্যারের ছেলে, সে কিন্তু আস্তিকের ঘরের আস্তিক, শুধু ব্যবসায়ীক লাভের উদ্দেশ্যে অভিজিতের বই ছাপিয়েছে, তাকে এবং একই কায়দায় তাদেরকে হত্যা প্রচেষ্টা চালানো হয়।

দীপনের বাবা তার স্বভাব সূলভ ভঙ্গীতে বলেন আমি বিচার চাইনা, কারণ আমার আস্থা নাই, উনার আস্থাহীনতার কারণ আমি আপনি নিজেরাই একশতটি বাহির করতে পারবো, সংক্ষেপে বলা যায় এ যাবত কালে কোন হত্যার বিচার দূরে থাক তদন্ত পর্যন্ত হয় নাই। কি এক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে তারা দায় স্বীকার করছেন আর পুলিশ হাত পা গুটিয়ে সাধারণ মানুষকে ধরে জেলখানায় ঢোকাচ্ছেন, বা মোটা অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন। পুলিশের যে ঘটনা উদঘাটনের নির্দেশ থাকে শুধু ঐ ঘটনা তড়িৎ গতিতে ক্লু মোটিভ, আসামী সব ধরে ফেলতে পারেন, কিন্তু বেশীর ভাগ ঘটনার কোন প্রকার তদন্ত বা ক্লু পর্যন্ত পাওয়া যায়না। তাই স্যারের ছেলের ব্যাপারে তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন।

লীগের কিছু হঠাৎ নাযীল হওয়া নেতা ”মাহবুবুল আলম হানিফ” বলে ফেললেন যে দীপনের বাবা যারা হত্যাকারী তাদের সমর্থক তাই উনি এ কথা বলেছেন”। পরবর্তীতে যখন অভিজিতের বাবা এবং স্ত্রী বন্যাও একই কথা বললেন যে তাদেরও বিচারে আস্থা নাই, তখন অর্বাচিন নেতা হানিফ তার বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। গণজাগরণ মঞ্চকে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় রাখা হইছিলো, কিন্তু তাদের প্রয়োজনীয়তা সরকারের নিকট শেষ হয়ে গেছে তাই লীগের লোকজন দিয়ে ”ইংরেজদের ডিভাইডেড এন্ড রোলস পলিসি” ‘প্রয়োগ করে তাদেরকে গালাগালী করে কয়েক দফা লাঠিপেটা করা হয়েছে, জেলে নেয়া হয়েছে। দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে গেছে তাই অদ্য ৩ নভেম্বর অর্ধ দিবস হরতাল পালন করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখে নারীদের গণহারে শ্লীলতাহানী করা হয়েছে কিন্তু সনাক্ত করে দেয়ার পরও পুলিশ বলে আমরা দেখী নাই। আর আইজিপি ব্লগার হত্যার পর যদি বলেন যে ব্লগারদেরকেও একটু সংযত হতে হবে। এই অথর্ব বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায় যে, দু একটা ব্লগারকে মারলে কোন অসুবিধা নাই। এই কিছুদিন আগে খিজির সাহেবকে হত্যার পর আইজিপি আর তদন্ত অফিসারের বক্তব্য আলাদা। আইজিপি ও লীগের কিছু নেতারা যাত্রাবাড়ী মার্ডারের পর বলে দিলেন এগুলো জামাত শিবিরের কাজ, পরে দেখা গেল লীগের এক নেতার ভাই ভাতিজা সহ ৮ জন গ্রেফতার, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান। এগুলো করে তারা নিজেদের হালকা করে ফেলেছেন। তাই এখন আস্তিক, নাস্তিক এক প্লাটফর্মে চলে আসতে বেশী একটা সময় লাগবে বলে মনে হয়না। তাদের ঘোষিত নাস্তিক এবং আস্তিক কারোরই এই সরকারের প্রশাসন ও বিচারের উপর আস্থা নাই, এটাই বর্তমান সরকারের উপর জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

আমি নিজেও বিভিন্ন ব্লগে লিখি, সেই ক্ষেত্রে আমিও ধরে নিলাম ব্লগার। আমার নিজস্ব অবজারভেশণ মতামত থাকতে পারে তাই বলে আমাকে নাস্তিক বা আস্তিক ভাবা কি ঠিক হবে? নিশ্চয়ই না। কেননা, আমি বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের অংশ উল্লেখ করতে চাই যা তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে মাটিতে পা ফেলার আগে ভাষণ কালে বলেছিলেন, ”পাকিস্তানীদের কারাগারে বন্দি অবস্থায় কয়েকবারই আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো, তখন আমি তাদেরকে বলেছিলাম আমি বাঙালী, আমি মুসলমান আমি মৃর্ত্যুকে ভয় পাইনা”।