[ বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন: ধারাবাহিকতা রক্ষার সার্থে এই সিরিজের আগের লেখাগুলো পড়ার পরেই এই লেখাটা পড়ার অনুরোধ রইল]
জামায়াতে ইসলামীর Paradigm Shift যেখান থেকেঃজামায়াতের ইতিহাস-৮
ইতিমধ্যে নঈম সিদ্দিকির সতর্কতায়, জামায়াত অফিসের দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দু তাদের যত ধরনের সাংগঠনিক মাধ্যম ছিল যেমন সার্কুলার,পত্রিকা,ম্যাগাজিনের মাধ্যমে মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহী ও রিভিউ কমিটির প্রতি বিষেদাগার করে খবর ছড়িয়ে দেয়, যাতে করে রিভিউ কমিটি তাদের প্রাপ্ত ফলাফল ও পর্যবেক্ষন আসছে রুকন সম্মেলনে উপস্থাপন করার আগেই তাদের থেকে সদস্যদের মন উঠে যায় (1)।
জামায়াত নেতৃবৃন্দু (অফিসের দায়িত্বে থাকা)চাচ্ছিলেন তদন্ত কমিটির প্রাপ্ত তথ্য,আমিরের বিরুদ্ধে রিভিউ কমিটির আনীত অনুযোগ,কমিটির উপর আমিরের অযাচিত হস্তক্ষেপের সংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যত নিয়ে এতদিন ধরে চলা বিতর্ক থেকে সম্মেলনের দৃষ্টি সড়িয়ে শুধু মাত্র মাওলানা মওদুদীর আমির থেকে পদত্যাগের দিকে সড়িয়ে আনা।নেতৃবৃন্দু মাওলানা মওদুদীকে বুঝাতে সামর্থ হয় যে,তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ হচ্ছে মাওলানা ও জামায়াতের বিরুদ্ধে এক ধরনের ষড়যন্ত্র!তারা মাওলানাকে আরো বুঝায় রিভিউ কমিটির সাপোর্টে মাওলানা ইসলাহি জামায়াতের আমির হওয়ার পরিকল্পনা করছেন,এটা এমন এক ধরনের অভিযোগ যা ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে সত্য মনে হওয়ার যথেষ্ঠ কারন ছিল মাওলানার কাছে।ফলে মাওলানা মওদুদী খুবই শক্ত হস্তে তার সমালোচনার জবাব দেয়ার সীদ্ধান্ত নেন এবং সংগঠনে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে সংবিধান বহির্ভূত ক্ষমতা ব্যবহার করে হলেও জামায়াতকে একতাবদ্ধ রাখার দৃঢ় অবস্থান নেন।মাও:ইসালাহী তার বিরুদ্ধে আনীত এ ধরনের অভিযোগে একরকম নিশ্চুপ হয়ে যান এবং গুজবকে ভূল প্রমাণ করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য মাওলানা মওদুদীকে আমির হিসেবে মেনে নেয়ার সকল প্রস্তাবনায় সম্মতি দিয়ে দেন (2)।
মাওলানা মওদুদীর সমর্থনে জামায়াতে (অফিসের দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দু) আরো একধাপ এগিয়ে আরো আক্রমণাত্বক অবস্থান নেয়।তারা সাঈদ আহমেদ মালিক যে কিনা রিভিউ কমিটির কাজ প্রথম শুরু করেছিলেন, আব্দুল রহিম আশরাফ যিনি কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন তাদেরকে কাজকে স্থগিত করেন প্রথমে এবং পরে একেবারে জামায়াত থেকে বহিষ্কার করেন রাওয়ালিপিন্ডি ও ফায়সালাবাদ আমীর দ্বারা (3)।এই ঘটনার প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে আব্দুল জব্বার গাজী পদত্যাগ করেন,ফলে ঘটনা এবার অন্যদিকে মোড় নেয়।
মাছিগোট সম্মেলনের কিছু দিন আগে শুরা বৈঠকে মাওলানা মওদুদীকে পরামর্শ দেয়া হয় যাতে তিনি আমীর হিসেবে তার কাজ চালিয়ে যান এবং আরেকটা কমিটি তৈরির প্রস্তাব করা হয় যারা কিনা রিভিউ কমিটির প্রস্তাবগুলো খতিয়ে দেখবেন।মাওলানা মওদুদী এই ধরনের কমিটির প্রস্তাবনাকে নাকচ করে দেন এবং বলেন এমন হলে তিনি জামায়াত থেকে পদত্যাগ করবেন।যার ফলে সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় হিসেবে আমীর পদ থেকে মাওলানার পদত্যাগ ও জামায়াত ভবিষ্যত নির্বাচনে অংশগ্রহন বিষয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যায় ।মাওলানা মওদুদীর সাপোর্টারদের আদেশে শুরা এটা ঘোষনা করেন যে তারা রিভিউ কমিটির স্থলে মাওলানা মওদুদীকে আমীর হিসেবে দেখতে চান(4)।
ঐতিহাসিক মাছিগোট রুকন সম্মেলন
মাছিগোট (Machchi Goth) হচ্ছে পান্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালুর বিভাগের অন্তর্গত মরুভুমি সংলগ্ন একটি গ্রাম।পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৪ জন সহ সর্বমোট ৯৩৫জন রুকন ঐ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন(5)।পত্র-পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত খবরের আলোকে মাওলানা মওদুদীর প্রতি সহমর্মিতা ও জামায়াতের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্দিগ্ন মন নিয়ে সম্মেলনে উপস্থিত হন সবাই।সম্মেলনের প্রথম দিন ইসলামী জমিয়তে তালাবার(ছাত্র সংঘ)সাবেক সভাপতি ও তৎকালীন করাচীর প্রভাবশালী রুকন ডক্টর ইসরার আহমেদ বক্তব্য রাখলেন,তিনি মাওলানা মওদুদীর বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্য থেকে,বই থেকে বহু উদ্ধৃতি দিয়ে জামায়াতকে নির্বাচনী রাজনীতিতে সরাসরি অংশগ্রহন না করার পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন (6)।
মাও:ইসলাহি ছিলেন প্রতিপক্ষের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী।সম্মেলনের দ্বীতিয় দিনে তিনি বক্তব্য দিতে দাড়িয়ে মাওলানা মওদুদীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে বলেন; “মাওলানা মওদুদীর ডাকে সাড়া দিয়েই আমরা জামায়াতে ইসলামীতে শরীক হয়েছি।মাওলানাকে বলতে চাই,আপনি আমাদেরকে ছেড়ে কোথায় যাবেন?আমরা আপনার জামা ধরে আটকে রাখব”(7)।
যে সকল কারনে মাও মওদুদীর সাথে তার দুরুত্ব তৈরি হয়েছে সেই সব বিষয়ে কোন প্রশ্নই তুললেন না বরং ১৯৫১ সালের নভেম্বরে গৃহীত ৪দফার আলোকে বক্তব্য রাখলেন(8)।
মাওলানা ইসলাহির বক্তব্যের খুব ভাল সারাংশ করেছেন কলিম বাহাদুর;
• ইসলাহি বলেন,স্লোগানের মাধ্যমে নেতৃত্বের পরিবর্তনকে তিনি ইসলামিক বিপ্লব মনে করেন না এবং এটাও মনে করেন না নির্বাচনী প্রচারণাই সমাজ পরিবর্তন করে দিবে।গঠনমুলক কাজ, ইসলাহির মতে ভবিষ্যত নির্বাচনের জন্য মাঠ তৈরি করবে।The people were not so eager to change the leadership of the country that if the Jamat did not participate in the election, Islam would be defeated.(মানুষ রাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরিবর্তনে এতটা আকাঙ্খী নয় যে, যদি জামায়াত নির্বাচনে অংশগ্রহন না করে ইসলামের পরাজয় ঘটবে)
• তিনি আরো বলেন,নীতির সাথে আপস ব্যাতীত নির্বাচনে অংশগ্রহন কোনভাবেই সম্ভব নয়। তিনি দাবী করেন যে, যে সকল প্রার্থীতা কোরআন হাদীসের আলোকে এতদিন আযোগ্য বলে বিবেচিত হত,সেগুলোই এখন মেনে নেয়া হচ্ছে কোরআন-সুন্নাহর কোন ব্যখ্যা ছাড়াই] .এটা হচ্ছে নীতির সাথে আপসের শুরু মাত্র এবং জামায়াত তা করতে বাধ্য হবে (9)।
মাওলানা মওদুদীও তার ৬ঘন্টার বক্তৃতার প্রথমে ডক্টর ইসরার আহমেদের জবাবে বলেন “আমার লেখা উদ্ধৃতি করেই আমাকে নসিহত করা হয়েছে এবং বুঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে আগের লেখার কথা ভুলে গেছি এবং নিজের লেখার বিরুদ্ধে অবস্হান নিয়েছি।আমার লেখা গবেষনা করার সময় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়নি।ব্রিটিশদের গোলামী যুগের আইনসভার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিরুদ্ধে আমার লেখাকে পাকিস্তানের আইনসভার নির্বাচনে প্রয়োগ করা হাস্যকর”(10)।
পরবর্তিতে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন,রাজনীতিই হচ্ছে একমাত্র রাস্তা যার মাধ্যমে “ইকামতে দ্বীন”(ইসলামিক জীবন ব্যাবস্থা)ও হুকুমতে ইলাহী(আল্লাহ প্রদত্ত রাষ্ট্র ব্যাবস্থা) কায়েম করা সম্ভব(11)।ইকামতে দ্বীন” ও হুকুমতে ইলাহী কোনটাই অর্জন করা করা সম্ভব হবেনা যদি জামায়াত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে অবস্থান তৈরিতে সুযোগ করে দেয়।সেজন্য সংগঠনকে অবশ্যই রাজনীতির ব্যাপারে নীরব থাকার প্রবণতা থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক মাঠে প্রবেশ করতে হবে, সেটা নিজেদের স্বার্থে না হলেও অন্তত বিপক্ষ শক্তির সফলতা ঠেকাতে।(12)।
মাওলানা ইসলাহির বক্তব্যে কিছুটা সমঝোতার সুর ছিল যার কারনে তিনি রিভিউ কমিটির কোন কথা তুলেননি কিন্তু মাও মওদুদী তাতে ভ্রুক্ষেপ করেন নি,যা মাওলানা ইসলাহিকে রাগান্বিত করে এবং তিনি পরবর্তিতে জামায়াত ছেড়ে দেন।পরবর্তিতে মাওলানা মওদুদীকে লেখা তার একটি চিঠির মাধ্যমে জানা যায়, চৌধুরী গোলাম মোহাম্মদ তাকে এটা নিশ্চিত করেছিলেন যে মাওলানা মওদুদী কিছু অভিযোগ মেনে নিয়েছেন এবং তাকে accommodate করে নিতে রাজি আছেন।কিন্তু মাছিগোটে এর কোন আভাস পাওয়া যায়নি বরং মাওলানা মওদুদী সবার সামনে ঠান্ডা মেজাজে তাকে দমানোর চেষ্টা করেছেন।এই অনুভূতিই প্রধান কারন যা তাকে জামায়াত ছেড়ে চলে বাধ্য করে বলে তিনি লিখেন(13)।
মাওলানা মওদুদীর ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত মাওলানা জাফর আহমেদ আনসারীর নিশ্চয়তার ভিত্তিতে মাও ইসলাহী তার আগের পদত্যাগ পত্র তুলে নিয়েছিলেন এই আশায় যে, মাছিগোটে কোন একটা সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে।ইসলাহি মনে করেন তিনি তার পক্ষে সব কিছু করেছেন কিন্তু মাওলানা মওদুদী তার প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছেন(14)।
এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে,যেখানে থেকে সমস্যার সুত্রপাত সেই রিভিউ কমিটির রিপোর্ট(যেখানে সংগঠনের নৈতিক মান নিয়ে,অর্থের অপব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে কথা বলা হয়েছে)নিয়ে কোন কথাই হলনা পুরো সম্মেলন জুড়ে।মাওলানা মওদুদী ও তার বিপক্ষে যারা, তাদের কেউই এ বিষয়ে কিছু বলেন নি।একটি নৈতিক ইস্যু পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক ইস্যুতে এবং সেটাই বাজে ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে জামায়তের বৃহত্তর রাজনীতিকরণে(15)।
সব বাদ দিয়ে আলোচনা চলে এক ধফা নিয়ে,রাজনীতিতে অংশগ্রহন করা না করা নিয়ে।ইসরার আহমেদ বলেন, আব্দুল রহিম আশরাফ সম্মেলনের সভাপতি চৌধুরী গোলাম মোহাম্মদের কাছে যথেষ্ট সময় নিয়ে সব কিছু বলার গ্যারান্টি চেয়েছিলেন।কিন্তু মাওলানা মওদুদী তার ঐ অনুরোধ রাখতে দেননি এবং রিভিউ কমিটির রিপোর্ট কে সম্মেলনের এজেন্ডারই অন্তর্ভুক্ত করতে দেননি।গোলাম মোহাম্মদ শুধু মাওলানা মওদুদীর আনুগত্য করে গেছেন (16)।
মাছিগোটের ফলাফল:
উভয় পক্ষে যুক্তি পাল্টা যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য দেয়ার পর সম্মেলনের তৃতীয় দিনে সভাপতি রুকনদের ভোট দিতে বলেন।গোলাম আযমের মতে ৯৩৫ জন রুকনের মধ্যে জামায়াতের নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে হাত তুলেন ১৮ জন, মতান্তরে ১৫ জন যাদের সবাই ছিলেন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের বুদ্ধিজীবি নেতৃত্ব (17),তারা জামায়াত থেকে বেরিয়ে যান।
মজার ব্যাপার হচ্ছে মাও ইসলাহি ও ডক্টর ইসরার আহমেদ সহ রিভিউ কমিটির কয়েকজন সদস্য ঐ ১৮ জনের মধ্যে ছিলেন না।তারা সহ জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব Kot Shair Sangh(কোট শাইর সংঘ)নামে পাশ্ববর্তি আরেকটি গ্রামে মিলিত হন যাকে আশরাফ চিহ্নিত করেছেন “জামায়াতের কারবালা” হিসেবে।যেটা পরবর্তি আলোচনায় জানা যাবে বিস্তারিত।
নোট:
1. Islahi names Tarjumanu’l-Qur’an and Tasnim (জামায়াতের মুখপত্র )as most significant in this regard; see Nida (March 14, 1989): 30
12. Sayyed Vali Reza Nasr , The vanguard of the Islamic revolution: the Jamaʻat-i Islami of Pakistan, University of California Press,1994,pp 36
3. NGH: 75 cited in The vanguard of the Islamic revolution: 36-37
5. Ibid
6. অধ্যাপক গোলাম আযম,জীবনে যা দেখলাম,২য় খন্ড, কামিয়াব প্রকাশনী,বাংলাবাজার,ঢাকা,পুনর্মুদ্রণ,২০০৪,পৃষ্ঠা ২১৫
6. Ibid:২১৬
7. Ibid
8. Mithaq 39, 3 (March 1990): 50-55
9. Kalim Bahadur, The Jamat-e-Islami of Pakistan: Political Thought and Political Action(Lahore: Progressive Books,1978)87-94
10. গোলাম আযম:২১৬
11. This speech clearly spells out Mawdudi’s views on religion and Politics and is published as Tehrike-Islami ka A’indah Laiha-e-Amal(জামায়াতে ইসলামীর ভবিষ্যৎ কর্মসূচি),Lahore: Islamic Publication,1986). এই বইটাই জামায়াতে ইসলামির রাজনীতিতে অংশগ্রহনের দলিল বলা যায়,ভেলী নাসরের মতে,যেই প্রেক্ষাপটে এই বই(মাছিগোট সম্মেলনে মাওলানার কাউন্টার বক্তব্য)লেখা হয়েছে কেউ সেই প্রেক্ষাপট বিচার করে এটাকে মুল্যায়ন করে বলে মনে হয়না। আমার view, এই বই আলোকে আরও অনেক বই রচিত হয়েছে যেমন গোলাম আযম সাহেবের “ইকামতে দ্বীন” যেখানে জামায়াত ঘড়ানার সবাই এটা বুঝাতে চেয়েছেন, রাজনীতিই একমাত্র পথ সমাজে ইসলাম কায়েম করার।
12. ibid:172-73
13. Nida (March 14, 1989): 30-31
14. On a more serious note, Mawdudi explained to Chaudhri Ghulam Muhammad that Islahi’s temper, which had shown its full force throughout the Machchi Goth ordeal, was likely to be a source of trouble and had alienated many in the Jama’at from him, hinting that Mawdudi was not eager for Islahi to return to the Jama’at; Nida (March 7, 1989):26. গোলাম আযম সাহেব তার বইতে মাও ইসলাহির পদত্যাগের কারন হিসেবে মিয়া তোফায়েলের রেফারেন্স দিয়ে বলেছেন তিনি অতি বড় লোক পরিবারের সন্তান হওয়ার ফলে আন্দোলন করতে যেয়ে জেল জুলুম সহ্য করতে পারছিলেন না তাই পদত্যাগ করেছেন,আসলে একই ধরনের কথা মাও মওদুদীও বলেছেন মাও ইসলাহির সম্পর্কে অথচ তিনি পরবর্তিতে এই ধরনের কথার প্রতিবাদ করেছেন।
15. The vanguard of the Islamic revolution: Page 38
16. Mithaq 13, 2 (February 1967): 49:Nasr:37
17. Abdul Rashid Moten, Revolution to Revolution: Jamat –e-Islami in the Politics of Pakistan, International Islamic University Malaysia, Islamic Book trust, Kuala Lumpur, 2002),
[পরবর্তী পর্ব: ধারাবাহিক জামায়াতের ইতিহাস-পর্ব ১০:জামায়াতের কারবালা]
মন্তব্য
সোনার বাংলাদেশ ব্লগে এই সিরিজের লেখাগুলো প্রকাশ হওয়ার পর অনেক আলোচিত হয়।প্রায় প্রত্যেকটা পোষ্টে বিপুল সংখ্যক মন্তব্য আসে,সে সকল মন্তব্যের প্রতি মন্তব্যে পুরো আলোচনায় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় সংযোজিত হয়।এখানে পোষ্টের সাথে সম্পর্কৃত কিছু মন্তব্য সংযোজিত হল।
অকপট শুভ্র লিখেছেন : এই পর্যন্ত পড়ে মাওলানা মাওদুদীর তখনকার এমন এপ্রোচের কিছু কারন আঁচ করতে চেষ্টা করলাম তাতে যা মাথায় এল সেটা এরকম।
১. তখন তিনি তার স্বাধীন চিন্তার জন্য পর্যাপ্ত স্বাধীনতা পান নি
২.তাকে প্রভাবিত করা হচ্ছিল প্রতি মুহুর্তে
৩.আলেম সামাজের পারস্পরিক আস্থার সার্বজনীন ঠুনকোতা
৪. তিনি কোন কিছু কে কঠোর হাতে দমন করতে চাইছিলেন কিন্তু তার সমুদয় লক্ষ্য বস্তু অপাত্রে গিয়ে পড়েছিল
৫. নিজ হাতে গড়া সঙ্গঠনের এহেন অবস্থায় তিনি প্রথমত অতিত অবদানের কথায় স্বরনে নষ্টালজিয়ায় ভুগেছেন পরে তা আবেগে রুপ নিয়েছে এবং এর ফলাফল্টা এসেছে ইগোর পিঠে ভর করে।
৬. জেলে থাকার কারনে তিনি মুদ্রার অপর পিঠ থেকে সম্পুর্ন অজ্ঞ ছিলেন।
৭. মাওলানার প্রখর বিশ্লেষন শক্তির প্রয়োগ এখানে তিনি করতে কোন না কোন কারনে সক্ষম হননি
কামরুল আলম লিখেছেন : ইতিহাসের অনেকগুলো অধ্যায় সংগঠন ইচ্ছা করেই গোপন রাখার চেষ্টা করে। আজ কেন জানি মনে হচ্ছে ব্লগসাইটে না হয়ে এই আলোচনাটা একটা শিক্ষা বৈঠকে হলে অনেক ভাল হতো
এম এন হাসান এর জবাব : ইতিহাসের অনেকগুলো অধ্যায় সংগঠন ইচ্ছা করেই গোপন রাখার চেষ্টা করে
অতি সত্য একটি কথা বলেছেন, কেন করে ? কেউ কেউ মনে করেন সব জানলে কি কেউ আর ইসলামী আন্দোলন করবে? আমার মতে,যার ভিতরে ইসলাম ভালভাবে পৌছেছে তার ভিতরে ইসলামী আন্দোলনও পৌছবে,আজ না হয় কাল।তাই বলে আশংকা করে সঠিক জিনিসটা আমাদের নিজেদের লোকদেরকেও জানতে দিবনা?ফলে কি হয়েছে,আমাদেরকে বিতর্কিত ঘটনার সত্যতা জানতে হয় আমাদের বিপক্ষ শক্তির কাছ থেকে।আমাদের নেতৃত্ব মনে করেন এটা এক সময় ঠিক হয়ে যাবে।কিন্তু এই Avoiding মানসিকতা সংগঠনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বয়ে নিয়ে আসে।আজ দেশের পরিস্থিতে এটা মোটামুটি সবাই উপলব্দি করছে। ৭১ ইস্যু নিয়ে সংগঠনের কর্তা ব্যাক্তিতের কাছ থেকে আজ পর্যন্ত পরিষ্কার কোন বক্তব্য কি আমরা পেয়েছি? প্রশ্ন করলে A,B,C….. দিয়ে শুরু হয় then X,Y,Z. মাঝখানে সব কিছু ঘোলাটে…এই শুন্য স্থান পূরন করতে আমাদের মস্তিষ্ক সাপোর্ট নেয় বাম-রাম-সেকুলারদের লেখা থেকে। আল্লাহ যদি আমাদেরকে এই ক্রাইসিসে একটু বুঝ দেন,তাহলে কর্তা ব্যাক্তিগন মৃত্যুর আগে হলেও কিছু কথা বলে-লিখে যাবেন।অন্যথায় এটা সংগঠনের দীর্ঘস্থায়ি ক্ষতিই বয়ে আনবে বলে আমার মনে হয়।
“মাছিগোটে জামায়াতের নির্বাচনে যাওয়ার বিপক্ষে হাত তুলেন ১৮ জন, তারাই ঠিক ছিলেন”বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে মত;
দেলওয়ার আল ইসলাম লিখেছেন: আমি এই মতের সাথে একমত না। কারন যদি জামায়াত তখন কট্টর পন্থা বা সশস্ত্র বিপ্লবের পথ অনুসরন করতো, তাহলে আজ বিশ্বজুড়ে যে জামায়াতের নেটওয়ার্ক আছে তার পুরোটাই টেরোরিজমের আওতায় পড়তো। আজ আলকায়েদার বিরোদ্ধে যুদ্ধ না হয়ে জামায়াতের বিরোদ্ধে হতো। তাই জাময়াতের এই অহিংস রাজনৈতিক পন্থাকে স্বাগত জানাই। আল্লাহ যা করেন মংগলের জন্যই করেন। তবে ঐ যে জামায়াতের ব্যুরুক্রাটিক সিস্টেমটা আসলেই ভালো লাগেনা
এম এন হাসান এর জবাব : যারা নির্বাচন বিরোধী ছিলেন তাদের বক্তব্য অধ্যাপক গোলাম আযমের বই থেকে বলছি; “জামায়াতের নিকট নির্বাচনে প্রার্থী করার যোগ্য লোকের অভাব।জামায়াতের জনশক্তিকে আদর্শিক ও নৈতিক দিক দিয়ে আরও উন্নতমানের গড়ে তুলবার পর নির্বাচনে অংশ নেওয়া উচিত।তাই আগামী নির্বাচন জামায়াতের বর্জন করাই প্রয়োজন।জামায়াতের লোকদের নির্বাচন করার উদ্দেশ্যে গড়ে তুলবার জন্য আরও সময় দরকার”( জীবনে যা দেখলাম,২য় খন্ড,পৃষ্ঠা ২১৪)
যারা পক্ষে ছিলেন তাদের বক্তব্য, জামায়াত ৫১ সালে পান্জাব ও সীমান্ত প্রদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহন করে রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত হবার পর নির্বাচন বর্জন করলে রাজনৈতিক দল হিসেবে গন্য থাকবে না। (ঐ)
দুই পক্ষের যুক্তি বিচার করলে আমার কাছে প্রথম পক্ষকেই অধিক যুক্তিযুক্ত বলে মনে হয় কারন একটি আদর্শবাদী দলে নির্বাচন,রাজনীতি করা ছাড়াও করার মত অনেক কর্মসূচী আছে…আর জামায়াত যেহেতু লোক তৈরিকেই শুরু থেকে প্রাধান্য দিয়েছে তাহলে লোক তৈরি ব্যাতীত নির্বাচনে যাওয়া কতটুকু যৌক্তিক সীদ্ধান্ত হতে পারে? সব কিছুতে গনতন্ত্র সঠিক রাস্তা দেখায়না,গোলাম আযমের মতে ৯৮% রুকনদের ভোটে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে সীদ্ধান্ত হয়েছে কিন্তু পরবর্তিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ঐ সময়ের রুকনদের গনতান্ত্রিক সীদ্ধান্ত সংগঠনের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কল্যানের বিপরীতে গিয়েছে। তাহলে সবাই ভুল এই ধরনের উপসংহারে না গিয়ে বরং বলা যায়,ঐ সময় রুকনগন মাওলানা মওদুদীকে সাপোর্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করেছেন,ওটাই করেছেন.এটা ঠিক বেঠিক দেখার দায়িত্ব মাওলানা মওদুদীর চেয়ে কে ভাল বুঝবে?
এটাই হচ্ছে কেডার সংগঠনের শিক্ষা…..দায়িত্বশীল যা বলেন,করেন সব সঠিক এর বাহিরে দ্বীতিয় কোন মতামত থাকতে পারেনা, এরকম মানসিকতা নিয়ে কি আধুনিক বিশ্বে রাজনীতি করা যাবে????
সময়ের কথা লিখেছেন : “ইসলামি আন্দলনের ভবিষ্যত কর্মসুচি” বইতে জনাব মওদুদি অনেক সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে সুফল ও কুফল বর্ণনা করেছিলেন যা আপনার দেয়া উত্তরএর সাথে মিলছে না। জামায়াত ইসলামির জন্য এটি মুলত বড় কোনো কারন ছিল না। বরং উদ্দেশ্যের বিচারে কোন পদ্ধতি উত্তম ছিল তার আলোকেই সেদিন সীদ্ধান্ত হয়েছিল বলেই মনে করছি
যাররিনের বাবা লিখেছেন : তখনকার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আরো গভীরতর বোঝার অভাব থাকায় আপাততঃ ফ্যাক্টগুলোকে (যাচাই বাছাই ছাড়াই) জানছি। তিনটা ফ্যাক্টর মাথায় ঘুরছে তা শেয়ার করতে চাই…
প্রথমতঃ, একটা বিষয় খুব পরিষ্কার হওয়া দরকার তা হলো এখানে যারা যে ভূমিকাই পালন করে থাকুন না কেন, মানবীয় দূর্বলতার কথাকে মাথায় রেখেও তাদের মোটিভ নিয়ে প্রশ্ন তোলা এমনকি সন্দেহ করাকেও অনুচিত মনে করি। যারা মাওলানা মওদূদীর বিরোধিতা করেছিলেন, যারা পক্ষে ছিলেন, এমনকি স্বয়ং মাওলানা মওদূদীকেও কোন ধরণের ইল মোটিভে মোটিভেটেড ছিলেন বলে আমি মেনে নিতে রাজী নই। ইসলামী আন্দোলন, কখনই দুনিয়ার জন্য লাভজনক ব্যবসা ছিলনা, তখনতো নয়ই! তাই, আন্দোলনের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন সবাই, ইজতিহাদ বা বোঝার ভুল বা দূরদৃষ্টির সীমাবদ্ধতার বেনিফিট অফ ডাউট সবাইকে দেয়াটাই হবে ইনসাফের দাবী!
দ্বিতীয়তঃ একটি যথার্থ ইসলামী আন্দোলনের সঠিক মডেল কি হওয়া উচিৎ এ বিষয়টির পুরোপুরি বুদ্ধিবৃত্তিক রূপরেখা তখনও তৈরী হয়নি..।
এবং এখনো তৈরী হয়েছে কিনা সন্দেহ। মুখে বলা সহজ যে এ মডেল চৌদ্দশত বছর আগেই নবী দেখিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সামাজিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে এর বাস্তবায়নের দুরুহ গুরুভার এবং যথার্থতা নির্ণয় করার মত সব্যসাচী মুজাদ্দিদ রাস্তার বাঁকে বাঁকে পাওয়া যায়না। মাওলানা মওদূদী তার ইজতিহাদের দূরদৃষ্টি বলে যে রূপরেখা বিনির্মাণ করছিলেন তাতে প্রচলিত রাজনৈতিকতার সাথে সম্পর্কহীনতা নবীর সুন্নতের খেলাফ এবং সুইসাইডাল বলে মনে করেছিলেন। আমি এখনও এমতের সাথে একমত। তবে ভারসাম্য বজায় রাখার কঠিন কাজে আমরা যে ফেল করেছি, তাও টের পাই…
তৃতীয়তঃ এ লেখায় নঈম সিদ্দীকির ভূমিকাটি এবং সে ভূমিকার উপস্হাপনা পূনর্বিবেচনা করার মত বলে মনে করি। হিকমতের নামে এক ধরণের দ্বৈত আচরণকারী মুনাফিকের মত তার উপস্হাপন, আমার মতে তার প্রতি জুলম। বিষয়টি লেখক রিফ্রেজ করার কথা পূনর্বিবেচনা করে দেখবেন বলে আশা করি!
এম এন হাসান এর জবাব : মাওলানা মওদূদীর বিরোধিতা করেছিলেন, যারা পক্ষে ছিলেন, এমনকি স্বয়ং মাওলানা মওদূদীকেও কোন ধরণের ইল মোটিভে মোটিভেটেড ছিলেন বলে আমি মেনে নিতে রাজী নই। আমিও আপনার সাথে একমত, কিন্তু সমস্যা কোথায় হয়েছে এটা দেখতে আমাদেরকে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। খুব ভাল করে আবার জামায়াত গঠনের গোড়ার কথা পড়ে দেখুন এর আলোকে এক দশক পরের অবস্থা পর্যালোচনা করার চেষ্টা করতে হবে আমাদের। মাওলানা মওদুদী ঐ সময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সমাজ বিপ্লবের যে রোডম্যাপ দিয়েছেন সেই তিনিই ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর নিজের অবস্থান থেকে সড়ে এসেছেন। কেন? কারণ যতটুকু আমি পড়েছি,জেনেছি,মাওলানা মওদুদী আসলেই বিশ্বাস করতেন যে ৪৭ সব পরিবর্তন করে দিয়েছে,দেশ ভাগ হয়েছে ইসলামের নামে, তাই এখনই শরীয়া কায়েম করতে হবে….এই পারসেপশন কি সঠিক ছিল আদৌ? যেই তিনি মুসলিম লীগে জয়েন করলেন না কারন তা ন্যাশনালিজমের মাধ্যমে স্বাধীন করতে চাচ্ছে এবং সেকুলার-ন্যাশনালিজমকে তিনি কুফর আখ্যা দিয়েছেন,সেই কুফরের হাত ধরেই তো দেশভাগ হল,তাহলে তিনি কি করে আশা করলেন মুসলিম লীগের নেতাগন দেশে ইসলাম কায়েম করবেন আর জনগন তার জন্য প্রস্তুত?!This is the most important point we have to consider…we have to understand the perception (দেশ ভাগ হয়েছে ইসলামের নামে) of Maulana Mawdudi, whether that new perception was contextually right or wrong? মাওলানা মওদুদী ঐ চিন্তাকে ডিফেন্ড করার জন্য যা প্রয়োজন তাই করেছেন,জামায়াতকে সেই দিকে ধাবিত করেছেন কিন্তু ডক্টর ইসরার আহমেদ সহ অন্যরা ১৯৫১ সালের প্রথম নির্বাচনের ফলাফল দেখেই বুঝেছিলেন দেশ আসলে ইসলামের আলোকে ভাগ হয়েছে ঠিকই কিন্তু ইসলামী সমাজ বিপ্লবের জন্য তৈরি হয়নি।যদি তাই হত তাহলে ৪৮সালে ভাষা আন্দোলন শুরু হয় কেমনে,বিভিন্ন প্রদেশে জাতিগত সমস্যাগুলো শুরু থেকেই দানা বাধতে শুরু করেছিল তার কারন কি????? যাই হউক এই পারসেপশন যে সঠিক ছিলনা এটাই মাওলানা মওদুদী শেষ বয়সে এসে উপলব্ধি করেছেন…
এ লেখায় নঈম সিদ্দীকির ভূমিকাটি এবং সে ভূমিকার উপস্হাপনা পূনর্বিবেচনা করার মত বলে মনে করি। নঈম সিদ্দিকির “চরিত্র গঠনের মৌলিক উপাদান” দিয়েই মোটামুটি সবার সাংগঠনিক লাইফ শুরু হয়। বইয়ের সাথে সমস্যা নেই কারন বইয়ের কন্টেন্ট সার্বজনীন।তাই ওনার ব্যাপারে কোন হতাশা ব্যক্ত করার কোন কারন দেখিনা। একজন মানুষের নিয়তের ব্যাপারে আমরা এত বছর পর কোন সীদ্ধান্তে আসতে পারব বলে মনে হয়না।
যাযাবর লিখেছেন : …গোলাম মোহাম্মদ শুধু মাওলানা মওদুদীর আনুগত্য করে গেছেন।– এটা আনুগত্য নাকি অন্ধ-আনুগত্য তা নিয়ে প্রশ্ন করার আছে। এথিক্স’র সাথে কম্প্রোমাইজ করে কীভাবে আনুগত্য হয়?? তাহলে ইসলামে নেতার আনুগত্য আর হিটলারের প্রতি নাৎসীদের আনুগত্যের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য তো হওয়ার কথা ছিলো সেখানেই যেখানে একজন সাধারণ কর্মী যে নেতার জেলে যাওয়ার পথে রাস্তায় শুয়ে যেতে পারে যেনো গাড়ী তার উপর দিয়ে চলে যায় তবুও যেনো নেতাকে নিতে না পারে; আবার সেই একই নেতাকে সবার সামনে যে কোনো বিষয়ে সরাসরি জবাবদীহি চাইতে পারে। যেখানে উমর (রাঃ) এর মত রাষ্ট্র প্রধানকে এক সাধারণ মহিলা সবার সামনে দাঁড়িয়ে আংগুল তুলে ক্রিটিসাইজ করতে পারে, উমর (রাঃ) সেই সাধারণ মহিলার এক কথায় নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে নেন; সেখানে মাওলানা ইসলাহী, ডক্টর ইসরারের মত মানুষদেরকেও এথিক্স’ প্রশ্নে আপোষ করার জন্য পুশ করা হয়- হায়! এইখানেই পার্থক্য, এখানেই খোদ ইসলামের মূল স্পীরিটের সাথে কম্প্রোমাইজ….




