[ বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন: ধারাবাহিকতা রক্ষার সার্থে এই সিরিজের আগের লেখাগুলো পড়ার পরেই এই লেখাটা পড়ার অনুরোধ রইল]
পর্ব ৯:ঐতিহাসিক মাছিগোট,জামায়াতের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা
মাছিগোট সম্মেলনেই মাওলানা মওদুদী পূনরায় আমীর নির্বাচিত হন।আমীর হওয়ার পর প্রদত্ত ভাষনে মাওলানা মওদুদী বলেছিলেন; চিন্তা ও মতামতের ঐক্যই জামায়াতের আসল শক্তি।প্রায় এক হাজার লোকের চেয়ে পনের বছর আগে মাত্র ৭৫ জন লোক নিয়ে কায়েম হওয়া জামায়াতকে আমি অনেক শক্তিশালী অনুভব করতাম।সংখ্যায় বিরাট হলেও ঐক্যের অভাব হলে জামায়াত দুর্বল হতে বাধ্য।আলহামদুলিল্লাহ,আমরা এ সম্মেলনের মাধ্যমে দুর্বলতা কাটিয়ে উঠেছি। তিনি আরো বলেন যারা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন,তাদের মতামতের পক্ষে যথেষ্ঠ যুক্তি থাকতে পারে।কিন্তু তারা জামায়াতের রুকন হিসেবে খোলামনে সম্মেলনের সীদ্ধান্ত মেনে নেবেন বলে আশাকরি(1)।
তারপরেও ভিন্নমত পোষণকারী ১৮ জন পদত্যাগ করেন।১৮ জনের পদত্যাগের প্রতি প্রশ্ন তুলে গোলাম আযম সাহেব লিখেন মাছিগোট সম্মেলনের ৯৮% রুকনের সীদ্ধান্ত মেনে নিতে তারা ব্যর্থ হলেন?কোন ইস্যুতে ভিন্ন মত পোষণ করলেই জামায়াত ত্যাগ করতে হবে কেন?(2) এই কেন এর উত্তর এই পর্বে আলোচিত হয়েছে।
Kot Shair Sangh(কোট শাইর সংঘ)
আগেই জেনেছেন মাছিগোট সম্মেলনের পর জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃত্ব Kot Shair Sangh(কোট শাইর সংঘ)নামে পাশ্ববর্তি আরেকটি গ্রামে মিলিত হন। মাওলানা মওদুদী জামায়াতের শৃংখলা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মনযোগী হলেন।রিভিউ কমিটির রিপোর্ট ধ্বংস করে ফেলা হল যাতে করে রিপোর্টের কোন বিষয় জামায়াতের ভিতর সম্ভাব্য বিভাজন তৈরি করতে না পারে।নঈম সিদ্দিকীকে পূনরায় রুকন পদে ফিরিয়ে নেয়া হয়।কোট শাইর সংঘে যে সীদ্ধান্তটি পরাজিতদের বিরুদ্ধে এক ধরনের প্রতিশোধ নেয়ার মত মনে হবে তা হল,যারা মাছিগোটে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন তারা জামায়াতের ভিতর থাকতে পারবেন ঠিকই কিন্তু কোন ধরনের পদে আসীন থাকতে পারবেন না!এই ধরনের সীদ্ধান্তকে অনেকে প্রতিশোধ হিসেবে বিবেচনা করলেন এবং যার ফল সরুপ আরেক দফা পদত্যাগ জামায়াত থেকে।ইসরার আহমেদ,মুস্তফা সাদিক এবং আব্দুল গাফ্ফার হাসান ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ফিগার।আশরাফ এই ঘটনাকে চিহ্নিত করেছেন “জামায়াতের কারবালা” হিসেবে (3)।
মাছিগোট সম্মেলনের প্রভাব
মাছিগোট সম্মেলনের পদত্যাগের প্রভাব সাথে সাথে বুঝা যায়নি।মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহির পদত্যাগ ছিল সবচেয়ে ক্ষতিকর, কারন জামায়াতের একটা অংশ (বিশেষ করে সিনিয়র নেতৃত্ব)তার কাছে কোরআন শিখতেন।মাওলানা মওদুদী ও তার সহযোগীরা হয়ত ভেবেছেন খুব অল্পেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে,এই ভাঙ্গনের ধকল বিশেষ করে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের প্রশ্নে জামায়াতে এর প্রভাব ছিল সুদূর প্রসারী। মাছিগোট সম্মেলন ও কোট শাইর সংঘ এর পরবর্তি কয়েক মাসে সর্বমোট ৫৬ জন জামায়াত থেকে বেড়িয়ে যান, যাদের অধিকাংশই ছিলেন উচ্চ মানের আলেম যারা সংগঠনের ধর্মীয় ও বুদ্ধিবৃত্তির মুখপত্র ছিলেন।তাদের স্থলাভিসক্ত হন সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত কর্মি এবং কার্যনির্বাহীগন (4)।
মাওলানা মনজুর নোমানী মাছিগোটের প্রেক্ষাপটে বলেন ;গাজী আব্দুল জব্বার, মাওলানা হাকীম আব্দুর রহীম আশরাফ, আব্দুল গফফার হাসান এবং এ পর্যায়ে তাদের অন্যান্য সহযোগী বন্ধুরা একান্ত দ্বীনি বুনিয়াদের ভিত্তিতে সৃষ্ট মতবিরোধ থেকেই পদত্যাগ করেন।আমি একথা প্রকাশ করতেও অসুবিধা বোধ করিনা যে, অন্ততঃ আমার ব্যক্তিগত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মতে এ সব সম্মানিত ব্যক্তি দ্বীনদার ও তাকওয়ার দিক দিয়ে মাওলানা মওদুদী সাহেবের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ছিলেন (5)। জামায়াত থেকে যারা বেড়িয়ে যান তাদের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য ব্যাক্তিত্বগনের কয়েকজন নিন্মরুপ:
১। মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহি (জামায়াতের আমীরের পর ২য় সর্বোচ্চ পদাধীকারী নেতা,১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক আমীর,পরবর্তিতে কুরআনের আলোচিত তাফসিরকারক বড় মানের আলীম)
২।সুলতান আহমেদ (মজলিশে শুরা সদস্য, ১৯৫৩-৫৪ সালে প্রাদেশিক আমীর)
৩।আব্দুল জব্বার গাজী (মজলিশে শুরা সদস্য, ১৯৪৮-৪৯ সালে প্রাদেশিক আমীর)
৪।আব্দুল গাফফার হাসান (মজলিশে শুরা সদস্য,১৯৪৮-৪৯ এবং ১৯৫৬ সালে প্রাদেশিক আমীর)
৫।আব্দুল রহিম আশরাফ(মজলিশে শুরা সদস্য)
৬।সর্দার মোহাম্মদ আজমল খান মজলিশে শুরা সদস্য)
৭।মাওলানা আব্দুল হক জামা’ঈ (ভাওয়ালপুরের সাবেক আমীর)
৮।সাঈদ আহমেদ মালিক (পান্জাব প্রদেশের সাবেক আমীর)
৯।মুহাম্মদ আসীমুল হাদ্দাদ(ডাইরেক্টর,আরবী অনুবাদ ব্যুরু
১০।আরশাদ আহমেদ হাক্কানী(সম্পাদক, তাসনীম)
১১।ডাঃ ইসরার আহমেদ(পরবর্তীতে পাকিস্তানের অন্যতম স্কলার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব)
১২।মুস্তফা সাদিক(পরবর্তীতে পাকিস্তানের অন্যতম স্কলার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব)
১৯৪১ সালে যে ৭৫ জনকে নিয়ে জামায়াত কায়েম হয়েছিল তাদের থেকে ১৯৪২ সালে মাওলানা মনজুর নোমানী ও মাওলানা হাসান আলী নদভী সহ কয়েকজন এবং ১৯৫৭ সালে আরো ৫৬ জন বেরিয়ে গেলেন।প্রতিষ্ঠাকালীন মেম্বারদের মধ্যে মাওলানা মওদুদী এবং মিয়া তুফায়েল ছাড়া আর খুবই কম সংখ্যক লোক রয়ে গেলেন জামায়াতে ইসলামীতে।এদের জায়গা পূরণ করেছেন সেকুলার কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষিত সদস্যবৃন্দ যারা মাওলানা মওদুদীর বই পড়ে ইসলামী আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। তারাই হন পরবর্তিতে ইসলামি আন্দোলনের পথপ্রদর্শক।
এই পোষ্টের মাধ্যমে শেষ করছি আদর্শিক আন্দোলন হিসেবে জামায়াত অধ্যয়ন।কারন মাছিগোটেই ইসলামী আন্দোলন হিসেবে আদর্শিক জামায়াতের ভাগ্য নির্ধারন হয়ে যায়।পরবর্তি ইতিহাস হচ্ছে রাজনৈতিক জামায়াতের ইতিহাস।রাজনৈতিক জামায়াতের ইতিহাস পড়তে যেয়ে মাওলানা আমিন আহসান ইসলাহির কথা বার বার মনে পড়ে যায়।তিনি বলেছিলেন,নীতির সাথে আপস ব্যাতীত নির্বাচনে(রাজনীতিতে)অংশগ্রহন কোনভাবেই সম্ভব নয়।তিনি দাবী করেন যে, যে সকল প্রার্থীতা কোরআন হাদীসের আলোকে এতদিন আযোগ্য বলে বিবেচিত হত,সেগুলোই এখন মেনে নেয়া হচ্ছে কোরআন-সুন্নাহর কোন ব্যখ্যা ছাড়াই।এটা হচ্ছে নীতির সাথে আপসের শুরু মাত্র এবং জামায়াত তা করতে বাধ্য হবে।
নোট:
1) অধ্যাপক গোলাম আযম,জীবনে যা দেখলাম,২য় খন্ড, কামিয়াব প্রকাশনী,বাংলাবাজার,ঢাকা,পুনর্মুদ্রণ,২০০৪,পৃষ্ঠা:২১৮
1) Ibid: পৃষ্ঠা-২১৯
3) Sayyed Vali Reza Nasr , The vanguard of the Islamic revolution: the Jamaʻat-i Islami of Pakistan, University of California Press,1994,pp 38-39
4) Ibid: page-39
5) মাওলানা মনজুর নোমানী, মাওলানা মওদুদীর সাথে আমার সাহচর্যের ইতিবৃত্ত ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, অনুবাদ:মাওলানা নুরুল কবির আনছারী, আর-রশীদ কল্যাণ ট্রাষ্ট, চকবাজার, ঢাকা : পৃষ্ঠা-৫৮
সোনার বাংলাদেশ ব্লগে এই সিরিজের লেখাগুলো প্রকাশ হওয়ার পর অনেক আলোচিত হয়।প্রায় প্রত্যেকটা পোষ্টে বিপুল সংখ্যক মন্তব্য আসে,সে সকল মন্তব্যের প্রতি মন্তব্যে পুরো আলোচনায় আরো অনেক গুরুত্বপূর্ন বিষয় সংযোজিত হয়।এখানে পোষ্টের সাথে সম্পর্কৃত কিছু মন্তব্য সংযোজিত হল।
Comments
অকপট শুভ্র লিখেছেন : প্রতিষ্ঠাকালীন ৭৬ জন আলেমের প্রায় সবাই জামায়াত থেকে বের হয়ে যাওয়া মোটেই ফেলনা নয়। এটা কখনই হতে পারে না যে, ৭৬ জন আলেমের অধিকাংশই বিপথে ছিলেন এবং বাকী নগন্য সংখ্যকরাই শুধু সৎ পথে ছিলেন। যেটা হওয়া স্বাভাবিক সেটা হল ঠিক তার উল্টোটা। যাই হোক আমি আপনার আগের পর্বেই বলেছিলাম যে মাওলানা মওদুদী তার ক্ষুরধার চিন্তার ও বিশ্লেষন শক্তির স্বাধীন ব্যবহার করতে পারেন নি। এখন আরেকটু বাড়িয়েই বলবো তিনি বিন্দুমাত্রও সেটা করতে পারেন নি। সেটা এক্সটার্নাল কারনে হোক বা ইন্টার্নাল কারনে হোক। কেউ তাকে প্রভাবিত করুক বা না করুক, সব শেষে এটাই হল বাস্তবতা।
কোর্ট শাইর সেই ঘটনার পুনারাবৃত্তি কালে কালে বহুত হয়েছে, যারাই কোন পরিবর্তনের কথা বলেছেন বা একটু ভিন্নমত পোষন করেছেন তারাই এই পরিনিতি বরন করেছেন। এটা আসলে সকল সংগঠনের ক্ষেত্রেই করা হয়। বিদ্রোহীদের কেউ কেউ ফিরে এলেও তাদেরকে মুল নেতৃত্বে ফিরিয়ে নেয়া হয় না কারন শংশ্লিষ্টরা আশংকা করেন আবার সুযোগ পেলে এরা আরও বড় রকমের হাঙ্গামা তৈরী করতে পারে।
মাছিগোটের প্রভাবের ক্ষেত্রে যে কথাটি বললেন তা পড়ে মাওলানা আব্দুর রহিমের একটি কথা আবার মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রিয় শুরা বা কর্মপরিষদের সদস্যরা এমন ব্যক্তিরাই হবেন যারা অন্তত ইজতিহাদের ক্ষমতা রাখেন। তার এ কথাটা আমার মনে হয় ধোপে টেকেনি। কিন্তু একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে দেখাযায় তার কথাটা কতইনা যুক্তিযুক্ত ছিল।
পরবর্তিতে সেকুলার ধারায় যেসব শিক্ষিত রা জামায়াতের নেতৃত্বে এলেন তাদের ব্যপারে কোন সন্দেহ পোষন করতে চাই না। কিন্তু একটা কথা আমি নিশ্চিতভাবে বলতেই পারি যে ওনারা ব্যার্থ হয়েছেন। কারন নিজেরা যে আন্দোলনের জন্য সব ত্যাগ করেছেন সেই আন্দোলনে তাদের নিজেদের সন্তান সন্ততিদেরকে সেভাবে অগ্রসর করাতে পারেন নি যেভাবে ইসলামি ধারায় শিক্ষিত নেতারা পেরেছেন। এটা কেউ অস্বীকার করলে আমাকে আমার সারাজীবনের জলজ্যান্ত অভিজ্ঞতাকে স্রেফ মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করা হবে। তবে আপনার নিম্ন কথার সাথে কিছুতেই পুরোপুরি একমত হতে পারছিনা বরং আমি কিছুটা এক মত
এই পোষ্টের মাধ্যমে শেষ করছি আদর্শিক আন্দোলন হিসেবে জামায়াত অধ্যয়ন।কারন মাছিগোটেই ইসলামী আন্দোলন হিসেবে আদর্শিক জামায়াতের ভাগ্য নির্ধারন হয়ে যায়।পরবর্তি ইতিহাস হচ্ছে রাজনৈতিক জামায়াতের ইতিহাস।
জামায়াতের আদর্শিক ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে একথা ঠীক না, কথা হল জামায়াত কোন না কোন ভাবে সঠিক কাজটি সঠিক ভাবে সঠিক সময়ে সঠিক উপায়ে করতে পারে নি। কিন্তু তাই বলে জামায়াত তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে সেটাও কি বলা যায়? আমার মনে হয় না। জামায়াত আজ অবধি আদর্শের লড়াই করে যাচ্ছে, আদর্শের কথা বলে যাচ্ছে এবং আদর্শের আলোকে মানুষের চিন্তা-চেতনাকে তৈরীর কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অতি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হয়তো আমাদের কাছে এই অবস্থানের ভিন্ন ব্যাখ্যা তুলে ধরছে।
প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে জামায়াত যে আদর্শ নিয়ে কাজ শুরু করেছিল সেই আদর্শের উপরই এখনও কাজ করছে। কিন্তু চলার পথের কিছু বড় ভুল সেই কাজের ধরনটা পালটে দিয়েছে। আপনি যদি মনে করেন আদর্শিক জামায়াতের সমাপ্তি ঐ ঘটনার পরই হয়েছে সেটা আমার মতে সঠিক নয়, তবে হ্যাঁ রাজনীতিতে আসার কারনে যে আপোষ গুলো করতে হয়েছে সেগুলো মুল আদর্শের আকীদায় আঘাত হেনেছে কিনা তার আলোচনা হওয়া জরুরী। সেটা না করে সামনে অগ্রসর হলে আমাদের অনেক কিছু সম্পর্কেই সীদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হবে। সার কথা হল জামায়াত এখনও আদর্শের সংগ্রামেই আছে তবে সেখানে আছে কিছু সমস্যা আর সেটা খুব জরুরী ভাবে সমাধান হওয়া দরকার।
মির্জা লিখেছেন : ইসলামী আন্দোলন নিঃসন্দেহে জীবনের সকল দিককে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, রাজনীতিও যার বাইরে নয়। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায়, যা উৎখাত বা সংস্কার করে ইসলামী ব্যবস্থা কায়েম করাই ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য, অংশগ্রহণ নিঃসন্দেহে কোন না কোনভাবে প্রচলিত ব্যবস্থাকে endorse করে। তাছাড়া এখানে যে pragmatism এর নামে যে নীতির বিসর্জন দিতে হয় তা তো দেখাই যাচ্ছে। তাছাড়া দুর্নীতিগ্রস্ত এই পরিবেশে সাধারণ জনগণের আস্থা অর্জন করাও কষ্টকর, তা নীতির সাথে আপোস করার কারণেই হোক বা বিরোধীদের অপপ্রচারের কারণেই হোক(এ ব্যাপারেও আন্দোলনের নীতিবিরোধী কাজ অনেকটাই সাহায্য করে)।
এ ব্যাপারে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বেশ কয়েকটা উদাহারণই দেখানো যেতে পারে। জনগণের আস্থা অর্জন যে ইসলামী বিপ্লবের জন্য যে কতটা জরুরী কেবল রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জীবনীর দিকে তাকালেই বুঝা যায়। আল্লাহর রাসূলকে নুসরা দেয়ার জন্য মদীনার উপর যত বিপদ এসেছিল, এর পরেও যে মদীনার আনসারবৃন্দ আল্লাহর রাসূলকে(সাঃ ) ত্যাগ করেন নাই তা সম্ভব হয়েছিল আল্লাহর রাসূলের(সাঃ ) উপর তাঁদের অগাধ বিশ্বাসের কারণে। প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নীতি বিসর্জন দিয়ে অংশগ্রহণ করে জনগণের এই ধরনের ইস্পাতকঠিন বিশ্বাস ইসলামী আন্দোলন কিভাবে অর্জন করবে এটা আমার বোধগম্য না।
আজ বাংলাদেশের অনেক সাধারণ মানুষ জামা’আত-শিবিরের নাম শুনলে নাক সিটকায়। তারা সবাই আওয়ামী-বিএনপি, কমিউনিষ্টদের ভক্ত এমনটা ভাবা বোকামী হবে। ইসলামের প্রতি অনেক আন্তরিক মানুষকেও দেখেছি জামা’আতে ইসলামীর নেতাদের নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ করতে। এর কারণ শুধু রাম-বাম্পন্থীদের দ্বারা রচিত ৭১ এর গাঁজাখুরী ইতিহাস নয়, এরসাথে রয়েছে জামা’আতে ইসলামীর অনেক ‘আদর্শের সাথে খাপ না খাওয়া’ রাজনৈতিক পদক্ষেপ যা কিনা মানুষের কাছে রাসূলুল্লাহ(সাঃ ) এবং সাহাবাদের (রাঃ ) স্ট্যান্ডার্ডে খুবই নিচুমানের মনে হয়েছে। মানুষের এসব সন্দেহ individual দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে দূর করা যাবে না। কেননা, ১৫ কোটি মানুষের দ্বারে দ্বারে হেঁটে হেঁটে দাওয়াত পৌছে দেওয়া, তাদের সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত করানো সম্ভব না। মানুষতো আদর্শের পতাকাবাহীদের দিকে তাকিয়েই আদর্শের প্রতি নিজেদের চূড়ান্ত stance গ্রহণ করে। তাদের নৈতিক মান বা সততা নিয়েই যদি প্রশ্ন উঠে তাহলে কিভাবে বিপ্লব আনা সম্ভব?
অনেকেই হয়তো মাওলানা মওদুদীর(রহঃ ) থেকে quote করবেন যে, ইসলামী আন্দোলন যদি পার্লামেন্টে না যায় তাহলে ইসলামবিরোধীরা তাদের কর্তৃত্ব আরো জোরদার করবে যার ফলে ভবিষ্যতে ইসলামী আন্দোলন আরো প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবে। এত বছর পরে এসে “রাজনৈতিক কর্মকান্ডে” অংশ নেয়া ইসলামী আন্দোলনের যে কি হাল তা তো সবার সামনেই দৃশ্যমান। একটা কথা অবশ্যই পরিস্কার হওয়া দরকার, আরাম করে কোন প্রচলিত ব্যবস্থাকে সরিয়ে অন্য কোন মতবাদকে কখনো প্রতিষ্ঠা করা যায় না, আর ইসলাম তো দূরের কথা। কেউ যদি ভেবে থাকে যে, সাহাবাদের মত কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে না গিয়ে “রাজনীতি” আর “হিকমাহ” দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবেন তবে তিনি হাওয়ার উপর ভাসছেন। ঐভাবে যদি কোনদিনও ইসলামপন্থীরা ক্ষমতায় আসেন তবে তাদের ” বিপ্লব” বলশেভিক বিপ্লবের মতই স্বল্পস্থায়ী হবে বলে আমার বিশ্বাস। সে কথাটাই আবার বলতে হবে, “ভাঙ্গাচোরা গণতন্ত্র দিয়ে দেশ অনেকদিন কোনমতে চলতে পারে, কিন্তু ভাঙ্গাচোরা ইসলাম দিয়ে দেশ একদিনও টিকবে না।”
ছাগল চারণকারী বালক আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ(রাঃ ) যদি কুরাইশ নেতৃবৃন্দের সামনে ঈমানী বলে তেজিয়ান হয়ে কুর’আন তিলাওয়াত করে বেদম মার না খেতেন, হাবশী বিলাল(রাঃ ) যদি শত নির্যাতনের মুখেও “আহাদ”, “আহাদ” বলা জারী না রাখতেন, আর মুহাম্মাদ(সাঃ ) যদি পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত হয়েও তায়েফবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করতেন তাহলে পৃথিবীর সবচেয়ে বর্বর জাতির পক্ষে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শে সজ্জিত হয়ে মাত্র একশ বছরের মধ্যে সিন্ধু থেকে আটলান্টিক পর্যন্ত নিজেদের শাসন কায়েম করা সম্ভব ছিল না। হোক না দাওয়াতী কাজ করার মত অল্প সংখ্যক দৃঢ় ঈমানদার মুজাহিদ, তবুও আগুনে পোড়া খাটি সোনা দরকার। তাঁদের দেখেই তো সাধারণ মানুষ আদর্শকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করবে। ১৯৫১ সালের চার দফার উপর দৃঢ় থেকে জামা’আতে ইসলামী কাজ যদি চালিয়ে যেত তবে হয়তো আজ অনেক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এতটা পথ আসতে হত, কিন্তু বিপ্লবের অনেক কাছাকাছি অবস্থান করতাম আমরা। কেননা মূলকাজে অনেক বেশী সময় এবং মনযোগ দেয়া যেত সেইসাথে জনগণের আস্থাও অপেক্ষাকৃত অনেকবেশী অর্জন করতে পারতাম আমরা।
আরেকটা কথা। রাজনৈতিক কর্মকান্ড বলতে কেন শুধু প্রচলিত শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণ, যেমনঃ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, পার্লামেন্টে যাওয়া ইত্যাদিকেই কেন বুঝাবে তা আমার বুঝে আসে না। আপনি যদি সরকার বা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলেন সেটাও প্রচলিত অর্থে একটি রাজনৈতিক কর্মকান্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। উস্তাদ সাইয়েদ কুতুবকে(রহঃ ) নাসেরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য ফাঁসি দেয়া হয় নাই। উনি একটা বই লিখেছিলেন(মা’আলাম ফিত তারিক) মাত্র যেটা নাসের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে নিষিদ্ধ করেছিল, এমনকি বইটির সমস্ত কপি পর্যন্ত জ্বালিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর শাহাদাতের ৪৪ বছর পরেও এই বই বহাল তবিয়তে বিশ্বের কোণায় কোণায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য একটি মূল্যবান পথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।
এই বই লেখাটাকে যদি কেউ রাজনৈতিক কাজ বলতে না চান, তবে নাও বলতে পারেন। আমি বলি, এই ধরনের কাজ জারী থাকলে ইসলামী বিপ্লবের জন্য আর “রাজনৈতিক কর্মকান্ড” এর দরকার হবে না
সন্ধ্যাবাতি লিখেছেন : সোবহানাল্লাহ! পড়ছিলাম, আর ভাবছিলাম, সোবহানাল্লাহ!
প্রথমে রাজনীতি বিষয়ক আলোচনা দেখে আস্তে করে সটকে পড়েছিলাম। ভাইয়া প্রিন্ট করে এনে আমার জামাইকে দিয়েছিল, ও দেখি সেই কখন থেকে মনযোগ দিয়ে পড়ছে, আস্তে আস্তে আমিও সাহস করে হাতে নিয়ে নিলাম। পড়তে গিয়ে খুবই অ্যামেইজড হলাম!
কি রকম অ্যামেইজড হয়েছি? সেরকম অ্যামেইজড হয়েছি, যখন শুনেছিলাম রাসুল (সা) এর সব সাহাবীরা বেহেস্তে যাবেন, কিন্তু এসব সাহাবীদেরও কত পিকিউলিয়ার সব চরিত্র ছিল… ‘মুগীরা বিন শুবা’ (রা) বিয়ে করতে বড় ভালোবাসতেন। প্রচন্ড বড়লোক ছিলেন, বিয়ে করে করে বড় অ্যামাউন্টের একটা মোহরানা দিয়ে আবার তালাক দিয়ে দিতেন। সবাই জানতো তিনি এরকম করবেন, তারপরেও মেয়েরা অল্প কিছুদিনের জন্য চার্মিং মুগীরা বিন শুবার সান্নিদ্ধ পেতে সব জেনে শুনেই তাঁকে বিয়ে করতো।
আমি সাহাবীদের যত ভুল আর পিকিউলিয়ার চরিত্রগুলো নিয়ে পড়ি, ততই কৃতজ্ঞ বোধ করি যে আমাদের আগের তাবে তাবেইনরা এসব ইতিহাস আমাদের থেকে লুকিয়ে রাখেন নি! কা’ব ইবন মালিক (রা) তাবুক যুদ্ধে যান নি, কিন্তু তিনি নিজেই বর্ণনা করেছেন কিভাবে তিনি যান নি, কিভাবে তিনি শাস্তি পেলেন! কই, কেউ তো ভয় পায় নি, এগুলো মানুষ জানলে মানুষ ইসলাম থেকে দূরে সরে যাবে! কেউ ভয় পেলেও এগুলো লুকিয়ে রাখে নি। আরেকজন সাহাবী ঠিকই টের পেয়েছিলেন, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বললেই বেহেস্তে যাবে, সেই হাদীসটা ছড়ালে কিরকম ফিতনাহ হবে, তারপরেও তিনি সেটা লুকিয়ে রাখেন নি। লুকিয়ে রাখলে এসব হাদীস তো আমরা জানতে পারতাম না! আল্লাহ কুরআনে নবীদের ভুল নিয়ে কত কিছু লিখেছেন!
এসব পড়ে আমি তাই এক বিন্দু কনফিউজড হই নি। আমি পোস্টগুলো শুধু পড়েছি, একটা কমেন্টও পড়ি নি। পোস্টে দেখলাম বার বার কৈফিয়ত দেয়া হচ্ছে, কিন্তু আমার কাছে অনেক সাম্প্রতিক ব্যাপার স্যাপার ক্লিয়ার হলো। আমি ইসলামী আন্দোলনের ইন্টেলেকচুয়াল সাইডটাই দেখেছি, বাংলাদেশে থাকি নি বলে এসব রাজনীতি কাছ থেকে দেখি নি। কিন্তু অনেক নের্তৃত্বের এত সমস্যা, অনেকের আচার আচরন দেখে, কথাবার্তার ভাব সাব শুনে, ছেলে মেয়েদের আর ফ্যামিলির পরিবেশ দেখে ধুপুশ করে আকাশ থেকে মাটিতে পরে যাই, খুব ফ্রাস্ট্রেইটেড লাগে। তখন সব সময় মনে রাখার চেষ্টা করি অনেক আগে শোনা একটা কথা। ‘আবু জার গিফারী’ তাকওয়ার দিক দিয়ে অসাধারন ছিলেন, কিন্তু তাঁকে রাসুল (সা) কখনও কোন নের্তৃত্ব দেন নি। নের্তৃত্ব নিয়েছেন খালিদ বিন ওয়ালিদকে, যাঁর চেয়ে বেশি জানা এবং বেশি তাকওয়া সম্পন্ন মানুষের অভাব ছিল না। কিন্তু তারপরেও নের্তৃত্বের ডিস্ট্রিবিউশনটা ওভাবে হয়েছে, কারণ স্পিরিচুয়াল গাইডেন্স আর পিপল ম্যানেজমেন্ট এক কথা না।
এই কথাগুলো লেখার জন্য লেখককে বিশেষ ধন্যবাদ দিব কয়েকটা কারণে:
১. বাস্তবতাটা পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য, বই পড়ে যেই বাস্তবতা সম্পর্কে জানা যায় না।
২. বরাবর একটা ব্যাপারে এম্ফেসাইজ করার জন্য যে যার যার নিয়তের পরিশুদ্ধি আল্লাহর কাছে।
৩. সংগঠনের উঁচু হাইরেকি = আল্লাহর কাছে উঁচু মর্যাদা, এটা যে অ্যাবসুলুট সত্য না, সেটা হাইলাইট করার জন্য। এটা শুধু ইসলামী সংগঠনে না ভাইয়া, আলেমদের মধ্যেও অনেকে আছেন যাদের তাকওয়া হয়তো একজন সাধারন মানুষের চেয়েও কম! ইসলামে যুগে যুগে এরকম হয়ে এসেছে, হবে! কারণ কার ভিতরে কি আছে, সেটা তো আমরা জানব না!
৪. স্কলারলি ইন্ফ্লুয়েন্স সম্পর্কে এত সচেতন হতাম না বাইরে আসার সুযোগ না হলে। আমি সেকুলার এজুকেশনে পড়েছি, বাইরে এসেই মূলত স্কলারলি সার্কেলটার সাথে পরিচয়। চেষ্টা করি জানার জন্য স্কলারদের কাছে যাওয়ার জন্য… এবং এখন বুঝি মূল সমস্যাটা ওখানেই, কারণ আমিও এককালে দুই পাতা মওদূদী পড়েই তক্ক করতাম খুব
৫. বার বার এম্ফেসাইজ করেছেন, এখনও পযর্ন্ত কোন অলটারনেটিভ নেই, সে জন্যও ধন্যবাদ। অনেককে দেখি ফ্রাস্ট্রেইটেড হয়ে, সেই ফ্রাস্ট্রেশন অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে চম্পট দেন, কিন্তু চম্পট দেয়ার পরে তাদের জীবন দেখে আমারই ফ্রাস্ট্রেইটেড লাগে! ইসলামী আন্দোলন থেকে না বরং ইসলাম থেকে, ইসলামের স্পিরিচুয়াল ইনফ্লুয়েন্স থেকে দূরে একটা জীবন যাপন করে… যেই জীবনটাকে আমি খুবই ভয় পাই, নিজের জন্য কখনই সেরকম জীবন চাই না
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক লিখেছেন : জামায়াতের লোকজন সাধারনতঃ, নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে কি পরিমাণে যে ‘অর্গানাজেশানালিস্ট’ হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও নাকি মূল দায়িত্ব হলো কেন্দ্রের পলিসি বাস্তবায়ন করা !? নিয়মিত দৈনিক সংগ্রাম পড়ে সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গী জেনে নেয়া!?
হ্যাঁ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক যারা জামায়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট তাঁরা কেন্দ্রে পলিসি বাস্তবায়ন করবে, দলীয় প্রকাশনা পড়বে। এটি নিতান্ত স্বাভাবিক। কেন্দ্রীয় পলিসি তৈরীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের কোন অবদান বা অংশগ্রহনকে তাঁরা জরুরী মনে করেন না। সমস্যাটা এখানে। জামায়াত কোন থিংক-ট্যাংক সিস্টেমে বিশ্বাস করে না।
অথচ, কোরআনে বলা হয়েছে একদল জ্ঞান-গবেষণায় ব্যাপৃত থাকবে যারা অন্যদেরকে সতর্ক করবে। ভিন্ন-চিন্তা কে গলাটিপে হত্যা করার কৌশল হলো, এ কথা বলা, আপনার বক্তব্য লিখে দেন। সার্কেলের বাহিরের কারো সাথে কোন ধরনের ক্রস বা ইন্টারেকশানে যাওয়া জামায়াতের নীতিবিরুদ্ধ। এ বিষয়ে জামায়াতের সাথে তাবলীগের দারুন মিল!
হাদীসে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, আলেমদের মর্যাদা আবেদের চেয়ে অনেক বেশী। অথচ, আলেমরা জামায়াতে নিতান্তই অবহেলিত।
রিপোর্ট রাখা একটি ইজতেহাদী আমল বিষয় (যা এমনকি অন্তত আল্লাহর রাসূল (সঃ) ও সাহাবীদের দ্বারা কৃত নয় এবং মাওলানা মওদূদী তৎকালীন কমিউনিস্ট আন্দোলন হতে ফুল-টাইমার সিস্টেমসহ যে সব বিষয় ইনকর্পোরেট করেছেন তার অন্যতম) অথচ দেখি, ঠিক মতো রিপোর্ট লেখেন না বলে আলেম-শ্রেনীর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরকে তাঁদের অতুলনীয় মেধা ও সৎচরিত্র সত্বেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়।
জামায়াতের লোকদের ইনটেচেক্চুয়্যাল ফেসিনেশ্যান তূলনামূলকভাবে বলা যায় অনেক কম। এর অন্যতম প্রমান হলো এরা অশিক্ষিত লোকদের মতো বিরোধী পক্ষকে গালি দেয়। অশালীন গালি না দিলেও যে কোন অশোভন মন্তব্য এরা নির্দিধায় করে বসে। ভিন্ন মতাবলম্বীর চরিত্র হননে এরা খুব ওস্তাদ। কেউ ভিন্ন মত পোষণ করা মাত্রই তাঁর অতীতের সকল অবদান মূল্যহীন হয়ে দাঁড়ায়। আমীন আহসান ইসলাহী হতে আবদুর রহীম সবার ক্ষেত্রেই এটা ঘটেছে। শিবিরের সাম্প্রতিক গন্ডগোলও একই লাইনের ঘটনা।
একটা সত্যিকারের ইসলামী আন্দোলন হিসাবে বিশেষ করে বর্তমান একবিংশ শতাব্দীতে জাময়াতে ইসলামী’র ধারা ‘অলরেডি এক্সজস্টেড’ কি না – এটি ভাবতে হবে। সংশ্লিষ্টদের সিরিয়াসলি ভাবতে হবে, Whether it should be to establish any person or name, or it is only to uphold the Ideology….





হাজারো সমস্যার পরেও এই প্লাটফর্ম দিয়েই বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের সফলতা সম্ভব বলে মনে হয়।