গত ৭ নভেম্বর স্বার্থকতার সাথে অনুষ্ঠিত হলো শতাব্দী ছোঁয়া ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কাফেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল৷ কাউন্সিল কেন্দ্রিক ঘরে বাইরে, হিতাকাংখী, নিন্দুক, সমালোচক অনেকেই চাতক চোখে তাকিয়ে ছিলেন জমিয়তের দিকে৷
অন এবং অফনেটে ব্যাপক প্রচারণায় ভিন্নমাত্রায় পৌঁছে গিয়েছিলো এবারের কাউন্সিল৷ অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে কেউ কেউ জমিয়তের গতিকে বাধাগ্রস্তও করতে চেয়েছেন৷ কিন্তু নিন্দুক, হিংসুক, নেতিবাচক প্রচারণায় ব্যতিব্যস্ত ব্যক্তিবর্গের যাবতীয় আকাংখাকে নস্যাত করে জমিয়তের কাউন্সিল চমৎকারভাবে সম্পন্ন হয়েছে৷
খলীফায়ে মাদানী, ওলিয়ে কামিল শায়েখ আব্দুল মোমিন দাঃবাঃ কে সভাপতি, প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী কারানির্যাতিত রাজনীতিবিদ মুফতী মুহাম্মদ ওয়াককাস সাহেবকে নির্বাহী সভাপতি এবং সময়ের আলোচিত রাহবার ও ইসলামপ্রেমী জনতার আশা ভরসারস্থল আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী সাহেবকে মহাসচিবের দায়িত্বে রেখে নবীণ-প্রবীণের সমন্বয়ে যে কমিটি গঠিত হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে জমিয়তের কাজ দুর্বার গতিতে সামনে এগিযে যাবে, এই বিশ্বাস এবং আশাবাদ দেশবিদেশে অবস্থানকারী জমিয়তের প্রত্যেক কর্মী-সমর্থকের৷
এই কমিটিকে সামনে রেখে আমরা নতুনভাবে স্বপ্ন বুনছি জমিয়তকে সমাজের বিভিন্নস্তরের মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে৷ দেশের আনাচেকানাচের তরুণ প্রজন্ম আকাবির আসলাফের এই ঝান্ডাকে পতপত করে ওড়াতে দৃঢ় প্রত্যয়ী৷
ওদিকে বিভিন্ন দলের কর্মী এবং নির্দলীয় পর্যবেক্ষকগণ ম্যাগনিফাইং গ্লাস অথবা ইনফ্রারেড গগলসে তীক্ষ্ণ চোখে জমিয়তের কাউন্সিলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন৷ কিছু অতিউৎসাহী এবং অদূরদর্শী বন্ধুদের কারণে ঐসব ব্যক্তিবর্গ চকচকে চোখে এবং উদগ্র বাসনায় ভাবছিলেন “জমিয়তে কিছু একটা ঘটবেই৷” কিছু অনলাইন পত্রিকা মনগড়া, নেতিবাচক এবং অনুমান নির্ভর নিউজে অনেককে উস্কে দিচ্ছিলো৷ আলহামদুলিল্লাহ অনেকের অনুমান নির্ভর ‘অশুভ প্রত্যাশাকে’ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জমিয়ত স্বমহিমায় সামনে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়ে ভবিষ্যত কর্মপন্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে৷
জমিয়তের কাউন্সিল নিয়ে যারা ইতিবাচক এবং গঠনমূলক সমালোচনায় লেখালেখি কিংবা বিশ্লেষণ করছেন, আমরা তাদের সমালোচনাকে স্বাগত জানাই৷ কিন্তু যারা সাধারণ কর্মী-সমর্থক কর্তৃক নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের ফুলেল শুভেচ্ছাকে ঘৃণ্য অপপ্রচার এবং বিষোদ্গারের ইস্যু বানিয়েছেন, তাদের ঈর্ষাকাতরতা বুঝতে আমাদের মোটেই বেগ পেতে হয় না৷
বৃটিশ বেনিয়া কবলিত হিন্দুস্তানের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে শায়খুল ইসলাম মাদানী রহঃ এর দর্শন এবং তৎপরতাকে যারা অদ্যাবধি বাঁকা দৃষ্টিতে দেখেন, যারা সবসময জমিয়তের ব্যাপারে অপ্রয়োজনীয় এলার্জিতে ভোগেন, তাদের মানসিক দৈন্য দেখে আমাদের করুণাই হয়৷ আপনারা ঈর্ষাকাতরতায় ভুগতে থাকেন, আমরা জমিয়তের কাজে আপনাদের জবাব দেবো ইনশাআল্লাহ৷ জমিয়তের কর্মপন্থায় মতামতে ভিন্নতা থাকলেও আলহামদুলিল্লাহ, এখানে বিভক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই৷ “শকুনের দোয়ায় গরু মরে না” আপনাদের প্রবল চাহিদা মোতাবেক জমিয়তেও বিভক্তি আসেনি৷
জমিয়ত কর্মী-সমর্থক ভাইদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ থাকবে, তাদের অপপ্রচার নিয়ে সময় বিনষ্ট না করে চলুন, আমরা জমিয়তের কার্যক্রম আরো বেগবানের কথা ভাবি৷
(শিরোনামে বিভ্রান্ত হবেন না যেনো। আমি বলতে চেয়েছি, সমালোচকেরা জমিয়ত নিয়ে যতো বেশী সমালোচনা করবে, জমিয়তের প্রচার প্রসারও ততো বেশী হবে)




