● ইসলামে লোকমার বিধান কি কেবল নামাযের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ? নাকি দ্বীনের সকল শাখা এর আওতাধীন??
আমরা ইমামের ইত্তেবা তথা, অনুসরণ করি ইমামের খুশীর জন্য নয় বরং অবশ্যই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য । আর তাই ইমামের ভুল হলে লোকমা দেওয়ার বিধান । উদ্দেশ্য ইমাম তার ভুল শুধরে নেবেন । এমন হলে সিজদায়ে সাহুরও প্রয়োজন নেই। শুদ্ধ হবে সকলের নামায । কেননা ভুল সংশোধিত হয়ে গেছে । কতো চমৎকার আহকাম।
এখন যদি ইমামের ভুলও হলো আবার ইমাম সাহেব যদি লোকমাও গ্রহন করেননি (বরং কখনোও নামায শেষে লোকমাদাতাকে গালাগাল করেন ) তাহলে অবশ্যই নামায দোহরাতে হবে।সমস্ত মুসল্লীর নামাযই প্রশ্নের মুখে পড়বে। আর এতে হয়তো মসজিদে কিছু উচ্চবাচ্য হতে পারে, তর্ক বিতর্ক হতে পারে এই ভয়ে ইমামের ভুল নিশ্চিত জেনেও লোকমা দিলাম না যে ফেৎনা হবে, তাহলে কি আমি দ্বীনের খেয়ানতকারী নই ??
আমি আমার করনীয় নিশ্চিত জানার পর তা করলাম এখন ইমাম যদি তা গ্রহন না করে তো প্রয়োজনে ইমাম বদলাতে হবে ।আহকামের বদল গ্রহনীয় হতে পারে না । আর এতে মুসল্লীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দেওয়ার অর্থ হলো তাদের দ্বীনের ব্যপারে অজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ,তাদের যথেষ্ট দ্বীনি তরবিয়্যতের অভাব।যার দায়ভারও ইমামের উপরই বর্তাবে।কেননা তিনি না মুক্তাদীদেরকে সহীহ দ্বীন শিক্ষা দিয়েছেন আর না দ্বীনের সচেতনতার সবক দিয়েছেন ।
●●অনুরুপভাবে, যে কোন হক্ব দ্বীনী মেহনতের আমিরের (হক্কানী পীরের বা শায়েখের) ইত্তেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।ইত্তেবা ব্যাতীত ইসলাহ কল্পনাও করা যায় না। আর ঐ আমিরের ইত্তেবাও হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। কোন অবস্থাতেই আমিরের সন্তুষ্টি তথা তোষামোদি কারো মাকসাদ হতে পারবে না। আমিরকে ভালোবাসতে হবে আল্লাহর খুশীর জন্যই। আর তাই আমিরের দোষ তালাশ যদি কারো মাকসাদ হয় সেটা যেমন দোষনীয় তেমনি ভাবে আমিরের শরীয়ত বিরোধী কোন হুকুমের বিরোধিতা না করে অন্ধের মতো অনুসরন বা তোষামোদি তো চরম পর্যায়ের ধৃষ্টতা।যার ফলাফল যে কতো ভয়ানক ঈমান বিধ্বংসী হতে পারে তার ভুরি ভুরি নমুনা ভন্ডপীরদের মাঝার গুলোতে।যা আজ আমাদের সম্মুখে দিবালোকের ন্যায় পরিষ্কার।
■■■ আর যখন লোকমা দেয়াকে নিন্দা করা হয়, কিংবা শুদ্ধতার প্রচেষ্টাকে শত্রুতা ভাবা হয়।আবার কখনো সাথীদের ব্যক্তিপূজা ও অজ্ঞতাহেতু পরস্পর বিভেদের কারন হিসেবেও দোষারোপ করা হয়, শুদ্ধতার প্রয়াশে লোকমা দানের চেষ্টাকে শত্রুতা ভাবা হয়, তখন ব্যাধির ক্ষত যে কতো গভীরে তা বুঝতে অভিজ্ঞ হাকীম না হলেও চলে।
ইমামের ভুলের লোকমা যেমন মুক্তাদীদেরই দিতে হয়, তেমনি দ্বীনি যে কোন মেহনতের ক্ষেত্রেও লোকমা ঐ মেহনতের সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মধ্য হতেই কাউকে দিতে হবে ।এতে ইমামের খুশী হওয়া না হওয়ার বিষয় বিবেচ্য নয়।আর এতে করে ইমামের তাকওয়ারও প্রমান মিলে যায়।ইমাম মুত্তাকী হলে তার লোকমাদাতাকে মুহসীন মনে করে কাছে টানবে।এমন মূক্তাদীকে গণীমত ভাববে। আর এটাই তো দ্বীনের চাহিদা ।
■■■■ আর পক্ষান্তরে, ইমাম যদি রিয়াকার হয়, তবে তার আত্বসুনাম নষ্টের ভয়ে লোকমাদাতাকে দূরে ঠেলবে।এমন মুক্তাদীর অনুপস্থিতিই তার আত্বতৃপ্তির কারন হবে । আর এটাই দ্বীনের আসনে বসে দ্বীন ধ্বংসকারি দুনিয়ার মোহগ্রস্থতার প্রমান ।তবে ইসলাহ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই সম্মানী ব্যক্তির সম্মানের বিষয় সামনে রাখা জরুরী । অনেক সময় শয়তান মুসলেহ ব্যক্তির অন্তরে সম্মানী ব্যাক্তির বিদ্বেষ এমনভাবে প্রবেশ করায় তখন সে তাকে ইসলাহ করার পরিবর্তে অপদস্ত করাকেই দ্বীন মনে করে।অথচ সেটাও দ্বীনদারীর বদলে ষড়যন্ত্রে রূপ নেয় ।
কিন্তু সফলকাম তো তারাই যাদের দিলে আল্লাহ তাকওয়া দান করেন, যার ফলে বন্ধুত্ব ও শত্রুতা কিংবা অনুসরন ও বিরোধিতা সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিই তাদের কাম্য হয় । মানুষের বাহবা পাবার প্রত্যাশা কিংবা গলাধাক্কার ভয় তাদের বিবেচনার বিষয়ের মধ্যেই পড়ে না । বরং যা করনীয় তাই করি,জিতি কিংবা হারি। এটাই হয় তাদের মানুষিকতা।
বাহ্যতঃ আল্লাহর সন্তুষ্টিই জয় আর অসন্তুষ্টিই পরাজয় এই মানুষিকতার সামনে ব্যক্তির বড়ত্ব লোপ পেয়ে যায়, তুচ্ছ হয় ব্যক্তির খুশী বা অখুশী।আল্লাহ উত্তম ইসলাহকারী আর বান্দার গুনাহ ক্ষমাকারী । আমাদের প্রত্যেককে আর আমাদের প্রাণপ্রিয় দ্বীনের সকল দ্বায়িত্বশীলদেরকে মুখলিছ মুত্তাকী বানিয়ে দেন।আর আমাদেরকে তৌফিক দিন এমন উপযুক্ত ব্যক্তিদের ইত্তেবার, যাদের উপর দ্বীনের ব্যপারে আস্থা রাখা যায়।যাদের অনুসরনে মালিকের সন্তুষ্টি হাসিল হয়।আর সমস্ত উম্মাহ খুজে পায় মাওলার সাথে গভীর ভালোবাসার পথ আর সে পথে চলার পাথেয়।




