‘বাঙালি মুসলিমদের যে কতটা বঞ্চনা সহ্য করতে হয়, তা কেবল বহুমাত্রিক পাঠের মাধ্যমেই বোঝা যায়।’ মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। রবিবার অ্যাসোসিয়েশন স্ন্যাপ, গাইডেন্স গিল্ড এবং অমর্ত্য সেনের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান প্রতীচী ইনস্টিটিউটের তৈরি ‘পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের জীবনের বাস্তবতা : একটি প্রতিবেদন’ শীর্ষক প্রকাশনা উৎসবে এই মন্তব্য করেন নোবেল বিজয়ী এই বাঙালি অর্থনীতিবিদ। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, অমর্ত্য সেনের এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কথিত সংখ্যালঘু উন্নয়নের দাবি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল।
ওই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতি ১০টি মুসলিম পরিবারের মধ্যে ৮ টি পরিবারের মাসিক আয় ৫০০০ রূপি অথবা তার চেয়েও কম। প্রতি ৫ পরিবারের একটি বাস করে দারিদ্র্য সীমার নিচে। রাজ্যের ৩৮.৩ শতাংশ সংখ্যালঘুর গড় মাসিক আয় ২৫০০ রূপি অথবা তারও নিচে। আর এই সংখ্যালঘুদের ২৭ শতাংশই মুসলমান।

গোর্কি সদনে রবিবার ওই প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে অমর্ত্য সেন লিখিত বক্তব্য দেন। ওই রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে অমর্ত্য বলেন, ‘রাজ্যের দরিদ্র এবং বঞ্চিত মানুষদের সিংহভাগই মুসলিম। জীবনের মানের নিরিখে তারা ভয়াবহভাবে দরিদ্র এবং বঞ্চিততর।’ আর্থিক ভাবে বা ধর্মীয় ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা উচ্চ শ্রেণিতে থাকতে পারেন, তাঁদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হলে ভূমিহীন, শিক্ষাগত ভাবে পিছিয়ে পড়া এবং গরিব মুসলিমের বিশেষ উপকার হবে না বলে মত দেন অমর্ত্য সেন।
অমর্ত্য সেন আরও বলেন, ‘অতীতের প্রেক্ষিতে বর্তমানের বঞ্চনাকে বোঝার ক্ষেত্রে একটি অঞ্চলের ইতিহাস খুব গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের বঞ্চিত মুসলিমদের বর্তমান অবস্থা জমি সম্পর্ক, সামাজিক বাধা, ব্যবসার সুযোগ, সরকারি সাহায্যের ব্যাপ্তি এবং সীমা এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর নির্ভরশীল।’ তার মন্তব্য, অতীতের আলোয় বর্তমানকে বুঝতে হলে ইতিহাসে ভাল দখল থাকা প্রয়োজন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
এই যখন পরিস্থিতি তখন কোলকাতার সাংসদ ও অভিনেতা দেব কিছু দিন আগে এসে আমাদেরকে আকুতি জানাইয়া গেল দুই বাংলা এক করে দেয়ার জন্য।

বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেককেই এই জাতীয় দাবি করতে শোনা যায়,তাদেরকে কিছু দিনের জন্য কোলকাতা পাঠিয়ে দেয়া হউক। মুসলমান হওয়ার কারনে যখন বাড়ি ভাড়া মিলবেনা, চাকুরী মিলবেনা তখন তারা বুঝবে দুই বাংলা এক হওয়ার ঠেলা। ১৯৪৭ সালে কোন প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের মুসলমান হাজার মাইল দূরের পাকিস্তানীদের সাথে ঘর বাধল, কেন সেটা করল এই প্রজন্ম জানেনা।জানলে হয়ত যারা ভারতের সাথে মিলে যাওয়ার দাবী তুলে তাদেরকে শাহবাগে দাঁড়িয়ে জাতীয়ভাবে ফুলের মালা দিত।তাদের জন্য আজকের রিপোর্টটি যদি চোখ খুলে……
২০০৫ সালে ভারতীয় হাইকোর্টের বিচারক Rajinder Sachar এর নেতৃত্ব Sachar Commission এর রিপোর্টে ভারতের সংখ্যালঘু-বিশেষ করে মুসলমানদের করুণ ও দূরবস্থা’র চিত্র ফুঁটে উঠেছে।যা থেকে যে কোন সুস্থ বিবেকের মানুষ সীদ্ধান্তে আসতে বাধ্য হবে মুসলমানদের আলাদা বসত ১৯৪৭ সালে কত দরকারী ছিল। ১০ বছরে পশ্চিম বাঙলার মুসলমানদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। অখন্ড বাংলার সাপ্নিকদের জন্য নিচের পোষ্টটিও পড়া জরুরী।





বাংলাদেশেই তো মুসলমানরা সংখ্যালঘুর মত দিনাতিপাত করছে। হিন্দুস্থানে মুসলমানরা কিভাবে ভাল থাকবে?