১৯৭১ সালের আগে পাকিস্তান সরকার ভারতীয়দের ইনফ্লুয়েন্স থেকে পূর্ব পাকিস্তানীদের (লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক) রক্ষা করতে ভারতে যেতে দিতনা বরং বেশি বেশি লাহোর/ইসলামাবাদ/করাচি’র মত উন্নত শহরগুলোতে নিয়ে যেত ভাতৃত্ব বাড়ানোর জন্য। ফলে বাঙ্গালীরা সব কিছুতে তুলনা করত ঢাকার সাথে সেসব শহরের এবং কেবল আফসোস করত নিজেরা অনেক পিছিয়ে আছে বলে।এই ধরনের মানসিকতা থেকেই ‘পুর্ব পাকিস্তান পশ্চিমের কলনি’ ধারনা জন্মে বাঙ্গালীদের মাঝে।
যুদ্ধকালীন ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন তার জীবনীতে শেখ মুজিবের সাথে এমন একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন যেখানে শেখ মুজিব ঢাকার সাথে করাচির(?) উঁচু উঁচু বিল্ডিয়ের তুলনা করে আফসোস করে বলেঃ দেখছেন স্যার!এরা কিভাবে আমাদের শোষণ করে বিশাল বিশাল অট্টালিকা বানিয়েছে! শেখ মুজিব হয়ত ভুলেই গিয়েছিল ৪৭ সালের দেশ ভাগের সময় তার ফেলে আসা কলকাতা শহর ও তৎকালীন পুর্ব বাংলার (পরে পুর্ব পাকিস্তান >বাংলাদেশ) পার্থ্যক্যের কথা।
যেই কলকাতা না পেলে পুর্ব বাংলা ১ সপ্তাহও টিকবেনা এমন আশংকায় কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ আবুল হাশিম, সোহরাওয়ার্দিকে বলেছিলেন তোমরা বরং আলাদা না হয়ে পশ্চিম বাংলার সাথে মিলে স্বাধীন বাংলা রাষ্ট্র গঠন কর। কিন্তু সেই দিন পশ্চিমের বাবুরা অচ্যুত, যবনদেরকে মুসলমান বলে এবং নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক লাভের আশায় আলাদা করে দেয়।
৪৭ এর দেশ ভাগের সময় ঢাকা ছিল একটা অজ পারা গাঁয়ের একটি শহর, ১ জন মাত্র সিএসপি (বর্তমান কালের বিসিএস অফিসার) নিয়ে ঢাকার শুরু।সেই ঢাকার মুজিব এবং তৎকালীন বাঙালীরা আগে থেকেই সমৃদ্ধশালী পশ্চিমের অট্টালিকা দেখে বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলা শুরু করল।কল্পনায় আঁকা শুরু করল আলাদা না হলে নিশ্তার নেই। ‘সোনার বাংলা শস্বান কেন’ জাতীয় স্লোগান সেখান থেকেই তৈরি হয়েছে।
লেখক এম আর আখতার মুকুল তার ‘আমি বিজয় দেখেছি’ বইয়ে এবং আওয়ামীগের সাবেক এমপি মরহুম এম এ মোহাইমেন সাহেব তার জীবনীমুলক বই ‘ঢাকা আগড়তলা মুজিবনগর’ এ উল্লেখ করেন ১৯৭১ সালে সীমানা অতিক্রম করার পর বুঝেছিলেন পশ্চিম বাংলা আর পূর্ব পাকিস্তানের জীবন ধারার পার্থক্য ! তারা তখন তুলনা করার সুযোগ পেল ঢাকার সাথে কলকাতার। ঢাকার মধ্যবিত্তের অবস্থা আর কলকাতার মধ্যবিত্তের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান!
স্বাধীনতার প্রায় ৪৫ বছর পর আবার নতুন করে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশীর মাঝে ভারতের সাথে মিলে যাওয়ার খায়েশ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তারা জানেনা ভারত কি জিনিশ। কিভাবে দেখে তারা বাংলাদেশী মুসলমানদের। ভারতীয়রা যে এখনো বাংলাদেশীদেরকে ৪৭ এর লেন্স দিয়ে দেখে বাংলাদেশী স্যাকুলাররা সেটা ইগনোর করতে চায়। নিম্নে বর্ণিত ঘটনা বাঙ্গালী তথাকথিত স্যাকুলারদের ভারত মোহ ভাঙতে বেশ কার্যকরী হবে।
বাংলা নিউজ ২৪ হচ্ছে ভারতের দাসবৃত্তিতে জড়িত বাংলাদেশের সকল নিউজ সাইটের শীর্ষে। এই অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক সহ এক গ্রুপ সাংবাদিক খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছে মোম্বাই। ১৯ হোটেল ঘুরার পর থাকার জন্য জায়গা পেয়েছে।যেখানেই তারা গিয়েছে তাঁদেরকে বলা হয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট? নট অ্যালাউড
বাংলাদেশি পাসপোর্ট? নট অ্যালাউড
ওহ! ইউ ফ্রম বাংলাদেশ? সরি! নো বাংলাদেশি পাসপোর্ট ইজ অ্যালাউড ইন আওয়ার হোটেল। গভর্নমেন্ট পারমিশন নেহি হ্যায়।’ – কথাগুলো বলছিলেন মুম্বাই শহরের হোটেল ‘সি গ্রিন’ ও ‘সি গ্রিন সাউথ’র ম্যানেজাররা। আইসিসি টি-টোয়িন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে প্রায় ২৬ ঘণ্টা ট্রেন ভ্রমণ শেষে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে দশটায় মুম্বাই রেলস্টেশনে নেমেছি আমরা দশ বাংলাদেশি গণমাধ্যম কর্মী।

নেমেই যথারীতি হোটেল খুঁজতে বেরিয়েছি মুম্বাই শহরে। কিন্তু হোটেলে গিয়ে হোটেলের ম্যানেজারদের মুখ থেকে এসব কথা শুনেই আমাদের সবার চোখ কপালে! এখানকার হেটেলগুলোতে বাংলাদেশ থেকে এসেছে শুনলেই চোখ উঁচু করে, ভ্রু কুচকে, মুখ বাঁকা করে একবারে সোজা না করে দিচ্ছে! তাহলে কি আমরা বাংলাদেশে জন্মে পাপ করেছি? আমরা তো এখানে বেড়াতে আসিনি। এসেছি আইসিসি’র আমন্ত্রণে। আর যদি বেড়াতেও আসি তাতেই বা দোষ কী?
যাই হোক উল্লিখিত প্রথম দুই হোটেলে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার পর বাংলাদেশের বেসরকারি টিভি চ্যানেল জি টিভি’র ভারপ্রাপ্ত ক্রীড়া সম্পাদক তাইব অনন্ত ও চ্যানেল আই’র স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট আরিফ চৌধুরী গিয়েছিলেন হোটেল সিলভার মুনসহ আরও দুই হোটেলে।
তাদের পরিচয় না জেনে রুম দেখিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ এক একটি রুমের ভাড়া হাঁকিয়েছেন ৬ হাজার রুপি। রুম দেখার পর তারা দরদামের সময় হোটেল কর্তৃপক্ষ পরিচয় জানতে চায়। দুজনই বাংলাদেশ থেকে এবং আরও আটজন যারা আসবে সবাই এক দেশের তখন এক রকম রেগে গিয়ে তাদের বলেন, ‘সরি আপকো রুম নেহি মিল সাকতা। কিউ কি আপ বাংলাদেশকা সিটিজেন হ্যায়।’
20160329184155.jpg)
আরেক হোটেলের ম্যানেজার বলেন, আমাদের সিআইডি ফর্ম নেই। ওটা থাকলে আপনাদের জন্য চেস্টা করে দেখতাম।জবাবে তারা কিছুই না বলে ফিরে আসেন। তখনও আমাদের সবার শরীর ভীষণ ক্লান্ত, পেটে ক্ষুধা। বসার জায়গা দূরে থাক ল্যাগেজ রাখারও এতটুকু জায়গা নেই। রোদের মধ্যে না খেয়ে না ঘুমিয়ে ক্লান্ত শরীরে মুম্বাই রেলস্টেশনে ল্যাগেজের পাহারার জন্য তিনজন রেখে বাদ বাকি সবাই বেরিয়ে পড়েছি হোটেলের খোঁজে।
এভাবে একটি দুটি করে প্রায় ১৯টি হোটেল দেখার পর বিকেল ৩টা নাগাদ খাড়াকের মোহাম্মদ আলী রোডের মিনারা মসজিদের পাশে অবশেষে একটি হোটেলে আমরা উঠি।