একথা নিশ্চিত যে জামায়াতের আর হারাবার কিছুই নেই। কারান্তরীন নেতাদের যে হত্যা করা হবে আইনের জোচ্চুরিতে, সেটা জামায়াতের সবাই ধরেই নিয়েছেন। অন্তত আব্দুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের ফাঁসির পরে এ নিয়ে সন্দেহ নেই কারো। জোটের শক্তিশালী শরিক হওয়া স্বত্বেও জামায়াত তাদের নিজেদের ইস্যুতে একাই আন্দোলন করেছে। বিএনপির নুন্যতম সাপোর্টও তারা পায়নি। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা জামায়াতকে এই বার্তাটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে বিরোধী জোট ভাঙ্গুক বা না ভাঙ্গুক জামায়াতের সংকট কোনও মাত্রাতেই পরিবর্তিত হবে না। নিজেদের ইস্যুতে একাই লড়তে হবে তাদের। সুতরাং জোট থাকা না থাকায় জামায়াতের যে কিছুই যায় আসে না সেটা বুঝতে কারো বাকি থাকার কথা না।
এতদিনে জামায়াতের উপর সরকারের দমন নিপীড়নের মাত্রা সর্বোচ্চ চুড়া ও সর্বনিম্ন মাত্রা দুই ই নির্দেশ করে দিয়েছে। জামায়াত নিধনের কাজ এই নির্ধারিত মাত্রাতেই কখনও বাড়বে আবার কখনও কমবে, কিন্তু চলতে থাকবে। এটাও জামায়াতের কাছে পরিষ্কার। একটি রাজনৈতিক দলকে নিশ্চিহ্ন করতে এর চেয়ে বেশি শক্তি নিয়োগ করা লাগে না। সুতরাং দৃশ্যত জামায়াত দুর্বল হয়ে যাবে অচিরেই। জোট ভাঙ্গুক বা না ভাঙ্গুক এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না কিছুতেই। জামায়াত ছাড়া বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে যতটুকু অবদান রাখবে তা হল, বড়জোর তারা একজন মহিলা এরশাদের জন্ম দিতে পারবে আর এরশাদের মতোই পল্টি দিতে দিতে বিএনপির দশা হবে লাঙ্গল-দলের মতোই করুন।
খালেদা জিয়া ইতিমধ্যেই নিজেকে রাজনীতিতে আনফিট হিসেবে প্রমাণ করে ফেলেছেন। বিদেশি কূটনীতিকদের পরামর্শে আওয়ামীলীগকে মেয়াদ পূর্তি করতে দেয়া, এবং আন্তর্জাতিক চাপের উপর একচ্ছত্র ভরসা করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্নে বিভোর হয়ে রাজপথ খালি খালি ছেড়ে দিয়ে তিনি এটা ভালোভাবেই প্রমাণ করেছেন। সুতরাং বিরোধী-জোট ভাঙলে চূড়ান্ত ক্ষতি যাদের হবে তারা হল বিএনপি। বিএনপি যখন বিদেশি কুটনৈতিকদের উপর ভরসা করে ঘরে বসে ছিলো তখন জামায়াতও ছুটেছিল বিদেশিদের কাছে। কিন্তু তারা রাজপথ ছাড়েনি। এটা যদি বিএনপিও করতো তাহলে আজকের ফল ভিন্ন হত।
সাংবাদিকরা এখন বিভিন্ন ভাগে কাজ করছেন। কেউ জামায়াত ছাড়ার বিষয়টা হাইলাইট করছেন। কেউ জামায়াতের সহিংসতার সাথে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টা হাইলাইট করছেন। কেউ যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারটা হাইলাইট করছেন। মুল উদ্দেশ্য জামায়াতকে কালপ্রীটজোনে রেখে দিয়ে জামায়াতহীন রাজনৈতিক অঙ্গনের দাবীকে চাঙ্গা করা। একটা পর্যায়ে দেশের জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে চাইবে জামায়াত বিলীন হোক। এটা অলরেডি শুরু হয়ে গেছে। তবে জামায়াত নির্মূল হওয়ার পরে যে কতো রাজনৈতিক দল ও নেতার প্যান্ট খোলা শুর হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষাই করতে হবে জাতিকে। আশাকরি এরশাদ তার কলঙ্কের দাগ শেয়ার করতে বাধ্য হবেন অচিরেই। এটা তার জন্য সুখবর বটে।
জামায়াতের এ মুহূর্তে কি করা উচিত তা বলাটা একেবারেই অবাঞ্ছিত একটি কাজ। জামায়াত কি করবে সেটা জামায়াতের নীতি নির্ধারনী নেতারা যা বুঝবেন তার আলোকেই হবে। আপনি এবং আমি কি ভাবছি তা জামায়াত মোটেই গোনায় ধরে না। সুতরাং জামায়াত তার নিজের গতিতেই চলবে। কারণ জামায়াতের কি করা উচিত তা নিয়ে এপর্যন্ত অনেক বিজ্ঞ লোক কথা বলেছেন, লাভ হয়নি। এতো এতো ক্ষয়-ক্ষতির পরেও জামায়াত বিকল্প চিন্তা করেনি। সুতরাং জামায়াতকে পরামর্শ দেয়া কোনও ফলদায়ক কাজ হবে না। তরুণ প্রজন্মের নৈতিক আদর্শে আদর্শি চিন্তাশীল ও সংগঠক ভাইদের জন্য উচিৎ জামায়াতকে একটি কেইস স্টাডি হিসেবে নেয়া। এতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে অনেক ফ্যাক্ট ফুল ফাইণ্ডিং বের করে আনা যাবে। সুতরাং জামায়াত আপনাদের জন্য একটি বড় রহমত, এক্সপেরিমেন্টাল স্যাম্পল হিসেবে জামায়াত থেকে মোটামুটি সকল দিকের প্রাকটিক্যাল Pro’s & Con’s খুঁজে পাবেন। শুধুমাত্র এই একটি দলকে এনালিসিস করে আগামী পঞ্চাশ বছরের পাথেয় ঠিক করে নেয়া সহজ হয়ে যাবে।





“আপনি এবং আমি কি ভাবছি তা জামায়াত মোটেই গোনায় ধরে না। সুতরাং জামায়াত তার নিজের গতিতেই চলবে।”
**চিন্তাশীলদের কাজ হলো বলে যাওয়া- কেউ গোণায় ধরলো কি না তাতে কিছু যায়-আসেনা!! কিন্তু অপরাপর চিন্তাশীলদের উপকার ঠিকই হয়!
“…জামায়াতের কি করা উচিত তা নিয়ে এপর্যন্ত অনেক বিজ্ঞ লোক কথা বলেছেন, লাভ হয়নি।”
**লাভ যে একেবারেই হয়নি- তা কিন্তু নয়! বরং বলা যায়- এতটুকু যথেষ্ট নয়!
“এতো এতো ক্ষয়-ক্ষতির পরেও জামায়াত বিকল্প চিন্তা করেনি।”
**”বিকল্প চিন্তা করেনি” তা মনে হয়না! বলা যায় “বিকল্প চিন্তা বাস্তবায়নে সাহসী হতে পারেনি”
“সুতরাং জামায়াতকে পরামর্শ দেয়া কোনও ফলদায়ক কাজ হবে না।”
**পরামর্শ দেবার কাজটি যেহেতু “আল্লাহর ওয়াস্তে”- তাই বলেই যেতে হবে, কেউ শুনুক বা না শুনুক! হয়তো ভবিষ্যতে কেউ শুনবে ও কাজে লাগাবে!
ধন্যবাদ আবু সাইফ ভাই। ঠিক বলেছেন। কথা বললে কাজে লাগে, কারো না কারো। তার প্রমাণ কিন্তু আমরা…
Agree With ABUSAIF vi.
মনে আছে!৩ বছর আগে একই রকম আওয়াজ তুলেছিলাম সোনার বাংলাদেশ ব্লগে? পার্থক্য এই যে বুঝটা কারো ক্ষেত্রে হয় একটু আগে, কারো ক্ষেত্রে একটু পরে।ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখার জন্য।