আমি যখন বলি ইসলাম ও ইসলামী পার্টি পলিটিক্স আলাদা ব্যাপার তখন আমাকে লোকে কষে গালি দেয়। যখন কই ইসলামে রাষ্ট্র বলে কিছু নাই, রাষ্ট্র মাত্রই সেক্যুলার, কাজেই ইসলামী রাষ্ট্রও আসলে সেক্যুলার রাষ্ট্র তখন তারা কয় আমি নাকি ইসলামপন্থীদের কাছ থেকে সুবিধা করতে না পেরে পল্টি দিয়েছি।
এই গাড়ল লোকদেরকে আমি কেমনে বুঝাই যে আল্লাহকে ছাড়া আমি ইসলামকে ভাবতে পারি না। আল্লাহকে তো আমি মালিক ও রব হিসেবেও মানি। এই মালিক মানে তিনি আমারসহ দুনিয়ার সব কিছুরই মালিক। কাজেই সম্পত্তির মালিকও তিনি। আর রব হিসেবে তিনিই একমাত্র সার্বভৌম সত্ত্বা।
এখন আমি ভেবে পাই না সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ছাড়া কেমনে মানুষের পক্ষে ব্যক্তি মানুষ হওয়া সম্ভব? আর সেই ব্যক্তি মানুষের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কিভাবে রাষ্ট্র সম্ভব? আর সার্বভৌমত্ব ছাড়া রাষ্ট্রই বা কিভাবে অস্তিত্বমান থাকে?
যদি ধরে নেই যে ইসলামী রাষ্ট্রেও সার্বভৌমত্ব আসলে আল্লাহরই তাহলে তো গুরুতর সঙ্কট তৈরি হবে। মানে যুদ্ধ লাগার অবস্থা তৈরি হবে। ধরলাম বাংলাদেশ একটা ইসলামী রাষ্ট্র, যেখানে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার্য। তাহলে প্রশ্ন তৈরি হবে আল্লাহর এই সার্বভৌমত্ব শুধু বাংলাদেশের মানচিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না ভারত পাকিস্তান সাগর-মহাসাগর ছাড়িয়ে আমেরকিা পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মানতে হবে?
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব যেহেতু সারা দুনিয়াব্যাপী, কাজেই ইসলামপন্থীরা এই চিপা লাইন বের করতে পারে যে তাদের ইসলামী রাষ্ট্র আসলে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি হিসেবেই সার্বভৌম। সারা দুনিয়ার মালিকের প্রতিনিধি হিসেবে যে রাষ্ট্র সার্বভৌম তার সার্বভৌমত্ব কিন্তু মানচিত্র মুছে সর্বগ্রাসী হওয়ার ব্যাপার। যুদ্ধ কি আর না লেগে পারে?
পরের গুরুতর ব্যাপার হলো একই সাথে দুইটা রাষ্ট্র যদি ইসলামী রাষ্ট্র হয় তবে তারা আলাদা আলাদা নামপরিচয়, পতাকা, মুদ্রা ও সেনাবাহিনী কিভাবে রাখতে পারে। যেমন পাশাপাশি তিনটি দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান। তিনটিই ইসলামী রাষ্ট্র, তারপরেও তারা আলাদা কেন? আল্লাহ তো একজনই।
জবাবে সেই জনগণ, সেই ব্যক্তি সমষ্টির কথা আসবে। মানে তিন দেশের সার্বভৌমত্ব আসলে তিনি জনগোষ্ঠীরই, কাজেই তাদের পরিচয় আলাদা হয়ে যাওয়ায় রাষ্ট্রও আলাদা থাকতেছে।
আমি যতদূর জানি, সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ইসলামী পলিটিক্যাল পার্টি গুলান এখন পর্যন্ত কোনো ইসলামী চিন্তা হাজির করতে পারেনি। তারা স্রেফ গোজামিল দিয়েছে। গোড়ার প্রশ্নগুলান বাদ রেখে তারা শুধু ক্ষমতার মসনদে ব্যক্তির পরিবর্তনকে বুঝাচ্ছে। তারা ভাবে না রাষ্ট্র নামক গাধাকে গরু ডাকলেই আমরা দুধ খেতে পাবো না।
সত্যিকারের কথা হলো ইসলামী পার্টি পলিটিক্সের পক্ষে আমাদের ঈমানের বেসিক জায়গার জবাব দেওয়া সম্ভব হবে না। তারা সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা নিয়ে আমাদের বহুত ধোকা দিতে পারতো।
কিন্তু আমরা তো জানি খোদ বাংলাদেশেও নামকাওয়াস্তে যে মুসলমানি শাসন ছিলো তাতেও কিন্তু সম্পত্তিতে ব্যক্তিগত মালিকানা সৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে জমিতে ব্যক্তিগত মালিকানার কথা বলা যায়। এটা তো সেক্যুলার বৃটিশদেরই কীর্তি। নবাবী আমলে এমন কীর্তির প্রমাণ পাওয়া যায় না।
দুটি বিষয় সামনে রেখে এই বয়ানের ইতি টানছি। ইসলাম আল্লাহকেই সম্পত্তির মালিক বলেছে। এই সম্পত্তির ভোগ দখলের বন্টন পদ্ধতি বলেছেন আল্লাহ। তার সম্পত্তি বলেই তিনি যাকাতের কথা বলেছেন। আর ইসলামে কথিত মুনাফাখোরির নামে ব্যবসাবাণিজ্যের জায়গা নেই। ইসলাম বলেছে বিনিময়ের কথা। বিনিময় আর ব্যবসার মধ্যে রাত দিন ফারাক আছে।
কাজেই ইসলামের রাজনৈতিকতা আর ইসলামী পলিটিক্স আসলে দই আর চুনাই বটে, যদিও উভয়ে দেখিতে শাদা।





দুঃখিত, আমি আমার অযোগ্যতার কারণে এ অংশটুকু বুঝতে পারছিনা-
“ইসলাম আল্লাহকেই সম্পত্তির মালিক বলেছে। এই সম্পত্তির ভোগ দখলের বন্টন পদ্ধতি বলেছেন আল্লাহ। তার সম্পত্তি বলেই তিনি যাকাতের কথা বলেছেন।”
“”….আর ইসলামে কথিত মুনাফাখোরির নামে ব্যবসাবাণিজ্যের জায়গা নেই। ইসলাম বলেছে বিনিময়ের কথা। বিনিময় আর ব্যবসার মধ্যে রাত দিন ফারাক আছে।”
আপনি কি “সম্পত্তির মালিকানা” এবং “ব্যবসা+মুনাফা” এ দুটো বিষয়ে আপত্তি/প্রশ্ন উত্থাপন করতে চেয়েছেন?
বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন! যদি ইতিপূর্বে কোথাও আলোচনা করে থাকেন তবে লিংক দিতে অনুরোধ করছি!
আপনার সঙ্গে কিছু বিষয়ে একমত পোষণ করছি। ইসলামী রাষ্ট্রের যে ধারণার কথা আমরা বলি তা মূলত খেলাফতের বিকৃত রূপ। ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করলেই খেলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে না। খেলাফতের ধারণার সঙ্গেই কিন্তু জড়িয়ে আছে ‘উলিল আমরে’র বিষয়টিও। অর্থাৎ এমন নেতা আল্লাহ এবং রাসুলের পর যার আনুগত্য করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই নেতা সমগ্র মুসলিম উন্মাহের জন্যই হতে হবে একজন। খেলাফতের ধারণাকে বাদ দিয়ে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চিন্তা করা হবে বোকামি।
কিছু পয়েন্ট বেশ জোশ লাগল। যদিও এসব পয়েন্ট অনেক আগেই বিতর্কিত হয়ে পড়েছে ইউরোপ-আমেরিকা কেন্দ্রিক আব্দুল ওয়াহাব আল আফেন্দী, তারিক রামাদান, তালাল আসাদ, রশিদ ঘানুশিসহ অনেকেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব বিষয় বাংলাদেশের ইসলামি আন্দোলনের আলোচনায় এখনো আনালোচিতই থেকে গেল। তো কিছু বিষয় তুলে আনাই ধন্যবাদ… এসব বিষয়গুলো আরো বিস্তারিত ও একাডেমিক ওয়েতে তুলে আনতে পারলে ভাল হত…time will need it, br.
Islam, Secularism and the Modern State শীর্ষক তালাল আসাদের লিখার লিংক দেয়া হলো http://asiasociety.org/countries/religions-philosophies/islam-secularism-and-modern-state