মানব সমাজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তার বসবাসকৃত সমাজে শান্তি শৃংখলা রক্ষা করে সেখানকার মানুষের জীবনে সুখের প্রবাহ সঞ্চারিত করা।
To ensure the happiness is the final and only one goal of a state.
All other activities done only to ensure the happiness. The final goal is divided into many subgoals and many organizations are created as tools/ means to achieve that subgoals and thus try to reach towards the final goal.
“Division of labor” is the mechanism developed in the human society by the human for the human
শ্রম-বিভাজন পৃথিবীতে সম্পাদিত কার্যাবলির মধ্যে এক সুন্দরতম সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্ম দিয়েছে।
শুধু মানব সমাজেই নয়, প্রকৃতিতেও বিদ্যমান এই শ্রম বিভাজন। প্রজননের মাধ্যমে বংশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে নারী – পুরুষের যে ভূমিকা তা কিন্তু শ্রম বিভাজনের এক অনন্য উদাহরণ।
নারীর ভূমিকাঃ
আমাদের সামাজিক কালচারে দেখা যায়, পুরুষ জাতি জীবন চালানোর জন্য আয় উপার্জনে ব্যস্ত, নারি ব্যস্ত সেই আয় দিয়ে কিভাবে গড়ে তোলা যায় সুখময় জীবন- সেই চিন্তায়। পুরুষ যে উপার্জন করে, নারি তাতে তার মেধাশ্রম ঢেলে দিয়ে ভ্যালু এ্যাড করে তা মানুষের ব্যবহারোপযোগি করে তোলে। এই ভ্যালু এ্যাডের মূল্য অপরিসীম। এটি অপরিশোধনীয়। আজীবন সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভালবাসাই এর একমাত্র আপাত প্রতিদান হতে পারে।
পুরুষ করে জীবনের সূচনা, চারা রোপন, নারি সেই চারায় প্রেম ভালবাসা আর স্নেহ দিয়ে তাকে পূর্ণাংগ রুপ দান করে। এটি ভ্যালু এ্যাডের এক অদ্বিতীয় নমুনা। বিশ্বব্রহ্মান্ডে এই অবদানের আর কোন তুলনা নেই।
বাচ্চাদের চরিত্র গঠনে মায়েদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ন। তাই একজন মাকে গড়ে উঠতে হয় একজন অনুস্মরণীয় আদর্শ হিসাবে। আদর্শবান হিসাবে গড়ে উঠতে দরকার হয় আদর্শ দর্শন -ধর্ম- নৈতিক শিক্ষার। মুসলিম সমাজে এই নৈতিক শিক্ষার মূল সোর্স আল কুরান- আল হাদিস।
সমাজের এক অর্ধাংশ নারি। এটি স্রষ্টা প্রদত্ত। নরমাল নিয়মে ১০০ জন শিশু জন্মগ্রহণ করলে ছেলেমেয়ের অনুপাত ৫০:৫০। কি আশ্চর্য। স্রষ্টার কি ক্যালকুলেই বিধান! এতে মানুষের কিছু করণীয় নেই। যা করণীয় আছে তা হচ্ছে ব্যবস্থাপনা। সেই ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে করতে হলে প্রয়োজন সুব্যবস্থাপনার সকল নীতিমালা ও দর্শন মানুষের নিকট পৌঁছানোর ব্যাবস্থাগ্রহণ।
নারী শিক্ষার দুটি যুগপৎ উপকারিতা হচ্ছে – ১. ফ্যামিলি ম্যানেজমেন্ট নারীর ভূমিকা, ২. শিশুর লালনপালন বিকাশে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শান্তি-কল্যাণকামি সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা।
দু:খের বিষয়, জাতীয়, আঞ্চলিক,আন্তর্জাতিক কারণে আমাদের এই মুসলিম সমাজে মানুষ গঠনের যে প্রধান দর্শন আল কুরান- তা শিক্ষা দেওয়া হচ্ছেনা। অন্যদিকে সর্বত্র পুঁজিবাদি, ভোগবাদি দর্শনের প্রচার প্রসারে ব্যবহৃত হচ্ছে শত শত কলা কৌশল ও কর্মসূচী। এতে সমাজে অনৈতিক কার্যাবলি ও অনৈতিকতার বিকাশ হচ্ছে ব্যাপকহারে, ব্যাহত হচ্ছে নৈতিকতার বিকাশ। ফলে সমাজের শান্তি -শৃংখলাবোধ নষ্ট হচ্ছে, দূরীভূত হচ্ছে প্রত্যাশিত সুখের সন্ধান।
এহেন প্রেক্ষাপটে সমাজ পরিগঠনে নারীর ভূমিকা বেড়ে যাচ্ছে ব্যাপকহারে। মায়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে পারলে জাতীয় আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে সুন্দর সুখময় সমাজ উপহার দেয়া।
কুরান হাদিসের শিক্ষাদান তাই অপরিহার্য। কিন্তু কে করবে এই কাজ, কারা রাখবে অবদান? কিভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে এই আন্দোলন।
ইসলামি জ্ঞানের প্রচার প্রসারে নারীরা রাখতে পারে অবদান। এই জন্য প্রয়োজন এক দল যোগ্য, দক্ষ ও ত্যাগী মহিলা আলেম। এই মহিলা আলেম গড়তে হলে দরকার ছাত্র জীবনেই তাদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করা।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইসলামি শিক্ষার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা দুভাবে হতে পারে। এক, প্রচলিত কওমী/আলিয়া মাদ্রাসায়, দুই, বাংলা লাইনে পড়ার পাশাপাশি আরবী এবং অন্যান্য ইসলামি শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ।
দ্বিতীয় পথটি কিছুটা জটিল, কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব বিধায় মন্দের ভাল হিসাবে প্রথম পথটি আমাদের জন্য অনুস্মরণীয় মাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, আমাদের দেশের যত সংখ্যক মেয়েরা স্কুলে যায় তাদের ৭০% কলেজ শেষ করার আগেই ড্রপ আউট হয়ে যায়, মাত্র ১০-১২ ভাগ মেয়ে অনার্স/ মাস্টার্স পাশ করে। এদের একটা মিনিমাম অংশ চাকুরিতে যোগদান করে। যারা চাকুরি করেনা, কিংবা অন্য কোন সমাজসেবামূলক কাজ করেনা, তারা দীর্ঘ ১২-১৭ বছরব্যাপি যে পড়ালেখা করে তা কার্যত অনুৎপাদনশীল থেকে যায়। তাছাড়া আমাদের দেশের পড়াশুনার সাথে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক খুব কম, ফলে বাস্তব জীবনেও তা খুব কম কাজ দেয়। অন্যদিকে, স্কুল কলেজ ও ভার্শিটির সিলেবাসে ইসলামের উৎস তথা কুরান হাদীসের শিক্ষা না দেয়ায় এ সকল স্কুল কলেজ ভার্শিটি পড়ুয়া মেয়েরা ইসলামের প্রচার প্রসারে কোন অবদান রাখতে পারছেনা। ফলে নিজের জীবনে কাংখিত মাত্রায় ইসলামের অনুস্মরণে যেমন তারা ব্যার্থ হচ্ছে, তেমনি ব্যার্থ হচ্ছে ইসলামের আলোকে নিজেদের সন্তানদের গড়ে তুলতে।
এমতাবস্থায়, পরিকল্পিতভাবে বাল্যকাল হতে আনুপাতিক হারে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে পশ্চিমা মানব বিধ্বংসী কালচার হতে আমাদের পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে, ইসলামি কৃষ্টিকালচার সংরক্ষণ করা, যা এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের গ্যারান্টি। আর হিন্দু ব্রাহ্মণ শাসন হতে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা প্রচেষ্টা তো আমাদের অন্যতম প্রধান কাজ।
কিভাবে অর্জিত হতে পারে ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত নারি:
০১. কওমী মাদ্রাসায় পড়ার মাধ্যমে।
০২. আলিয়া সিস্টেমে কামিল পাসের মাধ্যমে।
০৩. উপরের দুটিই অর্জন করা যেতে পারে।
০৪. কুরান হেফজ করার মাধ্যমে।
০৫. স্কুল কলেজে পড়ার পাশাপাশি কওমী সিস্টেম কিংবা হেফজ করা যেতে পারে।
০৬. ইসলামিক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন সাবজেক্ট, বিভিন্ন ভার্সিটির আরবী, ইসলামিক স্টাডিজ ইত্যাদি সাব্জেক্টে পড়া যেতে পারে।
০৭. অনলাইন ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে প্রচলিত কোর্সে ভর্তি হয়ে কোর্স করা যেতে পারে।
০৮. বিদেশে ইসলামের উপর বিভিন্ন কোর্স বা ডিগ্রি অফার করা হয়। এসব প্রগ্রামে অংশ গ্রহণ করা যেতে পারে।
মহিলা আলেমরা কি শুধুই কুরান হাদিস শিক্ষা দেবেন? মহিলা আলেমরা নিম্নলিখিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন:
০১. কুরান হাদিসের জ্ঞানের প্রচার প্রসার।
০২. নৈতিকতার বিকাশ যা বর্তমানে খুবই অভাব।
০৩. দেশপ্রেমিক, যোগ্য, দক্ষ নাগরিক তৈরি।
০৪. এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌত্বের জন্য আদর্শ দেশপ্রেমিক নেতা তৈরি।
০৫. দেশের উন্নয়নের জন্য সৎ ও দায়িত্বসচেতন নাগরিক উপহার দেয়া।
০৬. বিলাসি দ্রব্য, স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর দ্রবাদি যেমন সিগারেট, তামাক, হেরোইন, ইত্যাদি মাদকের নিয়ন্ত্রণে সহায়তার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার বন্ধে ভূমিকা পালন।
০৭. মেডিক্যাল, নারি স্বাস্থ্য, প্রজনন, বাচ্চা লালন পালন ইজুকেশন ইত্যাদি শিক্ষার মাধ্যমে তারা স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখতে পারে।
০৮. বিশ্ব ইসলামি আন্দোলনের জন্য যোগ্য জনবল সাপ্লাই করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারবে।
০৯. ইউরোপ, আমেরিকায় এইসব মা-বোনদের মাইগ্রেশন হলে তারা ফরেন রেমিট্যান্স, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দাওয়াতি কাজে ভূমিকা রাখতে পারবে।
১০. মাদ্রাসার পাশাপাশি আধুনিক কোন বিষয়ে, অথবা স্কুল কলেজের পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষিত করার মাধ্যমে নারিদেরকে এক অমূল্য সম্পদে পরিণত (Human being কে Human capital বা human Resource) করা যেতে পারে।
কাজটি কি কঠিন:
না, কাজটি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তবে এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা দরকার সবার আগে।
বর্তমান আধুনিক যুগের বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক যে রাজনীতি, এবং বাংলাদেশকে নিয়ে প্রতিবেশি দেশের যে কাজ তা যদি কেউ জ্ঞাত থাকেন, মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হিসাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যদি কেউ অক্ষুন্ন রাখার চেষ্টা করেন, তাহলে এর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করা কোন কঠিন কাজ হবে বলে মনে হয় না।
এর জন্য দরকার অভিভাবকের সিদ্ধান্ত ও সচেতনতা। ঈমানি দাবির প্রতি প্রকৃত অর্থেই সচেতন থাকা।
কেন প্রয়োজন আদর্শ মায়ের আদর্শ ভগ্নির?
আদর্শ মায়ের অভাবে আজ তৈরি হচ্ছে আধুনিক ডিজুস কালচার লালন পালন কারি ছেলে মেয়েরা। এদের হাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নারি ইভ টিজিং, নারি ধর্ষণ আর হত্যার ঘটনা ঘটছে। এরাই পরবর্তীতে যোগদান করছে সরকারের সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন বড় বড় পদে। পলিসি মেকিং লেভেলে যোগদান করছে শত শত হিন্দু, আদিবাসি অমুসলিম জাতিগষ্ঠী। এরা কিন্তু সিরাজুদ্দৌলার কর্মচারী মীরজাফরদের চাইতেও ভয়ানক। যদিও দেরি হয়েছে, তথাপি এখনই সময় জেগে উঠার, সচেতন হবার, সিদ্ধান্ত নেবার। এই অবস্থার পরিবর্তনের।
এ কাজের বাধা কি?
হাঁ, অন্যান্য যে কোন ভাল কাজের মতই এই কাজেও নানান বাধা আসতে পারে। যেমন-
০১. প্রধান বাধা হতে পারে, মিথ্যা লজ্জাবোধের কিংবা গুপ্ত অহংবোধের উপস্থিতি। সামাজিক আচারকে অধিক গুরুত্ব দেয়া, পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত করা একটি ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। এটি উপেক্ষা করা কঠিন।
০২. মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের অভাব।
০৩. ইসলামের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে সচতনতার অভাব।
০৪. বৈশ্বিক পরিবর্তনের অগভীর জ্ঞান।
০৫.ইসলামের প্রচার প্রসারে নিজের অবদান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়ার মত হিম্মত বা পরিকল্পনা না থাকা।
সুপারিশ:
হে ঈমান আনয়নকারি ভ্রাতা- ভগ্নী, আসুন, নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে একটু সচেতন হই, চিন্তা করি। ‘ঈমান’ শব্দের অর্থ সচেতন, ‘ঈমানদার’ অর্থ যিনি সর্বোচ্চ মাত্রায় সচেতন।
আসুন, সচেতন যেহেতু দাবি করি, তাই সচেতনতার দায়িত্ব পালন করি।
আপনি হয়তো পলাশীর প্রান্তরে বাংলা বিহার উড়িষ্যার নবাব সিরাজুদ্দৌলার পরাজয় শুনে কষ্ট পান, সে সময়ের মুসলমানদের অভিশাপ দেন, আপনি সে সময় থাকলে নিজের জীবন বিলিয়ে দেয়ার শপথ করেন, কিন্তু আপনি কি জানেন, স্বাধীন বাংলাদেশ আজ আরেক পলাশীর প্রান্তরে পরাজয়ের সম্মুখীন।
শুধুমাত্র আমাদের, আপনাদের সর্বোচ্চ সচেতনতা, সুচিন্তিত কর্মকান্ড এবং ত্যাগই পারে মানবতার কল্যাণকামি, সেবক এক জাতি উপহার দিতে পারে, দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা করতে।
তাই আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা সচেতন হই, আনুপাতিক হারে বিভিন্ন সেক্টরভিত্তিক শিক্ষা ও দক্ষতা প্রদানের মাধ্যমে আমাদের দায়িত্ব পালনে সচেতন হই, দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষা করি, আল্লাহর সন্তোষ লাভ করি।
…………………………..





https://www.youtube.com/watch?v=qkXHt2ZttGk